x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

জয়িতা দে সরকার

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ইশিতা অনুরাগী-  আ ট্রু লাভ স্টোরি-


বর্ষার ভেজা বিকেলে দেখা হলো-ইশিতার সাথে অনুরাগের। আজ ইশিতা নীলাম্বরী, ঠিক যেন একটুকরো আকাশকে জড়িয়েছে অঙ্গে, অনুরাগ দাঁড়িয়ে আছে একটা গাছের ভেজা ছায়ায়। ঝাঁকে ঝাঁকে বৃষ্টিরা আকাশ থেকে নেমে আসছে সারিবদ্ধভাবে। অনুরাগের কাছে এসেছে ইশিতা। অনেকখানি কাছে, এত কাছাকাছি ওরা, যেখান থেকে নিঃশ্বাস গোনা যায়, হৃদস্পন্দন দেখা যায়!

কাঁচ বন্ধ গাড়ির ভেতরে বসেই কথা হচ্ছিল। বহু এলোমেলো,আগোছালো কথা। গাড়ির গতির মতোন মাঝে মাঝে বাড়ছে ইশিতার হৃদয়ের সোরগোল। বুকে চাপা আছে বহু বৃষ্টি, তবু ওদের আকাশ কখনও ঢাকে না মেঘে। ওরা দৃষ্টি বিনিময় করে না। ওরা স্পর্শ চেখে দেখেনা। ওরা অপরিচিত নয়,তবুও ওরা যেন পরিচিতও নয়। পথ চলা শুরু-শেষ জানা নেই কারোরই। শুধু ওরা চলতে চায়। ইশিতা ভালো গান গায় ,ভারি মিষ্টি দেখতে নয় ওকে-তবু যেন অদ্ভুত একটা সরলতা ছুঁয়ে থাকে ইশিতার চেহারাকে..অন্তত অনুরাগের এটাই মনে হয়, আরও যেটা ওদের ভালোবাসা কে গাঢ় রঙ দেয় তা হলো ওদের বোঝাপড়া।

আজ দেখা হবে না, শুধু অন্তর শুনবে অন্তরের কথা। অনুরাগ ছুটে চলেছে বাসে শহর থেকে শহরে, বৃষ্টি পড়ছে অঝোরে, জানালা খোলা পাশের সিটটা খালি, অসম্ভব বৃষ্টি প্রেমিক এই অনুরাগ। ভিজতে ভিজতে হঠাৎ-ই  তার মন চলে যায় ইশিতার কাছে। 
প্রশ্ন করে ইশিতা কে- ইশিতা-আমার পাশের সিটটা খালি,বসবে? নাহ্,ছোঁবোনা তোমার শরীর। শুধু মন ছুঁতে চাই কয়েক শ কোটি বার...ছুঁতে দেবে?"

"তুমি ছুঁয়েছো মন,হয়েছো অনুরাগী....বোঝো না!!"

কোথা থেকে উড়ে এলো ইশিতার কন্ঠস্বর, চমকে ওঠে অনুরাগ, ইশিতার আওয়াজ আর বাসের ব্রেক একসাথে। বাস দাঁড়িয়েছে, টুকটাক লোক নামছে চা খেতে, একঘেয়ে বৃষ্টি তাতে কি! অনুরাগ আজ ভিজবেই, বৃষ্টিতে উড়ে আসা ইশিতার উত্তরখানি খুব পছন্দ হয়েছে যে ওর।

এদিকে ইশিতা ঘরে ছটফট করছে কি!! ভাবতে ভাবতে আবার গতিতে মেশে ওরা, হাইরোড ছুঁয়েছে বাস..পৌঁছতে রাত হবে, অর্ধেক শহর হয়তো ঘুমাবে তখন। অনুরাগ একগোছা গোলাপ কুঁড়ি নিয়েছে, আর জুঁই দুই মুঠো...গোলাপ রাখবে ফুলদানে, জুঁই ছড়াবে টেবিলে সাথে কিছু বৃষ্টিস্নাত চুম্বন!! ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে অনুরাগ,বাস কিন্তু ছুটছে।

চুপিসারে ঘরে ঢোকে অনুরাগ, ভাবে ইশিতা অগাধ ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু না,ঘরময় অভিমান ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে ও!! অনুরাগ কি বলবে! কিভাবে শুরু করবে! এ সময় কাছে যেতেও ভয় লাগে-অভিমানী মেয়েমানুষ বড়ো আল্হাদী হয়, এই অভিজ্ঞতা কম-বেশী সব পুরুষদেরই আছে-এই আবহাওয়ায় যা কিছুই হয়ে যেতে পারে...এক পশলা বৃষ্টি কিংবা মুসল ধারার বারিশ!!

