x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

সোমবার, অক্টোবর ১০, ২০১৬

সমর সেন

sobdermichil | অক্টোবর ১০, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
সমর সেন
কবিতা হোক না হোক, ভাব ও চরণের পুনরাবৃত্তি যতই চলুক, নতুন কিছু সৃজনের ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক—বাঙালি কবিরা কলম সচল রাখেন জীবনভর। এমনকি অকবিরাও কখনো লেখায় যতি টানেন না। সমস্ত জীবন কবিতার পেছনে ছুটেও তাঁরা বুঝতেই পারেন না বাংলা কবিতার ধারায় তাঁর পক্ষে একটি পঙিক্তও পাঠকের হৃদয়ে, অনুভবে সংযোজন করা কততা সম্ভব হয়েছে। এরকম একটি কবিমণ্ডলীভুক্ত সমাজে সমর সেন ব্যতিক্রম। তিনি যখন লিখছিলেন তখন পাঠক, বলা ভালো কবিসমাজ তাকে  সানন্দে বরণ করে নিয়েছিলেন। সকল কবির মতো  জীবনভর কবিতা লেখেননি তিনি, ৭১ বছরের জীবনে তিনি কাব্যসাধনা করেন মাত্র ১২ বছর,  ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত। যাহা বাঙালির চিরাচরিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। 

এই কালপর্বেই তাঁর পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো - কয়েকটি কবিতা (১৯৩৭), গ্রহণ (১৯৪০), নানা কথা (১৯৪২), খোলা চিঠি (১৯৪৩) এবং তিন পুরুষ (১৯৪৪)। তাঁর কবিতাসংগ্রহ সমর সেনের কবিতা ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। নগর জীবনের ক্লেদ ও ক্লান্তি, মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতি অবজ্ঞা এবং সংগ্রামী গণচেতনাকে তিনি কাব্যে রূপ দিয়েছেন। তাঁর কাব্যের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ব্যতিক্রমী ও নিজস্ব বৈশিষ্টতায় ছিল অনন্য। রোমান্টিকতা বর্জিত তীক্ষ্ণ ভাষা প্রয়োগে সাহিত্যজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। স্বাধীনোত্তর কালে বিপ্লবী বামপন্থী চিন্তাধারার সমর্থক ছিলেন তিনি।

মানুষটি, সমর সেন। জন্ম: ১০ অক্টোবর, ১৯১৬ - মৃত্যু: ২৩ আগস্ট, ১৯৮৭। তিনি শুধুমাত্র একজন উল্লেখযোগ্য বাংলাভাষী স্বাধীনতা-উত্তর কালের কবি ছিলেন না, দায়িত্বের সঙ্গে পালন করেছেন অধ্যাপনা এবং সাংবাদিকতা। তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ দীনেশচন্দ্র সেনের পৌত্র।  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্কটিশ চার্চ কলেজের স্নাতক ছিলেন। ইংরেজি বিষয়ে এম.এ পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনীতে, প্রথম হন তিনি।

কর্মজীবনে কিছুকাল অধ্যাপনা ছাড়া বাকি জীবন পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। স্টেটসম্যান পত্রিকার সহ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৭ সালে অনুবাদকের কাজ নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন যান। বহু রাশিয়ান সাহিত্যের বাংলা অনুবাদ তার কীর্তি। ১৯৬১ সালে দেশে ফিরে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজে যোগদান করেন। তারপর হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় কাজ করেছেন। মতের অমিল হওয়ায় সেই চাকরি ছেড়ে দেন এবং হুমায়ুন কবিরের ইংরেজি পত্রিকা 'নাও' এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এখানেও মতবিরোধ দেখা দিলে নিজেই ফ্রন্টিয়ার নামক ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করতে থাকেন। এছাড়াও দিল্লির অল ইন্ডিয়া রেডিওর সংবাদ বিভাগে কিছুকাল কাজ করেছেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন "Frontier" নামের প্রগতিশীল পত্রিকার।

জন্মশতবর্ষে যেকোনো কবি, শিল্পী, শিক্ষাবিদের জীবন সাধনা স্মরণের মাধ্যমে উত্সবের উপলক্ষ সামনে এনে উপস্থিত করে। সে-বিচারে সমর সেনের কবিতা আবার পড়া হবে। যাঁরা তাঁর কবিতা পড়েছেন তাঁরাও নিশ্চয়ই আবার হাতে তুলে নেবেন তাঁর কাব্য, আর যাঁরা পড়েননি তাঁদের ভেতরেও কৌতূহল জেগে উঠবে। কবিতার পাঠক অনেক রকম, যেমন কবিতা অনেক রকম। তবে সত্যিকারেই কোনো কবির পক্ষে , পাঠকের পক্ষে সমর সেনের কবিতাকে উপেক্ষা করে যাওয়া অসম্ভব। 

