x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

ইফতেখারুল হক

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
অধিকার ও চাওয়া পাওয়ার কাঙ্ক্ষিত শতকের সাথে আমাদের দূরত্ব







যদি বলি কাটছে জীবন সুন্দর, যদি বলি বাস করছি আলোতে চারপাশের ঘন কালো অন্ধকারকে মাটিচাপা দিয়ে তা হলে কী সঠিক বলা হবে ? আসলেই কী কাটছে আমাদের জীবন সুন্দর; সময় আর পরিস্থিতি বিবেচনায় ? বাস করছি কী আলোতে আমরা অন্ধকারকে চাপা দিয়ে ? আপাতত মনে হতে পারে তা রঙিন চশমা চোখে দিয়ে । কারণ, বিশ এবং একুশ শতক সব শতককে পেরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এমন এক জায়গায় যেখান থেকে পেছনে ফিরে তাকালে মনে হবে পৃথিবীতে শুধু আলো আর আলো; কোথাও কোন অন্ধকার নেই । আপাতত রঙিন আর উজ্জ্বল দুটি শতকের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা । কিন্তু এই মনে হওয়াটা কেবল দুঃস্বপ্ন । মনের সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই নয় । যদিও কাগুজে কলমে দেখিয়ে দেয়া যায় এই শতক এবং তার আগের শতকের মতো আর কোন শতক এতো আধুনিক নয়, ছিলও না পৃথিবীতে । কিন্তু এই হিসেব আমাদের কাছে হাস্যকর এবং গ্রহণযোগ্যও নয়; নয় প্রশান্তিরও । তা কেবল মাত্র ভাবালুতার নামান্তর । তাছাড়া আধুনিকের সংজ্ঞাও আমাদের নিরূপণ ক’রে নিতে হবে সব কিছু মাথায় রেখে । তারপরও যদি বলি বিশ এবং একুশ শতক দুটি আলোকিত শতক তবুও তা নিয়ে উচ্ছ্বাসের কিছু নেই অন্তত পূবের মানুষদের । পূব আজো অন্ধকারে নিমজ্জিত । পূবের মানুষেরা যদিও সংগ্রামী তবুও তাঁদের সংগ্রাম প্রায়ই ব্যর্থ আর অগোছালো হয়ে পড়ে নানা কারণেই । বোধকরি তার প্রধান কারণ অর্থনৈতিক, দ্বিতীয়টি মানসিক !সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে পৃথিবীতে সূর্যোদয় পূবে হলেও এবং দিনের সবটা আলো পুরো পৃথিবী জুড়ে পড়লেও তার সুফল ভোগ করে পশ্চিম । প্রতীকী অর্থেই তা বলা । পশ্চিম এবং তার লোকেরা সবসময়ই আলোর মাঝে থাকে । তাই তাঁদের খুঁজে নিতে হয়না কোন আলো । অন্ধকার সেখানে অবাঞ্ছিত, অগ্রহণযোগ্য । 

উচ্ছ্বাসের কোন কারণ নেই অন্তত বাংলাদেশের মতো অন্ধকারে থাকা গরীব রাষ্ট্রের জন্য । খুব ছোটো ক’রে যদি বলি-সময়কে কালকে একটা সীমার মধ্যে বেঁধে, তাহলে দেখতে পাই আমার জন্মউত্তর দশক গুলিই নিকৃষ্ট ও অসুন্দর ! নিকৃষ্ট সমাজ রাষ্ট্র ও তার ব্যবস্থা । অসুন্দর আমার চারপাশ । অসুন্দর আমি, তুমি, সে এবং আমাদের অন্তর্গত কাঠামোটি ! আমাদের জিভ লকলকে জিভে লোভী । আমাদের চিন্তা-চেতনা ঢেকে আছে কালো কাপড়ে । আমাদের চোখ এতো অসুন্দর যে, সুন্দর দেখতে আমাদের ভালই লাগেনা !

আমি বিস্মিত! আমি আহত । আমার মন আর হৃদয় বিষাদে ভারাক্রান্ত! তাহলে কী বলব ? কেমন ক’রে দেখব ? বিবেচনায় নেব সময় এবং কাল কে আমারই ?

