x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

ঝিলিমিলি

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ |
iফিরে পাওয়া





ঝড়বৃষ্টির এমন দাপট, আজকাল ঘর থেকে বের হবার অবকাশ থাকে না। অথচ না বেরুলেই চলছে না। ভদ্রলোক হামেশাই সাদা পাঞ্জাবী পরে থাকেন, যেন ওরই ছাঁচে তিনি গড়া । মানুষ তাকে মনে করলেই তার লেবাস সমেত তাকে মনে রাখতে পারবেন । রাশভারী লোক, কাজের কথাই তিনি বলে থাকেন আর নিয়মের কড়া শাসনে নিজেকে রেখে চলেন। মানুষ তাই তাকে একটু সমীহ করেই চলেন। । তবে নিত্য রঙিনে গড়া পৃথিবীর সাথে তার এই কোঠর ব্রত এক সময় এসে ঠোক্কর খেল।

হঠাৎ করেই দৈব ঝড়ে সংসারটাকে উল্টা পাল্টা করে দেবার উপক্রম। দেবতুল্য স্বামী ভাগ্যে স্ত্রীর ভেতরে চাপা অহমিকা ছিল, তিনি জানতেন বাহিরের সখীগণ কিছুটা ঈর্ষাকাতরেই তাকান এই দম্পত্তিদের সুখ দেখে। 

বাজার করে হেঁটে ফিরে আসার সময় বৃষ্টির চাপে স্ত্রী বেচারা একটি পরিত্যাক্ত ঘরে আশ্রয় নিচ্ছিলেন, পার্টিশন ঘেরা পাশের ঘর থেকে একটি ফিস ফিস আওয়াজ পেয়ে চমকে গেলেন তিনি। একটি মেয়ে কণ্ঠ এবং তারই প্রিয় সখী লিলি বলছে –আহ হাত ছাড় অর্ক, তুমি জানো তোমাকে সুজাতা কি চোখে দেখে? স্বামীর কন্ঠটি বলছে আমার স্ত্রী যাকে দেবতা বলে ভাবে সম্পূর্ণ তার মনে গড়া, আমি এ’হাত কখনো কি ছেড়ে ছিলাম বা ছেড়ে দিলেই ছেড়ে যাবে বলে ভাবছো? লিলি বলল সে আমি ছাড়া কে আর ভাল জানে! মনে হল একটা দীর্ঘশ্বাস তাকে গ্রাস করে নিল। হাত থেকে বাজারের ব্যাগটা পরে গেল সুজাতার, সমস্ত অহংকার নিমেষেই ভেঙে গেল।

লিলি তার প্রিয় বন্ধু, বিয়ে আর করেনি এইটুকুই জানে সে। মনে হল তিনজনের দুঃখ বোধ বুঝি একই সূত্রে গাঁথা, এ’গিঁট খোলার নয়, থাকুক নীরব তারের কোন এক স্বর হয়েই।

**
সুজাতা সেতারে বেহাগ রাগ বাজাচ্ছে – অর্ক এসে পিঠে হাত রেখে বলল, সুজাতা আজ তুমি বড় চঞ্চল, আমি নিশ্চিত জানি আজ আমাকেই বাজালে তুমি- বড় বেদনার আবেদন দিয়ে।  সুজাতা অঝরে কাঁদছে – স্বামী বললেন সুজাতা ঈশ্বরের হাতের ক্ষমতা আমার নাই যে তোমার এ’কান্নাকে আমি সূরাহা করে দিতে পারি বরং কেঁদে তুমি হালকা হও, আমি তোমায় বরং জড়িয়ে রাখছি বুকে, এই বেদনার রঙ যে আমারো সুজাতা।


**
ধীরে ধীরে সংসারের নিয়মের আবর্তে নিজেকে বেধে রাখল সুজাতা, ভাবল নিজের সাথেই নিজেকে একান্তে কথা বল জরুরী, কারণ কেউ এসে সুজাতাকে উদ্ধার করে দেবে এমন আশা করাই বোকামি। 

রাতের বেলায় স্বামীর অভ্যস্ত হাত সুজাতার গায়ে এসে পরল। সুজাতা বলছে, আহ কি কর, হাত ছাড়। স্বামী বলছেন এ হাত ছাড়লেই কি ছাড়া যায় সুজাতা, হাত কি সত্যি ছাড়া যায়? সুজাতা চমকে উঠে লিলির ভঙ্গিমায় বলল ... সে আমি ছাড়া কে আর ভাল জানে! অলক্ষ্যে লিলির ঐ দীর্ঘশ্বাসও অনুকরণ করল সুজাতার শ্বাসযন্ত্রে। রাতের আঁধারে সুজাতার চোখের ঐ জলের রেখাকে কেউ বুঝি দেখল না।

সুজাতা দেখে তার স্বামী বড় রাশভারী লোক, মান্য করেন মানুষ জনেরা। তবে সুজাতা একটা ভার বহন করে চলেন সবার আড়ালে, তিনি আর মনের গর্বে পুলোকিত হতে পারেন না।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.