x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

রূপক স্যান্যাল

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
রূপক স্যান্যাল
তিনি অন্তর্মুখী কম কথার মানুষ । বড্ড নরম মৃদু টানে শব্দ আঁকেন । তাবলে তিনি সমাজ সম্পর্কে চোখ বুজে থাকেন না । কথার টানে ভাসে কথা । তিনি তুলে আনেন সময়, পরিবেশ, মানুষ, মানুষের প্রেম অভিমান রাগ অনুরাগ । তিনি রূপক স্যান্যাল । ‘একমুঠো প্রলাপ’ এ আমাদের আজকের অতিথি ।


আপনি তো উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র , তাই না ? উত্তর অবহেলিত দক্ষিণের তুলনায় এই মিথ ভেঙ্গে দিব্যি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন । এর রহস্য কি ? 





আমার তো বটেই, আমার বাবার জন্মও এই উত্তরবাংলায়। সেদিক থেকে বলতেই পারেন ‘ভূমিপুত্র’। জনপ্রিয়তা নিয়ে ভাবিনি কখনো। ছেলেবেলাটা যেখানে কেটেছে, সেখানে লেখা প্রকাশ করার মত যথেষ্ট পত্রিকা বা অন্য কোন মাধ্যম ছিল না। তাই লেখার আনন্দেই লিখে গেছি, গ্রন্থ প্রকাশের কথা ভাবি নি। পরবর্তী সময়ে কিছু মানুষের সংস্পর্শে এসে গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনা নিই। তাঁদের কাছে আমি ঋণী। উত্তর আর দক্ষিণবাংলা — এই দুই প্রান্ত আসলে মানসিকতার দিক থেকেই আলাদা। তবে এই ব্যবধান কিছুটা হলেও কমেছে। নিশ্চয় ক্রমে আরো কমবে। তবে সত্যি বলতে, দক্ষিণের কিছু মানুষ যদি উদারভাবে গ্রহণ না করতেন, তবে আমার মত একটি প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলের পক্ষে কোলকাতার কোন প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা পর্যন্ত পৌঁছোন সম্ভব হতো না। 

আপনার এখনও পর্যন্ত আপনার মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে । অথচ লেখালেখি তো বহুদিনের । প্রকাশে এত অনীহা কেন ? 





অনীহা নয়, আসলে সুযোগ ছিল না। বলতে পারেন তেমন উচ্চাকাঙ্খাও ছিল না। লিখতে ভালো লাগতো, লিখে যেতাম শুধু। প্রকাশের কথা ভাবিনি। কিন্তু মজার ব্যাপার এটাই যে, আমি যতই লুকিয়ে চুরিয়ে কবিতা লিখি না কেন, কারুর কিন্তু জানতে বাকি ছিল না যে, আমি কবিতা লিখি! 





কবিতার পাশাপাশি গদ্যচর্চাও নিশ্চয় করেন । কি ধরণের গদ্য লেখা পছন্দ ? 





করি। তবে, গদ্য বা গল্পের সংখ্যা কম। তবে ভাবনাটা চলে। আমার মনে হয় লেখকের কাজটা অনেকটা সত্যানুসন্ধানের মত। সাদা যে প্রকৃতপক্ষে সাদা নয়, হাসি যে অনেক ক্ষেত্রেই কান্না চাপার কৌশল— এই সত্যেই পৌছতে চেয়েছি। এরকম ব্যতিক্রমী বিষয় পেলে গল্প বা গদ্য লিখি। বলা যায়, নিজেকে আর চারপাশটাকে ক্রমাগত খুঁড়ে চলা। 




সম্পাদনা করছেন ‘খোয়াবের নৌকা’, আর কিছু ?





‘খোয়াবের নৌকো’র সম্পাদক শঙ্করী সান্যাল, আমি নয়। তবে বহু আগে নিজে হাতে লিখে একটা দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ করতাম, যার নাম ছিল ‘দর্পণ’। সে একটা আলাদা আনন্দ ছিল।





উত্তরের কবিতার ধারা কি স্বতন্ত্র বলে মনে করেন ? আপনার লেখায় মানুষ প্রকৃতি সমাজ খুব মরমীয়া ভাষায় প্রকাশিত । এর জন্য কি ভৌগোলিক কোনো অবদান আছে বলে মনে করেন ? 





স্বতন্ত্র হওয়া বোধহয় উচিত ছিল। কিন্তু সেই স্বাতন্ত্র কী আমরা রাখতে পেরেছি? এখানকার নিজস্ব লোকসঙ্গীত আছে, লোকশিল্প আছে, লোকসংস্কৃতি আছে, নিজস্ব ধারার কবিতাই বা থাকবে না কেন? ‘প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা’ বলতে যা বোঝায়, আক্ষরিক অর্থেই খুব ছেলেবেলা থেকেই আমি তা পেয়েছি। যেখানে বাড়ির সীমানা শেষ, সেখান থেকেই শুরু সবুজ ধানক্ষেত। ঠিক বইতে যেমন প্রকৃতির বর্ণনা থাকে, হুবহু তেমনটাই দেখেছি আমরা। যদিও এখন আর সেই সবুজ প্রান্তরের সামান্যও অবশিষ্ট নেই। চারদিকে শুধু বাড়ি আর বাড়ি। যে শ্যাওড়া গাছটায় ‘ভূত’ থাকতো বলে আমরা জায়গাটাকে সমীহ করে চলতাম, সেখানেও এক পেল্লায় বাড়ি উঠেছে। ‘ভূত’ও ভেগেছে মানুষের দাপটে। মানুষ নিজেকে সর্বশক্তিমান ভেবে ফেলেছে। সে মনে করে, যেহেতু আমি মানুষ অতএব যা খুশি করার অধিকার আছে আমার। এই প্রবণতাকে আমি বারবার তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি কবিতায়। জানিনা কতটা পেরেছি। 


সুনয়না’ কি আপনার মানস প্রতিমা ? না কি অধরা মাধুরী ? 






