x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

নীপবীথি ভৌমিক

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
নীপবীথি ভৌমিক







“ অল্প লইয়া থাকি , তাই মোর যাহা যায় তাহা যায় ।
কণাটুকু যদি হারায় তা লয়ে প্রাণ করে ‘ হায় হায়।‘

প্রসঙ্গ যখন ‘ অধিকার’, তখনই বোধহয় কবিগুরুর এই কথাগুলো ভীষণ ভাবে মনন জগতে আলোড়িত করে। আসলে অধিকার শব্দটাই বোধহয় এমনই একটা শব্দ, যাকে আমরা সঠিক মাত্রায় বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করলেও করতে হয়তো পারিনা। আপেক্ষিক শব্দ ‘অধিকার’।

কি অধিকার, কিরূপে অধিকারের বিচার, এসব সত্যিই বড় জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। তবে আপাত দৃষ্টিতে এই আপেক্ষিক শব্দটির দুটো অর্থ আমরা সচারচর পরিলক্ষিত করে থাকি। অধিকার যখন possession অর্থাৎ দখল অর্থে ব্যবহৃত হয় ,আবার যখন right অর্থে বসে, তখন এর ব্যবহারও অন্যরকম। 

যাইহোক, অধিকারের বিশ্লেষণ না হয় অন্যসময় আরও বিশদে অন্য সময় লেখা যাবে। আজ ‘ অধিকার ‘ এই শব্দটিকে আমি possession অর্থেই ব্যবহার করলাম। অধিকার বা possession—এ এক গভীর অর্থবহ শব্দ। আসলে, অধিকার লাভ করা বা নিজস্ব অধিকার কিংবা সামাজিক অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা বা প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে ওঠে হয়তো, তবুও মনে হয় অধিকারের এই তালিকায় এমন কিছু অধিকার থেকে যায়, যার বিচার শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক সূক্ষ অনুভূতির দ্বারাই সম্ভব। রীতি নীতি, আইন আদালত, সবকিছুর উর্দ্ধে হয়তো এর স্থান। 

হৃদয় যেখানে কথা বলে, ভালোবাসা, মায়া- মমতার যেখানে প্রকৃত জয় হয়, আসলে আমাদের এই মনুষ্য সমাজে এমন কিছু বিষয় এখনো আছে, যেখানে আজও স্নেহ মমতার কাছে আইন কে বাধ্য হতে হয় পরাজিত হতে। হতে পারে সেই অধিকারের পিছনে তকমা লেগে যায় অবৈধ বলে…

এমনই কিছু ঘটনার সাক্ষী এই চোখ। শান্তিনিকেতনে থাকার সুবাদে, প্রায়শঃই দেখতে পাই বিশাল বিশাল সব বাড়ী-জমি-গাড়ি। অথচ, বাড়ীতে মাত্র দুটো প্রাণী। বৃদ্ধ এবং তার স্ত্রী। কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধুই তাদেরই একজন। এদের ছেলে-মেয়েরা সবাই প্রায়ই বিদেশে সেটল। স্বাভাবিক ভাবেই এই সমস্ত পরিবারের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ বাড়ীতেই সেইসব অসহায় মানুষদের সহায় হন, তাদের বাড়ীর পরিচারিকা, কেয়ারটেকার কিংবা আশপাশের কোনো অভাবী মানুষজন। 

বলাবাহুল্য, তারাই ধীরে ধীরে সেইসব অসহায় বয়স্ক মানুষদের সহায়সম্বল হয়ে ওঠেন।  ভালোবাসার টানে ওনারাও কেউ হয়ে ওঠেন তাদের মা, কেউ বা বাবা। ক্রমশ মানুষগুলি এইভাবেই হয়ে ওঠেন একে অন্যের নিকট আপনজন। এখানে তো কোন রক্তের সম্পর্ক নেই, তাই - প্রশ্ন উঠতেই পারে, একসময় মৃতের সম্পর্ক / সম্পত্তির উপরে অধিকার তাদের কেন থাকবে ? 

কিন্তু এই সমস্ত ক্ষেত্রে বোধহয়, মানুষের মনের সূক্ষ অনুভূতিরই বোধহয় জয় হয়, তথাকথিত আইন কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। আর, বিদেশে বসবাসকারী নিজের রক্তের সম্পর্করা যে কখনো প্রতিবাদ করতে এসেছেন, নাহ  - তেমন দেখা নেই। হয়তো, এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতেই পারে, এক শ্রেণীর স্বার্থ, তবু, স্বার্থই কি সব এই জগতে ? মানবিকতার কি কোনো দাম নেই ?

হ্যাঁ , এও বোধহয় অধিকারের আর এক রূপ, যা ভালোবাসা দিয়ে অর্জন করে নিতে হয়। ভালোবাসার শুদ্ধ পথেই বোধহয় প্রকৃত অধিকার বোধ লুকিয়ে থাকে যেকোনো সম্পর্কের ভিতরে। তাই একটু অন্যভাবে হলেও একথা হয়তো বলতেই পারা যায় ,” I will have nothing else but only this ; And now me thinks I have a mind to it ‘’





Comments
1 Comments

1 Reply so far - Add your comment

যুগান্তর মিত্র বলেছেন...

খুব সুন্দর লেখা। পড়ে মন ভরে গেল।

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.