x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

যশোধরা রায়চৌধুরী

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
যশোধরা রায়চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা ঘোষ


যিনি রাঁধেন তিনি চুল বেঁধেই ক্ষান্ত হন না, তিনি নিজেকে ছড়িয়ে দেন বাতিওয়ালার ভূমিকায়। তিনি শব্দ যাদুকর, মায়াজাল বিছিয়ে দেন কখনো, আবার কখনো সপাট চাবুকে কুম্ভঘুম ভাঙ্গিয়ে দেখিয়ে দেন আমরা আদতে কেমন আছি। তখন ভাবতে বসি, আরে, তাই তো, এভাবেই তো ঘৃণা ভালোবাসা সমস্যা  উৎসবে আমাদের দিন আনা দিন প্রেরণা। এভাবেই ছোট ছোট স্ট্রোকে এঁকে দেন আমাদের তৃতীয় নয়ন। তিনি সদালাপী সদাহাস্যময়ী মানবী দশভুজা। সাহিত্য জগত এক ডাকে চেনে তাঁকে, তিনি যশোধরা রায়চৌধুরী । তাঁর কিছু প্রাণের ছোঁয়া এবার ‘শব্দের মিছিল’ এর ‘একমুঠো প্রলাপ’ এ বন্ধুদের জন্য।




সাহিত্য সংস্কৃতির সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছিলে । ভাগ্যবান তো বটেই । কিন্তু এটা কি কোন চাপ ছিল ?



সোনার চামচ? ওরে বাবা। না না সেরকম কিছু না। তবে এখন বুঝতে পারি, তুলনা করে দেখলে, অন্য অনেকের চেয়ে হয়ত আমি সৌভাগ্যবান। বাবা মা, দাদু, দিদা, কাকা পিশি সবাই কোন না কোনভাবে লিখেছেন ছেপেছেন। এ বিষয়ে বলি, আমার পিশি শিবানী রায়চৌধুরী খুব বড় মাপের শিশুসাহিত্যিক। ওঁর লেখা বহুযুগ আগে সত্যজিত রায় নিজে চেয়ে সন্দেশে ছেপেছিলেন। এখনো লেখেন। 

আমার দিদা শেষ বয়সে আত্মজীবনী লিখেছিলেন। সেই বইটি নিয়ে গবেষণার কাজ হয়েছে। এ দুটো তথ্য অনেকের অজানা বলেই বলার লোভ সামলাতে পারলাম না।

না, অন্যেরা লেখেন বলেই আমাকে লিখতে হবে, এরকম চাপের তো প্রশ্নই নেই, কারণ আমার ছোটবেলায়, যখন আমার কবিতা লেখার শুরু, তখন সত্যিই বুঝতাম না এই সাংস্কৃতিক পরিবেশ ইত্যাদির যে আবার কোন দাবি থাকতে পারে। চাপ ছিল মায়ের, পড়াশুনো ভাল করে করার । সেটাতে ফাঁকি দিয়েই তো কবিতা লেখা শুরু।

উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছিলে সঙ্গীত, চিত্রকলা আর সাহিত্য । তার মধ্যে একটা বাছলে কি নিজে নিজেই ? যে খেলোয়ার ধর ক্রিকেট খেলে নাম করেছে সে হয়ত ফুটবলারও হতে পারত । তোমার নিজের কখনো এরকম ডিলেমা আসেনি ? 



চিত্রকলার দিকে খুব টান ছিল ছোট্টবেলায়। মাকে ছবি আঁকতে দেখতাম তাই রং তুলি খুব টানত। এখনো রং ঘাঁটাঘাঁটি আমার খুব প্রিয় কাজ। কিন্তু কেন বা কীভাবে আঁকাটা আমার আর হল না জানিনা। গান আমি কোনদিনই গাইতে পারিনি। ছোটবেলাতেই গলায় গান বেরতো না। জনসমক্ষে ভয় পেয়ে স্কেল ভুল করতাম। দিদি বেশ গাইতে পারত কিন্তু!

