x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

পলাশ কুমার পাল

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
পলাশ কুমার পাল







'ভালোবাসা' একটা শব্দের নাম। বাংলাভাষায় একটা অর্থ বহন করে ঠিকই; কিন্তু এর ব্যাপ্তি ব্যাকরণের বাইরে। তত্ত্বকথা দিয়ে এর শব্দ শোনা যায় না। আসলে ভালোবাসা একটা অনুভূতি; যার শব্দ কেবল মন দিয়েই শুনতে হয়। একটা প্রাণের শারীরিক অঙ্গগুলোর মধ্যে শ্বাসাঙ্গ যেমন প্রধান, তেমন প্রাণের মানসিক অঙ্গগুলোর মধ্যে ভালোবাসা প্রধান। শ্বাসযন্ত্র যেমন অবিরাম স্পন্দিত হয়, ভালোবাসাও ঠিক তেমন। এর স্পন্দনে প্রাণ বেঁচে রয়।

এইভাবে ভালোবাসাকে অঙ্গ বানানো সম্পর্কে হয়তো বিদ্রুপ ছুটে আসবে আধুনিকক্ষেত্র থেকে। কিন্তু আমরা মনুষ্যজাতি কি কখনো ভেবে দেখেছি এই শব্দের গভীরতা? বাঙালি হয়ে তো বাংলাভাষার অভিধানে এই শব্দটার উপস্থিতির জন্য আমার গর্ব হয়। এই শব্দের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতি তো বটেই, মনুষ্যজাতির বা প্রাণীর অনুভূতি ব্যপ্ত রয়েছে। এই অনুভূতি অনেকটা সংগীতের রাগের মতো, যা মনেতে বারবার ধ্বনিত হয়ে যায়... তাই হয়তো বাংলাভাষায় এই 'ভালোবাসা'র প্রতিশব্দ 'অনুরাগ'। অনুভূতির অণু থেকে সঞ্চারিত রাগ। একে সঠিকভাবে গাইতে পারলে প্রাণ ধন্য হয়ে যায়। জীবন হয় সার্থক।

অন্যভাষায় এই 'ভালোবাসা'র নানা প্রতিশব্দ আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। যেমন ইংরাজীতে এর প্রতিশব্দ ‘Love’। যদিও বেশিরভাগ বাঙালির মধ্যে এই ‘Love’ শব্দটি বহুল প্রচলিত; বাঙালি হয়ে এই 'Love' শব্দ আমায় তেমন টানে না। মনে হয় এর মধ্যে বাঙালির খাঁটি আবেগ অনুপস্থিত। অথচ প্রেম নিবেদনে এখনকার বেশিরভাগ শিক্ষিতমহল এই 'Love' শব্দটাকেই ব্যবহার করে। এটা মনে হয় 'ভালোবাসা'র প্রতি অন্যায়। অন্যভাবে বললে বলব- অনুভূতির কার্পণ্যতা।

মনুষ্য ছাড়া অন্য প্রাণীকূল তাদের জন্মের ভাষাকে বদলায় না কখনো। তাদের মধ্যে এই বিশেষ অনুভূতি আছে বলে নিশ্চয়! অনেক তার্কিক হয়তো এইসব পড়ে ভাষার ইতিহাস খুলবে বা বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেখাবে। তবে তাদের মুখোমুখি আমার অপ্রাসঙ্গিক এই যুক্তি রাখতে চাই যে- মানুষ মানুষকে মারে; প্রাণীরা তাদের নিজস্ব প্রজাতির প্রাণীর উপর খাদ্যশৃঙ্খলের কারণ ছাড়া কোনভাবেই আঘাত হানে না। হয়তো সব প্রাণীর মধ্যে এই অনুভূতি কাজ করে না। আর এই কারণেই তাই মানুষ চিরবিবর্তিত। এখানেও বিবর্তনবাদে নানা গুলি ধেয়ে আসবে। তাই বলে নিই যে, এখন লেখনী ভাষা বিবর্তনের কথা বলছে। একভাষা থেকে বহুভাষার সৃষ্টি হয়েছিল ক্রমান্বয়ে। কিন্তু আজ আবারও মনে হচ্ছে সেই সৃষ্ট বহুভাষার গতিপথ একভাষার অভিমুখী। অনেকটা সেই দাদু বা ঠাকুরদার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মতো। বিভাজিত পরিবার ঐ দিন আবারও মিলিত হয় একটা বৃত্তে। বলা যেতে পারে একটা চক্র। হয়তো এই চক্রে আমরা আবার শূন্য হয়ে যাব। পৃথিবীও প্রাণাস্তিত্ত্বহীন হয়ে পরবে একদিন!

