x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৬

অভিজিৎ পাল

sobdermichil | নভেম্বর ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
অভিজিৎ পাল


•ষট্ ত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

পুনঃ সহজানন্দসুন্দর কৃষ্ণাচার্যের পটমঞ্জরী রাগ শোনা যাচ্ছে। প্রদর্শিত পথে চিরচেনা শূন্যতার ঘরে সন্ত্রাসের মতো এসে চড়াও হচ্ছে খড়্গহস্তা তথতাজ্ঞান। মোহভাণ্ডার গিলে খাই। তীব্রতর নিদ্রামুখী দিব্যভাবনা জাগে। সাম্যবাদী হতে চেষ্টা করি আরও একবার। আত্মপরের ভেদরেখা মুছে আসে। সহজাত নাগ্নিক বেশে হেঁটে চলেন কাহ্ন। চোখে তার দ্বান্দ্বিক আলোচনার রেখা। আমার একরৈখিক চেতনা নেই। বেদনা নেই। গভীরতর নিদ্রার আবহ বদলে আসছে এবার। সুখশয্যার সাথে মিশিয়ে রাখি আমার যাপন। স্বপ্ন বদল হয় ক্যানভাসে। চলে শূন্য পৃথিবীর বুকে বিরামহীন চংক্রমণ। আমার ইতিকথার সাক্ষ্য দেয় জালন্ধরিপাদ। আমি নির্দিষ্ট হয়ে থাকা আকাদেমিক অধ্যাপকের স্মৃতির প্রতি সন্দিহান হয়ে উঠি। দিব্য হাসির রেখা ফুটে ওঠে...


•সপ্তত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

নিজের থেকে নিজে দূরে সরে যাই। দীর্ঘতর ভয়হীন একাযাপনে শুদ্ধ হই। আজানুলম্বিত আকাঙ্ক্ষা ভেঙে যাচ্ছে মহামুদ্রার স্পর্শে। যোগানুগা সহজানুভব মূর্ত হয়ে আসছে এবার। আমিও এবার চতুষ্কোটিবৎ বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। হে আত্মলগ্না প্রথমা, তুমি আগের মতোই রয়ে গেছ অপরিবর্তনীয়। চিরন্তনী সেই স্বতঃ নান্দনিক। হারায়নি আমাদের সহজপথের সেই সব ফেলে আসা চলা ফেরা। চেনা পথে জমে আছে আমাদের দ্বৈতযাপনের পাথেয়দের কুচি। জানি প্রতি সম্পর্কেই বাক্যমনাতীত কিছু থাকে। এখনও নিজেকে পুরো বুঝতে পারিনি। আত্মজ্ঞান বাসনা করি। তাড়কপাদ কামোদ রাগে গান শুরু করেন। জ্ঞানামৃত পানে প্রমুদিত বোদ্ধার গলার কাছে বেষ্টন বাঁধতে শুরু করে...

•অষ্টাত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

শরীর নৌকা বয়ে বেড়ায় নিস্পৃহ এক মন কেড়ুয়াল। গুরুর নির্দেশ মেনে হাল ধরে বসে থাকি। স্থির হই ভূধরের সহসাধনে। স্থিতধী পরম্পরার পাঠ শিখি। মন বাঁধি। পাড়ি জমাই অন্য পারে। নিয়মমাফিক গুণ টানি। গুণমাফিক নিয়ম সাজাই। অভ্রান্ত লক্ষ্য রাখি স্থির। প্রত্যয় জমে। প্রতিবন্ধকগুলো হোঁচট্ খেয়ে পড়ে পূর্বগামীর পায়ে। জলবিপদে ভয় জমে। ভয় কেটে আসে। পরিশুদ্ধা অবধূতীকে নিয়ে উজানের পথে চলি। ভোরের ভৈরবী রাগ ভেসে আসে। আনন্দময় মানুষটির মতো সরহপাদ খেয়া আঁকে আকাশের নীল গাঙে। দূরে দাঁড়িয়ে দেখি...


•ঊনচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

সরহপাদের সান্নিধ্যে বসি। যোগানুসঙ্গ দেখি। অজানা কোনো আত্মবোধ জাগে। মনের সাথে কথা বলি। ডুবে থাকি বহুমাত্রিক স্বপ্নের ঘোরে। অবিদ্যার মায়াজাল জমে। নবায়মান রমণ শিখি। কলুবাসী বলদের মতো ঘুরি একা। আর্বতনমূলক ঘূর্ণন। বিভ্রান্ত হই। পরমগুরু মার্গ দেখান। অবিদ্যার জটিল দোষ কেটে আসে। দৃশ্যমান দেখি আত্মপরের ভেদরেখা। শূন্যমার্গে পথ চলি। সৎ সহযাত্রায়। পার্থিব ছায়াচিত্র ফুটে ওঠে। বিষভক্ষণে অমৃতময় হই। কণ্ঠী আমার নীল হয়ে আসছে এবার। প্রবাদের কথা মনে আসে। একটি জীবনভিত্তিক দুষ্ট গরু ও শূন্য গোয়াল বিষয়ক পাঠ। ভব পরমার্থ জ্ঞান উন্মোচিত হয়। ত্রিভুবন মিশে যায় সময়ের পদক্ষেপে। সরহপাদ স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেন...

•চত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

যাপনচর্যার নিখাদ পরমজ্ঞানের প্রতিটি মার্গ আদিতর মনোগোচর। তবু মায়ার খেলায় আগম পুথি জপমালায় বুঁদ হয়ে আছি। সহজ শব্দটা ঠিক কতটা সহজ ও কতটা জটিল কাহ্নপাদের সাথে বসে শিখি। সহগামী হই। গুরুপন্থায় আলংকারিক স্থায়ীভাব জাগে। গুরুমুখী ভাব অনাগত রয়ে যায়। এক হয়ে আসে আমার দেহ বাক্ মন। এতদিন ধরে চলে আসা শিক্ষাপ্রণালীতে চেয়ে দেখি অধিকাংশ গুরু বোবা আর শিষ্য কালা। সংযোগ নেই কোনো।বাচালতা জমে ওঠে বাক্যিক বাহ্য অনুসঙ্গে। জিনরত্নের অনন্ত রতিবিলাস খুঁজে ফিরি। ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে কালার দল বোবার দ্বারা সংবোধিত হয়ে ওঠে। কাহ্নপাদের ব্যাসকূট ভেঙে যাচ্ছে সহজানুভবের স্পর্শে। আমি স্থিতধী হয়ে যাচ্ছি অনন্তের আবহ মেখে...


•একচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

ভ্রান্তিতে মগ্ন হয়ে আছি। অনুৎপন্ন জগৎ এখনও ভ্রমের আবহ মেখে আছে। এখনও আমি রজ্জুর মধ্যে মাঝে মাঝে সাপের সেলুলয়েড দেখি। ভয় হয় বোড়া দংশনের। যোগিমন অস্থির হয়ে আসে। আত্মিক অনুভবগম্যতায় বাসনার ক্ষয় হয়ে আসে ধীর। বারংবার মরুমরীচিকা দেখি, স্বপ্ন দেখি গন্ধর্বনগরীর। দর্পণে জেগে ওঠে একটা প্রতিবিম্ব। একটা আমির ছবি। আকাশে বাতাসে জমে ওঠে তীব্রতর ঘূর্ণীর আবহ। বন্ধ্যাপুত্র দেখায় ভোজবাজির খেলা। বিবিধ জটিল ভোজবাজি। রাউতু ভুসুকু জাগতিক মোহাঞ্জন মুছিয়ে দেন উপমাযোগে। যাপনের অজ্ঞতা দূর হয়ে আসে। পরাপরম গুরুর কাছে নির্ভয়ে আমার মূঢ়তা মেলে ধরি। আমার সাধনপথ নির্দেশিত হয়। কহ্নুমঞ্জরীর রাগ ভেসে আসে...