তবে শ্রাবনের মেঘে বৃষ্টি নেই। বরং পচা গরম অনুভব করে অনুরাগ, তবু সাহস করে কাছে যায়, মুখে কিছু না বলে ইশিতা কে বুকের মধ্যে টেনে নেয়, ঠোঁট রাখে অভিমানে কাঁপা ওই দুই কোমল ঠোঁটে ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নিতে চায় সবটুকু অভিমান...আলগা ছটফটানির পরে মুসলধারার বৃষ্টি শুরু হলো..ভিজে গেলো দুজনেই!!

সত্যি শহর জুড়ে বৃষ্টি শুরু হলো আবার, ছাদে গিয়ে ভিজছে ওরা, সাথে ভিজছে গোলাপের কুঁড়ি আর জুঁই। বৃষ্টির জলে ধুয়ে যায় সব অভিমান-ওরা ডুবে যায় ওদের প্রেমে।

অনেক বেলায় ঘুম ভাঙে অনুরাগের, ঘড়ির দিকে তাকিয়েই লাফ দিয়ে ওঠে, আজ একটা বিশেষ মিটিং আছে বেলা তিনটে নাগাদ। ঘড়িতে প্রায় বারোটা কুড়ি....ঝড়ের গতিতে সমস্ত কাজ সারতেও ঘন্টা দেড়েক লাগলো, এবার খালি গাড়ি ছুটিয়ে দৌড় লাগাবে অনুরাগ।

হঠাৎ,রজনীগন্ধার গন্ধ আসে নাকে, সাথে মিষ্টি গানের সুর..."বাহো মে চলে আও..." অপূর্ব মোহিত করা কন্ঠ ইশিতার..একরাশ ফুল চুলে সাজিয়ে গান গাইছে, সঙ্গে ঠোঁটের কোনায় দুষ্টু-মিষ্টি হাসি।এ ই হাসি উপেক্ষা করে কাজে যাওয়া এবং মনযোগ সহকারে কাজ করা কতটা কঠিন তা একমাত্র অনুরাগই জানে...তবু ফ্ল্যাটের তালা বন্ধ করে তরতরিয়ে সিড়ি বেয়ে নেমে যায় অনুরাগ।

আজ কাজ সেরে সোজা বাড়ি ফেরা, রাত এগারোটা ছুঁই ছুঁই ঘড়ি, এরপর ডিনার সেরে লংড্রাইভে ইশিতা-অনুরাগ....গাড়ির গতি ক্রমশ দ্রুত থেকে দ্রুততর। ঘন্টাখানেক একভাবে ছুটে ওরা পৌঁছালো গঙ্গার ধারে,চাঁদনী রাতে ইশিতা কে হলুদ শিফনের শাড়ীতে ভীষন সুন্দর লাগছে, একের পর এক বাংলা-হিন্দী গান গেয়ে আকাশ-বাতাস কাঁপাচ্ছে ইশিতা। দুহাতে চেপে ধরে আছে অনুরাগের দুই হাত, মুঠো আলগা হলে চলবে না, তাহলেই ভালোবাসা কমে যায়!! অগাধ প্রেমে চাঁদনী রাতে রাত জাগছে ওরা,একটা মাদকতা চারিদিকে,এই ভাবে অনেক সময় কাটানোর পরে, বাড়ি ফেরার পথে ওরা, ইশিতার কাজল চোখে ঘুম নেমেছে, খুব সাবধানে গাড়ি চালায় অনুরাগ, ঘুম যেন না ভাঙে।।


ভোরের আকাশে ঘুম ভাঙে অনুরাগের, এই আকাশে থাকে ছোট্ট শিশুর কোমলতা,আর অনুরাগের চোখে বেদনার জল। আজ আকাশ সকাল সকাল জলকেলী করছে...হাওয়াদের সাথে,সাদা পর্দারা আবদারে উড়ছে....কিছু ভালো লাগে না অনুরাগের, সিগারেটে আগুন জ্বেলে ধোঁয়ার রিং বানাচ্ছে এমন সময়..ঘরে আসে রূপসা অনুরাগের স্ত্রী..ঝাঁঝাঁলো আওয়াজে বলে-"অফিস নেই! না কি বারিশ দিবস!!".....সমস্ত স্বপ্নগুলো চারদেওয়ালে ধাক্কা খায়!! আর ইশিতা!! সে কোথায়!! কোথায় গেলো সে!!

