x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

লিপিকা ঘোষ

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
লিপিকা ঘোষ



হেমন্তকাল 

দিনের আলোয় সেঁকে নিই। রাতের কুয়াশা মেখে নিই অন্ধকারে। অন্ধকারে পাশের বাগানে জোনাকজ্বলেনেভে। ঘরে ঢুকে পড়ে দু একটা জোনাকি পোকা। টিপটিপ করে তার আলো জ্বলে নেভে। বড় রাস্তা জুড়ে নিওনের আলো। সে আলোয় পোকাদের ভিড়। আগুলে ঝাঁপ দেয় পতঙ্গ। মরবে জেনেও তো দেয় ঝাঁপ। অনিবার্য পরিনতি তার। এসব দেখতে দেখতে ঘুম পায়। মানুষের মতো ঘুম। যে ঘুমে নানান স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন চেতন অচেতন অবচেতন স্তরে জাগে। ঘুমের মধ্যেও নিস্তার নেই। স্বপ্নরা জাগে। মানুষই তো স্বপ্ন দেখে, দেখি। রাতের অপেক্ষা করে দিন আর দিনের অপেক্ষা করে রাত। দিনের আলোর কথায় শুরু করেছিলাম। রাতের কথায় শেষ করছি। 

রাতের পর দিন আসে কে না জানে। অনিবার্য গতি। হে প্রাচীনা পৃথিবী, তুমি অপেক্ষা করো এ বঙ্গদেশের নতুন হেমন্ত-সকালের রোদ্দুরের। কি অপরূপ রূপ তার। হেমন্তের রোদে সেঁকে নেব শরীর। শরীরে কুয়াশা লেগে আছে। শরীরের রোদ্দুর মেখে নেব। এখন হেমন্তকাল। হেমন্তের দিন আর রাত। মনোরম। ব্যাথাও মনোরম লাগে। যা লিখছি তা কবিতা কি? বদলে যাচ্ছে ধরন। শব্দগুলো এভাবে ভাসিয়ে দিতেও ইচ্ছে করে। কোন কূলে ভিড়বে তারা সে খোঁজ করি। আছে খোঁজ আছে। যে কূলে তীব্র ভাঙন। চাঙড় গড়িয়ে পড়ে জলে নদীর ধার ভেঙে ভেঙে। সেই কূলে ভিড়বে শব্দরা। অনিবার্য গতি। 

হেমন্তের সোনা রঙের সকালের অপেক্ষায় রাত কাটে। ঘুম পায়। পায় না। এতদূর লেখা হতে না হতেই লেখার থেকে শব্দ অক্ষরগুলো বেরিয়ে যাচ্চে। সাদা স্ক্রিন ছেড়ে, কী-বোর্ড ছেড়ে শব্দ অক্ষর গুলো গড়িয়ে নেমে গেল মেঝেতে। আমারই লেখা থেকে বেরিয়ে শব্দ অক্ষর দাঁড়ি কমা সব মিলেমিশে রূপ নিচ্ছে দেহের। অবাক দেখছি। দেহ-রূপ মনোহর হল। সুঠাম দেহ। আমারই কবিতার দেহ। নগ্ন। এমন গা-খোলা মনোরম এক দেহরূপ দেখি দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দরজা খুলে, লোহার গেট খুলে নগ্ন লোকটা বাইরে বেরিয়ে গেল। হেমন্তের ভোর মেখে নিক গায়। রোদে সেঁকে নিক। রাতের পরেই দিন আসে। এখন হেমন্তের দিন-কাল।




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.