x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

জয়ন্ত সেন

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
 স্বপ্ন-নিখোঁজ









-কিছুইতো করতে পারলাম না এ বছর, তোমার জন্মদিনে ।
-কমকি করেছো গো ?
-না, খুব ইচ্ছে ছিলো, বড়ো কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে ডিনার••

আর কথা বলতে দিলো না রিয়া, সোফার পাশে বসেই জড়িয়ে ধরলো।
-কোনো এমন মন খারাপ করছোগো, এতো ভালো পাস্তা বানালে, ঘরটাকেও কতো সুন্দর করে সাজিয়েছো। কার জন্য করলে! আমার জন্য-তো ! আমি বলছি যখন আমার ভালো লেগেছে তাহলে তুমি এতো মন খারাপ করছো কেনো ! আর তোমার পাবলিসারের দেওয়া চেক ক্লিয়ার হয়ে গেলে নিয়ে যেও নয় রেস্টুরেন্টে।
-তোমার ওই পরে কথাটা আমার একদম ভালো লাগেনা জানো তো। 
-কেনো ?
-মনে আছে অনেক আগে একদিন তোমার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম ! তুমি বললে এখন হবে না পরে, কতগুলো বছর কেটে গেলো তারপর। তোমার দেখাই পেলাম না।
-হ্যাঁ, আর যখন দেখা হয়েছিলো, তুমি আমার সাথে কথাই বলোনি, হায়-হ্যালো টুকুও না। উল্টে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলে।
-কি করবো ! রাগ হয়েছিলো ভীষণ। তুমি আমায় ব্লক করে দিয়েছিলে।
-আমি কিন্তু কথা বলতে গেছিলাম তোমার সাথে।
-কেনো বলবো ! তোমার সাথে গৌড় এর চক্কর চলছিলো, মুখে বল্লেই হতো। আমি কি খেয়ে ফেলতাম ! প্রচুর কষ্ট দিয়েছো আমায়।
-বেশ করেছি, এবার চুপ করো।

রিয়া টিভি থেকে চোখ না সরিয়েই আরো জোরে চেপে ধরে। আমি রিয়ার কপালের ওপর বারবার আলতো করে হাতবুলিয়ে চুল সরাই। ফিফটি ফাস্ট ডেট চলছে, রিয়া রোম্যান্টিক সিনেমা দেখতে খুব ভালোবাসে। আমার একদম ভালো লাগেনা। মনে মনেই ভাবি রিয়ার সাথে আমার আকাশ-পাতালের তফাৎ, তবু সবার অমতে রিয়া ঘর ছেড়েছিলো।

-ঠিক তোমার আমার কোনো মিল নেই।
" রিয়া ঝাঁঝিয়ে ওঠে। আমিতো মনে মনে বলছিলাম, রিয়া শুনলো কি করে ? কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিয়া আমায় সজোরে ধাক্কা মারে। আমি আছড়ে পড়ি। সোফার পেছনেই এত্তোবড় যে একটা খালি পাতকুয়া আছে আমিতো জানতামই না। আমি হাত-পা ছড়িয়ে ধপাস করে পড়ি পাতকুয়ার ভেতর। চারিদিক অন্ধকার। কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমি চিৎকার করে উঠি রিয়া ! রিয়া ! বলে। মাথা তুলে দেখি রিয়া হাসছে। হাসতে হাসতে বলে "তুমি ভাবলে কি করে তোমার মত কারোর সাথে আমি ঘর করবো ? না চাল আছে না চুলো, না পেটে কোনো বিদ্যে আছে। তুমি কোনো দিক দিয়েই আমার যোগ্য নও, আর না জীবনে কোনোদিন হতে পারবে। ঘেন্যা করে আমার তোমাকে দেখলে। ওয়াক থু"

চোখ খুলে দেখি ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। ও স্বপ্ন দেখছিলাম ! রিয়া এখানেই তো আমার বুকে মাথা দিয়ে শুয়েছিলো, কোথায় গেলো ? এসব ভাবতে ভাবতেই পেছন থেকে কে যেন গলা চেপে ধরলো। উফ, শ্বাস নিতে পারছি না। কষ্ট হচ্ছে, ভীষণ কষ্ট। বুকের ওপর পাথর বসিয়ে দিয়েছে। একটা কুকুরের ডাকের শ্বব্দ শুনতে পাচ্ছি, ওটা জুডোর গলা। আমি চিৎকার করে জুডোকে ডাকার চেষ্টা করছি, কিন্তু গলা দিয়ে একটা আওয়াজ বেরোচ্ছে না। খুব কষ্ট হচ্ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে। 

ধড়পড়িয়ে উঠলাম। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়েগেছে, শ্বাস ফুলছে, পাশের ঘর থেকে সত্যি জুডো চিৎকার করছে। মা-কে ডাকলাম, জিজ্ঞাসা করলাম জুডো চিৎকার করছে কেনো ?

-দ্যাখ না, কাল রিয়া এসেছিলো, বিয়ের কার্ড-টা দিয়ে গেছে, তুই বাড়ি ছিলিস না, বল্লো তোকে ফোন করে দেবে। তোকে কিছু বলেনি ?
- না 
-যাইহোক, তুই রাতে দেরি করে এলি, খেলিনা কিছুই ঘুমিয়ে পড়লি, আমিও এ-খেয়ালে ও-খেয়ালে তোকে কার্ড-টা দিতেও ভুলে গেছি, বলতেও ভুলে গেছি। সকালে দেখি জুডো কার্ডটা ছিঁড়ে কুটিকুটি করেছে। আবার কাড়তে গেলামতো খেঁকিয়ে আসছে।

ছেঁড়া-ফাটা বিয়ের অবশিষ্ট কার্ড-খানি কুড়িয়ে দেখলাম, গৌড়-এর সাথে রিয়ার বিয়ে কদিন বাদেই। জুডোটার দিকে তাকাই, বেচারা কিছুই জানেনা অথচ নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলো যেন এখবরটা আমি না পাই। চোখটা ভারী হয়ে আসছে, বুকের ওপর থেকে পাথরটা সরিয়ে ফেলতেই ভেতরটা ফাঁকা মাঠ হয়ে গেছে যেনো। শূন্য ধু-ধু করছে। আমি তোয়ালেটা কাঁধে নিয়ে বাথরুমের দিকে এগোই। সাওয়ারের আওয়াজের আড়ালে কঠিন বাস্তব ফুটবে , সহ্য করতে হবে। দূর দেশের স্বপ্নের তালিকার নগরগুলো ভাঙবে। নিখোঁজ হয়ে যেতে হবে ...




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.