x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

লিপিকা ঘোষ

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
লিপিকা ঘোষ





ঠিক যেখানটায় শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই শুরুটাও যদি হয় তবে মানানসই হয়। কিন্তু তাতো হওয়ার নয়। বেমানান কিছু না হলে মানানসই এর আর কদর কি থাকে! এই সব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে শুরুটা হল। আহা পাঠক, ধীরে। 

‘কিসের শুরু, কিসেরই বা শেষ, তার আবার মানান-বেমানান’।
রোমান্টিক গল্পটার শুরু , তার মাঝপথে শেষ, তারই শুরু আর কি। ‘কোন রোমান্টিক গল্প!’ 
এপক্ষ ওপক্ষের রোমান্টিক গল্প। যার শুরুটা হল মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের গঙ্গারঘাটে। গ্রীষ্মেরএকঝাঁঝালো দুপুরবেলা। 
‘ওহ্, সেই পঞ্চকলা!’ 
তাছাড়া আর কি।

‘ধুরমশাই এ আবার কোনো রোমান্টিক গপ্প নাকি। যা খুশি তাই এসে লিখে দিলেন আর ভাবলেন যে সে সব ছাইপাঁশ পড়ে আমরা গালে হাত দিয়ে ভাবব,তারপর কি হল? গপ্পের মেয়েটার এক বিদঘুটে নাম, পঞ্চকলা। আর নাম পেলেন না খুঁজে। জানেন শারদীয়া পত্র-পত্রিকাগুলোর গল্প উপন্যাসে কি সুন্দর সুন্দর সব নাম চরিত্রগুলো। দিন পাঁচেক আগে আমার ভাই ঝিহল, তার নাম আমি শারদীয়া উপন্যাস ঘেঁটে ঠিক করে ফেলেছি'। ‘আরে দাদা আমিও আমার ভাগ্নের নাম ওই গল্প উপন্যাস ঘেঁটেই নিলাম’। ‘আহা কিগো, তুমি ভুলে গেলে আমাদের গুলগুলিটা'র নাম বদল করার কথা? অন্নপ্রাশনে কিন্তু সুন্দর একটা নাম চাই আমার মেয়ের’। ‘আরে খুঁজছি খুঁজছি এমন নাম খুঁজে বের করব না, তোমার স্কুলের কলিগদের তাক লাগিয়ে দেবখন’। ........ ‘আপনি এখনও বসে আছেন মশাই? আপনার পঞ্চকলার কলা-কাহিনী শোনাতে? যান যান, আমাদের এত সময় নেই। কি এমন লেখেন? বাণিজ্যিক পত্র-পত্রিকায় নাম ওঠাতে পারলে পড়তাম। লেখেন তো কয়েকটা টুইংকেল টুইংকেল লিটল ম্যাগাজিনে, আর কি এখন হয়েছেই ই -ম্যাগাজিন, সেসবে। নাম-ডাক জম্মে হবে না’। ‘আরে দাদা দেখেছি দেখেছি, ‘রোমান্টিক' নামের গল্পটাতে একটাও লাইক কমেন্টও পড়েনি’। ‘আপনি আবার কষ্ট করে সেটাও দেখেছেন! আরে আমরা আসি ফেসবুকে একটু খোশমেজাজে পরের চরকায় তেল দিতে, তাও যদি এইসব লেখাপড়াতে বসেন তো ভারি মুশকিল। পঞ্চকলা! একটা নাম হল? ফোহ্’।

এ পক্ষের নাম তো পঞ্চকলা, রসজ্ঞ পাঠক আপনারা তো জেনেই গেছেন। ওপক্ষের নামটা কিন্তু এখনও আপনাদের অজানা।

‘কি নাম? ও পক্ষের নামটা জানা দরকার। যদি তেমন তেমন একখানা নাম হয় তাহলে আমার ভাগ্নের নামটা পালটে সেই নামটাই রেখে দেব’। 

আসলে পঞ্চকলার নামের মানে পঞ্চকলাতো নিজেই জানে না। তার নামের মানে রাখা আছে এক পুরোন সিন্দুকে তালাবন্ধ। দাদু রেখে ছিলেন নাম। সে নামের মানে আবার তুলে রেখে ছিলেন সিন্দুকে। নিন্দুকে বলল কত কি। দাদু হেলদোল না করে গত হলেন। দিদিমাকে বলে গেলেন নামের মানে। তা দিদিমাও সে নামের মানে স্নান-টান সেরে পুজোয় বসার ছালের কাপড়খানি পড়ে পুজোর ঘরে দোর এঁটে সাবধানে সিন্দুক খুলে দেখেন। ঝাড়পোঁছ করে আবার যত্ন করে তুলে রেখে দেন। নাতনীর নামের মানে বলে কথা। পঞ্চকলার দাদু যখন ওপার থেকে ডাক পাড়লেন ‘ও গিন্নি শুনছো, সিন্দুকের চাবি পঞ্চকলার হাতে দিয়ে তাড়াতাড়ি এপারে চলে এস দেখি। সজ্ঞের অপ্সরীকিন্নরীরা তো কেউ অমন পান সেজে দেয়না বাপু'। দিদিমা সে ডাক শুনে আহ্লাদেআটটু করো। মনে মনে বলেন, ‘সাধ মিটেছে বুড়োর তালে। অপ্সরীকিন্নরীদের আর মনে ধরছে না। সজ্ঞে যাওয়ার কি তাড়াতখন। হুঁহ'। মনে মনে বললেও পঞ্চকলা ঠিক শুনেছে। আমসত্ত্ব রোদে দেওয়ার সময় যে দাদু ওপর থেকে দিদার সঙ্গে গল্প করে তা সে জানে। দাদুর কাছে যাওয়ার আগে সিন্দুকের চাবিগাছা পঞ্চকলার হাতে তুলে দিয়ে বলে গেলেন সময় এলে সিন্দুক খুলে নামের মানে দেখে নিতে।

‘তা সময় এল?’ ‘কি মানে?’ 