দেখতে পাচ্ছি সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র আমার, আমাদের ভাবনার বিপরীতে। তাই দেখতে গিয়ে পুরোপুরি খালি চোখে, বিবেচনায় নিতে গিয়ে মানবিক দৃষ্টি ভঙ্গির উপর নির্ভর করে, আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাই সব কিছুর পর যে, আমরা পেরিয়ে যাচ্ছি এক চরম অন্ধকার শতক ! যার রয়েছে ব’দলে দেবার সব উপকরণ । কিন্তু হচ্ছে উল্টো । অন্তত বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে এই শতকের প্রতিটি দশক এমন কি প্রতিটি বছরও নানা ভাবে কলঙ্কিত রক্তাক্ত ! তুলনা চলে সেই প্রাচীন আর আদিম যুগের সাথেই । কষ্ট পাই, মন ভেঙে যায় এমন তুলনায় । কিন্তু উপায় নেই । উপায় রাখা হয়নি তুলনামূলক পার্থক্যে না যেতে । মানুষ জন্মায় মানুষ মরে । পৃথিবীর সকল সত্যের চায়তে এই সত্যটি এতো বেশি জ্বলজ্বল করে যে তার দিকে না তাকালেও চলে । আমাদের আর বেশি কিছু জানতে হয়না, বেশি কিছু বুঝতে হয়না । তবুও আমরা জানিনা অনেক কিছুই, বুঝতে চাইনা অনেক কিছুই । আমরা কেবল আমাদেরটাই বুঝি । বিশেষ ক’রে নিজেরটা । তাই ক্ষমতার দিকে ধাবিত হতে গিয়ে আমরা অনায়াসেই গ্রাস করে ফেলি অন্যের অধিকার । 

আমরা মানুষেরা এতো লোভী আর অমানবিক যে, মানুষ এমনকি পশুপাখির অধিকারটুকুও লুট করে বসে থাকি । আমরা এতটাই হিংস্র যে, মানুষেরই রক্ত চুষে খেতে আমরা মোটেও দ্বিধাবোধ করিনা ! আমরা এতটাই নিকৃষ্ট মন ও মানসিকতায় যে, নিজেকে ছাড়া আর সব মানুষকেই মনে হয় ক্রীতদাস ! মনে হয় অধিকারহীন পতিত শ্রেণীর প্রতিনিধি ! অন্তত পুঁজিপতি শ্রেণীর এই দোষ, এই কলঙ্ক না মোছার মতোই । তাঁরাও চিন্তিতও নয় এই ব্যাপারে । বরং আত্মগরিমা তাঁদের এতো বেশি যে, তাঁরা পাপ অন্যায় করতেও এতটুকু ভাবেনা । তাই সন্দেহ নেই যে, তারা দণ্ডিত এবং অপরাধী অন্তত শোষিত শ্রেণীর কাছেই ।

মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করছে কারা ? উত্তর হবে মানুষইতো ! কিন্তু এই মানুষদের সঙ্ঘ আছে, সংগঠন আছে । আছে স্তর । অবাক হওয়ার কিছু নেই, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই এই জেনে যে, শ্রেণীও আছে তাঁদের । তবে রাষ্ট্রের সকল শ্রেণী এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয় । অন্তত শোষিত শ্রেণী তো জানেইনা যে কিভাবে কেড়ে নিতে হয় অধিকার;অধিকার হারানো ছাড়া । শ্রেণী যেমন শ্রেণীকে শাসন করে কৌশলে, তেমনি অধিকার অধিকারকে শাসন করে । কখনো কৌশলে কখনো সরাসরি; রূপ দেখিয়েই ।

