x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

আসমা অধরা

sobdermichil | ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬ |
আসমা অধরা


এ রোদ্দুর আমার

উদ্বেলতা যদিও সহজ হয়না কখনো,
তিমিরে সাতটি তারা জ্বলেনি তখনো।
আশাতুর প্রাণে যেন দ্বিধান্বিত মন,
একলা আকাশ- তারার নিশ্চুপ রোদন।

বল্গাহীন ঘোড়ার পিঠে সওয়ার আঁধার,
নিখোঁজ চাঁদের আলো দেখা নেই আর।

শিয়রে চেপে থাকে স্তুপ স্মৃতিকথা,
তবুও বুকে বিষ, শ্বাসে ভীষণ ব্যথা।
সে এলেই নিভে যায় ঘোর গহন চাঁদ,
হয়নি দেখা সে মুখে খেলে যাওয়া রাত।

তবুও জোছনা জড়িও আজ আঙ্গুলে তোমার
যে আঙ্গুলে বেজেই চলে জীবন সেতার।

শেষ কটা দিন চাঁদের পাশে জ্বলে জ্বলে আজ রাতে কেমন ফ্যাকাশে হয়ে
গ্যাছে তারাগুলো, নধর দেহ থেকে সমস্ত দেবকান্তি চুরি যাবার পর শীত রাতের কুয়াশারাও গাঢ় হতে হতে ফ্যাকাশে হয় আলোয়, আর সে শীতাচ্ছন্ন অলৌকিক এক অবয়বে দিনভর মাখিয়ে রাখি সূর্যালোকের গুড়ো আর স্বর্ন চামচে কিছু রৌদ্র কুচি !

যেন দৈব থেকে দৈবোত্তর হয়ে যাওয়া আরো, নীল থেকে আরো নীলোৎপল! ধ্রুব থেকে ধ্রুব তারায় যেমন মুখ টিপে হাসে সহস্র শতদল। তারপর যতই উর্ধ্বে যাওয়া যায়, ছায়াশরীর অধিক প্রিয়- আমি আরো সাধারন হয়ে যাই।

সেই প্রলয় ক্ষণেই মনে পড়ে,যে বাতিঘর নিজেই বিহবল কি দেখাবে সে পথ পথিকেরে? নিশ্চুপ ঘর, মধ্যরাত আর নিভে আসা চাঁদ যখন সমান্তরাল আচরনে ব্যাস্ত- মাস্তলে নত হয় দিশারী আলো। তখন নাগরিক ভুলেরা ক্রমাগত অপরাধ বলে চিহ্নিত হয় আর অপ্রস্তত হৃদয়ে আকস্মিক রক্তক্ষরণ ঘটায় তীক্ষ্ম কথার ছুঁড়ে দেয়া তীরেরা; যদিও বশীকরন কাটেনা, আরো তীব্র হয় ওষ্ঠাগত শ্বাস। 

কুহু নেই শিষ নেই
কানেকানে বিষ কথা,
ধনুকের শরীর ঝলসে গিয়ে
তীরে বিঁধে জমা ব্যথা ।
খাঁচায় মরে পড়ে থাকো পাখী
কোন বুকেতে চুপটি করে
মুখ রাখো গুজে, মন ভরে শোনো
অবিশ্বাসের ইতিকথা, শেকড়ের ধ্বনি।

উদ্দেশ্য বা বিধেয় যাই হোক, কিছু সুবাসের অনুভব কষ্ট দ্যায় খুব। এমন গন্ধানুভূতিগুলো বিদীর্ন করতে পারে এমন কিছু আজ অবধী খুঁজে পাইনি ।

সব ছেড়ে-ছুঁড়ে দিয়ে যখন মায়ের বুকের মধ্যে মুখ গুজে রাখি, তখন খুব মনে পড়ে ছেলেবেলায় আমার মায়ের বুকে যেমন ডাব ডাব গন্ধ ছিল এখনো তেমন! শ্বাসে বুক ভরে যাবার পরেও আরো টেনে নিতে না পারার কষ্ট টা চোখ ফাটিয়ে বড় বড় ফোঁটা নামায়। ঐ নিরাপত্তায় মাকে মনে পড়ায় অহরহ। মনে পড়ে ঘুমভর্তি রাতগুলোর কথা, এমন নির্ঘুম রজনী শেষে। যাপিত জীবনের এতগুলো বছর পরে সেই সান্নিধ্যে, উষ্ণতা আর সুবাসের অনুভব ফিরে পেয়েও আবার হারানোর ভয় চেপে বসে ঘোড়ার পিঠে চেপে আসা উল্কাগতির দস্যুর মতো।

অযুত নিযুতের গল্পের মতো আমার ঘরের মাঝ বরাবর, এক আদ্যিকালের যক্ষের ধনের মতো, তুলে রাখা এক অন্য দৃষ্টি, ভিন্ন সুবাস, আর একটা না বলা কথা; একটি অজানা স্পর্শ, না আঁকা চুমু...

পার করে আসা শতাব্দিসম দৃষ্টিতে নিজেকে একবার না দেখা হাহাকার ফেলে আসা পথে তেমনি স্পর্শ নেই একটিও। একটু সুবাস অন্যরকম মাদকতার- আরো কিছু শতাব্দি পরে এমনি ঘোর শীতের রাতে আড়ি পেতে হবে সর্বনাশ- আর, খলবলিয়ে বেরিয়ে আসবে কেউটের ছানার মতো দুর্ধর্ষ এই দিনের অপেক্ষারা, কথা থাকলো। আপাত এসব দিনে বসে থাকি সূর্যোদয়ের জন্য...

হাড়গিলের মতো ধেয়ে এসেই
পৃথিরীর দিনের দেশে চেপে বসে রোদ্দুর,
তপ্ত ঠোঁটে শুষে নেয় ভেজা ভেজা
জলীয় বিন্দু, ফিকে হয় শিশির;
ঘাসের কানে কানে বলে যায় চুরি করা আর্দ্রতারা
রাতের ঘুম শেষে সে সূর্যের।
আর পরিক্রমায় খিলখিল হাসে
বারান্দায় শুকোতে দেয়া নবজাতকের ইজের।
এই হাসি রোদ্দুরের,  আমার রোদ্দুরের।




Comments
2 Comments

২টি মন্তব্য:

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.