Header Ads

Breaking News
recent

আব্দুল আজিজ

বাংলা চলচ্চিত্র এবং একজন সৈয়দ শামসুল হক

সদ্য প্রয়াত উপমহাদেশের বিখ্যাত কবি ও সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। প্রখ্যাত এই বাংলাদেশী সাহিত্যিক সাহিত্যের প্রত্যেক শাখায় বিচরণ করেছেন বলে ওনাকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন অনেক পুরষ্কার এবং সম্মাননা।

সৈয়দ শামসুল হক যে শুধু সাহিত্য নিয়ে ভেবেছেন তা নয়, তিনি ভেবেছেন চলচ্চিত্রকে ও নিয়ে। চলচ্চিত্র দিয়েই তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর অর্থকষ্টে পড়লে চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন। ১৯৫৯ সাল লিখলেন " মাটির পাহাড় " বাংলা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। সেই চলচ্চিত্রের গানে সুর দিয়ে গীতিকার পরিচয়ে পরিচিত হলেন। এরপর ১৯৬১ সাল " তোমার আমার " চলচ্চিত্রের কাহিনী লিখলেন এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখলেন। সেই থেকেই শুরু তার মেধা চর্চা সমগ্র বাংলাদেশে। 

১৯৬১ সালের তিন বছর পর " শীত বিকেল " চলচ্চিত্রে কাহিনীকার ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। সৈয়দ শামসুল হক শুধু বাংলা চলচ্চিত্রে নয় পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরী উর্দু চলচ্চিত্র " ফির মিলেংগে হাম দোনো " তে সফল চিত্রনাট্যকারের ভুমিকা পালন করেছিলেন। এরপর ১৯৬৭ সাল " নয়নতারা " চলচ্চিত্রের সংলাপ রচয়িতা ও গীতিকার ছিলেন।  চলচ্চিত্র " ময়নামতি"র গান গুলি ছিল অসাধারণ। বিপুল জনপ্রিয়তা " ময়নামতি " সিনেমার গানের গীতিকার ছিলেন প্রিয় লেখক সৈয়দ শামসুল হক। ১৯৭০ সাল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগের বছরে একসাথে ৪ টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল " মধুমিলন, কাঁচকাটা হীরে, ক খ গ ঘ ঙ, এবং বিনিময় "।  এই সব চলচ্চিত্রেও লেখক সৈয়দ শামসুল হক কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার,গীতিকার, সংলাপ রচয়িতা হিসেবে কাজ করেন । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লেখক লন্ডনে পাড়ি জমান। 

নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হল। তখন লেখন লন্ডনে বিবিসি বাংলা খবর পাঠক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি তিনি পাঠ করেছিলেন। বিবিসি বাংলায় নাটকে কাজ করার মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে পরিচিত হন। তার" পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় "নাটকে ধর্মীয় বিষয়ে মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার সম্পর্কে আলোক পাত করেছেন। তার " নুরুলদীনের সারাজীবন " ফকির বিদ্রোহর উপর রচিত হয়েছে।

১৯৭২ সালে " অবুঝ মন " এ সংলাপ রচনা এবং ১৯৭৬ সালে " মাটির মায়া " চলচ্চিত্রে কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা এবং গীতিকার ছিলেন। ৫ বছর পর লেখক পেলেন জাতীয় বাংলা চলচ্চিত্র পুরস্কার। " বড় ভাল লোক ছিল " চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে এই পুরষ্কারে ভুষিত হন।

এরপর ১৯৮৩ সালে আবার জাতীয় বাংলা চলচ্চিত্র পুরষ্কার শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতার জন্য পান। ১৯৮৪ সালে " অভিযান " ও ২০০৮ সালে " একজন সংগে ছিল " চলচ্চিত্রে কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার সংলাপ রচনা ও গীতিকার হিসেবে কাজ করেন। লেখকের " নিষিদ্ধ লোবান " উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হল বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র " গেরিলা "।

একই মানুষ একাধিকে অনেক মাধ্যমের সাথে যুক্ত থেকে সাফল্যের সাথে কাজ করে যাওয়া সত্যই বিস্ময়ের। বাংলা চলচ্চিত্রে, সাহিত্যে তার অবদান অনেক। সারাজীবন সাহিত্য - সংস্কৃতি সেবা করে গেছেন এই মহান লেখক সৈয়দ শামসুল হক। এই মহান সব্যসাচী লেখক এবং একজন সফল চলচ্চিত্রের সেবক প্রয়াত সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি রইল শত কোটি সালাম এবং শ্রদ্ধা।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.