x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

পলাশ কুমার পাল

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
একটা বিকাল







"সুন্দর হে, বরমাল্যখানি তুমি আনো বহে..."

রবীন্দ্রগীতি শুনতে শুনতে সাঁজুর মুখটা ভেসে আসছে অমিতের মনে। ফেসবুকে দেখা সে মুখ। কত কথা প্রেমসুরভি মেশানো। অমিত'ই তখন থেকে সন্ধ্যাকে সাঁজু নামে ডাকে। আদরের নাম। যদিও ফোনে কথা হয়েছে একবার; তবু সে সম্পর্ক ভার্চুয়াল। সেই ভার্চুয়ালের পর্দা ঠেলতেই বাংলা সাহিত্য অ্যাকাডেমিতে আজ তাদের প্রথম সাক্ষাত্ হবে। তারই অপেক্ষা! অমিতের মনে এই বিকাল মধুর বিকাল যেন!

বিকাল ৪টায় সময় দিয়েও আধঘণ্টা আগেই পৌঁছে গেছে অমিত। যেকোনো কাজেই তার বরাবর তাড়া। বিশেষ করে দায়িত্বপূর্ণ বিষয়ে। আর তার অবিবাহিত দেবদাস জীবনে সাঁজুকে প্রাপ্তি কিছুটা যেন বিগত প্রেমেতে প্রলেপ। তাই এই সাক্ষাতের গুরুত্বটা অপরিসীম। অল্প ক'দিনের পরিচয়েই সাঁজু তার কাছে বড় আপন হয়ে উঠেছে। মনে মনে এই ভার্চুয়াল সম্পর্ককে বাস্তব ভেবে বসেছে। তার মনে হয়েছে এতদিনের বিরহ আঁধারে সাঁজু যেন বাতি। পূর্ণতা আনতে পারে সকল শূন্যগুলো ভরাট করে।

নন্দনের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে রবীন্দ্রমাস পালন চলছে। অমিত মঞ্চের পাশে একটি গাছতলার চাতালে বসে দেখছিল মানুষের যাতায়াত। বৃদ্ধ ও যুবক-যুবতীর মেলা। এদের শহুরে পোশাক-আশাক আর স্বতঃস্ফূর্ত কথাবার্তার ভিড়ে নিজেকে যেন মেলাতে পারছিল না। গ্রামের মধ্যে বড় হওয়ার সাথে সাথে তার মনে গ্রাম্য সংস্কৃতির ছাপ ছিল প্রবল। যদিও সে শিক্ষিত। তবু মানুষের শরীর দেখানো পোশাক আর বড়োদের সাথে বসে ছোটদের সিগারেট টানার ভঙ্গীতে সে বারবার হোঁচট খাচ্ছিল।

বিকালের আলো কমে আসছিল। সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বে নিজের কাছে নিজেকে অপ্রস্তুত মনে হচ্ছিল। তারও সাঁজুর সঙ্গে প্রেমসুরভিতা বা দেখা করতে আসা -এও তো একজনকে পরকীয়ার দিকে টেনে আনার লক্ষণ। এটাকে সে কীভাবে মানবে? 

এমন সময় সাঁজুর ফোন, "আমার যেতে আরও দশমিনিট দেরি হবে। রাগ করো না। আচ্ছা তুমি এখন কোথায়?..."

ফোনটা রেখেই দেখে পাশে একটি মেয়ে ও দুটি ছেলে এসে বসেছে। তাদের কথাবার্তায় মেয়েটির মুখে বারবার সন্ধ্যার নাম। কে সন্ধ্যা? কৌতুহলের সঙ্গে অমিত তাদের কথা শুনতে থাকে।

হঠাত্ মেয়েটি কাকে ফোন করে, "আমি সোহিনী বলছি। লোকের মুখে শুনলাম আজ সন্ধ্যা বিশ্বাসের কবিতা পাঠ। তা তুই আমায় একবারও বললি না যে তোর কবিতা পাঠ। এক্কেবারে ভুলে গেলি?..."

