x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

রবিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬

তাপসকিরণ রায়

sobdermichil | ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬ |
তাপসকিরণ রায়





চিহ্ন

তোমাদের মত আমিও মুছে যাবো--
আমার কোন চিহ্নপাত্রে তোমার মানস ছাপ
পায়ের চিহ্নগুলি ধূলিসাৎ তবু তুমি মাথা নত হও।

একদিন আমারই কাঠামো বুঝি অন্য কোনও গ্রহান্তরে খুঁজে পাবে--
কি নাম দেবে তুমি তার ?
আমার ডাক নাম নিয়ে তুমিও কি একদিন ডেকে উঠবে তাকে?--
ধরণী কিংবা অবনী বলে ?
নাকি তার বুকের মাঝে কিলবিল করবে অসংখ্য মনুষ্য ক্লোন ?



স্বপ্নগুলি

স্বপ্নগুলি কখনও বড় নাড়া দিয়ে যায়
আর বাস্তবতা বড় সহজ,
সময় ও বাতাস বুঝি জানে জীবনের আয়ু !
অথচ হঠাৎ কিছু ঘটে যায়--
বিয়োগ ব্যথার মত সাড়া দেয়--
মৃত ও জীবনের সীমানাগন্ডী --
বদ্ধ সূত্রগুলি তার অবলীলাক্রমে জড়িয়ে থাকে।



জন্মান্তর

জন্মান্তরে তুমি আছো ?
বকুল??
আমি কি সেদিনের বালক আর তুমি ধর্ষিতা !
নারীর উৎফুল্ল দেহযোনী ছিঁড়ে
আবার উঠে এলে এই অবেলায়--
তখন সায়াহ্ন ছিল, গোধূলির আঁচলে ছিল
তোমার নগ্ন বস্ত্র
আজ সকালে তুমি আবার এসেছ উঠে
তোমার হাতেই  কি তবে রাখা আজের মারণ ত্রিশূল ?



তন্দ্রা

জীবনটাকে ধরে রাখতে রাখতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি--
জেগে দেখি অনেকটা কাল পেরিয়ে গেছে,
উজাগর কালগুলি সরে গেছে অনেক দূর
সকাল বিকেল সন্ধ্যে রাতের স্মৃতিগুলি
তোমার মুখেও যে লেগে আছে নিদ্রাকাল--
তুমি আমি ধরে আছি নিমগ্ন তন্দ্রা।


রক্ত

রক্তিম তোমার ঠোঁট, প্রাণীজ ধর্মে বুঝি রক্ত হতেই হয়,
জীবনের লক্ষণগুলি ফুটে ওঠে বেঁচে থাকায়।
রক্তোচ্ছ্বাস  আনন্দ ধরে থাকে তোমার শ্রীজাত শরীর
পতন তো কাল কথা, আবার উল্লাস দেখো জাগতিক গুপ্তাঘাতে--
রক্তাক্ত লুটিয়ে থাকে বিরান মেয়েটির দেহ।




***
জীবনী :
নাম : তাপসকিরণ রায়। পিতার নাম : স্বর্গীয় শৈলেশ চন্দ্র রায়। মাতাঃ শ্রীমতী বেলা রায়। জন্ম তারিখ : ১৫ই এপ্রিল, ১৯৫০ , 
জন্মস্থান : ঢাকা, বাংলা দেশ।
স্বর্গীয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রকাশনায় কৃত্তিবাস প্রকাশনী থেকে লেখকের কাব্যগ্রন্থ : চৈত্রের খরায় নগ্ন বাঁশির আলাপ, শিশু বিতান প্রকাশনী থেকে শিশু ও কিশোর গল্প গ্রন্থঃ গোপাল ও অন্য গোপালেরা, রাতের ভূত ও ভূতুড়ে গল্পপ্রকাশিত হয়েছে। লেখকের গল্প সঙ্কলন, গুলাবী তার নাম। এ ছাড়া প্রসাদ, পথের আলাপ, লং জার্নি, দৌড়, কালি কলম ও ইজেল, কর্কট ক্রান্তি, তবুও প্রয়াস, দিগন্ত, নিরুক্ত, কবিতার সাত কাহন, অঙ্কুর ইত্যাদি বেশ কিছু পত্রপত্রিকায় লেখকের গল্প, কবিতা ছাপা হয়েছে। লেখকের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ, তবু বগলে তোমার বুনো ঘ্রাণ, প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া ঐহিক, কলামটি, কৌরব, আদরের নৌকা, সৃষ্টি, পরবাস ইত্যাদি আরো কিছু অন লাইন পত্রিকাতে লেখেন। শিশু-কিশোরদের জয় ঢাক, পথের সুজন, কিচির মিচির, ইচ্ছামতি, কচিকাঁচা ইত্যাদি পত্রিকায় লেখকের উপন্যাস, গল্প ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। 

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.