রূপসা বাগানের গোলাপ আর গরম চা টেবিলে রেখেছে, প্রতিদিন রাখে অভ্যাস! বিয়ের বছর দশেক পরে ভালোবাসা কর্পূর হয়ে যায়, তবে অভ্যাসগুলো থেকে গিয়ে বদঅভ্যাস হয়ে যায়-তিতো ওষুধ গেলার অভ্যাসের মতোন। রুমি স্কুলে চলে গেছে,এই সময়ে প্রতিদিনই রূপসা একটু কাছে ঘেসে, আজও ঘেসেছিলো কিন্তু অনুরাগ তাড়াতাড়ি চা শেষ করে সোজা স্নান ঘরে....জলের আওয়াজে শোনা যায় না অনুরাগের বুকফাটা কান্নার শব্দ ,রূপসা এফ.এম গান চালিয়েছে....রবীন্দ্রসংগীত-"তুমি রবে নীরবে"...।

আজ অফিসে এসেও কাজে মন নেই অনুরাগের, খোঁচা ইশিতার!! সমস্ত মন জুড়ে খালি ইশিতা!! নেটেও বহুবার খুঁজেছে,পায়নি..."কোথায় হারালে আর কেনই বা হারালে!!" অনুরাগের কান্না ভেজা মনের শুধু দুটোই প্রশ্ন! না না হাজার হাজার প্রশ্নেরা যেন ষড়যন্ত্র করেছে। 

চিন্তায় বার বার চায়ে চুমুক দিচ্ছে,লাঞ্চ টাইমে বাড়ী থেকে ফোন আসে,"সিনেমা যাচ্ছি তো আজ?" প্রশ্ন ছুটে আসে ওপাড় থেকে,মন খারাপ কে ঝোলায় ভরে সহজ নাটকীয় খুশী খুশী উত্তর..."নিশ্চয়"!

ঠান্ডা হলেও আজ ভালো লাগছে না,বড্ড শীত মনে হচ্ছে,ঠিক পাশের চেনা স্পর্শটা কাঁটার মতো বিঁধছে,তবু নিয়ম মাফিক জীবন চলে ডিনার সেরে বিছানায়,উষ্ণতা লেনদেন....নিয়ম মেনে,এরপর ফিরে শোয়া।

হলুদ গাঁদার মনের বনে দেখা হয়ে যায় ইশিতার সাথে, লাল সিফনে কৃষ্ণচূড়ার মতোন লাগছে আজ ওকে, বুকের কাছে লেপটে আছে ডোকরা হারের গোছা। আজ গান আর উচ্ছ্বাসের স্রোতে ভাসছে ওরা।

টিং টং....একটা পার্সেল এলো!! পরদিন বেলা বারোটা নাগাদ,এক বন্ধু পাঠিয়েছে। কলেজের বন্ধু, কিছু স্মৃতি,ভেসে যায় মন...আবার ইশিতার কাছে। প্রশ্ন শুধু একটাই- ইশিতা কোথায়!!

পাঠক খুঁজছে ইশিতা কে,আজ তাই ইশিতার একটু পরিচয় দেওয়া যাক,তবে পুরোটাই কিন্তু অনুরাগের জবানবন্দী! 

"মনে পড়ে ইশিতা! পথ হারানোর ভোরগুলো,সবে তখন ইলেভেন। ভোরবেলা মানেই পথ হারাতাম পথে-শুধুই তোমার সাথে,না না কবিতা আজ আর লিখি না আমি! সব শেষ, জীবন এখন দশটা-পাঁচটায় বন্দী! সংসার,কর্তব্য...কেমন যেন ঘুন ধরা সেগুন কাঠ হয়ে,ক্ষয়ে যাচ্ছি দিন দিন। তোমায় ঘিরেই কবিতা লেখা,তোমায় ঘিরেই সুর!"... এইবার হাসে ইশিতা-
" সুর...বরং বলো বেসুর!"
আদর উপচে পড়া হাসি ইশিতার ঠোঁটে ও চোখে।

মগ্ন অনুরাগ আবার বলে-"একবার নয় বহুবার চায়ের ভাঁড়ে ঠোঁট পুড়েছে তোমায় ভেবে,বহুবার গতি কমার আগেই প্ল্যাটফর্ম ছুঁয়েছে আমার পা দুটি! বহুবার খালি অপেক্ষা আর অপেক্ষা...আমাদের বাসস্ট্যান্ড,আমাদের বারান্দা,আমাদের সবুজ মাঠ,আমাদের বোস পুকুরের সিঁড়ি....আরও কতজন সাক্ষী আছে!"

