Header Ads

Breaking News
recent

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঠুলি খুলে দেখ







অন্তঃসারশূন্য বাঙালীয়ানা

আরও একটা ভাইফোঁটা চলে গেল। কত সাজগোজ! কত মিস্টি! কত আশীর্বাদ! আমার তো এই অনুষ্ঠানটিকে সামনে রেখে একটা প্রশ্ন বারবার মনে উঠে আসে। সত্যিই কী এর মধ্যে নামমাত্র প্রাণের ছোঁয়া আছে? সবটাই কী দেখানো নয়? বাঙালীর আর পাঁচটা অনুষ্ঠানের মতো এটাও কী একটা ভুঁড়িভোজের অনুষ্ঠানমাত্র নয়? জানি প্রত্যেকেই আমার ওপর খড়্গহস্ত হবেন। তবুও বলি, একটু ভাবুন। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে নামমাত্র যদি প্রাণের ছোঁয়া থাকত তাহলে আমাদের সমাজের চেহারাটাই যেত বদলে। প্রতিদিন কাগজ খুলে আমাদের বিমর্ষ হয়ে পড়তে হতো না। কারণটা এবার বলি, আপনার বাড়িতে যে বৌ-টা আছে সেও কিন্তু কোনো ভাইয়ের বোন। আপনার বোনেরা আপনার বাড়িতে আসবে তাই আপনার স্ত্রীকে বাপের বাড়ি পাঠাতে চান না। কেননা, বোনেরা তো রোজই শ্বশুরবাড়িতে হেঁসেল ঠেলছে। তাই এই একটা দিনে বাপের বাড়ি এসেও তাদেরকে রান্নাঘরে ঢুকতে হবে? তাই আপনি আপনার বৌকে বলে দিলেন, সে যেন তার ভাইকে এখানে ( আপনার বাড়ি/ দিদির শ্বশুরবাড়ি ) আসতে বলে দেয়। এটা কেন হবে? আপনার বোনেরা যদি তাদের বাপের বাড়িতে আনন্দ করতে আসতে পারে, তাহলে আপনার বৌ-টাও কেন তার বাপের বাড়িতে আনন্দ করতে যেতে পারবে না? আপনার বোনের মতো আপনার বৌটাও তো কোনো ভাইয়ের বোন। এটা আপনি কেন ভুলে যাবেন? বোনের প্রতি আপনার ভালোবাসাটা সমগ্র নারীসমাজের ওপর সম্মানে রূপান্তরিত হয় না কেন? আপনি যখন কোনো নারীকে বিরূপ মন্তব্য করেন তখন আপনার ভালোবাসার বোনটার কথা মনে পড়ে না? মনে পড়ে না, আপনি যাকে অসম্মান করছেন সেও আপনার বোনের মতো কোনো ভাইয়ের বোন? 

এসব নিয়ে এবার ভাবার সময় এসেছে। অনেক অভিনয় তো হলো। এবার সোজাসুজি কথা হোক না। পরের বছর অনুষ্ঠানে মেতে ওঠার আগে এসবগুলো অবশ্যই ভেবে দেখবেন।


অবিমৃশ্যকারী ওমপুরী

দেশের মানুষ শিল্পী, সাহিত্যিক, অভিনেতা, অভিনেত্রীদের কাছ থেকে নতুন কিছু শুনতে চায়। কারণ এইসমস্ত মানুষেরা যে অনেক বেশি উদার তা বলাই বাহুল্য। তাঁরা জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্দ্ধে উঠে কথা বলবেন ----- এটাই তো স্বাভাবিক। ভারত পাকিস্তানের বর্তমান উত্তপ্ত সম্পর্কের কারণে বলিউডে পাকিস্তানের অভিনেতা অভিনেত্রীদের বয়কট করা হচ্ছে। এই মানসিকতাকে কিছুতেই সমর্থন করা যায় না। অভিনেতা অভিনেত্রীদের আবার জাতি-ধর্ম হয় নাকি? তাঁরা সবকিছুর ঊর্দ্ধে। তাই তাঁদের বিভাজন যাঁরা করেন তাঁরা আর যাই হোন মনুষ্য পদবাচ্য নন। প্রবীণ অভিনেতা ওমপুরী এই ঘটনার বিরোধীতা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করে বসলেন যা কোনো কিশোর বলার আগেও পাঁচবার ভাববে। যেহেতু সীমান্ত, যুদ্ধ এবং সর্বোপরি সৈনিকদের কাছ থেকেই এসবের উৎপত্তি তাই তিনি সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বলে বসলেন, তাঁদেরকে কে সৈনিক হতে বলেছে? কে তাঁদেরকে হাতে বন্দুক তুলে নিতে বলেছে? নিজের জীবনকে বিপন্ন করে যাঁরা বিদেশী শত্রুর হাত থেকে দেশকে বাঁচাচ্ছে তাঁদের সম্পর্কে এরকম মন্তব্য! কে বলছেন? একজন প্রবীণ অভিনেতা,যাঁর একটা আন্তর্জাতিক পরিচিতি আছে। এই ঘটনার দু'একদিন পরেই ওমপুরী আবার কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি তাঁর সীমাহীন সমর্থন জ্ঞাপন করলেন। এটা তিনি করতেই পারেন, কারণ এটা তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু তিনি শুধু এখানেই থেমে যান নি। ওই ধর্মটিই যে পৃথিবীর একমাত্র শ্রেষ্ঠ ধর্ম সেটিও জানিয়ে দিয়েছেন। 

অভিনয় করে টাকা গুণে নেওয়া ছাড়া অভিনেতা অভিনেত্রীদের কী আর কোনো সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্য নেই? দুই দেশ জুড়ে যখন একটা উত্তপ্ত পরিবেশ তখন ওমপুরীর মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রবীণ অভিনেতা যদি এমন মন্তব্য করে বসেন তাহলে সাধারণ মানুষ তাঁর কাছ থেকে কী শিখবে? আজ মনে হয়, এরা সারাজীবন শুধু অভিনয়ই করে গেছেন। মনুষ্যত্ব, মানবিকতার শিক্ষা এদের নামমাত্রও হয় নি।




কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.