x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

লিপিকা ঘোষ

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ |
লিপিকা ঘোষ

অনিবার্য — 

এইখানে
রূপ আছে। রস গন্ধ বর্ণ।
আমার পা ছুঁয়ে বয়ে যায় গঙ্গা। আমার হাতের আঙুল ছুঁয়ে।
সেইখানে।
আধভাঙা টুকরো ইঁট যে গড়িয়ে পড়ল জলে,
আর ঘিরে গোল গোল করে ঢেউ দিল,
সেসব মিলিয়ে গেল স্রোতে।
পুরনো কবেকার লাল ইঁট টুকরো।
কোন ইতিহাস লেখা ছিল,  কেবা তা জানে।
‘জানো কি কেউ তাহা জানো কি?’ বলে এইমাত্র
যে পাখি শিষ দিয়ে দোল খেল বটের ঝুরি বেয়ে
তার নাম জানো কি?
এইখানে পৃথিবী যে থমকে এসে থামে সারা পৃথিবী পরিক্রমা সেরে।
সবকিছু যেন বন্ধকি দেওয়া ছিল তার। সেইকাল থেকে।
ইঁটের টুকরো যে কালের কথা নিয়ে গড়িয়ে গেল।
যেন সাত সাত জন্মের আর মৃত্যুর বৃতান্ত সমূহ।



গতি – 

দেহ-ফাঁদে মিশে দেহ।
ছাড়াতে চায় না।  তবু ছেড়ে যায়।  যায় কোথা?
যেখানে পদ্মার চরে চর জেগে ওঠে।
নিশিথে কে পারাপার করে ছাড়-পদ্মার বুক বেয়ে,  নৌকো বায় কেবা?
কেমনতর সে মানুষ এক।
চরে বসে জিরোয় খানিক।
চরাচরে জেগে থাকে রাত্রি এক নিবিড় সে রাত্রি এক।
একজন পারাপার করে।  দেহ-ফাঁদে মিলেমিশে থাকে।
ছেড়ে যায়।  যেতে না চাইলেও যায় তো। নদী যায়।
নদী তো সাগরে গেল।  ছাড়-দেহ গেল কোথা?
রাতজাগা একজন জানে।


শেষ -

এস হে,  দুদন্ড গল্প করি।  পাশে বসে জিরিয়ে নাও।  যে গল্প থেকে আচমকা এক পাখি উড়ে গেলে হলুদ নরম পালক খসে পড়ল। আমার খোলা চুল বেয়ে, চুলের হেনা রঙ বেয়ে মিলেমিশে গড়িয়ে নামল।  পালক।  আর তুমি হাত পেতে ধরে তা আবার ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলে। সেই গল্প করি। গল্পের যেখান থেকে শুরু আর শেষ তার সবটুকু লেগে থাকা দাগ মুছে নিয়ে গেল চিল। আকাশের ঘুর্ণিপাকে ঘুরে ঘুরে চিৎকার করে গেল।  সেই তীক্ষ্ণ থেকে দীর্ঘ ঈ দীর্ঘতর হল। সেই গল্প । দুদন্ড সময়কাল ধরে।  তা কি কম মনে করো?  অনেকটা সময় কাল জেনো।  সবটা তো আসলে গল্পের মতন না।  গল্পই তো।  পাশ থেকে উঠে গেলে টের পেতে পারো।  উঠি উঠি করছি কত শতাব্দীর দুপুর ধরে যেন।  কে যেন আটকে রেখে দেয়।  পা সরে না । সময় হল বুঝি গল্প ফুরনোর। ‘আসি তবে' বলে কখন উঠে যাবে প্রাণ।  তোমার ঠোঁটের কোণ ঘেঁষে মেঘ জমল কি? জমা মেঘে বজ্র বিদ্যুৎ চমক!  কত শতাব্দী ধরে এরকমটাই তো দেখে আসছি হে।  এস দুদন্ড গল্প....  




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.