যাহোক, প্রাকৃতিক নির্বাচন-এর মাধ্যমেই লেখালেখিটাই বোধ হয় লোয়েস্ট কমন ডিনমিনেটর, তাই ওটাই হল। প্রথম ডায়েরি দিয়ে শুরু হল। তারপর কবিতা। আমি তো আমার বাবাকে জ্ঞান হয়ে ইশতক দেখিনি। তাই বাবার বইগুলো আমার কাছে বাবার সমার্থক ছিল। এই ভাবেই বাবার কবিতার বইগুলোর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। প্রথম জীবনানন্দ বা টি এস এলিওট পড়েছি বাবার বইতেই। 

আর কাকা মানস রায়চৌধুরী সে অর্থে প্র্যাকটিসিং কবি ছিলেন। কিন্তু আমরা আলাদা আলাদা বাড়িতে থাকতাম। তাই সেভাবে জানতেই পারিনি কবিদের সমাজের কথা। আমার প্রথম দেশ পত্রিকায় লেখা প্রকাশ হল যখন, তখন কাকা পড়ে ফোন করে মজা করে প্রশ্ন করেছিলেন, আচ্ছা , এই যশোধরা রায়চৌধুরী কি সেই যশোধরা যাকে আমি চিনি?

কাকার ঘনিষ্ঠতা ছিল সুনীল তারাপদ সমরেন্দ্রর সঙ্গে। সেটা অনেক পরে আমাকে একটা অন্যরকম স্নেহবলয় দিয়েছে। যখন আমার দু তিনটে বই বেরিয়ে গেছে। তারপর থেকে চিরদিনই ওঁরা আমাকে “মানসের ভাইঝি” বা “ দিলীপদার মেয়ে” বলে অন্য একটা সমাদর করেছেন। 

দারুণ মেধাবী ছাত্রী, এখন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মী। একঅঙ্গে লক্ষী সরস্বতী । তোমার কলমও তুলে ধরেছে কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের নানাবিধ হয়রানির ছবি । তোমার একটি গল্পে দেখেছি, সম্ভ্রম বাঁচাতে মেয়েটি উঁচু ফ্ল্যাটবাড়ি থেকে ঝাঁপ দেয় । নিজে কি কখনো বৈষম্য ফেস করেছ সামাজিক জীবনে বা লেখক জীবনে ? 



বৈষম্য ফেস না করে কি আর জীবন আদৌ সম্ভব আমাদের দেশের মেয়েদের? তবে অনেক গল্পই বলতে আর ইচ্ছে নেই। একটা বলি। যখন প্রথমদিকে বেশ ঘন ঘন দেশ পত্রিকায় লেখা বেরোচ্ছে, একটি জঘন্য চিঠি এসেছিল বাড়িতে। ব্রাউন খামে। গোটা গোটা অক্ষরে তাতে অনেক অনুচ্চারণীয় শব্দ লেখা ছিল আমার চরিত্র নিয়ে। চিঠিটা “তুই “ সম্বোধনে লেখা। একটা মেয়ের পক্ষে যতটা অপমানকর হতে পারে ততটাই। শিক্ষিত লোকের হাতের লেখা। আমি হয়ত তাকে চিনিও... যে ওটা লিখেছিল। কিন্তু আমার হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্টকে দিয়ে এত কিছু জানার ও বোঝার ইচ্ছা বা প্রবৃত্তি হয়নি। জাস্ট ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম। 

আমাদের সমাজে যে কোন সাফল্যকেই, মেয়েদের ক্ষেত্রে, দেখা হয় তার চরিত্র বেচে খাওয়া বলে। একটা কথাই তো আছে, স্লিপিং হার ওয়ে আপ। কাস্টিং কাউচের কথাও আমরা তো জানি। এবার সমস্যা হল, কিছু ক্ষেত্রে এরকম নিশ্চয়ি হয় কিন্তু সব ক্ষেত্রে এরকমই যে হবে এটা তো নিশ্চয় করে বলা যায়না। তবু মানুশের জিভ বড় ভয়ঙ্কর । তা কখনো থেমে থাকে না। 

আমার চাকরি বা কবিতার যতটুকু যা সাফল্য, কোনটাই নিজের শিরদাঁড়া বেচে নয়। এটুকু বলেও অনেকের চোখে আবার আমরা “অহংকারী” প্রতিপন্ন হই। 

