x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

তাপসকিরণ রায়

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
তাপসকিরণ রায়








শয়ন ও স্বপ্ন ভালো হলে নাকি শরীর মন সে সঙ্গে স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। কথা ঠিক,ঘুম মানুষকে স্বাস্থ্য প্রদান করে। আর স্বাস্থ্য ভালো থাকা মানে মন ও শরীর চাঙ্গা !

গম্ভীর বাবু এ কথা জানেন, তাঁর মত অনেক বাবুরাই তা জানেন। কিন্তু কথা হল গিয়ে মেনে চলা। আর শুধু মেনে চলাই বা কেন ? অনেক সময় গম্ভীর বাবু দেখেছেন, সুখশয্যা মনে করে ঢলে পড়েছেন, কিন্তু ঘুম কৈ ? 

গম্ভীর পরিপাটি ভালবাসেন। বিশেষ করে শয্যা বিষয়ে তিনি বড় সচেতন। বিছানা তিনি নিজের হাতে সাফসুতরা রাখেন। রাতের বেলায় শোয়ার আগে তিনি মশারি খাটান, আর সে মশারি তোশকের নিচে টানটান করে গুঁজে দেন। 

- তোমার কি আর কিছু কাজ নেই ! মশারি এত গোঁজ কেন বলো তো ? এত টেনেটুনে মশারি খুলে বিছানায় ঢোকাটা বড় ফেঁকড়া লাগে --
- মশা--বুঝলে--এক মশার কামড়ে কত লোক মারা যায় বলো তো ?
- ভয় নেই তোমার--আমি মরবো না--
- তুমি না মরো, আমি তো মরতে পারি—গম্ভীর বলে ওঠেন। 

- আমাকে আর ভয় দেখিয়ো না তো--জন্মালে তো মরতেই হবে, ঘুমহাঁই তুলে বিলাসিনী মশারি টেনেটুনে যেন অনেক কষ্টে বিছানায় গিয়ে উঠল। জানেন গম্ভীর তোলা মশারির দিকটা আর গুঁজবে না বিলাসিনী। তাঁকেই সব সময় গুঁজে নিতে হয়। এখানেই শেষ নয়, খানিক সময় যেতে না যেতেই স্ত্রী গলা তার কানে আসে, তুমি বিছানায় শুয়ে এমন উসখুস করবে না তো ?

মাঝে মাঝে স্ত্রী, বিলাসিনীর প্রতি গম্ভীরবাবুর ভারী রাগ হয়। সারাদিন খাটাখাটি করে এ পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু তা বলে শয্যায় কাত হতে না হতেই ঘুমিয়ে পড়তে হবে ?

একটা সময় বয়সের জিয়নকাঠি মানুষকে নাড়ানাড়ি করে যায়। ঘুমের মধ্যেও নির্ঘুম থাকার ছটফটানি চলতেই থাকে ! তখন স্ত্রীকে গম্ভীর বেশ কাছটাতে সজাগ পেতেন। নানা রকম সহজতায় সজাগ থাকার ইচ্ছাগুলি তখন উভয়েরই জাগ্রত থাকত। এখন এই ষাট বছর বয়েস পার করে গম্ভীর বাবুর শারীরিক মানসিক ভাঁটা পড়েছে ঠিকই কিন্তু স্ত্রীর মত এতটা নির্জীব তিনি হতে পারলেন কৈ ? 

পাশে শোয়া স্ত্রীর বিরক্তির গলা আবার এসে গম্ভীরের কানে ঠেকল। আজ স্ত্রীর গলার ভলিউম না বাড়লেও তীক্ষ্ণতা বেড়েছে বোঝা গেল। গম্ভীরের কানে গিয়ে বেশ ধাক্কা খেল--রাত্রি কত হল টের আছে ? একি আমার লেপ টেনে নিয়েছ কেন ?

আরে বাবা তাতে হয়েছেটা কি ? বয়সে লেপ আলাদা হলেও কি কখনও স্ত্রীর লেপের মধ্যে সোহাগ করে ঢোকা যাবে না ? না গম্ভীর বাবু এসব কথা সাহস ভরে মুখে বলতে পারলেন না, তিনি শুধু মনে মনে কথাগুলি আওড়ালেন। 

মাঝে মাঝেই এমন হয়। ঘুমের অনিয়ম হয়ে যায় গম্ভীরের। নানা চিন্তা এসে মন তাঁর খুঁটিয়ে যায়। এই নানান চিন্তার মাঝে একটা চিন্তা তাঁকে ছটফটাতে থাকে। কিছু করার নেই--ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকতে চেষ্টা করেন তিনি। 