"সব জানি,ভুলিনি কিছুই... বলো কেমন আছো তুমি অনুরাগ? "

.... চোখের আড়ালে চোখ মুছে সাবলীল উত্তর অনুরাগের-" আজও একই ভাবে তোমার আছি,তাই বেঁচে আছি আমি!"....নিস্তব্ধতার আঁধার ঘিরেছে দুপুরের ঝাঁঝাঁলো সূর্যকেও!

মন কেমন করা বিকেল হচ্ছে ধীরে ধীরে পার্কের পশ্চিম কোণে হালকা রেশমী সুতোর মতোন বিদায়ী সূর্যের আলো,সাথে কয়েক পশলা অকাল বৃষ্টিও! বৃষ্টি পাগল অনুরাগ বার বার ছুঁতে চায় ইশিতাকে,কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি তখন ছুঁয়েছে ইশিতার ঠোঁট এবং কপাল...।

"ঘটি গরম চাইইইই...” হ্যাঁ চাই তো ইশিতার জন্য চাই,তবে ঝাল কম দিও-ঝাল ভালোবাসে না ও,ঝালে ওর গোলাপ ফুলের মতোন দুটি গাল একেবারে টুকটুকে লাল হয়ে যায়...
অনুরাগের কথায় খুব রাগ হয় ইশিতার,অভিমান হলো,তবু কিছু বললো না ইশিতা । 

হঠাৎ একরোখা এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ ভেঙে দিলো সব রেশ,পার্কের সিটে তখন একা বসে আছে অনুরাগ, কংক্রিট আর মানুষের জঙ্গলে বড্ডো একা অনুরাগ! ইশিতার রেশ মন জুড়ে,চোখ বুজলে ইশিতার স্বপ্ন, আর চোখ মেলে শুধুই চলে ইশিতা কে খোঁজার হাহাকার।

পার্কে অনুরাগের ঠিক পাশে হঠাৎ করে হন্তদন্ত হয়ে এসে বসে নীল জিন্স আর ব্ল্যাক টপে এক আধুনিকা!
আপন মনেই ঝড়ের গতিতে বলে চলে একরাশ কথা...আলাপ-পরিচয় নিজে থেকেই সেরে ফেলে মেয়েটি..শেষে বলে " আজ চলি বন্ধু "....
অনুরাগ হতভম্বের মতো দেখছে মেয়েটিকে,অনেকটা ঝোড়ো হাওয়ার মতোন...খানিকটা চলে গিয়ে মেয়েটি চেঁচিয়ে বলে..."আমি মনামী,কাল দেখা হতে পারে এইখানেই"....!!!

আজ লাঞ্চের পর থেকেই বার বার বাঁ হাতের কবজী উল্টোচ্ছে অনুরাগ-সময় দেখছে। আর মনে মনে ভাবছে পার্কে যাবে কি? আর গেলে সত্যিই কি ওই মেয়েটার দেখা মিলবে? কি যেন একটা নাম বলেছিলো!! নাহ্ মনে পড়ছে না কিছুতেই। নানা কথা ভাবতে ভাবতে অনুরাগ অফিস ছুটির পরে পার্কে এসে হাজির হয়,এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে মেয়েটি আসেনি,আসবে না হয়তো! ভাবতে ভাবতে একটা বেঞ্চে এসে বসে,আজ অফিসে অনেক কাজ ছিলো-বেশ ক্লান্ত লাগছে।

হঠাৎ, মেয়েটি মুখের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে-"চিনতে পারছেন?" সন্মতিসূচক মাথা নাড়ায় অনুরাগ। এবার মেয়েটি বলে "আমি মনামি,আপনি?"

"আমি অনুরাগ"
"ভালো নাম,তো কাল পার্কে একা বসে কি এতো ভাবছিলেন জানতে পারি!"

