x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

পিয়ালী গাঙ্গুলী

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
পিয়ালী গাঙ্গুলী


সরি বাবা,

এতদিনে তোমায় মেল করার সময় পেলাম। পৌঁছনো সংবাদ তো আগেই হোয়াটসআপ করে দিয়েছিলাম। উফ, এবারে যাতায়াতে বড্ড কষ্ট হয়েছে। এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। বয়েস হচ্ছে তো। আজকাল আর আগের মত দৌড়ঝাঁপ করতে পারি না। আমি কি আর তোমার ছোট্ট উমাটি আছি গো? আর সিংহটারও বাতের ব্যাথাটা খুব বেড়েছে। আমার ওজন নিয়ে বেচারা আর চলতে পারে না। ফিরে এসে অৰ্থপেডিক দেখালাম। বলল মনে হচ্ছে এবার হাঁটু চারটের অপারেশন করানোর সময় এসে গেছে। এই আবার আমার আরেকটা টেনশান যোগ হল।

তোমাদের ওখানে ওয়েদারটাও এবার খারাপ ছিল। ভ্যাপসা গরম। ছেলেমেয়ে গুলোর সবকটার সর্দিগর্মি হয়েছে। অবশ্য সে তো নাকি সবই আমার দোষ। আমি চাইলেই ওয়েদার ভাল রাখতে পারি। ওরে, তোরা যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং করে করে প্রকৃতির সব হিসেব নিকেশ ওলোট পালোট করে দিচ্ছিস সে খেয়াল আছে? শুনলাম গ্রেট বেরিয়ার রিফটাও নাকি এবছর মরে গেছে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ঠেলায়। এই রেটে বরফ গললে পোলার বেয়ার, সিল আর পেঙ্গুইন গুলোও আর থাকবে না। তোরা গাছ কেটে ফেলবি, ইয়া বড় বড় বাড়ি বানাবি, কারখানা বানাবি, বাতাসে আজে বাজে গ্যাস ছড়াবি আর যেখানে যত প্রাকৃতিক বিপর্যয় হবে তার দোষ হবে আমার।

এদিকে বাড়ি ফিরেই তো কাজের আর শেষ নেই। শুধু বাড়িতে পা দেওয়ার অপেক্ষা। তোমার জামাইকে তো তুমি চেনোই। ঘর বাড়ির যা অবস্থা করে রেখেছে। ঢুকেই মাথাটা গরম হয়ে গেল। তোমার কাছে তো আর লুকোনোর কিছু নেই বাবা। গাঁজার নেশাটা তো আর ছাড়াতে পারলাম না এত বছরেও। ছেলে মেয়েরা বড় হয়েছে, আজকাল ওরাও রাগ করে। তাতেও কোনো ফল হয়না। আর আমরা না থাকলে তো সুবর্ণ সুযোগ। নেশার ডোজ আরো বেড়ে যায়। এই কদিন আর নাওয়া খাওয়া কিছুই হয়নি বুঝতে পারছি। সারাদিন গাঁজা টেনে পড়েছিল। কদিনেই চেহারার কি হাল হয়ছে। আর যেমন গা থেকে উৎকট গন্ধ বেরোচ্ছে, তেমনি ঘর বাড়ি দিয়ে। আমি তো এসেই আগে সমস্ত দরজা জানলা খুলে দিয়েছি। কি দেখে যে প্রেমে পড়েছিলাম তাই ভাবি। মেয়েরা আবার ওনার মত স্বামী চায়। আমি মনে মনে হাসি। ভাবি ঘর করতে গেলে হাড়ে হাড়ে টের পাবে।