সম্ভ্রম বাঁচানোর কথায় বলি, ছোটবেলায় রাস্তা ঘাটে বাসে ট্রামে সব মেয়ের মত শারীরিক নিগ্রহ হয়েছে আমারও, একাধিক। সেই সময়ে ভয়ে লজ্জায় কুঁকড়ে যেতাম... ভুলিনি সে অভিজ্ঞতা। সেই জায়গা থেকেই প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি মেয়েদের লড়াই।

এইসময়ে যাদের লেখা নিয়ে পাঠক সমাজ আলোড়িত তুমি তাদের মধ্যে ব্যতিক্রমী এই জন্য বলছি যে একদিকে অসম্ভব ভালো গদ্যের হাত তোমার । আবার কবিতাটাও খুব সিরিয়াসলি লেখ । নিজেকে এই দুর্দান্ত ব্যাল্যান্স এ রাখার গোপন কোন ফর্মুলা আছে নাকি ? বা উদ্দেশ্য ? নাকি আদ্যন্ত ভালোবাসা, ভালোবাসা... 



কবিতাই আমার প্রথম প্রেম। অনেকটা অটো রাইটিং বা স্বভাবকবিতার মত ব্যাপার সেটা। আমি সচেতনে কখনো তা শুরু করিনা। তবে পরে নির্মাণ তো থাকেই। 

কিন্তু গদ্য পুরোটাই না হলেও অনেক বেশি নির্মাণ ও মেধার কাজ। গদ্য লেখা খুব কঠিন। আমি যেটুকু লিখি নিজের ভালবাসা থেকেই। প্রথম দিকে যা লিখতাম তা থেকে অনেক সরে এসেছে আমার কলম। তবে আমি এটা মানি যে এখনো কিছুই লিখিনি। আসলে পরিশ্রমী গদ্যকার হতে শুধু ভালবাসা ছাড়াও আরো অনেক মেধাবী আচরণ লাগে বোধ হয়। আমি সেই পরিশ্রম এখনো করে উঠতে পারিনি। ভবিষ্যতে যে করে উঠব না এমন কিন্তু জানা নেই। করার ইচ্ছে আছে। হয়ত কোনদিন হয়ে উঠবে। 

তবে আমার কাছে চার্জ, এনার্জি বা তাগিদের মূল্য খুব বেশি। কবিতা তো লিখতে পারিই না, গদ্যও নিজের বিশ্বাসের ভালবাসার জায়গাটা থেকে উদবুদ্ধ না হলে পারিনা লিখতে। আমার দায়সারা লেখা তাই খুব খুব খারাপ হয়। 

বাংলা আকাদেমি পাওয়া হয়ে গেছে । বাংলা সাহিত্যের সেরা সম্মান সবই পেয়ে গেছ প্রায় । স্বীকৃতিকে কিভাবে দেখ ? মোটিভেটিং না কি দ্বায়িত্ব বর্ধক ? 




যে মুহূর্তে একটি পুরস্কার আসে, সেই মুহূর্তে খুব বিভ্রান্ত লাগে। নিজেকে বার বার প্রশ্ন করতে হয়, আমি কী এমন? কেন পেলাম এই পুরস্কার? পেয়েছি খুব কম বয়সেই কৃত্তিবাস পুরস্কার। মাথাটা সত্যি তখন বিজবিজ করেছিল। মনে হয়েছিল মহা দায়িত্ব। 

পরবর্তী কালে বিভ্রান্তি বা ভয়, বা হাঁটুর কাঁপন কমেছে। আমরা চিরকাল শুনে আসছি, পুরস্কার সবসময় যোগ্যতা দিয়ে হয়না। সেখানেও তো কত কু-মন্তব্য, রটনা। নানাভাবে বলা হয়, দাদা মামা কাকা ধরলেই সব পাওয়া যায়। আবারো বলছি, আমার নিজের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা কখনো অনুভব করিনি। কিছু বন্ধুর কাছে থেকে যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তাও এসেছে এই সুরে, যে, তোমার একমাত্র লেখাটাই আছে, লিখে যাও। পুরস্কার তো তুমি আগেই পেতে পারতে। কিন্তু যখন এতদিন কারুকে খুশি করনি, শুধু নিজের লেখাটি লিখে চলেছ সেটাই তোমার নিজস্বতা। সেটাই মন দিয়ে কর। পুরস্কার আপনি আসবে। 

