x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

রবিবার, অক্টোবর ৩০, ২০১৬

শ্রীশুভ্র

sobdermichil | অক্টোবর ৩০, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
শ্রীশুভ্র


বাংলা বানানের অশুদ্ধ ব্যবহার   অনেকেই অভিযোগ করেন অধিকাংশ বাঙালিই বাংলা বানান বিষয়ে সচেতন নয়। প্রতিদিন যে পরিমাণে বাংলা শব্দ লেখা হয়, তার বেশির ভাগ বানানই অশুদ্ধ। এই নিয়ে দুঃখ করেন অনেকেই। কারুর লেখায় ভুল বানান দৃষ্টিগোচর হলে লেখকের বিদ্যাবুদ্ধি নিয়েই সন্দিহান হয়ে ওঠেন অনেকেই। কিন্তু ভুল বানান দৃষ্টিগোচরে আসা যতটা না দুঃখজনক, একটু ভেবে দেখলে দেখতে পাবো, তার থেকে অনেক বেশি দুঃখজনক হল এই ঘটনার পেছনের কারণগুলি সম্পর্কে প্রায় কোন বাঙালিই সচেতন নন কোনভাবেই। এই যে সচেতনতার অভাব এইটাই জাতি হিসাবে আমাদের অন্যতম অভিশাপ। যা আমাদেরকে নিজের পায়ে দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে উঠতে দেয় নি আজও। একটি জাতির অধিকাংশ শিক্ষিত লেখাপড়া জানা মানুষ যখন তার নিজের মাতৃভাষাটাই শুদ্ধ ভাবে লিখতে পারে না, বুঝতে হবে তার কারণ আদৌ ব্যক্তিগত নয়। কারণ জাতিগত। দুঃখের বিষয়, আমরা সেই সোজা কথাটাই খেয়াল করি না প্রাথমিক ভাবে। তাই এই বিষয়ে আমাদের চিম্তাভাবনা দুঃখ বিলাসেই পর্যবসিত হয় শেষ অব্দি।   

একটু নজর করলে দেখা যায়, আমরা যারা বেশ শিক্ষিত। লেখাপড়া জানি। পেশাগত জীবনে সফল। তারাও বিশুদ্ধ মাতৃভাষা ব্যবহারে বিশেষ পারদর্শী নই। এবং সেটা আরও ধরা পড়ে বাংলায় কিছু লিখতে গেলেই। আর লেখা যত দীর্ঘ হয় ততই অশুদ্ধ ব্যবহারের নমুনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হল ভুল বানানের অধিক প্রয়োগ। অথচ সেই আমরাই কিন্তু নির্ভুল ইংরেজীতে পাতার পর পাতা লিখে যাই কত না সহজে। আর ইংরেজিতে দুকলম লিখতে হলেও আমরা ইংরেজী বানানবিধি নিয়েও বিশেষ সচেতন থাকি। অশুদ্ধ বানানে ইংরেজী লিখে ফেলে মানুষের কাছে নিজের ইংরেজী জ্ঞানের বহর ধরা পড়ে যাক সেটা আমরা কেউই চাই না। রবি ঠাকুর একটি খাঁটি কথা বলে গিয়েছিলেন। বাঙালি ইংরেজী জানে না, এমন গালি কোন বাঙালিই মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।    সত্যই তাই, আপনি অশুদ্ধ বাংলা বানান লেখেন বললে আপনি বিশেষ কিছুই মনে করবেন না। কিন্তু আপনি ইংরেজী জানেন না, এমন অপবাদ সত্যি হলেও আপনি সহজে মেনে নেবেন না কখনোই। জাতি হিসাবে শিক্ষিত বাঙালি মাত্রেরই এইটাই প্রকৃতি। সে তিনি কাঁটাতারের যে পারেই থাকুন আর ষে সম্প্রদায়েরই ভক্ত হন না কেন। এই বিষয়ে বাঙালির কোন বিভেদ নাই। এবং এই বিষয়ে বাঙালির কোন জুড়িও নেই।    

অধিকাংশ লেখা পড়া জানা শিক্ষিত বাঙালিরই হাতেখড়ি হয়ে থাকে এ ফর অ্যাপেল বি ফর ব্যাট দিয়ে। যে শিশুটির মুখে এখনো বুলি ফোটে নি, সেও যখন ‘বলতো সোনা হোয়্যার ইজ ইউয়োর আইজ’ শুনে নিজের চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, তখন শিশুর বাবা মায়ের আনন্দ আর ধরে না। কিন্তু সেই সময়ে এই বাঙালি জাতির চোখে আঙুল দিয়ে তার হটকারি বুদ্ধির দৌড়টা দেখিয়ে দেওয়ার মতো কেউই থাকে না পাশে। আর থাকলেও তাদেরকে অবজ্ঞা করতে বাঙালির দুই মিনিটও লাগে না। তাই যে রবি ঠাকুর মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ বলে বারো বছরের নীচের শিশুদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় শিক্ষা না দেওয়ার জন্য আজীবন সোচ্চার ছিলেন, তাঁকেও আমরা কত সহজেই আজ এই বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছি সেই কাঁটাতারের দুই পারেই। যে সত্যেন্দ্রনাথ নিজে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী হয়েই বলে ছিলেন, যাঁরা বলেন ইংরেজী না জানলে বিজ্ঞান চর্চা করা যায় না, তাঁরা বিজ্ঞানের কিছুই জানেন না; সেই মানুষটির নির্দেশনাকেও আমরা কবেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিয়েছি। কারণ, বাঙালি ইংরেজী জানে না এর থেকে বড়ো লজ্জা বাঙালির আর কিছুই নাই।   