তবে হ্যাঁ, নন্দী ভৃঙ্গী কাজে অনেক সাহায্য করে। ওরা না থাকলে আমি একা সামলে উঠতে পারতাম না। এইবার তো মহালয়া থেকেই চলে গেছি। চারজনের চারখানা লাগেজ, জামাকাপড় ভর্তি। ছেলেমেয়েরা তো একেকবেলা একেকটা পড়েছে আর ছেড়েছে, বিশেষ করে লক্ষী আর কার্তিক। ওদের দুটোর তো আর সাজের শেষ নেই। সেইসব আনপ্যাকিং করে, ওয়াশিং মেশিনে কেচে আবার গুছিয়ে তুলে রাখা, সেকি কম হ্যাপা। তারপর আবার ফ্লিপকার্ট আর আমাজন থেকে একগাদা অনলাইন শপিং করে এনেছে। দু দুটো মেয়ে হয়েছে, একটা বাড়ির কাজে নেই। সব মায়ের ঘাড়ে। একজন সারাক্ষণ পড়াশুনো আর গানবাজনা নিয়ে আছেন, আর আরেকজন কে তাকে ভক্তিভরে পুজো করছে না করছে সেই গোয়েন্দাগিরি তে ব্যস্ত।

গনুটার কি বিচ্ছিরি বেঢপ চেহারা হয়েছে দেখেছো? সারাক্ষণ গান্ডে পিণ্ডে খেয়ে চলেছে। বলে বলেও জিমে পাঠাতে পারি না। এই মামারবাড়ি থেকে এত্ত খেয়ে এল তাতেও আশ মিটল না। রোজই এটা সেটা রান্নার ফিরিস্তি দিয়ে যাচ্ছে। আমি বলে দিয়েছি আমি টায়ার্ড, আমি পারব না। খাওয়ার অত লোভ থাকলে নিজে রান্না করতে শেখো। কাতু কে নিয়ে আবার আরেক সমস্যা। সিক্স প্যাক, এইট প্যাক কিসব বানিয়ে চলেছে আর এটা খাব না, সেটা খাব না করে চলেছে। সবেতেই নাকি ওর ওজন বেড়ে যাবে। ওদের বাবাকে নিয়ে অবশ্য এসব ঝামেলা নেই, যাই দাও হাসিমুখে খেয়ে নেয়। মিথ্যে বলব না বাবা, তোমার জামাই আমায় বলে, বয়েস হচ্ছে, তুমি এবার একটু রেস্ট নাও। নইলে অসুস্থ হয়ে পড়বে। মাঝে মাঝে একটু পার্লারে যাও, বডি ম্যাসাজ করাও, স্পা করাও, আরাম পাবে।

এ তো গেল আমার সংসারের খুঁটিনাটি। এরপর আবার বিশ্বসংসারের যত ঝামেলা। তোমাদের ওখানে তো যুদ্ধ লাগবে লাগবে করছে। আবার কত মানুষ মরবে, কত ক্ষয় ক্ষতি হবে। ঘরে ঘরে বৌগুলোকে অত্যাচার করে মেরে ফেলছে, বাজার দর আগুন, গরিব লোক না খেতে পেয়ে মরছে। ওই যে চিট ফান্ড না চিটিং ফান্ড, তাতে করে শয়তানগুলো গরিব মানুষ কে ঠকাচ্ছে। এইসব অসুরগুলোর সাথে আমিও এঁটে উঠতে পারছি না বাবা। মহিষাসুরকে বধ করা অনেক সহজ ছিল। ওই যে বললাম আমারও তো বয়েস হচ্ছে। শক্তি আর সাহস দুইই বোধহয় কমে গেছে। একটাই উপায়। সব ধ্বংস করে আবার নতুন করে সৃষ্টি করা। দেখি সময় করে প্রজাপতি, বিষ্ণু আর ওনার সাথে কথা বলব। কিছু একটা করতে হবে, তাড়াতাড়িই। নইলে আমি এবার ডিপ্রেশনে ভুগব। যাকগে, মাকে আর এত কথা বলো না। এমনিতেই আমায় নিয়ে বড্ড চিন্তা করে, এসব শুনে আরো দুশ্চিন্তা বাড়বে। আর তুমিও নিজের খেয়াল রেখ বাবা। ওষুধগুলো নিয়ম করে খেও, বিশেষ করে প্রেশারের ওষুধটা। তোমাদের জন্য খুব মন খারাপ করে গো।

ইতি তোমার মেয়ে



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.