অনুরাগ অল্প হেসে বলে "তেমন কিছুই নয়।"
মনামি খুব হেসে বলে-"মনে হচ্ছিলো অনেক ভাবছেন,যাক আমরা কি বন্ধু হতে পারি? আমি রোজ অফিস ছুটির পর এই পার্কে আসি,আপনি আসেন?"
অনুরাগ বলে "না রোজ নয়,কখনও,কখনও"
এইভাবে চলে আরও অনেক কথা,মনামির বন্ধু হয় অনুরাগ, না হয়ে উপায়! নাছোরবান্দা,একটা ছটফটে মনের মিষ্টি এই মেয়েটি। অনুরাগ কম কথা বলে,তাই হয়তো মনামী কে ভালো লেগে গেলো ওর। 
কথা বলতে বলতে ওরা হাঁটতে শুরু করে,এরপর যে যার মতোন বাসে উঠে রওনা দেয়,বাড়ির দিকে।

এইভাবে পার্কে,চ্যাটিং এ গল্প হয় মনামী আর অনুরাগের, রূপসাও লক্ষ্য করে ভালো আছে অনুরাগ-মন ভার থাকেনা আজকাল,সময় দেয় রূপসা কে,ছোট্ট রুমিকেও গল্প শোনায় ঘুমের সময়।
কারনটা জানতে ইচ্ছা করে,তবু জিজ্ঞাসা করেনা...ভাবে থাক ও ভালো থাক।

মনামীর সাথে আলাপের প্রায় মাস চারেক পরের কথা- ওদের বন্ধুত্ব এখন অনেক নির্ভরযোগ্য জায়গায় এসে পৌঁছেছে,যদিও অনুরাগ খুব একটা বন্ধুত্ব শব্দে বিশ্বাসী নয় তবুও মনামীর কাছে ওকে হারতেই হয়,মনামী...অসম্ভব তর্ক আর বকবক করতে পারে,তাই ওর কথা চুপচাপ মেনে নেওটাই ভালো মনে করে অনুরাগ।

কিন্তু মনামী? ও কি মনে করে? এতোদিনে সেও চিনে গেছে ইশিতাকে,ইশিতাকে নিয়ে পাতার পর পাতা কবিতা পড়েছে মনামী,বড়ো ভালোবাসে ইশিতাকে ছেলেটা! মনামী মন খারাপ করে,অনেক বোঝায় কিন্তু অনুরাগ বোঝেনা! অনুরাগের একটা আলাদাই জগৎ আছে সেই জগতে শুধুই অনুরাগ আর ওর ইশিতা,আর কেউ যদি ওই জগতে প্রবেশ করতে পারে সে হলো একমাত্র বৃষ্টি! বৃষ্টি আর ইশিতাকে নিয়ে অনুরাগের একটা আলাদা সংসার,সেখানে কেউ পৌঁছাতে পারে না কেউ না! মনামীও হার মেনেছে,যেমন হার মেনেছে রূপসা!
রূপসা বড়ো ভালো মেয়ে,সব বোঝে ও,তবু কিছু বলে না,আবার হয়তো কখনও বলেও,কারন ও নিজেও যে বড্ডো ভালোবাসে অনুরাগ কে।

কিন্তু তবু প্রশ্ন রয়েই যায়,এই ইশিতা কে? অনুরাগের প্রেমিকা এটাতো সবাই জানে কিন্তু আজ অবদি কেউ জানতে পারেনি অনুরাগের ইশিতা কে কিংবা সত্যি কি ওই নামের কেউ আছে! অগাধ প্রেম অনুরাগের মনে...কান্না-হাসি উজার করে ইশিতাকে ভালোবাসে অনুরাগ। এক পলকে সংসার ত্যাগ করতে পারে অনুরাগ ইশিতার জন্য,ওর ছায়ায়,ওর নিঃশ্বাসে,ঘুমে জাগরনে ইশিতা ইশিতা আর খালি ইশিতা। যেন ইশিতা আছে তাই অনুরাগও আছে! মাঝে মাঝে ইশিতার সাথে লং ড্রাইভ,মাঝে মাঝে সমুদ্র স্নান,কখনও আবার পাহাড় দেখা,কখনও জঙ্গলে দাঁড়িয়ে পাগলের মতো ভেজা....সাথে রবিঠাকুরের গান! 

অদ্ভুত বড়ো অদ্ভুত প্রেম,তীব্র প্রেম,স্নিগ্ধ প্রেম...যেন কোনও এক ইন্দ্রজালে স্বেচ্ছা বন্দী অনুরাগ। একা ইশিতাকে সাথে নিয়ে মানব সাগর পাড় হচ্ছে অনুরাগ,মাঝে মাঝে নিজেও সমাধি দিতে চায় অনুরাগ, স্মৃতির সমাধি....তবু পারেনা,শুধু মনে মনে,চুপিচুপি আওড়ায়.."ইশিতা, তোমাকে তো আমি ভালোবাসি, খুব ভালোবাসি! " জীবন ক্যানভাসের কিছু ছবি এভাবেই মনে হয় অসমাপ্ত রয়ে যায়।




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.