আসলে এই অস্তিত্ত্বহীনের অভিমুখে গমনের কারণটা ঐ 'ভালোবাসা' শব্দটির ক্ষয় হওয়া। সভ্যতার দোহায়ে যা মানুষের কাছে প্রায় ত্যাজ্যপুত্রসম।

জীবজগত সৃষ্টির পাশাপাশি একটা পরিবেশও রচিত হয়েছিল একদিন; যে পরিবেশের উপর নির্ভর করে আমাদের বেঁচে থাকা। ঐ ভালোবাসানুভূতির কার্পণ্যতার জন্য এই পরিবেশও দিন দিন মরে যাচ্ছে। যাকে দূষণ বলছি। দেখুন, আবার সেই অনুভূতি চলে এলো দূষণের কারণে। আসলে মূল্যায়নে পূর্ণমান পাবার জন্য যতটা নব্যমানবতাবাদের সংজ্ঞাকে কণ্ঠস্থ করি নিই, ঠিক ততটাই অভাব থেকে যায় সেই নব্যমানবতাবাদকে বাস্তবায়ন করাতে। 'ভালোবাসা' রাগটাকে কণ্ঠস্থ না করতে পারার কারণ। বাড়িতে আসা অতিথির আত্মাহীন আপ্যায়ণের মতো। বা হরিনাম। পাপ মুছতে গাওয়া। নাহলে নয়।

টবেতে গাছ পুষি; বাড়িতে গোরু, বিড়াল, কুকুর প্রমুখ নানা প্রাণী পুষি। অথচ এই পোষাপুষির মধ্যে ঘরের বাইরে গাছপালা বা প্রাণী তো দূরহস্ত; ফুটপাতের অভুক্ত মানুষগুলোকে পুঁছি না। আসলে সবটাই দেখানদারি সাজসজ্জা। অনেকেই 'ভালোবাসা' রাগে জারিত করতে পারি না নিজেদেরকে তাদের মধ্যে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই ভালোবাসার আভিজাত্যকে আরও বেশি চর্বিত করা হচ্ছে। একটা ভার্চুয়াল জগত বানিয়ে শুধু আওড়ে যাচ্ছে 'ভালোবাসি, ভালোবাসি...'। এখানে কেউ ব্যতিক্রমী হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই একটা মিথ্যাবুলি। বাঙালি হয়ে মনে হয় এ যেন আমাদের লজ্জা। বাস্তব নয়, 'বাস্তবের মত' হয়ে উঠছি স্পন্দনহীন আত্মা বা মনে। অর্থাত্ সেখানে ঐ অনুভূতির হৃদযন্ত্রের অভাব। তাই অভিনয়ের আড়ালে আসল মানুষটা সামাজিকই।

পরিবেশ দূষণের মতো সামাজিক দূষণেও ভালোবাসার ভূমিকাই বড় আজ। মিথ্যা ভালোবাসার মুখশ্রীতে সত্য ভালোবাসা ক্রমশ শ্রীহীন হয়ে পরছে। মানুষ পরস্পরের মধ্যে হিংসা, ক্রোধ, আঘাত, বিবাদ, লড়াই, এমনকি মৃত্যুকে ডেকে আনছে। আর কিছু মানুষ মানুষেরই সৃষ্ট খাদ্যাভাবে, আশ্রয়াভাবে পচছে...