অনেকই নিশ্চয়ই ভাবতে শুরু করেছেন, বিষয়টা কি? বিশুদ্ধ বাংলা বানান লিখতে পারা না পারা, না কি ইংরেজী বিদ্বেষ? না বন্ধু ইংরেজী বা কোন বিদেশী ভাষার প্রতি বিদ্বেষ নয়। আমাদের দেখতে হবে একটা জাতির লেখাপড়া জানা অধিকাংশ মানু্ষ কোন কারণে নিজের মাতৃভাষার বিশুদ্ধ ব্যবহারে অক্ষমতায় ভুগতে থাকে। সেইটাই। আর সেই কারণটি খুঁজতে গেলেই আমরা দেখতে পাবো, দুই বাংলারই অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষের লেখাপড়ার শুরটা হয় ঐ ‘এ পর অ্যাপেল আর বি ফর ব্যাট দিয়েই’। বিশ্বের কোন উন্নত দেশেই তাঁর শিশুদের নিজ মাতৃভাষাকে পিছনে ঠেলে দিয়ে কোন বিদেশী ভাষায় হাতেখড়ি দিতে হয় না। মুখে বুলি ফোটার আগেই নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চিনতে হয় না বিদেশী শব্দের ঝংকারে। এইখানেই উন্নত বিশ্বের থেকে আমাদের পার্থক্য।    

হ্যাঁ এই পার্থক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলা বানান বিষয়ে আমাদের অধিকাংশ বাঙালির সচেতনতার অভাবের মূল কারণ। যে কোন জাতির শিশুদের শৈশব ও বাল্যকালে তাদের মাথার ওপর কোন বিদেশী ভাষার বোঝা চাপিয়ে দিলে তার মাতৃভাষায় তাকে বিকলাঙ্গ করে রাখা অনেক সহজ হয়। কাঁটাতারের দুইপারেই এই ঘটনা ঘটে চলেছে আজ শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে। আমাদের শৈশব থেকেই আমরা জেনে যাই বাংলা না শিখলেও হবে। কিন্তু ইংরেজীটা শিখতে হবে নির্ভুল ভাবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামোর মধ্যে দিয়েই এই বোধে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি পুষ্ট হতে থাকে অপুষ্ট ভাবে। তাই আমাদের অভিভাবক থেকে শিক্ষক শিক্ষিকা কেউই আমাদেরকে বাংলা ভাষার চর্চায় উদ্দীপ্ত করেন না। তাঁদের নিরন্তর প্রয়াস থাকে সূদূর ইংল্যাণ্ডের ভাষাটিতে যেন আমরা ভালো ভাবে রপ্ত হয়ে উঠতে পারি। যার ফল ফলে হাতে নাতে।    

আর বিশ্বায়নের ভাষা বলে ইংরেজীর জয়ঢাক পিটিয়ে পিটিয়ে আজকের অন্তর্জাল বিপ্লবের যুগে, কেউই আর তার সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়ামে না পড়ানোর কথা ভাবতেও পারেন না। ফলে কাঁটাতারের উভয় পারেই ইংলিশ মিডিয়মের স্কুল ব্যবসার এত রমরমা। তাতে বিদ্যশিক্ষার মান যাই হোক নির্ভুল ইংরেজীতে তো আমাদের শিশুরা শৈশবেই বেশ ইংরেজ হয়ে উঠছে। সেই সান্ত্বনা আমাদের কারে কে? আর সেই ফাঁক দিয়েই একটা গোটা জাতি তার মাতৃভাষার চর্চা থেকে অতি দ্রুতবেগে দূরে সরে যাচ্ছে দশক থেকে দশকে। যে কোন জাতির জীবনেই এই রোগ একবার বাসা বাঁধলে তা ক্যানসারের মতো দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে থাকে।   

স্কুল কলজে ছেলেমেয়েদের শিক্ষার্জনের মাধ্যম হিসাবে ইংরেজীকেই অধিকতর ব্যবহার করতে হয়। আমাদের দুই বাংলারই এটাই ইতিহাস ও বর্তমান দুইই। ফলে একদিকে শিক্ষার্জনের সময়ে মাতৃভাষা হিসাবে বাংলার কম ব্যবহার ও উল্টোদিকে প্রায় সমস্ত অভিনিবেশ ইংরেজীর উপর দেওয়াতে বাংলাটা আর আমাদের করুরই ভালো করে শেখা হয় না। সেই ধারাটা সমাজ জীবনের সকল পরিসরেই যে প্রভাব ফেলে, গোটা জাতিকেই ভুগতে হয় তার কারণে। এই কারণেই কারুর লেখায় বাংলা বানানের অশুদ্ধ ব্যবহারে উৎকণ্ঠার থেকেও আমাদের উৎকণ্ঠিত হওয়া দরকার দুই বাংলার শিক্ষা প্রণালীর পরিকাঠামোতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে গলদ রয়ে গিয়েছে সেই বিষয়েই। সেই দিকে নজর না দিলে বাংলা বানানের অশুদ্ধ ব্যবহার বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। আর সেই পথেই দিনে দিনে পাল্টে যেতে থাকবে আ মরি বাংলা ভাষার দেহ মন আত্মা।    



  
Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.