কবিতার কলম যখন হাতে তুলে নেন সমর সেন সেই সময়টার দিকে ফিরে তাকানো যাক। একটিমাত্র দশকে পাঁচ-পাঁচজন মহৎ, আধুনিক কবির বিস্ময়কর আবির্ভাব ঘটেছে। জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে—এই পাঁচ কবি আবহমান বাংলা কবিতার ধারায় যুগান্তকারী বাঁকবদল ঘটান। সাহিত্যর কবিতায় তাঁদের সম্মিলিত প্রভাব পড়তে শুরু করে বাংলা কবিতাঙ্গনে। এই প্রভাব-বলয় থেকে পৃথক ভাবে পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা কঠিন ছিল যে কোন নতুন কবির ক্ষেত্রে।  সে সময় আঠারো থেকে একুশ বছর বয়সের মধ্যে প্রতিভাধর সমর সেন একমুঠো কবিতা লিখে রীতিমতো হৈ চৈ ফেলে দিলেন। ‘বাতাসে ফুলের গন্ধ,/ আর কিসের হাহাকার।’ কিংবা ‘হে ম্লান মেয়ে, প্রেমে কী আনন্দ পাও,/ কী আনন্দ পাও সন্তানধারণে?’ অথবা ‘বিষাক্ত সাপের মতো আমার রক্তে/ তোমাকে পাবার বাসনা’— এজাতীয় পংতি আধুনিক কবিতার মধ্যদিয়ে পাঠকের কাছে একধরনের অভিনত্ব নিয়ে আসে। তবে কবিতায় মিষ্টি ভাষাকে বিদায় করতে গিয়ে তিনি কখনই রোমান্টিকতাকে পুরোপুরি বিসর্জন দেননি। গদ্যেরও যে দোলা থাকে সেটা সমর সেনই প্রথম দেখিয়েছিলেন। ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এই কবি আর কবির চাইতে আলাদা এবং তাঁদের পরবর্তী কবিদের ভেতর বিশিষ্ট।

১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘সমর সেনের কবিতা’। সংকলিত ঊনআশিটি কবিতা। সিগনেট প্রেস থেকে প্রকাশিত বইটির তৃতীয় সংস্করণ (১৯৬৯) হয়।  আধুনিক সংবেদনশীল কবিমানুষটি ‘রোমন্থন’ কবিতায় ব্যক্তিত্বস্পৃষ্ট উচ্চারণ আমাদের বিমূঢ় করে দেয় :

বয়স মাত্র পঁয়ত্রিশ,
তবু নিজেকে কতদিনের জীর্ণ বৃদ্ধ লাগে,
জিভে স্বাদ নেই, জানি না
কী পাপে সুস্থ শরীর ঘুণের আশ্রয়।

টি এস এলিয়টের ওয়েস্ট ল্যান্ড (পোড়ো জমি) সমর সেনের মানসে অভিঘাত তুলেছিল নিশ্চয়ই। তাঁর ‘পোড়ো মাটি’ কবিতায় আমরা প্রত্যক্ষ করব বিষাদগ্রস্ত বৃন্তচ্যুত বিচ্ছিন্ন মানবসত্তাকে। আর ফসলহীন শকুনের মাঠে প্রাণ দেয়া অসংখ্য সহোদর ডাকছে সেই মানবসত্তাকে। কবিতাটি আরেকটি কারণে উল্লেখযোগ্য, সেটি হলো এটি সমিল গদ্য ছন্দে লেখা।  সমর সেনের কাছ থেকে আমরা পাই সাম্যবাদী বক্তব্য। ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’—এমন ঘোষণাও তিনি করেছেন। লেলিনের বাণী, জোসেফ স্টালিনের উল্লেখ তাঁর লেখায় খুঁজে পাওয়া যায়। সাম্যবাদী ঘরানার প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা ‘লোকের হাটে’। বর্ষা নিয়ে বাঙালির ভাবালুতা সুবিখ্যাত। কবিতাটি শুরুই হয়েছে ‘আবার এসেছে আষাঢ়’ বলে, রবীন্দ্রনাথের গানের কথাই যেন মনে পড়িয়ে দিতে। আসলে চকিতে সেই মোহভঙ্গ ঘটিয়ে পাঠকের সামনে সম্পূর্ণ বিপরীত, অ-রোমান্টিক পরিস্থিতি উপস্থাপনই কবির আরাধ্য। দু’লাইন তুলে দিলে বোঝা যাবে : ‘আবার এসেছে আষাঢ়; জলস্রোতে ঘোলাটে হলুদ রঙ রাশি রাশি আবর্জনা’।

