x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

রবিবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৬

গঙ্গাপাড়ের সাহিত্য সম্মেলনী থেকে

sobdermichil | নভেম্বর ১৩, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
গঙ্গাপাড়ের সাহিত্য সম্মেলনী থেকে



এক মিলনের নাম সম্মেলন যেখানে বেশ কিছু মানুষ একসাথে সম্মিলিত হন, একে অপরের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেন। সাহিত্য সম্মেলন সেরকমই এক মিলনক্ষেত্র, যেখানে একে অপরের সাথে গলা মিলিয়ে সাহিত্যপাঠের মাধ্যমে সাহিত্যের রসাস্বাদন করি। এরকমই এক সাহিত্য সম্মেলন বা সাহিত্য সভার আয়োজন করা হয়েছিল ৬ই নভেম্বর, ২০১৬ -তে, কবিতার মেলার সদস্যদের ও তাদের বাড়ির লোকজনকে সাথে নিয়ে সোদপুরের পানিহাটিতে এক্কেবারে গঙ্গার পাড় লাগোয়া এক ফাঁকা ফ্ল্যাটের নির্জন এলাকায় যেখানে নদী স্রোত কুলকুল করে বয়ে চলেছে অবিশ্রান্তভাবে। কখনও মেঘ ও রৌদ্র আলোছায়া এঁকে দিচ্ছিল জলের বুকে আবার কখনও নদী তার ক্রোড়ে মাছ ধরার নৌকা নিয়ে বয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণ অভিমুখে। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে যারা লেখেন না তাদের মধ্যেও কেমন করে না জানি এক কবিভাব সঞ্চার হতেও পারে। আর এই সম্মেলনী তো সৌখিন কিছু কবি নিয়েই তাই এমন সুদৃশ্য পরিবেশে কিছুমাত্র কবিতা লেখা হবে না সেটা বোধ করি আশ্চর্যজনক হবে। এমন প্রমাণও আছে তা হল বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন সৌমাদ্রি সাহার অনুষ্ঠান চলাকালীন তৎক্ষণাৎ লেখা দুটো কবিতা।

যাই হোক এবার অনুষ্ঠান সম্পর্কে আসা যাক। প্রাথমিক জলখাবার আর আলাপচারীতা শেষে যখন ফ্ল্যাটের ছাদে উপস্থিত হলাম তখন বড় ছাতার নিচে টেবিলের একপ্রান্তে হারমোনিয়াম জায়গা করে নিয়ে সুরের বুট রান করছে কবি অবন্তিকা সরকারের আঙুলের হাল্কা ছোঁয়ায়। তারপর নীরবতা প্রার্থনা করে শুরু হল অতুলপ্রসাদের দুটো মন জুড়ানো গান - "তুমি দাও, দাও মোরে পরাণ ভরি দাও" ( সত্যি পরাণ ভরে দিয়েছিল এই গানের কথা ও সুর আর গায়িকার সুরেলা কণ্ঠস্বর), "ওগো নিঠুর দরদী "। কবি রাজর্ষি দে-র লেখা দুটো কবিতা পাঠের মাধ্যমে কবিতাপাঠ শুরু হল। কবি দেবব্রত সাণ্যাল দিল্লীবাসী অনুপস্থিত কবি মৌলি দাসের কবিতাপাঠ করে শোনালেন। কবি বীথি চক্রবর্তী স্বরচিত দুই কবিতা পাঠ আমাদের প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে গেল কিছুক্ষণ ছন্দের দোলায় দোলায়। কবিতার মেলা থেকে আয়োজিত শারদীয়া পত্রিকা কিছুদিন আগেই সবার হাতে হাতে পৌঁছে গেছিল তারই একটা ছোটখাটো মন্তব্যপাঠ হল সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছোট ও প্রিয় সদস্য সৌভনিক। আর এক বহুগুনসম্পন্ন একাদশ শ্রেনীতে পাঠরত সর্বাপেক্ষা কনিষ্ঠ মাসুদ রাণা তার নিজের লেখা কবিতা পাঠ করলেন। তার কবিতার ভাবনা বা লেখার স্টাইল আমাদের মুগ্ধ করে দিয়েছিল। কনিষ্ঠ কবি অরিন্দম প্রামাণিক মুম্বাইনিবাসী কবি দেবাশিস ভট্টাচার্যের কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন। তার সুপরিচর্যিত পুরুষালী কন্ঠে আসর জমে উঠেছিল। ইতিমধ্যে আমাদের দুপুরের আহারাদি প্রস্তুতিকরণ শেষ। 

