x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

মন্দিরা ঘোষ

sobdermichil | ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬ |
মন্দিরা  ঘোষ


তিন কথা

১।

ভর দুপুরে ভিতরকথা এলোচুলে গা শুকোয়,
ছাদের আলসে জুড়ে শীতরোদের পাহারা।
দগদগে নগ্নতাসব গা ঘষে মেঝেয়,
চুনসুরকির কর্কশতায়য় জ্যান্ত হয়ে ওঠে।
চোদ্দটি অমাবস্যা নেমেছিল একে একে।
হৃৎপিন্ড আর যকৃতের আর্তনাদে
চাঁদ আড়াল থেকে হেসেছিল।
শ্মশান পিশাচের ভিড়ে তখন গুহামুখ
ছাইভস্মে ঢাকা;
শকুনের ডানায় মুখ লুকিয়েছিল
আকাশের নীল।
একে একে চোদ্দটি অমাবস্যার মহাভারত
লেখা হল শরীরের ভাঁজে ভাঁজে।
সেই সব মহাভারত টুপ টুপ নামে
ছাদময় এখন,ভীষণ  শীতেও
পোষাক নেই গায়ে;
নগ্ন হয়ে হৃৎপিন্ড সেঁকে রোদে।


২।

আস্তিনের ভিতর হাত রেখে  চুপ করে
বসে থাকো!
অবশিষ্ট  গোলাবারুদে পচন ধরুক,
তুমি নির্বিকার চাদরে মুখ ঢেকে
দেহজ উত্তাপে হাত সেঁকো।
সময় অসময় গর্জে ওঠে তোমার
কালাশনিকভ অথবা ধর্মীয়  কষাঘাত;
অবোধের রক্ত মেখে উল্লসিত তুমি
বিরুদ্ধাচরণে পৌরুষ দেখাও বহিরাঙ্গের
আতিশয্যে।খুঁজে দেখো তোমার
নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার!
পৌরুষহীন নিতান্তই একটি রাসায়নিক
শারীরবৃত্তীয়  প্রক্রিয়া।
দম্ভহীন নিরস্ত্র হয়ে একবার ভিতরদেশে এস।
এত অলৌকিক  রূপে কালির মুখোশ  পড়ে আছো?
এই পৃথিবীর জল বাতাস নারী নিরপেক্ষ সব,
নিরপেক্ষ ভালবাসা মেখে নাও একবার;
ফুল লতা নারী দিয়ে জীবন সাজিয়ে দেখো
কত সুন্দর এই পৃথিবীর বুক!

৩।

তাঁর  আসার বড় প্রয়োজন  আজ,
চাঁদ তারা মেঘ ছুঁয়ে,কুয়াশা সরিয়ে
জন্মভুমির ধূলোয়।
ধ্বংসের মুখে এখনো কিছু গাছের পাতা
সবুজ আবীর ছড়ায়;
মৃত পাখিদের ভিড়ে দু একটি বুলবুলি চড়াই
বেদনার গান গায়।
পথটি ঢাকা আছে ভস্মভূমির ছায়ে,
স্বার্থের উল্লাসে বাতাসের ঘরে সুখ নেই;
রক্ত মেখে বসে থাকে শকুনের বিহ্বল  ঠোঁট।
আমরাও যেতে পারি শুধু দুহাতে রক্তলালা মাখা!
যে কটা গোলাপ পড়ে আছে বুকের ভিতর
এস খুলে রাখি পথের পাশে;
তাঁর  আসার পথটি মসৃণ  করি
মাথা পেতে রেখে।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.