তাই, আমার মনে হয় পুরস্কারের ব্যাপারে মাথা না ঘামিয়ে লেখাটা মন দিয়ে করা দরকার। জানি যে এটা পুরস্কার যে পেয়ে গেছে সে বললে লোকে বলবে, তোমার আর কী। তোমাকে তো অস্বীকৃতির বেদনা পেতে হয়নি। তাই বলতে দুবার ভাবি। কে কীভাবে নেবে। 

তুমি যখন তুমুল লেখালেখির মধ্যে তখন তিলোত্তমা মজুমদার , সুচিত্রা ভট্টাচার্য , সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়রাও চিত্রিত করছেন এবং করেছেন ওয়ার্কিং মিডিল ক্লাস , আপার মিডিলক্লাস বিশেষত মেয়েদের প্লাইট ভিক্ট্রি স্ট্রাগল , কোথাও কি তোমাদের কোন দায়বদ্ধতা কাজ করেছে , না কি জীবন যেরকম তেমনই লিখে গেছ ? আই মিন সচেতন কোন এজেন্ডা কি ছিল বা থাকে ?


না, আমার মনে হয় আগে মানুষ লেখক হয় তারপর অ্যাজেন্ডা লিখতে লিখতে তৈরি হয়। লেখাটা না হলে কিছুই হয়না। মানে শুধুই অ্যাজেন্ডা করব বললে সাহিত্য হত না। 

তিলোত্তমার প্রথম দিকের লেখার মধ্যে নারীর স্ট্রাগল তত আসত না। আমার মতে ও কমপ্লিট রাইটার। অ্যাজেন্ডা নিয়ে লিখতে চায়নি। পরে অসামান্য কিছু লেখা এসেছে...যেখানে মেয়েদের জায়গাটা ও একদম নিখুঁতভাবে ধরেছে। সংগীতা আবার একেবারে আলাদা জায়গা থেকে লেখা লিখেছে। ওর লেখা কেমন যেন মায়া ও রহস্যে ভরা। আবার ভোগবাদী জগতের কথাও অবলীলাক্রমে লেখে। ওর লেখায়, ঘটনাক্রমে মেয়েদের কথা এলেও ও নারীবাদী নয়। মেয়েদের ইস্যু লেখাটা অনেকেই প্রধান ভাবে না। ভাবার দরকারও নেই। মেনস্ট্রিম রাইটারদের নইলে কবিতা সিং হের ভবিতব্য হবে। কবিতা সিং হের কথা এজন্য বললাম যে ওরকম জমজমাট গদ্য কোথাও পড়িনি। অথচ কজন মনে রাখে ওঁর কথা? ওঁর লেখার কথা? 

আমিও প্রথম দিকে কোন সচেতন অ্যাজেন্ডা নিয়ে লিখিনি। আমি নিজের মত লিখতাম। একটা বয়সের পর থেকে ক্রমশ সচেতন হলাম যে আমার ছাত্রবয়সের নারীবাদ নিয়ে পড়াশুনোগুলো কেমন যেন আমার নিজের অভিজ্ঞতার বলয়ের সঙ্গে মিলেমিশে যাচ্ছে। তখন থেকে আমার সোচ্চার হওয়া। ধীরে ধীরে নিজের ভেতরের নারীবাদকে প্রকাশ্যে আনা। 

তুমি ভীষণভাবে সামাজিক । নিজের লেখালেখির বাইরেও মুক্তকন্ঠ মানবিক অবক্ষয় , সমস্যা নিয়ে । লেখক তার সাহিত্যের বাইরেও এত প্রতিক্রিয়াশীল , অসুবিধে হয় না ? আক্রমণ হয় না মৌখিক ? 