নিজেকে চেনাচ্ছেন যেন তিনি এমন উচ্চারণের ভেতর দিয়ে :

আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত, কূপের মণ্ডুক,
ছাপোষা মানুষ,
দিনের বিস্বাদ মুখে রাত্রি বাড়ি ফিরি।

প্রকৃত আধুনিক গদ্য কবিতার পথিকৃত্ তিনিই। অক্ষরবৃত্ত ছন্দের সাম্রাজ্যে তাঁর কবিতা শোভন বিদ্রোহী। তাঁকে ছন্দছুট বলার কারণ নেই। মাপা বিশুদ্ধ ছন্দের প্রতিষ্ঠিত প্রাঙ্গণে তাঁর গদ্যছন্দ একধরনের ছন্দোমুক্তি, যা বাংলা কবিতায় নতুন স্বাদ এনে দেয়। আধুনিক বাংলা কবিতায় এ কাজটির জন্য তাঁর চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার কথা। অথচ আজও তাঁর যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি। সমর সেন ছিলেন বুদ্ধদেব বসুর চাইতে আট বছরের ছোট। বুদ্ধদেব বসুর ‘বন্দীর বন্দনা’-র কয়েকটি কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করে দেখিয়েছিলেন তিনি বুদ্ধদেবকে, তখন সমর আঠারোর তোরণে দাঁড়ানো, অনুবাদ পড়ে খুশি হয়েছিলেন বুদ্ধদেব বসু এবং তরুণটির কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, তিনি কবিতা লেখেন কি না। কয়েক দিন পর নিজের কয়েকটি কবিতা তিনি দেখিয়েছিলেন বুদ্ধদেবেবসু কে। কবি তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ‘নিয়মিত ছন্দের চেষ্টা ছেড়ে গদ্যছন্দে যেতে।’

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সমর সেনের পিতামহ দীনেশচন্দ্র সেনের ছিল গভীর হূদ্যতা। বাবা অরুণচন্দ্র সেন ছিলেন আদি শান্তিনিকেতনের ছাত্র। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর ও তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ও পত্রালাপ ছিল। সমর সেনের আত্মজীবনী ‘বাবুবৃত্তান্ত’ অনেক অজানা ইতিহাসে পূর্ণ। সেখানে সমর সেন বলছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মহাসমস্যার ব্যাপার।’ কারণ তাঁর বিরুদ্ধবাদীরা তিরিশের দশকে ঘোরতর ভাবে তাঁর ভক্ত হচ্ছেন। এক দিকে ‘রাশিয়ার চিঠি’ ও পরে ‘সভ্যতার সঙ্কট’ বামপন্থিদের মধ্যে আলোড়ন তোলে। আধুনিকদের ‘শেষের কবিতা’ ও ‘চার অধ্যায়’ প্রবলভাবে মাতায়। বাবুবৃত্তান্ত বইয়ে রবীন্দ্রবৃত্তান্ত পাঠকদের জন্য বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। লিখেছেন, “অনেকে হয়তো জানেন না যে তিরিশের দশকের শেষাশেষি রবীন্দ্রনাথ বাংলা কবিতার একটি সংকলন বের করেন (জোর গুজব সজনীকান্ত দাসের সহযোগিতায় ও পরামর্শে)। তিন জন ‘আধুনিক’ কবি বইটিতে স্থান পায়নি— বিষ্ণু দে, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র ও আমি। শেষ পর্যন্ত সংকলনটির কী হয়? এ বিষয়ে বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ আলোকপাত করতে পারে। প্রেসিডেন্সি কলেজ ম্যাগাজিনে অশোক মিত্র (পরে আইসিএস) একটি তীব্র তীক্ষ সমালোচনা করেন সংকলনটির; অন্য দু-একটি পত্রপত্রিকায় বিরূপ মন্তব্য বেরোয়।” যদিও সমর সেনের কবিতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য ছিল ইতিবাচক। ১৯৩৫-এ ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর কয়েকটি কবিতা পড়ে রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধদেব বসুকে লিখেছিলেন, ‘সমর সেনের কবিতা কয়টিতে গদ্যের রূঢ়তার ভিতর দিয়ে কাব্যের লাবণ্য প্রকাশ পেয়েছে। সাহিত্যে তাঁর লেখা টেকসই হবে বলেই বোধ হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, ওই বছরই প্রকাশিত হয় ত্রৈমাসিক ‘কবিতা’ পত্রিকা। তার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। আর সমর সেন ছিলেন তার সহকারী সম্পাদক।