পুরুষ আর নারীর প্রকৃতি তো আলাদা। কিন্তু এক জাগায় তাঁরা খাপে খাপে মিলে যায় বটে! কিন্তু সে সন্ধিক্ষণটুকু কখন যে আবার মিলিয়ে যায় তা তারা নিজেরাও টের পায় না। পুরুষের স্বভাব বড় ছটফটে। নারী এ ক্ষেত্রে ধীর স্থির, তাদের ভেতরের আবহাওয়া বাইরের শরীরে কমই ধরা পড়ে। পুরুষ চট-জলদি অবগাহয় করে নেয়, স্ত্রী বড় সময় সাপেক্ষ। 

- এই, এই, এই, স্বপ্নই বটে, চোখ লাগতে না লাগতেই স্বপ্নের ঘোরে চীৎকার করে উঠেছেন গম্ভীর। ঘোর লাগলেই পাতলা ঘুমে তিনি বড় বাজে বাজে স্বপ্ন দেখে ফেলেন ! স্বপ্নে হলেও পরস্ত্রীর স্বপ্ন দেখা নাকি খারাপ। এই যে তিনি দেখলেন, তাঁর পাশ দিয়ে মিলি কেমন শরীর দুলিয়ে চলে যাচ্ছে ! মুখে তার রা নেই, জানান নেই। তিনি তাই চেঁচিয়ে মিলিকে ডাক পাড়লেন।

- এ কি হল ? ব্যাপারটা বিলাসিনী আবার টের পেয়ে যায়নি তো ? গম্ভীর চিন্তিত হলেন। 

- ডাকছ আমায় ? ঘুম ভাঙা গলায় বিলাসিনী বলে উঠলো। 

গম্ভীর বাবু কাতরে উঠলেন, হ্যাঁ গো ডেকে তো ছিলাম --তুমি আর শুনছ কোথায় ?

আবার শ্বাসের শব্দ, নাক ডাকা ঘুমসুর শুনতে পেলেন গম্ভীর। গুনতে লাগলেন, এক, দুই, তিন...হ্যাঁ ঘুমেই আছে বিলাসিনী। নাক ডাকার রিদম একই মত ! বোঝেন গম্ভীর বাবু। তিনি তো বোঝেন, কিন্তু ওই পাশের নাকডাকা মহিলাটি ? সে যে বড় অবুঝ ! 

এমনটাই হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়েস বেড়ে যেতে থাকে। তারই মাঝে জীবনের সুখ-দুঃখের অনুপাত সমানুপাত খুঁজে বেড়ায় মন। বসন্তের ফুল ফোটে, খরার পাতা ঝরে, জীবন ফলে-ফুলে আর তারপর মুহ্যমান হয়ে ঝরে যায় সাঁঝবেলায় ! 

সাধুসন্তরা বলেন, সমস্ত কিছু নাকি ভ্রম। স্বপ্ন মনের আকাঙ্ক্ষার প্রভাব--আসলে তো তা মনের ভ্রম ! কিন্তু সত্যি কি--শুধুই ভ্রম ? মানুষ স্বপ্নে হাসে কাঁদে--কত না কিছু করে ফেলে ! স্বপ্নের একটা ঘর আছে—প্রেম, বিরহ, ভালবাসার বাসর আছে, আছে ফুল সজ্জা, রাত্রি জাগরণ। ভালবাসার আত্মক্ষরণ !

নিদ্রাহীন রাত বড় প্রবাহ ভঙ্গুর--কোন ভাব জোরালো ভাবে ধরে রাখতে পারে না। মনে হল আপাতত বিরান এক ভূমিতে শুয়ে আছেন গম্ভীর। গ্রীষ্মের পাতঝর চলেছে তার তার শরীর জুড়ে। ঝরে পড়ছে শুকনো পাতা, ধূলিকন। পাশের অস্তিত্ব তখন তাঁর কাছে টেরহীন। ভাবেন গম্ভীর, কিসের জন্যে মানুষ বেঁচে থাকে ? খাই, তাই শরীর বাড়ে। পরিধান করি, ঢাকি গুপ্তস্থান। অসুন্দরতাকে ঢেকে সাজিয়ে লোলুপ করে তুলি। ঠোঁটের আলাপনে কেন ধরে রাখি উষ্ণ আকর্ষণ--ভালোবাসা ? ভালবাসা আসলে কিন্তু ঠুনকো জিনিস। মানুষের মধ্যে বসন্তের মত আসে যায়—মন গড়ে, মন ভাঙে। আসল সত্যকে আমরা নিজের মধ্যে ঢেকে রাখি। আবেদন নিবেদন, দৈহিক জোয়ার-ভাটা মানুষের জীবনকে উথলপাথল করে চলে। উষ্ম চেতনা মানুষকে ভালবাসায় প্ররোচিত করে। মোহ কাম মুগ্ধতা সবকিছু মিলিয়ে এক পাত্রে জমানো পদার্থর নাম কি-- ভালবাসা ? লক্ষ্মী দেবীর মত ভালবাসা কিন্তু চঞ্চল, ক্ষণস্থায়ী। মন আবৃতির সাথে সাথে ভালবাসার রূপ পরিবর্তিত হতে হতে বিরহ, বিচ্ছেদে এসে ঠেকে। মনের কোন এক অবস্থায় ভালবাসা টিকে থাকে মাত্র। ভালবাসাও খরায় ঝরে, আবার বসন্তে গজায়। 

