Header Ads

Breaking News
recent

মন্দিরা ঘোষ

মন্দিরা  ঘোষ

রম্যভূমি

অসহ্যরাতের অন্ধকারে কুয়াশার ভিতর
ভ্রষ্টাচারী  হেঁটে যায় রম্যভূমির গন্তব্যে।
দুদন্ড জিরনোর সময় ধুয়ে নেয়
জমে থাকা শরীরের পাপ জোয়ারের জলে;
নদীগর্ভে রেখে যায়  অহংকারের বীজ।

গর্ভবাস  শেষ করে মাটির শৈশব
ছোট  ছোট  হাত মেলে
ছুঁতে চায় চাঁদ।
স্তননের বাধ্যতা নিভে এলে
চরাচর  শুধু মনে রাখে
গর্ভজ  সুখের দিন।
মনে থাকে জোয়ারের জলে অহংকারী
ধুয়ে ছিল মুখ;অজ্ঞাতে ভ্রষ্টতার কালি
ছুঁয়েছিল চাঁদের শরীর।

দলিত কুসুমদল উঠে বসে;
একদিন মেঘেদের ভিড়ে খুঁজে খুঁজে
রেখে আসে আলোর ঠিকানা;
কলঙ্কের বিষবাষ্পে মুছে দিতে
পৃথিবীর ভ্রষ্টাচারীর দোহন।
লালনের শর্তগুলি তখন মান্যতা  পায়
অনিবার্যতায়।


পঞ্চালিকা  আমি

একশো  তিতির ভালবাসা তোমার রাখি
বুকের মাঝে নরম সুখের বালিশ পাতি
ইচ্ছেধারীর ইচ্ছেগুলো ভীষণ  কঠোর
আমি তোমার খাঁচায় পোষা তিতির পাখি।

ভালবাসার শেকড় গুলো আলগা যখন
আকাশ আকাশ স্বপ্নগুলো ধূসর মলিন
গভীর রাতে তিতির পাখির পালক পোড়াও
আমি সদাই বৃষ্টিপাতের হিসেব রাখি।

জীবন জীবন যুদ্ধ জয়ের মুকুট  পড়ো
রক্তপাতের গল্পকথায় বাতাস ভারী
মধ্যরাতে মোমের আলো কান্না চাপে
আমি নরম বুকের ওপর বালিশ পাতি।

শেকল শেকল ভালবাসা  জীবন  জোড়া
মেয়ে তুমি বাতাস মেখে শূন্যে ওড়ো
কাঁটাতারের রক্তপাতে ভয় কি তোমার
রক্ত যখন ঝরছে বুকে জীবন গড়ো।

তবু কেন মন খারাপের শরীর যাপন
পুরুষ  তোমার অবহেলা ভূষণ  মানি
তোমার চোখে আমি হলাম পঞ্চালিকা
আমি নারী বুকের ওপর বালিশ পাতি।


আমি

বার বার শুধু দেখতে থাকো
অলীক  সংঘাতে ক্লান্ত তুমি
ঘুমাবে বলে বালিশ টানলে,
অথচ আমি অপেক্ষারত
তোমার উদারতায়।
নিস্তব্ধতা  না অন্ধকার কার
ঘনত্ব বেশী- অংক কষতে গিয়ে
রাত শেষে প্রাত্যহিকতার
আকচাআকচি।
স্কুলের টিফিন,ইলেকট্রিক  বিল,
সপ্তাহের বাজার সব রসাতলে।

রক্ত ঝরছে  ঝরুক দিনরাত,
আমি আমার গোপন আমির সাথে
ঝগড়া  করি;
দুপুরে কাঠবিড়ালীর জন্য দরজা খুলি
আর সর্বাঙ্গে কবিতা মাখি।
সংসার আমার আঁচল টানলে
যত্ন দিই খুব,
বেশী চাইলে তাও।

শুধু আমার অর্জিত অভিমান
সযত্নে লালন করি মোমের আলোয়,
আর একটি নির্ভার শিশির সকালের জন্য।



1 টি মন্তব্য:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.