x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

পলাশ কুমার পাল

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
শব্দহীন শব্দের জ্বর






দেখো; আজ কোনো শব্দ নেই ঘরের ভিতর, ঘোরের ভিতর। উষ্ণতা তবু তরতরিয়ে উঠে যায়। ভীষণ জ্বর এখন। বন্ধ ঘরের মধ্যে নির্বাক সব, একমাত্র ঘড়ির কাঁটা ছাড়া। সময় এইরকমই। যখন বইয়ের তাক নির্বাক হয়, নির্বাক থাকে আলমারি-দরজা-জানলা-দেয়াল-পাখা-টিভি; তখনও কিন্তু সময় চলমান।

জ্বরের মধ্যে তবু তোমাকে বৃষ্টির মতো দেখি। অবিরাম... তোমাকে দেখাটা যেন একটা চুমুক। জ্বরের মধ্যে অবসাদ তখন কিছুটা হলেও কমে। মোবাইলটা দূরে সরানোই থাকে এখন। না না, তোমার থেকে দূরে সরতে চাই। তবু দেখো, জ্বরের মতো শরীরের শিরা-উপশিরা বেয়ে তুমি আরও আরও জড়িয়ে ধরো! কপালে মায়ের দেওয়া জলপটি থেকে ঝরে পড়া জলে অশ্রু মিশে যায়। তারপর এক শান্ত নদী কপোলের উপর দিয়ে বহে যায়... কখনো কখনো কানেতে গিয়ে ফিসফিসিয়ে কিছু যেন বলতে চায়।

জ্বরের ঘোরে সবটা বোঝা হয়ে ওঠে না। তবে মায়ের স্পর্শে তোমাকে অনুভবের লুকোচুরির কৌশল বোধ হয় এই জ্বর। মা চোখ মুছিয়ে যখন আলোটা নিভিয়ে দিয়ে সংসারের কাজে ঢুব দেয়, তখন তুমি আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠো। আঁধারের মাঝে পৃথিবীর গভীরে তলিয়ে যাই...

হাতরে যাই শৈশব, কৈশোর... জন্ম থেকে যে শিকড় আমার সাথে সাথে ক্রমশ বেড়েছে, সে শিকড়টা যেন ছিঁড়ে যায়... স্বপ্নের আকাঙ্খা বা স্বপ্নের রঙ আজ পাল্টে গেছে অনেক। একদিন ছিল খিদের স্বপ্ন। আর আজ আশ্রয়। অথচ পারিবারিক আশ্রয় সর্বদা মাথার ওপর। তবু কোনো এক আশ্রয়ের খোঁজে আজ...

বলতে পারো ভারসাম্যহীন কথা। ঠিক তাই! জ্বরের ঘোরে সবই এইরকম ভারসাম্যহীন হয়ে পরে। মাতালের মতো টলতে টলতে আলোকবর্ষ পথ পেরানোর শপথে স্বপ্নেরা হাঁটে। বিছানার মাঝে আমিও সাঁতরাই প্রথম সাঁতার শেখার মতো... আসলে প্রাণভয়! অথচ কোনো শব্দ নেই ঘরের ভিতর, ঘোরের ভিতর! বিন্দু বিন্দু ঘামে জ্বর কমে। উঠে বসে দেখি চাদর কোঁচকানো, ঘরে কোনো আলো নেই!

আলোহীন দেয়ালে হাতরে সেই আয়নাটা খুঁজি, যাতে কৈশোরের প্রেমকে সজ্জিত করতাম নানা ভঙ্গিমায়... দেখি আয়নাটা আর নেই। অথচ হঠাত্ই আয়নার মতো ভেঙে যায় বুক। টুকরো টুকরো...

আবার উষ্ণতা বাড়ে। দ্রুত সেই টুকরো বুকগুলোকে লুকিয়ে রাখি, কেউ যাতে দেখতে না পায়। না মা; না তুমি! কারণ ভাঙা আয়নাতে মুখ দেখা যে অকল্যাণ। আমি যে কারুরই অকল্যাণ চাই না!

আবার জ্বরের পথ ধরে ঘোরে পৌঁছে যাই। পরতে পরতে পাট করা শাড়ির মতো খুলে যায় একটা উপন্যাস, নানা স্বপ্নে...

ঘোর! ভীষণ ঘোরে শ্যাওলা জমা হয়ে যায় চোখের কোণে। স্যাঁতস্যাঁতে জীবনের দেয়ালও ক্ষয়... এই জ্বর থেকে কী রেহাই নেই?



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.