এটা তো ভার্চুয়াল জগতের ফলাফল। ভার্চুয়াল আন্দোলন। হা হা। তবে হ্যাঁ, এতটা ভার্চুয়াল যখন ছিল না সব, তখনো নন্দীগ্রাম নিয়ে আমরা উচ্চকন্ঠে প্রতিবাদ করেছিলাম। সেটা তো ভেতরের তাড়না থেকেই। আর সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় অনেকে একসঙ্গে এই কাজটা করেছিলাম আমরা। আমাদের জীবনে সেই ছোটবেলার নকশাল আন্দোলনের পর এই আন্দোলন দেখা। একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা।সেটা ২০০৬-০৭। পরে ২০০৯ থেকে ফেসবুকে যে সব ভার্চুয়াল আন্দোলন হচ্ছে, সেটা কিন্তু মাঝে মাঝেই বেশ বিরক্তিকর। কারণ দায়িত্বহীনেরাও এখানে বড় বড় কথা বলে। 

তবু, এখানেই মুখ খুলেই, ইদানীঙ খুবই আক্রান্ত হই। যে কোন বিষয়েই দু রকম তিনরকম মতামতের , অবস্থানের পরিসর আছে। তবু লোকে কেন যে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বুঝিইনা।

তোমার জীবনসঙ্গীটিও তো সাহিত্য জগতেরই লোক । আছে না কি কোন কম্পিটিশান ‘অভিমান’ সিনেমার মত ? না কি তোমরা উইলসের বিজ্ঞাপন , ‘মেড ফর ইচ আদার’ ? 




না গো। তৃণাঞ্জন খুবই পড়াশুনোর লোক। কিন্তু ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয় একেবারেই। ওর সত্যিই বিপুল বিদ্বেষ আছে এইসব নাম-ডাক-খ্যাতির প্রতি। ও কিন্তু তৃণাঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায় নয়, যিনি ঔপন্যাসিক। ও চক্রবর্তী, যে ফরাসি ভাষাটাকে হাতের তালুর মত জানে। ওর একেবারে অহংকার নেই , যতটা ও জানে তার এক সহস্রাংশও ফাটায় না। আবার অন্যদিক থেকে ও খুবই অহংকারী। কারণ সবার সঙ্গে সব বিষয়ে আলোচনা করার কথাও ও মনে করে বাতুলতা। খুবই স্বল্পভাষী। 

কাজেই ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঐ দুটোর কোনটাই না। ও আমার খুব ভাল বন্ধু, আমার মতে। আর ওর মত ও বলবেই না। আমার ধারণা আমরা দুই স্বাধীন প্রাণী। তবে কোথাও ইন্টারডিপেন্ডেন্স আছে আমাদের। পারস্পরিক নির্ভরতা। আমার অনেক কবিতার কনসেপ্ট ওর সঙ্গে কথা থেকে পাওয়া। ও মাঝে মাঝে বলে আমি তো তোমার চুণ বালি সাপ্লায়ার। মাঝে মাঝে বলে আমাকে কনসালটেন্সি ফি দাও না তো! কবিতা নিয়ে এক সময় মারপিট হত। ও বলত, কবিতা কীভাবে লিখলে বল তো। বুঝিয়ে দাও কবিতা কীভাবে লেখা হয়। আমি কিছুই বলতাম না। বলতাম ওইভাবে বলা যায়না। ও বলত, বলতে হবে। ছাড়ব না। 

ভার্চুয়াল জগতের সাথে বেশ ভালোই যোগাযোগ তোমার । তোমার ‘ভার্চুয়ালের নবীন কিশোর’ তো টিনএজার দের হাতে হাতে । আমার মত স্কুলটিচারদেরও । টিভি সিরিয়াল দেখে যেমন সময় নষ্ট হয় , কেউ কেউ বলে এগুলো করেও তাই হয় । তুমি কি বল ?



 ‘ভার্চুয়ালের নবীন কিশোর’ তুমি পড় জেনে ভাল লাগল। ভার্চুয়াল জগত সম্বন্ধে খারাপ কথা সব মিথ্যা নয়। তবে পুরো পুরি সময় নষ্ট এটা তো একেবারেই মানতে পারিনা। আসলে এই মাধ্যমটার ক্ষমতা প্রায় অনন্ত। এখনো অনেকটাই আনট্যাপড বলে মনে হয়। আমরা যতটা পারতাম ততটা এই বিষয়গুলোকে ধরতে বা ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা শুধু জোক্স দেখে, এটা ওটা শেয়ার করে সময় নষ্টই করছি মনে হয়। চাইলে একে সত্যি খুব ভাল ব্যবহার করা যায়। নিজের কাজের জন্য। যেমন, এখন ফেসবুক আমার কাছে খবরের কাগজের বিকল্প। অনেক খবর ফেসবুক থেকেই আগে পাই।  আর গুগল তো আমাদের সময়ের সিধুজ্যাঠা। ওঁকে ছাড়া এক মিনিটও চলে না।


তোমার কি মনে হয় তোমার মাস্টারপিসটা লিখে ফেলেছ ? না কি অপেক্ষা করব আরও ? 