পরিবেশ বৃত্তের অন্তরে সমাজবৃত্ত। আবার সমাজবৃত্তের অন্তরে পরিবারবৃত্ত। ক্রমশ বৃত্তের গভীরে গেলে দেখব পারিবারিকতাতেও সেই 'ভালোবাসা'র দুর্ভিক্ষদশা। প্রথমত বন্ধুত্বের অভাবটা বাতাসে অক্সিজেনের অভাবের মতো। ফলে 'ভালোবাসা' শ্বাসবায়ুর অভাবে স্পন্দিত হতে পারছে না। এখানে দেখা গেল ঐ বিশেষ শ্বাস, এককথায় বিশ্বাসের ঘাটতি ঘটছে যা ভালোবাসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই মরেছে! ভালোবাসার বৈশিষ্ট্যও চলে এলো যে! এর জন্য আমায় দোষ দেবেন না। এইসব লেখনী আমায় দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে। যাইহোক লেখনীর বৈশিষ্ট্যভাগে আসার আগে পরিবারটাকে আগে বুঝি। নাহলে যে অন্ন জুটবে না।

পরিবারে আসার প্রথম পরিচয় মা, যার গর্ভে বেড়ে ওঠা। পৃথিবীর আলোতে প্রথম ভাষাও সেই 'মা'। আসলে ভালোবাসার হৃত্পিণ্ড এটা। নিঃস্বার্থ বুকে আগলে রাখতে হয় যাকে। বাবাও কম নয়। তবে মায়ের স্বার্থত্যাগ একটু বেশিই। তার উপর তো গর্ভের টান আছেই। অথচ বর্তমানে মা ও সন্তানের রূপটা বদলে যাচ্ছে কেমন। হয়তো ভালোবাসার অভাব বা ভালোবাসার টানাপোড়েন।

সভ্যতায় খণ্ডিত 'আমরা' যখন নিজেদের 'আমি'টার প্রতি ভালোবাসাকে গাঢ় করছি, তখন নিজেদের স্বার্থত্যাগ কমে আসছে পরস্পরের প্রতি। বর্তমানে উপোসী মা'র অভাব লক্ষ্য করা যায় না বিশেষ। অথচ ভালোবাসার এক বৈশিষ্ট্যই ঐ উপোসী। যে নিজে উপোস করে ভালোবাসার জনের মুখে খাবার তুলে দেয়।

তবু বলব 'ভালোবাসা'র অভাবীর যুগে মা আজও ব্যতিক্রমী চরিত্র। সন্তানের প্রতি যার ভালোবাসা অন্ধসম। সেই দোষেই সে সন্তানের সমস্ত দোষকে ক্ষমা করে দেয়। আবার এই মায়েরাই সন্তানের ভালোবাসাকে যক্ষের ধনের মতো আগলাতে চায় বা পেতে চায়। তাই তো রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি' উপন্যাসে দেখি আশা ও মহেন্দ্রের বৈবাহিক নবপ্রেম, মহেন্দ্রের মা রাজলক্ষ্মী দেবীর ঈর্ষার কারণ।এটাই মাতৃহৃদয়ের স্বাভাবিকতা। ভালোবাসাতে ঈর্ষা যেন থাকতেই হয়। ভালোবাসা রাগটার বক্তা ও শ্রোতার মধ্যেও আনুগত্যতাও প্রয়োজন। আবার এই ঈর্ষা থেকে জন্মায় সন্দেহ, যা ভালোবাসার আর এক মুখ। ভালোবাসা তাই কখনো বা সন্দেহবাহিক, যা একটা দোষও। তবে সন্দেহের কারণ যদি এমন হয় ভালোবাসার জনটার জন্য অকারণে কোনো ক্ষতির আশঙ্কায় থাকা; তখন সেই দোষটাই অতিউত্তম অলংকার হয়ে ওঠে 'ভালোবাসা'র দেহে।