সন্ধ্যা। আবার কবিতা পাঠ। অমিতের ধারণাটাই মিলে গেল। এ যে সাঁজুর কথা বলছে।

তারপরেই মেয়েটির গলার স্বর ব্যঙ্গমিশ্রিত তীব্র হয়ে ওঠে, "...আমি আর তোর মনে নয় মাথায় উঠে গেছি তাহলে? এখন তো তোর অনেক বন্ধু। তাই হয়তো!... এখন তুই কত ছেলের মাথা খাচ্ছিস।... ফেসবুকে তোকে ফলো করি। কত ন্যাকা ন্যাকা কমেণ্ট। অথচ আমার কথার রিপ্লাই দিস না।... তোর কতশত ছেলে বন্ধু। নাচাচ্ছিস..."

সোহিনীর কথাগুলোতে অমিতের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। সাঁজু তো এমন হতে পারে না! নিজের বিশ্বাসকে সে ভাঙতে পারে না। কিন্তু? হাতের মুঠোতে তখন ঘাম। লজ্জা। পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখে- ধূলোময় পায়ের আঙুলগুলো জীর্ণ জুতোর উপর পরে আছে। গ্রামের ধূলোর অনতিদূরে সেই মেয়েটির নেলপালিশে পূর্ণ পা হাসছে...

সাঁজু তবে...

আবারও সোহিনী, "কার সাথে দেখা?... ছেলে না লোক?... আচ্ছা। আমি নন্দনেই আছি। আয় দেখা হবে!"

প্রায় দশমিনিট হতে চলল। কোনোকিছুই ভেবে স্থির করতে পারল না। বিকালটাও গড়িয়ে পরছিল সন্ধ্যায়। যে বিকালটাতে মধুর সুরের এক ছোঁয়া ছিল, সেটা এইরকম প্রশ্নচিহ্ন হয়ে পরবে অমিত ভাবতেই পারছে না। নিজেকে সবচেয়ে দোষী মনে হল। সাঁজু যে বিবাহিত! তবু...

সোহিনী তখন সিগারেটে মশগুল। তার ঠোঁটের ধোঁয়া ছড়িয়ে পরেছে চারপাশে। পুড়ে যাওয়া ফিল্টারের সত্য। ধোঁয়া থেকে হাঁফ ছাড়তে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে উঠে পরল অমিত। তার এই ধোঁয়া সহ্য হয় না। জুতোটা পায়ে গলাতে গলাতে দেখে জুতোর চারপাশে কিছু ঝরাপাতা। আর তার হাতে আঙুলের প্যাঁচে প্যাঁচে ছেঁড়া একটি সবুজ পাতা।

সে যদি চলে যায় সাঁজু আঘাত পাবে না তো? -এটা ভাবতে ভাবতে অমিত ক্রমশ নন্দনচত্বর থেকে বাহিরের দিকে রওনা দিল। যদি আঘাত পায়?... তার তো অনেক বন্ধু আছে। ভুলে যাবে! হয়তো বা আঘাত পাবে না! সবুজ পাতাটি খসে পরল হাত থেকে।

অমিত নিজেকে বাঁচাতে আপ্রাণ হয়ে উঠল। তবু... পকেট থেকে ফোন বের করে ডায়াল করল।
"হ্যাঁ। আমি বলছি। বাড়িতে একটা বিপদ হয়েছে। আমি এক্ষুনি বাড়ি ফিরছি। পরে কোনোদিন দেখা হবে। রাগ করো না। পরে..."

বাহিরপথে তখন কৃত্রিম আলো আর যানবাহনের শব্দ। একটা দিন শেষ হয়ে গেল একটা বিকালে। বাঁদিকে ব্যাগটা ঝুলিয়ে অমিত তখন রাজপথে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। চারপাশে কৃত্রিম আলোয় শহর। রাস্তা ছুটছে... ছুটছে যে যার গন্তব্যে...


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.