শেষ রাত চলছে বোধ হয়। গম্ভীর পাশ ফিরে শুলেন, তিনি তন্দ্রায়িত। এবার বুঝি ঘুম আসবে। হ্যাঁ ,ঘুম আসছে তাঁর চোখে।

- কি গো ? কি হল ? গম্ভীর স্ত্রীর হাতের হালকা ধাক্কা অনুভব করলেন, ঘুমাওনি এখনও ! বিলাসিনীর মোলায়েম গলা। স্ত্রীর ঘুমের মোটামুটি কোটা মনে হল পূরণ হয়ে গেছে। 

- এত রাত অবধি তুমি জেগে আছো গো ? স্ত্রীর একটা হাত এসে গম্ভীরের মাথায় ঠেকল, ঘুমাও গো--

না, ঘুম ছুটে যাচ্ছে গম্ভীরের। আবার তাপিত হয়ে উঠছেন তিনি। স্ত্রী, বিলাসিনী তাঁর আরও কাছে এসে শুল। গম্ভীর প্রশ্রয় পেয়ে স্ত্রীর লেপের তলে ঢুকে গেলেন। 

বহুদিন পর বিলাসিনীর অন্য এক রূপ জেগে উঠল, তার মনে হল--স্বামী যে তাঁর রাতভর জেগে আছে। ঈষৎ হেসে সে বলে উঠল--আমি তোমার ঘুম পড়ানোর মন্ত্র জানি গো ! 

এবার স্ত্রী বেষ্টিত গম্ভীর আলোড়িত হয়ে উঠলেন। 

জীবন আঁধারের মাঝে ডুবে যাচ্ছে। অন্ধকার ঢেকে নিচ্ছে পৃথিবী। এ সময় মৃতের মতই নির্জীব ঘুমঅন্ধকার। বুকের হাঁপড় চলছে--নৈঃশব্দ্য ঘুমের মাঝে বেঁচে থাকার আর্তি। আর তারই মাঝে বাসনা-কামনার বীজগুলি স্বপ্ন-জাগরণের মাঝে ঝরে ঝরে পড়ছে।



জীবনী : 
তাপসকিরণ রায়। পিতা: স্বর্গীয় শৈলেশ চন্দ্র রায়। মাতাঃ শ্রীমতী বেলা রায়। জন্মস্থান : ঢাকা, বাংলাদেশ।জন্ম তারিখ : ১৫ই এপ্রিল, ১৯৫০

স্বর্গীয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রকাশনায় কৃত্তিবাস প্রকাশনী থেকে লেখকের কাব্যগ্রন্থ : চৈত্রের খরায় নগ্ন বাঁশির আলাপ, শিশু বিতান প্রকাশনী থেকে শিশু ও কিশোর গল্প গ্রন্থঃ গোপাল ও অন্য গোপালেরা, রাতের ভূত ও ভূতুড়ে গল্পপ্রকাশিত হয়েছে। লেখকের গল্প সঙ্কলন, গুলাবী তার নাম। এ ছাড়া প্রসাদ, পথের আলাপ, লং জার্নি, দৌড়, কালি কলম ও ইজেল, কর্কট ক্রান্তি, তবুও প্রয়াস, দিগন্ত, নিরুক্ত, কবিতার সাত কাহন, অঙ্কুর ইত্যাদি বেশ কিছু পত্রপত্রিকায় লেখকের গল্প, কবিতা ছাপা হয়েছে। লেখকের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ, তবু বগলে তোমার বুনো ঘ্রাণ, প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া  ঐহিক, কলামটি, কৌরব, আদরের নৌকা, সৃষ্টি, পরবাস ইত্যাদি আরো কিছু অন লাইন পত্রিকাতে লেখেন। শিশু-কিশোরদের জয় ঢাক, পথের সুজন, কিচির মিচির, ইচ্ছামতি, কচিকাঁচা,ম্যাজিক ল্যাম্প ইত্যাদি পত্রিকায় লেখকের উপন্যাস, গল্প ও কবিতা  প্রকাশিত হয়েছে। 


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.