‘সুনয়না’ আমার নিজস্ব বিচরণ ক্ষেত্র। সেখানে আমি ‘দু’দন্ড শান্তি’ খুঁজে পাই। 





আপনার স্ত্রী শঙ্করী স্যান্যাল তো বাচিক শিল্পী । আপনার লেখা কি ওনার কন্ঠে যন্ত্রস্থ করেছেন কখনো ? করার কোনো প্ল্যান আছে ? 





আমার স্ত্রী আমার লেখা কবিতা পাঠ করেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। কয়েকটা সংলাপ-কবিতা লিখেছিলাম আর কিছু গদ্য কবিতা। সেগুলো নিয়ে একটা ‘এ্যালবাম’ করার কথা ভেবেওছিলাম। তবে সেটা এখনো ভাবনার স্তরেই পড়ে আছে। 




সম্পাদক হিসেবে ই-ম্যাগাজিন সম্পর্কে আপনার কি ধারনা? আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ কোন মাধ্যম, কাগুজে মিডিয়াম না কি ওয়েব ? 





আমি বর্তমানে কোন পত্রিকা সম্পাদনা করছিনা। তবে আমি বরাবরই ছাপানো পত্রিকা দেখতে অভ্যস্ত। তার একটা আলাদা গন্ধ স্পর্শ আছে। যদিও এখন কয়েকটি ই-ম্যাগাজিন বা ওয়েব-ম্যাগাজিন খুব যত্ন নিয়ে প্রকাশনার কাজ করছে। তাদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। 





কবিতায় রূপকের বাড়াবাড়ি কবিতাকে শক্তিশালী করে নাকি সাধারণ পাঠকের থেকে দূরে নিয়ে যায় , আপনার কি মত ? 




আপনি একটা সুন্দর বাড়ি বানালেন। বাড়ির ভেতরে প্রচুর কারুকাজ, বিবিধ এ্যান্টিক দিয়ে ঘর সাজালেন। কিন্তু সেই বাড়িতে যাবার কোনও রাস্তা নেই, ঘরে ঢোকবার কোন দরজা নেই! আথবা ধরুন, বাড়িটাতে ঢোকার পথে প্রচুর ভাঙা কাচ বিছিয়ে রাখলেন। তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে? আমার আমন্ত্রণে যাঁরা আমার বাড়িতে এলেন, তাঁদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বটাও আমাকেই নিতে হবে। বাড়ি দেখতে এসে কেউ যেন হতাহত না হন! 



কবি কি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনীতি মুক্ত হয়ে গজদন্তমিনারে বসে ভালো লিখতে পারেন না কি তাকেও নেমে আসতে হয় জনতায় ? মান্ডেন লাইফে ? 





কবি একজন শিল্পী। আর শিল্প মানুষের জন্য। মানুষের কথাই শিল্পীকে বলতে হবে। নিত্যনতুন আবিষ্কার করতে হবে মানুষের মধ্য থেকে। মানুষের মধ্যে নিজেকে না মেশালে তা করা সম্ভব নয়। 





আপনি কি মনে করেন উত্তরের কবি সাহিত্যিকদের আরও একটু সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া দরকার ? প্রকাশনা থেকে শুরু করে লিটিল ম্যগাজিন মেলা কফিহাউস কালচার সবই কোলকাতা কেন্দ্রিক হয়ে আছে এখনও । এসব ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ দরকার নয় নি ? 




নিজস্বতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ হবার দরকার নিশ্চয় আছে। আগেই বলেছি, সাহিত্যের ক্ষেত্রে নিজস্ব আঞ্চলিক ধারা আমরা বজায় রাখতে পারিনি, যেটা এখনো কিছুটা অবশিষ্ট রয়েছে আমাদের লোকসংস্কৃতির মধ্যে। কবিতার ক্ষেত্রে আমরা কে কত ‘আধুনিক’ হয়ে উঠতে পারি সেই প্রতিযোগিতা করে চলেছি। যদিও ‘আধুনিক’ ব্যাপারটাই আমাদের কাছে এখনো ধোঁয়াশা। আমরা ‘কাব্যগুণ’এর ক্ষেত্রে নতুন কিছু ভাবতে পারিনি। আসলে নিজস্বতা হারিয়ে ফেললে তার আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।



‘শব্দের মিছিল’ এর পক্ষ থেকে রইল শুভকামনা । সাহিত্যজীবন আরো পরিসর লাভ করুক, আমাদের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা রইল ।







Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.