মায়ের গণ্ডী পেরিয়ে যদি 'ভালোবাসা' শব্দটিকে বহুল প্রচলিত প্রেমিক-প্রেমিকার স্থানাঙ্কে দাঁড় করালে ভালোবাসার জলবায়ুর তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পরে না। তবে মায়ের নিরক্ষরেখার যতটা আলো তা সব প্রেমে পাওয়া যায় না। কারণটা 'ভালোবাসা' তখন যে অক্ষরেখাকে ভেদ করে যাওয়া ছায়াবৃত্ত। যার একদিক আলো একদিক আঁধার। তবে যদি কোনো প্রেমে প্রেমিকা প্রেমিকের মা হয়ে ওঠে, তবে সে প্রেম ঐশ্বর্য্যময়ী হয়। আপনারা বলবেন এখানে নারীকে কেন এগিয়ে দিলে? আমি বলব প্রতি জন্মের প্রধান সূত্র নারী। তাই প্রেমেও এর পরিবর্তন অকাম্য। তাছাড়া যাকে হোকে এগোতে তো তো হবেই! এছাড়া প্রেম স্থানাঙ্কে শরীরের মিলনকে অনেকে গুরুত্ব দিলেও, আমার কাছে তা কেবল এককণা মাত্র। প্রাণীর বৈশিষ্ট্যে এটা কেবল ভালোবাসাপূর্ণ সৃষ্টির একটা ক্ষেত্র। এই সৃষ্টক্ষেত্র বাদে যদি শরীরটা লালসা হয়ে যায়, তখন সেটা ছায়াবৃত্তের একদিকের অন্ধকারাংশ। আর প্রেমিকের মা হয়ে ওঠা আলোকিত অংশ।

তবে ব্যর্থ প্রেমও থাকে। আসলে সেটা একতরফা ভালোবাসা। তবু তার শব্দ মধুর। আবেগজনিত অভিমানে সে পুষ্ট থাকে যে। বুকে কান পাতলেই অবিরত ঝরে পরা তার অভিমানগুলো শোনা যায়। যেন শ্রাবণের ধারা। মেঘে মেঘে ছড়িয়ে পড়া বিষন্নতার বাষ্পগুলো জলকণা হয়ে যেন অবিরাম ঝরে যায়... অথচ ঐ ঝরে পরাতেই পৃথিবী নবীন হয়ে ওঠে সিক্ততায়। গাছে গাছে কচিপাতা জন্মায়, আর ময়ূরেরা নেচে নেচে ওঠে। অর্থাত্ ব্যর্থপ্রেম ভালোবাসা ধ্বনির প্রতিধ্বনি শুনতে মা বা প্রেমিকার উর্দ্ধে মানুষের ও প্রাণীজগতের দেয়ালে নিঃশর্তে নিজেদের বিলিয়ে দেয় আত্মত্যাগে।

ধূপের আত্মত্যাগেও এইরূপ সুবাস ছড়ায়। আসলে ভালোবাসা নিজে সুবাসিত হয় না। বরং নিজে পুড়ে অপরকে সুবাসিত করে তোলে। তাই তো ধূপ পূজার অনুষঙ্গ। বলতেই হয় ভালোবাসাকে পূজা হয়ে উঠতে হবে। এটা সাধনার মতো সর্বস্ব ত্যাগে। তাই ভালোবাসাকে আর এক অর্থে সন্ন্যাসও বলা যায়।

অর্থাত্ ভালোবাসার শক্তি অপরিসীম। অসাধ্যকে সাধন করার মানসিকতা গড়ে তোলে। শক্তি, বৈশিষ্ট্য -এইসব যুক্তিসাজ বাদ দিয়ে বলব- যুক্তিতে একে ধরা যায় না। বা নীতিতেও। দেখানদারিতে তো নয়ই! আগে নিজেদের এই অনুভূতিটাকে জাগানোই নিজেদের কর্তব্য। এই অনুভূতির নাভীমূলেই ভালোবাসার অবস্থান, যার থেকে উত্থিত রাগে জীবনও বেঁচে থাকার রসদ পেয়ে যাবে। আর প্রত্যেকে এইভাবে ভালোবাসার শিকড় বেছাতে থাকলে মাটির গভীরে, অন্তরে অন্তরে কখনো আমরা সবাই মিলে যাব। তখনও পৃথিবীও সুন্দর হয়ে উঠবে।