আমরা চেয়েছিলাম গণতন্ত্র । আমরা চেয়েছিলাম সমঅধিকার । রাষ্ট্রের নাগরিক বলেই । আমরা পেয়েছি গণতন্ত্র; কিন্তু পাইনি অধিকার । সমঅধিকার তো অনেক দূরের পথ । তাহলে কী গণতন্ত্র পেলাম আমরা ? বহু প্রশ্নবোধক চিহ্ন এসে চোখের সামনে দাঁড়িয়ে যায়,আর আমাদের একটার পর একটা স্বপ্ন ভেঙে যেতে থাকে । আলোকিত দুটি শতকেও আমরা উপহার পেয়েছি এবং এখনো পাচ্ছি অনেক অগণতান্ত্রিক নিয়মকানুন । দেখতে পাচ্ছি চারপাশে গণতন্ত্রের নামে অনেক অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড । যে কাণ্ডটি সবচেয়ে বেশি ঘ’টেছে এবং এখনো ঘ’টে চলেছে তা হলো, মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে রাষ্ট্রের ছিনিমিনি খেলা ! রুদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কণ্ঠ । তাই প্রাণ খুলে বলতে পারিনা আর কিছুই এখন । গাইতে পারিনা গান সাম্যের অথবা স্বাধীনতার ! দেখতে পারিনা কোন সৌন্দর্যই দু’নয়ন ভ’রে । আমাদের দেখার অধিকারও নেই । চোখ বাঁধা সে-ও কালো কাপড়েই ! এই কি আমাদের গণতন্ত্র ! এই কি আমাদের স্বাধীনতা !

দুর্বার কিছু আন্দোলনের ভেতর দিয়ে আমরা যে গণতন্ত্র পেয়েছি তার নাম এখন শুধু একরাশ প্রবঞ্চনা । তার সমস্ত শরীর জুড়ে কেবল আঘাতের চিহ্ন ! সে এখন কেবল কাঁদে আর তার চোখের জলে ভেসে যায় সাধারণ জনগণের মৃতদেহ ! আমার উপরে তোমার আঘাত, তোমার উপরে আমার আঘাত তা কেবল অধিকারের উপরই আঘাত । শিল্পী এবং শিল্পের উপরে দুর্বৃত্তের আঘাত তা কেবল অধিকারের উপরই আঘাত । ভোট প্রদান, কিছু বলা, কিছু লেখা যখন বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং তাকে যখন গণতন্ত্রের অধিপতিরা স্বীকৃতি দেয় শ্রেণীর শাসন ধরে রাখার স্বার্থে, তখন আমাদের বুঝে নিতে হয়, বুঝে নিতে হবে যে, আমরা আজো গণতন্ত্র পাইনি; তাই অধিকারও পাইনি । এবং নিঃসন্দেহে বলা চলে আমরা আজো বাস করছি গাঢ় এক অন্ধকারে একুশ শতকে বেঁচে থেকেও ! এ কথা অত্যন্ত বেদনার এ কথা খুব আশাহতের ।

গত শতক এবং এই শতকের কাছে আমরা যা যা আশা করেছি তার সবকিছুই নষ্ট হয়ে গেছে নষ্ট সমাজ, রাষ্ট্র আর নষ্ট মানুষদের কারণে । মানুষ হিসেবে আমাদের অপরাধ গুলো যদি আমরা স্বীকার করে নিতে পারি, মেনে নিতে পারি প্রাপ্ত দণ্ড; এবং ফিরিয়ে দিতে পারি অন্যের অধিকার, উপলব্ধি করতে পারি অন্ধকার এক দীর্ঘমেয়াদী রোগের নাম, তা হলে হয়ত চলতি শতকেই আলোর মুখ দেখতে পারি আমরা । কিন্তু, আমি সমাজ রাষ্ট্র আর মানুষের অধঃপতন দেখে দেখে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত । তাই আর আশা করতে পারিনা, ভরসাও নয় । আমি তাই বলতে চাই, আমাদের চাওয়ার এবং পাওয়ার কাঙ্ক্ষিত শতক, দশক, বছর থেকে আমরা আজো এবং এখনো অনেক অনেক দূরে ! ওদের সাথে আমাদের দূরত্ব, আমাদের ব্যবধান এখন বোধকরি দ্বিতীয় জন্মের সমান ।



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.