•দ্বিচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

সহজচিত্ত ক্রমশ শূন্যতায় ভরে রাখি। কানুহীনতায় বিষণ্ন হতে হতে সতর্ক হই। ত্রিভুবন ব্যাপ্ত হয়ে পরম কানু মিশে থাকে। অনুদিন স্ফুরণ চলে সেই ধারাবাহিক আবহমান পাঠের। মূঢ়তায় আমার বস্তুদৃশ্য নষ্ট হয়ে গেছে বহুকাল। ভাঙা তরী বেয়ে অতলান্ত সাগর শোষণে অগ্রগামী হই। বিপরীত আবহে বস্তুবিশ্ব অধরা মাধুকরী সাজায়। পৌরাণিক দুগ্ধের ভিতর লুকিয়ে থাকা ননীবৎ আত্মজ্ঞানের সন্ধানে ফিরি। আমার একাযাপনে জাগতিক কারও লাভ ক্ষতির হিসেব মাপা নেই আর। আকাদেমিক জীবনের ভাষ্য বদলে যাচ্ছে আমার। সঙ্গমমুখী ভাবনা জাগছে। কাহ্নপাদ নিরন্তর আত্মবিলাসে মিতহাস্যে পদাবলীর গানের আলো প্রকাশ করেন। স্থিতধী হই...


•ত্রিচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

ত্রিলোক জুড়ে শব্দ সাজাই। শব্দবীজে জন্মে ওঠে একটা নতুন গাছ। সহজাত সহজ যাপনে মেলে ধরে অঙ্গবিন্যাস। আকাশের অসীমটুকু স্পর্শ করতে চায়। স্বভাবের দৃঢ় জ্যামুক্ত করি। এক তীব্রতর বাণের উড়ান বাতাস কাটে। জলের ভেতর জল গঙ্গা যমুনা খেলার ছক সাজায়। প্রভেদহীন খেলার গন্ধ ভেসে আসে। সমরসে বুঁদ হয়ে ওঠে আমার মনোরত্ন। আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসে। আমিত্ব মুছে যায়। মিশে যায় আত্মিকতার সব নিক্তি মাপা হিসাবপত্র। পৃথিবী যদি চর্যার পথে সত্যিই অনুৎপন্ন হবে, তবে আমার জন্ম মৃত্যুর স্থিতি কতটা হতে পারে, সে বিষয়ে ত্রিকোণমিতির গণিত সাজাই। ভুসুকুপাদ সহজস্ফুরণ চর্যার স্বভাবের পাঠ পড়ান। সাধারণীকরণ বুঝে নিতে শিখি। নিশ্চল ভাবাভাবের জ্ঞানে সমৃদ্ধ হই। সংশয় প্রহেলিকা কেটে আসে...

•চতুশ্চত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

কঙ্কণপাদের কাছে বসে ধর্মতত্ত্বের কথা শুনি। অপার্থিব জ্ঞানালোকে সমস্ত শূন্যে শূন্য মিশে যায়। একে একে জেগে ওঠে সর্ব ধর্মমত। একটি সমন্বয়বাদী চিন্তাচেতনার আবহ জমে ওঠে। এক হয়ে ওঠে মতভেদের দল। চতুঃক্ষণ বুঝে স্থিতধী হই। বহু সাধনায় মধ্যমায় জাগে বোধিজ্ঞান। হৃদয় সংবেদী হয়ে আসে নান্দনিক বিন্দুনাদ। শুদ্ধ আত্মজ্ঞান উন্মোচিত হতে থাকে। আমার দৈনিক যাপনের প্রভেদমূলক প্রহেলিকা নষ্ট হয়ে আসে। সন্ধান করে ফিরে আমার মর্ত আগমনের পুরাধুনিক পূর্বসূত্র। সব শেষ হলে ক্ষয় ধরে সংবৃত চিত্তে। কঙ্কণপাদের ঘন ঘন ঝংকারে ভ্রান্তবিষয়ক কোলাহল চূর্ণ হয়ে আসে। আলোর গন্ধে ভরে ওঠে সমস্ত ক্যানভাস..


•পঞ্চচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

দেহতত্ত্বের ইতিবৃত্ত শুনি। কাহ্নপাদ মল্লারী রাগ শোনান। আমার শরীরের পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে জন্মে ওঠে গাছের শাখা। মনতরু ঢেকে যায় অজস্র পাতায়। ফলে। গন্ধে। ভীত হই। পুনরপি ভয় জাগে। একের পর এক কুঠারের আঘাত বসাই। ক্ষতের দাগ জমে ওঠে ধীরোদাত্ত ঢঙে। শুভাশুভ জলসেচে পুনঃ জন্ম সাজাই। মৃত্যু সাজাই। পুনশ্চ আঘাত করি। নিগূঢ় ছেদনজ্ঞান অধরা রয়ে যায়। মূঢ় সংসারের যাপনের বুঁদ হয়ে ওঠে আমার আজানুলম্বিত তাপদের কথকতা। শিকড় উপড়ে ফেলি। মুছে ফেলি পার্থিব শিকড়ের টান। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাই। শূন্যবাদের সহজিয়া শব্দমঞ্জরী ধ্বনিত হতে থাকে...