'সুন্দর' শব্দটাও ভালোবাসাজাত। সুন্দরের কথায় 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের পঙক্তিগুলো বেজে ওঠে-

"সুন্দর, তুমি চক্ষু ভরিয়া 
এনেছ অশ্রুজল।
এনেছ তোমার বক্ষে ধরিয়া 
দুঃসহ হোমানল।

দুঃখ যে তাই উজ্জ্বল হয়ে উঠে,
মুগ্ধ প্রাণের আবেশ-বন্ধ টুটে।
এ তাপ শ্বসিয়া উঠে বিকশিয়া
বিচ্ছেদশতদল।"

ভালোবাসা সবকিছু সুন্দর করতে চায় এবং নিজে সুন্দর থাকতে চায়। এতে দুঃখের কোনো স্থান নেই। কেবল খুশি করাতেই আনন্দ। 'সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্' অর্থেও একে ফেলা যায়। কারণ এর মধ্যেই সত্য ও শিবের অবস্থান, যা পবিত্র সুন্দর আনন্দের পরিণতি। তা না হলে এটাও উধাও হয়ে যায়। ভালোবাসা আবার সংযমও। মাটি ও চাঁদের প্রেমের সংযম যেমন।

যাইহোক লেখনীর ভালোবাসাকে সম্মান দিয়ে আমি এত শব্দ আওড়ালাম। কতটা আপনাদের ভালোবাসার গ্রাহ্য হল এই কথন, তার উপর নির্ভর করছে লেখনীর প্রতি আমার ভালোবাসা। কারণ ভালোবাসা পরস্পরকে সম্মান দেয়; দেয় আশ্রয় ও নির্ভরতা। জীবনে কাকে কতটা ভালোবাসতে পেরেছি বা পারিনি সে অঙ্ক না কষে; যে লেখনীতে মন আশ্রিত তাকে কতটা ভালোবাসলাম, কতটা বুঝলাম বা ছুঁলাম -সেটাই আসল! কারণ ভালোবাসা কোনো অঙ্ক নয়। কেবল একটা নদীর স্রোত। দুইপারে দুইতীর আকুলভাবে তাকে স্পর্শ করে যায়। একই অনুভূতিকে দুইজনে মিলে ছুঁয়ে থাকা। একটা কুলুকুলু ধ্বনি তাদের অন্তরে সিক্ত ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে...

সবশেষে বলি ভালোবাসা সাদা বা কালো যেভাবেই আসুক, তাকে সম্মান দেওয়ায় আত্মার সম্মান লুকিয়ে আছে। বর্ণের উর্দ্ধে, চাওয়া-পাওয়ার উর্দ্ধে তার বেড়ে ওঠাকে সম্মান দিতে হবে। তাহলে একদিন তার ছায়া নিশ্চয় পাবই!

আর প্রাণীকূল মানেই স্পন্দনের সুর... এবং ভালোবাসাও স্পন্দন... তাই পরস্পর পরস্পরের স্পন্দনে জড়িয়ে যেতে পারলেই ভালোবাসাও বাঁশিওয়ালার মতো বাঁশি বাজিয়ে যাবে।

আমার কথাগুলো সবই যে সর্বাংশে সত্য তা বলা যায় না। কারণ আজও কিছু মানুষের মধ্যে ভালোবাসা দীপ্তমান। তবে তার পরিমাণ খুবই কম। তাই হয়তো সমাজের এই বদল। বড়ো অভাব গো ভালোবাসার! তাই আজ প্রত্যেককে এই স্পন্দনে গেয়ে ওঠা একান্ত প্রয়োজন। যাতে কাছে-দূরে, জলে-স্থলে এই স্পন্দন থেকে উত্থিত তরঙ্গ রাগিনী হয়ে উঠতে পারে। আর আমরা তখন শত ব্যথাতেও স্বতঃস্ফূর্ত কণ্ঠে গেয়ে উঠতে পারব-

"ভালোবাসি ভালোবাসি
এই সুরে কাছে-দূরে জলে-স্থলে বাজায়
বাজায় বাঁশি ভালোবাসি..."




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.