x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

পলাশ কুমার পাল

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ |
শব্দহীন শব্দের জ্বর






দেখো; আজ কোনো শব্দ নেই ঘরের ভিতর, ঘোরের ভিতর। উষ্ণতা তবু তরতরিয়ে উঠে যায়। ভীষণ জ্বর এখন। বন্ধ ঘরের মধ্যে নির্বাক সব, একমাত্র ঘড়ির কাঁটা ছাড়া। সময় এইরকমই। যখন বইয়ের তাক নির্বাক হয়, নির্বাক থাকে আলমারি-দরজা-জানলা-দেয়াল-পাখা-টিভি; তখনও কিন্তু সময় চলমান।

জ্বরের মধ্যে তবু তোমাকে বৃষ্টির মতো দেখি। অবিরাম... তোমাকে দেখাটা যেন একটা চুমুক। জ্বরের মধ্যে অবসাদ তখন কিছুটা হলেও কমে। মোবাইলটা দূরে সরানোই থাকে এখন। না না, তোমার থেকে দূরে সরতে চাই। তবু দেখো, জ্বরের মতো শরীরের শিরা-উপশিরা বেয়ে তুমি আরও আরও জড়িয়ে ধরো! কপালে মায়ের দেওয়া জলপটি থেকে ঝরে পড়া জলে অশ্রু মিশে যায়। তারপর এক শান্ত নদী কপোলের উপর দিয়ে বহে যায়... কখনো কখনো কানেতে গিয়ে ফিসফিসিয়ে কিছু যেন বলতে চায়।

জ্বরের ঘোরে সবটা বোঝা হয়ে ওঠে না। তবে মায়ের স্পর্শে তোমাকে অনুভবের লুকোচুরির কৌশল বোধ হয় এই জ্বর। মা চোখ মুছিয়ে যখন আলোটা নিভিয়ে দিয়ে সংসারের কাজে ঢুব দেয়, তখন তুমি আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠো। আঁধারের মাঝে পৃথিবীর গভীরে তলিয়ে যাই...

হাতরে যাই শৈশব, কৈশোর... জন্ম থেকে যে শিকড় আমার সাথে সাথে ক্রমশ বেড়েছে, সে শিকড়টা যেন ছিঁড়ে যায়... স্বপ্নের আকাঙ্খা বা স্বপ্নের রঙ আজ পাল্টে গেছে অনেক। একদিন ছিল খিদের স্বপ্ন। আর আজ আশ্রয়। অথচ পারিবারিক আশ্রয় সর্বদা মাথার ওপর। তবু কোনো এক আশ্রয়ের খোঁজে আজ...

বলতে পারো ভারসাম্যহীন কথা। ঠিক তাই! জ্বরের ঘোরে সবই এইরকম ভারসাম্যহীন হয়ে পরে। মাতালের মতো টলতে টলতে আলোকবর্ষ পথ পেরানোর শপথে স্বপ্নেরা হাঁটে। বিছানার মাঝে আমিও সাঁতরাই প্রথম সাঁতার শেখার মতো... আসলে প্রাণভয়! অথচ কোনো শব্দ নেই ঘরের ভিতর, ঘোরের ভিতর! বিন্দু বিন্দু ঘামে জ্বর কমে। উঠে বসে দেখি চাদর কোঁচকানো, ঘরে কোনো আলো নেই!

আলোহীন দেয়ালে হাতরে সেই আয়নাটা খুঁজি, যাতে কৈশোরের প্রেমকে সজ্জিত করতাম নানা ভঙ্গিমায়... দেখি আয়নাটা আর নেই। অথচ হঠাত্ই আয়নার মতো ভেঙে যায় বুক। টুকরো টুকরো...

আবার উষ্ণতা বাড়ে। দ্রুত সেই টুকরো বুকগুলোকে লুকিয়ে রাখি, কেউ যাতে দেখতে না পায়। না মা; না তুমি! কারণ ভাঙা আয়নাতে মুখ দেখা যে অকল্যাণ। আমি যে কারুরই অকল্যাণ চাই না!

আবার জ্বরের পথ ধরে ঘোরে পৌঁছে যাই। পরতে পরতে পাট করা শাড়ির মতো খুলে যায় একটা উপন্যাস, নানা স্বপ্নে...

ঘোর! ভীষণ ঘোরে শ্যাওলা জমা হয়ে যায় চোখের কোণে। স্যাঁতস্যাঁতে জীবনের দেয়ালও ক্ষয়... এই জ্বর থেকে কী রেহাই নেই?



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.