•ষট্ চত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

বহুজন্মের সম্পর্কবাহিত কথার মতো ভেসে আসে শবরী রাগ। আমার ক্যানভাস থমথম করে। স্বপ্নের আয়নায় প্রকাশিত হচ্ছে আমার প্রতিচ্ছবি। যেন বহুমাত্রিক মোহে সবকটা ধ্বনি অঙ্গাঙ্গী জড়িয়ে আছে। অন্তরালবর্তী। পার হতে চাই আমাদের যাপনচিত্রের সমস্ত মোহাঞ্জন। জয়নন্দীপাদের হাত শক্ত করে ধরি। তিনি সহবৎ শেখান। থেমে যায় পার্থিব গমনাগমন। অদাহ্য অসিক্ত অবিদ্ধ রয়ে যায় সেই সব সংশয় মাখানো মহাকাব্যিক ভাবনারা। তবু ভ্রান্তি সাজায় মন। বাঁধে মোহিনীপাশে। ছায়া মায়া কায়ার সমমাত্রিক পাঠ শিখি। জ্ঞান কাঁটায় অজ্ঞান উপড়ে ফেলি। জমে ওঠে বাক্যিক বাহ্য উপাচারহীন বিজ্ঞান। অন্ধকার কেটে আসে। জয়নন্দীপাদের প্রতিটি শব্দার্থ আলোয় অব্যক্ত আনন্দ হয়ে ফোটে...

•সপ্তচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

কমল কুলিশে মিশে আসে। বজ্রপদ্মের বহুযাপিত আদরে জ্বলে উঠছে চণ্ডালীর শরীর। ডোম্বীর সাজিয়ে বসা সংসারে আগুন লাগে। চাঁদের অলোক টানে জল সিঞ্চন চলে ক্যানভাসে। শান্ত শব্দহীন দহন। নিয়মমাফিক আবর্তন। সমস্ত দাহের কখনই প্রদাহ হয় না। ধূমমালাও জমে না ইতিউঁতি। উজ্জ্বল আলো জমে ওঠে। মেরু শিখর বয়ে যাপনকলা আকাশে মিশে যায়। পুড়ে যায় আমার শরীরজ ত্রয়ী নাড়ী। পুড়ে যায় ললনারসনা। নববায়ু। ইন্দ্রিয় বিলাসের বিষয়। কবি ধামপাদ পরম করুণা ও মৈত্রীতে একমনা হয়ে ওঠেন। সমাহিত। নির্দেশ করেন আত্মজ্ঞান লাভের। পর্ব পরম্পরায় সহজচিত্ত পাপড়ি মেলে। কমলগন্ধী আনন্দ জাগে। ধ্যানবিন্দু স্থির হয়ে আসে। সিদ্ধাসনে স্থিতধী সংবৃত্ত মন পদ্মের নলিকথা শুনতে শুনতে মহাসুখের কথামালা সাজায়...

•অষ্টচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

বিরোধ জমে আসে সমস্ত অন্যায়ের বিপরীতে। যুদ্ধের সরঞ্জাম সাজাই। দলীয় ছত্রাকের ক্ষমতায়ন দেখে রুদ্র রূপে সেজে ওঠেন কুক্কুরীপাদ। পায়ের কাছে তার কয়েকটি জীব ঘুরে বেড়ায়। সংগ্রামের কোন শেষ নেই। আবহমান সংগ্রামে কোনো আপোষ থাকতে পারে না। রুদালিসংগ্রামের কোনো জায়গা নেই আধুনিক প্রাগাধুনিক সভ্যতায়। ভেরী বেজে ওঠে। রণদামামা বেজে ওঠে। প্রস্তুত হই। যুদ্ধে মাতি। আপতিক মেরুদন্ডী মানুষগুলোর বুকের উপর পা রেখে গলায় অস্ত্র ছোঁয়াই। ধর্মবোধকে আত্মবোধ দিয়ে ছিন্ন করি। পরিপূরক পরিপ্রশ্নে কেটে নিয়ে আসি মিথ্যাচারীর মাথা। বৌদ্ধিক বিনয়গাথা ভেসে আসে। অশোকগাথার পাঠ শুনি...

