x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

রাবেয়া রাহীম

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
রাবেয়া রাহীম

মনের মাঝেই রেখেছি

আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা, থেকে থেকে বৃষ্টি।
মন কেমন করছে তোর জন্য আজকে আবার।
বয়স আর কত হবে তখন--
সতেরতে পা দিয়েছি সবে তুই আর আমি।
মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে কলেজে প্রবেশ দুজনের এক সাথে।
কলেজে কয়েক দিন ক্লাস করার পর
নিজেকে হঠাৎ খুব বড় মনে হতে লাগলো।
বাড়ীর শাসনও কিছুটা শিথিল হয়ে আসে
এটাও একটা কারন হতে পারে।
দেখলাম প্রায় সব মেয়েরা ছেলেদের দিকে
বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকায়।
কিন্তু আমি কখনো অন্য ছেলের ব্যাপারে
আগ্রহই পেতাম না। কেমন করে পাবো, বল?
আমার পুরো আগ্রহ জুড়ে যে তুই ছিলি।
আমি যে অনেক আগে থেকেই
ভীষণ আগ্রহ নিয়ে তোকে দেখে থাকি
শুধু তুই কিছু বুঝতে পারিসনি।

পাড়ার মাঠে যখন দুজনে একসাথে খেলতে যেতাম
আমি চাইতাম যেন আমি তোর দলে থাকি,
কিন্তু তুই সব সময় নির্বিকার থাকতি,
তোর এই নির্বিকার থাকাটাই
আমাকে আরও বেশী আকর্ষণ করতে থাকে তোর দিকে।
খুব মনে পড়ছে আজ সেদিনের কথা--
কলেজ ছুটির পর ইচ্ছে করেই
সহপাঠির সাথে অনেকক্ষণ কথা বলি,
উদ্দেশ্য ছিল তোর চোখে একটু হিংসা দেখা,
কিন্তু নির্বিকার ছিলি তখনও।
অভিমানে চোখে জল এসে যায়।
তোকে কিছু না বলেই বাড়ী ফিরে যাই।
কেন তুই বুঝতে পারিস না,
কতটা গভীর ছাপ রয়েছে তোর জন্য বুকের ভেতর!
খুব লাজুক ছিলি তুই,
স্কুলে আমি ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথাই বলতিস না।
খুব ভালোলাগতো এই ব্যাপারটা,
বেশ মনের মধ্যে একটা শিরশিরে অনুভূতি ও...
কিন্তু তোকে বলা হয়নি কোনোদিন।
ক্লাস নাইনেই একবার জানতে চাইলি
আমার কাউকে ভালোলাগে কিনা?
কিন্তু এখন মাঝে মাঝে মনে হয়
তুই কি সেদিন তোর কথা জানতে চেয়েছিলি?
আমি "না" উত্তর করেছিলাম।
তাই কি তুই আর সাহস করতে পারিস নি?

একদিন বিকেলে তুই তখন বাড়িতে একা,
বাইরে অল্প বৃষ্টি পড়ছে ঝিরঝির করে,
তবে বৃষ্টি ছিলো আমার বুকের মধ্যে মুষলধারে,
অন্যদিনের মতই সোজা উঠে গেলাম
দো-তলার তোর পড়ার ঘরে।
ভেবেছিলাম খালি ঘরে একটু সাহসী হবি তুই।
না, সেই বরাবরের মতই ভালোছেলে থেকে গেলি,
ইমেজ সচেতন,লাজুক,মুখচোরা।
সুযোগসন্ধানী ছিলি না তুই কখনোই । তোর এই স্বভাব গুলো
ঘিরেই ছিল আমার মস্ত ভালোলাগা।
আমার অহংকার ছিলি তুই
আর তোর বন্ধুত্ব।
এত ভালো কেন ছিলি রে?

শহরজুড়ে প্রবল বৃষ্টির বেগ ছিলো সেদিন।
বলেছিলাম হাতটা বাড়িয়ে দে,
আমি ভালোবাসা ভেবে আঁকড়ে ধরবো।
ভেবেছিলাম তুই কেঁপে উঠবি
আমার প্রত্যেকটা স্পন্দনে।
বরাবরের মত লাজুক তুই নিজেকে গুটিয়ে নিলি।
অভিমানে মনে হল আর কখনো তোর মুখ দেখবো না।
তারপর আর দেখাও হয়নি তোর সাথে।
কিন্তু সময় থেমে থাকেনি
আমি লাল বেনারসীতে গা ভর্তি গহনায় মুড়ে
অন্য বাড়ির চৌকাঠে পা রাখলাম।
তখন তুই ছুটে এসেছিলি আমার ছায়া সুনিবিড়,
সবুজ গ্রামের শ্বশুর বাড়ি দেখতে।
তোর দু চোখ ভর্তি ছিল না পাওয়ার কষ্ট আর সমবেদনা।
সম্পর্কের বেড়াজালে আবদ্ধ আমি
কিছুই কি করার ছিলো, বল!
ছোট বেলা থেকেই শিখেছি কি করে অবাধ্য ইচ্ছে গুলোকে
নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মের ভেতরে থাকতে হয়।

এই আমার জীবনে চেয়েছিলাম
একচ্ছত্র আধিপত্য কেবল তোর হবে।

বোকা তুই
কিচ্ছু বুঝলিনা
হয়ত তুই ও...
হয়তো বা তুই না
কেবল আমি-ই।

ভালো থাকিস
মনের মত বউ নিয়ে সংসার করিস
আর আমাকে ভালবাসতে বলছি না!
হয়তো ভালোবাসিসও নি কখনো ।
শুধু মনে করিয়ে দিচ্ছি, ভুলে যাইনি!
মনে রেখেছি, মনের মাঝেই রেখেছি।


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.