মধ্যাহ্নভোজন সাঙ্গ হলে বইয়ের হাট বসেছিল এবং কেনাবেচা শেষ হলে আবার সাহিত্যের আসর জমে ওঠে। কবি বীথি চক্রবর্তীর কর্তামশাই শ্রীমান সুব্রত চক্রবর্তীর কন্ঠে ও গিটারের সুরে তাঁরই নিজের লেখা ও শিলাজিতের জলফড়িং এই দুটো গান আমাদের বেশ চাঙ্গা করে তুলেছিল, ভাতঘুম অবজ্ঞা করে হাতে তাল দিতে দিতে মেতে উঠেছিলাম গানে।

কবি শান্তনু ব্যানার্জী আমাদেরকে আর এক কবি অভিজিৎ মিত্রের লেখা একটা কবিতা পাঠ করলেন। ব্যাঙ্গালোরনিবাসী এক অনুপস্থিত কবি অতনু দত্তের স্বরচিত কবিতা তাঁরই কন্ঠে শুনলাম ভিডিও প্লেয়ারে। তারপর কবি দেবব্রত সাণ্যালের কন্ঠে একটা মজাদার গল্প শুনে একে একে কবি মিতা চ্যাটার্জী, কবি অজিতেশ নাগ, কবি সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি দেবব্রত সাণ্যাল, কবি অবন্তিকা সরকার, কবি অভিজিৎ রায়, কবি তপন দাস ও আমি রুমা ঢ্যাং - এঁনাদের স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে কতটা সময় যে অতিবাহিত হয়ে গেল তার হিসাব নেই। নরম রোদের শেষ আভাটাও গুটিয়ে নিয়ে সূর্য্যিমামা যখন পাটে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে এদিকে তখন শ্রুতিনাটকের আয়োজন চলেছে, ঘোষনাপর্ব ও নাটকের চরিত্রদের সাথে পরিচয় শেষে এক মজাদার শ্রুতিনাটক শুরু হল কবি তপন দাসের লেখা নাটরূপ ও পরিচালনায় সাহিত্যিক প্রকল্প ভট্টাচার্যের লেখা 'বৌ পালালে বুদ্ধি বাড়ে'। মুখ্য চরিত্রাভিনয়ে ছিলেন তপন দাস এবং সহযোগী অভিনয়ে ছিলেন কবি অরিন্দম প্রামাণিক, কবি মাসুদ রানা, অপূর্ব ঘোষ ও রুমা ঢ্যাং। কবি শান্তনু ব্যানার্জী তার স্বরচিত গোয়েন্দাগল্প 'জেরা' পাঠপর্ব শেষে আমি মুম্বাইনিবাসী কবি বিকাশ দাসের অনবদ্য কবিতা 'জরায়ুজ' পাঠ করলাম। আমাদের সবার অনুরোধে কবি সৌভনিক কয়েকটা স্বরচিত কবিতা ল্যাপটপের ঝাঁপি থেকে বের করে শোনাল। সূর্যাস্তের মুহূর্তগুলি যে যার ক্যামেরায় বন্দী করার তোড়জোড় চলল এবং মনোরম সেই প্রাকৃতিক দৃশ্যকে চালচিত্র করে সেলফি নেওয়া হল এবং বিভিন্ন আঙ্গিকে নিজেদের ছবি তুলে চা জলখাবারের সাথে সাথে শেষোক্ত কিছু আলাপচারীতা ও সাক্ষাৎ শেষে সারাদিনের এই রেশ মনে গেঁথে বাড়ির উদ্দেশ্যে একে একে রওনা দিলাম মনে এই আশা নিয়ে যে আবার কোথাও কোন একদিন এরমকমই কোন এক সম্মেলনীতে আমরা একজোট হয়ে সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হব। 

প্রতিবেদক - 
রুমা ঢ্যাং
কলকাতা।


Comments
4 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.