•ঊনপঞ্চাশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

স্নেহের বজ্রনৌকা ভাসে পদ্মার জলে। ক্রূর দস্যুর দল কেড়ে নেয় সব স্থাবর সরঞ্জাম। আজ ভুসুকু কবি বাঙালি হল, সঙ্গ নিল চণ্ডালিকার। শব্দ স্পর্শ রূপ রস গন্ধ ম্লান হয়ে আসছে। ইন্দ্রিয় পুড়ে যাচ্ছে যোগির সহযাত্রায়। অশেষ মায়ায় ঘুমিয়ে যাচ্ছে মন। কোথাও কিছু নেই আমাদের। সোনা রূপার কণামাত্রও না। মহাসুখে বুঁদ হতে শিখছি। সংসার বিষয়ক পাঠ শিখছি। এক সাধনপথের বৌদ্ধিক পাঠ। আমাদের চতুষ্কোটি ভাণ্ডার সর্বাঙ্গিন শূন্যতায় ভরে এসেছে এবার। জীবন ও মৃত্যু বিষয়ক ফারাক লোপ পেয়ে আসছে দিন দিন। ভুসুকুর ক্যানভাস আলোয় মিশে যাচ্ছে ক্রমশ। আরও সুন্দরতর যোগচর্চায়..


•পঞ্চাশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

আকাশের গায়ে আঁকি তৃতীয় পরিসর। আদিম ঘর। নিহিত কুঠার হাতে কণ্ঠে নৈরামণি জেগে ওঠে। মোহ মায়ার দ্বন্দ্ব ছেড়ে আসি। শূন্যগামী শবরপাদ রতিসঙ্গমে মাতে। গগনব্যাপী তৃতীয় ঘরের পাশে ফুটে ওঠে স্নিগ্ধ কাপাসের ফুল। চারপাশে প্রকৃতি সাজায় জ্যোৎস্না-স্নান। অন্ধকার কেটে আসে। আকাশে এঁকে দেয় নিটোল পুষ্পচিহ্ন। পাকা কঙ্গুচিনার গন্ধে শবর শবরী গায় নবান্নের গান। নিরন্তর মহাসুখে চুর হয়ে আসে চর্যার ক্যানভাস। অগস্ত্যযাত্রায় বাহক কাঁধে চলে শবরের শব। অযাচিত ক্রন্দনের রোল ওঠে শেয়াল শকুনের কলতানে। পার্থিব মোহ মুছে যায়। সর্বমহামহী শূন্যতার মার্গে শবরপাদ বিভোর হয়ে ওঠে...


•একপঞ্চাশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

সূনেত্যাদি শব্দের উপর টানি একরৈখিক মসীর দাগ। একটি নিটোল পদ চিরকালের জন্য মুছে যায়। পদলিপিহীন টীকাহীন একটা চর্যার পদ সাধনপথের আবর্তে ঘুরে বেড়ায় অগোচরে। একা। সিদ্ধাচার্যের দল স্মিত হাসি আঁকেন। গূহ্য সাধনার আলো জমে। কবিতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে বৌদ্ধ মন্ত্রের সুর। সহজিয়ার সহজসাধনের আলো ফোটে আদরের মতো। মহাবোধির মহানাদ ধ্বনিত হয়। স্নিগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখে বঙ্গদেশ। আমি আঁচলের খুঁটে রত্নমালা বেঁধে নিজের আবহমান ইতিহাস খুঁজে মরি পাশ্চাত্য নির্দেশিত কথামালায়। ভ্রান্তি কেটে আসে। চর্যায় স্থিত হই। পাঠ নিতে বসি। চর্যাগীতিকোষবৃত্তি শেষ হয়ে আসে। বহুমাত্রিক দূর থেকে নব চর্যাপদের পদধ্বনি শোনা যায়...




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.