আমার কোন লেখাই মাস্টারপিস হয়নি, হবেও না। আসলে পৃথিবীতে আমি জন্মানোর আগেই যা লেখা হয়ে গেছে তা পড়ার জন্য তো একটা জীবন যথেষ্ট নয়। মানুষের এত এত কাজ। এত পড়া। এত কবিতা। এত গল্প উপন্যাস। জীবন। দর্শন। সবটা পড়ব, ভাবলে কোনদিন কিছু লিখতেই পারতাম না। শুধু পড়তে পড়তেই জীবন কেটে যেত। 

তাই আমি কিছুই পড়েও উঠতে পারলাম না। খানিক নিজের মত লিখলাম। সেটাও কিছুই দাঁড়াল না। 


আমাদের এত সময় দিয়েছ, এভাবে মনখুলে উজার করেছ যাদুঝাঁপি, না ধন্যবাদ নয়, ভালোবাসা অপার, আমাদের মুগ্ধতা শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছা তোমার আলোকিত আগামীর জন্য । ভালো থেকো , ফির মিলেঙ্গে ... 






যশোধরা রায়চৌধুরী   /  শর্মিষ্ঠা ঘোষ 


Comments
5 Comments

5 Replies so far - Add your comment

দেবাঞ্জন ঘোষ বলেছেন...

অনেক শ্রদ্ধা , অনেক ভালবাসা , গল্প পড়লাম , আমাদেরই চাওয়া-পাওয়া.... আবার বলছি এ যেন পথ চলার গল্প ...

Indira Mukhopadhyay বলেছেন...

খুব উপভোগ্য প্রিয় কবির সাবলীল আলাপচারিতা আর দুজনেই অর্থাৎ যিনি সাক্ষাতকার নিলেন আর কবি স্বয়ং আমার বন্ধু তাই উপভোগ করলাম বেশ।

Indira Mukhopadhyay বলেছেন...

খুব উপভোগ্য প্রিয় কবির সাবলীল আলাপচারিতা আর দুজনেই অর্থাৎ যিনি সাক্ষাতকার নিলেন আর কবি স্বয়ং আমার বন্ধু তাই উপভোগ করলাম বেশ।

বিজয় ঘোষ বলেছেন...

যশোধরার কথাগুলো পড়লাম।খুব দৃঢ়ভভাবে নিজের কথাগুলো বললেন।আমাদের সমাজে এখনও পুরুষ এবং নারীর তফাত করা হয়।এমনকী উঁচুপদে থাকলেও এসব ভাবতে ইচ্ছে করে না।তবে এসবই তো সত্যি।
যশোধরা লেখালেখি নিয়ে যা বললেন তা চমৎকার।
ওঁর মাস্টারপিস এখনও হয়তো লেখা হয়নি তবে অদূর ভবিষ্যতেই লিখবেন।
শুভেচ্ছা জানাই দু'জনকেই এত সুন্দর একটা আলাপচারিতার জন্য।

বিজয় ঘোষ বলেছেন...

যশোধরার কথাগুলো পড়লাম।খুব দৃঢ়ভভাবে নিজের কথাগুলো বললেন।আমাদের সমাজে এখনও পুরুষ এবং নারীর তফাত করা হয়।এমনকী উঁচুপদে থাকলেও এসব ভাবতে ইচ্ছে করে না।তবে এসবই তো সত্যি।
যশোধরা লেখালেখি নিয়ে যা বললেন তা চমৎকার।
ওঁর মাস্টারপিস এখনও হয়তো লেখা হয়নি তবে অদূর ভবিষ্যতেই লিখবেন।
শুভেচ্ছা জানাই দু'জনকেই এত সুন্দর একটা আলাপচারিতার জন্য।

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.