সমর সেন যে সময়টায় (১৯৩৪ থেকে ১৯৪৬ সাল) কবিতাচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন সে সময়ে  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। এরপর অবিভক্ত বাংলা পঞ্চাশের (১৯৪৩) মন্বন্তরের শিকার হয়। ছেচল্লিশে  কলকাতায় সংঘটিত হয় স্মরণকালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। সংগত কারণেই কবির তরুণ মানসে এসবের অভিঘাত পড়েছিল। কিন্তু শিল্পের শর্তের কথা তিনি বিস্মৃত হননি। ঊষর মহানগরে সাহিত্যসম্পৃক্ত তরুণ-যুবার মনোজগতে প্রেম, মানবিক প্রয়োজন ও বিবিধ বিষয়ের ভিন্নধর্মী উত্সারণ ঘটিয়ে চলে। প্রাসঙ্গিকভাবে তিনটে উদাহরণ হাজির করছি।

ক। উচ্ছিষ্ট নিয়ে ভিখিরী কুকুরে ঝগড়া ( বিরতি)

খ। দুর্দিন রপ্তানী কিছুদিন বন্ধ কর/ এদেশে, হে দেব! ক্ষান্ত কর দাক্ষিণ্য দারুণ/ বিপুলা পৃথিবী! অন্য দেশে লেগেছে আগুন, / কালসিটে কালো মেঘ, সূর্যাস্তের রঙ যেন মানুষের খুন! (২২শে জুন)

মৃত্যু হয়তো মিতালি আনে :

গ। ভবলীলা সাঙ্গ হলে সবাই সমান—
বিহারের হিন্দু আর নোয়াখালির মুসলমান
নোয়াখালির হিন্দু আর বিহারের মুসলমান (জন্মদিনে)

ব্যঙ্গ, আত্মসমালোচনা, স্বশ্রেণির প্রতি বিদ্রূপ ইত্যাদি কারণেও সমর সেন বিশিষ্টতায় ভাস্বর। তাঁর কবিতার প্রধান অনুষঙ্গই হয়ে উঠেছে যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রজ্ঞা ও কল্পনাশক্তির মেলবন্ধন। আবেগকে তিনি সংহত সংযত রেখেছেন, সেখানে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। হূদয়-মননের, জ্ঞান ও কল্পনার সমন্বয়ে কবিতায় তিনি যে সুর ও ভঙ্গি গড়েছেন, তাতে তাঁর স্বাতন্ত্র্য সুনির্দিষ্ট অবয়ব লাভ করেছে। এখানেই তাঁর গুরুত্ব। মহাকাল কীভাবে বিস্মৃত হতে পারে যে বাংলা কবিতায় তাঁর মৌলিক অবদান যুক্ত হয়েছে রহস্যময় বাগ্দেবীর অমোঘ ইশারায়! জন্মশতবর্ষে এই ব্যতিক্রমী কবিকে আমাদের শ্রদ্ধা, প্রণাম।


গ্রন্থাবলী
কয়েকটি কবিতা (১৯৩৭),
গ্রহণ (১৯৪০),
নানা কথা (১৯৪২),
খোলা চিঠি (১৯৪৩) এবং
তিন পুরুষ (১৯৪৪)
বাবু বৃত্তান্ত (১৯৭৮)

তথ্যসূত্র
ঝাঁপ দাও ↑ Old Poetry Website retrieved on February 4, 2007
ঝাঁপ দাও ↑ Some Alumni of Scottish Church College in 175th Year Commemoration Volume. Scottish Church College, April 2008, p. 590.
ঝাঁপ দাও ↑ সমর সেন, খালেদ হোসাইন ও সাজ্জাদ আরেফিন সম্পাদিত, সমর সেন, দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০০২, 
↑ ঝাঁপ দাও: ৪.০ ৪.১ সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭; 
ঝাঁপ দাও ↑ রফিকুল ইসলাম ও অন্যান্য সম্পাদিত; কবিতা সংগ্রহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; তৃতীয় মুদ্রণ; জুলাই, ১৯৯০; 



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.