সম্মানীয় পাঠক, পঞ্চকলার নামের মানে জানার আগে ওপক্ষ'র নামটা জানা জরুরী নাকি? আপনারাই তো বলছিলেন যদি তেমন নাম হয় তাহলে ভাগ্নে, ভাইপো, ছেলে, নাতি ইত্যাদির ঐ নামই রাখবেন। 

‘হ্যাঁহ্যাঁহ্যাঁ'। ‘ও পক্ষ'র নাম কি?’। ‘ও পক্ষ'র নাম?’ 

ও পক্ষকে নিয়ে একটু অসুবিধে আছে। ও পক্ষ বেশ গোলমেলে এক লোক। এক জোড়া পোড়ামাটির দুল কিনেছিল পঞ্চকলার জন্য সে দুল-জোড়া পকেটে পুরে বিশ্ব-দুনিয়া ঘুরে বেড়ায় অথচ পঞ্চকলাকে দেবার নাম নেই। পঞ্চকলার নামের মানে যে দিন সিন্দুক থেকে বেরোবে সেদিন ওই দুল-জোড়া পঞ্চকলাকে দেবে ঠিক করেছে। ভাবুন, সোনা নয় রূপো নয়, নিদেন পক্ষে দামী দামী কোম্পানির ছাপ দেগে দেওয়া কস্টিউম জুয়েলারিনয় একজোড়া পোড়ামাটির দুল! সে কথাও পঞ্চকলা কে বলেনি ওপক্ষ। ভাবখানা এমন দেখায় যেন ওই দুর্মূল্য দুলজোড়া ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী’ র জন্য যত্ন করে কিনে রেখে দিয়েছে। পঞ্চকলাও যে এই বিষয়টা নিয়ে ঘেঁটে নেই তা নয়। মাঝে মাঝে পঞ্চকলার একশভাগ সন্দেহ হয় নির্ঘাৎ দুলজোড়া ওর জন্য কেনা হয়নি। তারপর আবার নিজেকে সান্ত্বনা দেয়, নানা পোড়া মাটির দুলজোড়া পঞ্চকলার জন্যই সাধ করে কিনেছে মানুষটা। কিন্তু অমন ভাব দেখায় কেন তাই শুধু বুঝে উঠতে পারে না পঞ্চকলা। ঠাকমা বলত ‘খাতি নাতি বেলা গেল, শুতি পেলাম না'।পঞ্চকলারও এই একই অবস্থা। 

‘আবার ঠাকুমাকেও এনে ফেললেন মশাই। দিদিমা সিন্দুকে নামের মানে তুলে রেখেছেন, তাই আমরা দিদিমা কে মেনে নিয়েছি। তাবলে এখন আবার ঠাকুমা! এসব ঠাকুমা দিদিমার গপ্প লিখে আপনি নাম কিনবেন ভেবেছেন? কেউ পড়বে আপনার এই আদ্যি কালের গপ্প? যত্তসব। রাখুন আপনার গপ্প। দয়া করে আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। ফেসবুকে একটু খোশমেজাজে সময় কাটাবো তার উপায় নেই। যত্তসব গপ্পলিখিয়ে’। ‘হ্যাঁ গো দেখেছো শুভ্রা বৌদির ডি.পিতে এরমধ্যেই ১২৩টা লাইক আর ২৬টা কমেন্ট পড়ে গেছে। আমি কত করে বললাম তোমাকে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলে দাও। তা না দিয়ে কি ছাঁইপাশ গপ্প পড়ছ। দাও নাগো একটা ছবি তুলে’।

সম্মানীয় পাঠক ,বলছিলাম যে ওপক্ষের নামটা.. 

‘হ্যাঁহ্যাঁ ওপক্ষের নামটা জানার জন্যই তো সময় নষ্ট করছি মশাই। কিন্তু আপনিতো ঠাকুমার ঝুলি খুলে বসলেন। এদিকে গিন্নিডি. পিচেঞ্জ করবে বলে জেদ করছে, দেখছেনই তো'।

আসলে পাঠক এপক্ষের নামের সঙ্গে যেমন দিদিমা জড়িয়ে আছে ওপক্ষের নামের সঙ্গে ঠাকুমা জড়িয়ে আছে।পঞ্চকলার ঝাঁকড়া চুল টেনে ধরে বেড়া বিনুনি বেঁধে দিতে দিতে ঠাকুমা গল্পটা বলেছিল। মস্ত বাগান ঘেরা, লম্বা লাল বারান্দা ওলা বাড়ির মাঝ উঠোনের পাশে পেয়াড়া গাছটার নীচে বসে। পঞ্চকলার ঠাকুমা ছিল জাঁদলের মানুষ। সাত ছেলে ছেলেরবউ, দুই মেয়ে জামাই, এত্ত গুলো নাতি নাতনি সামাল দিয়ে সবাই কে শাসনে রাখত ঠাকমা। পঞ্চকলার মুখে যেন ঠাকমার মুখখানা কেটে বসানো। পঞ্চকলার মুখের দিকে চেয়ে দেখতেন ঠাকমা আর তার ছোটবেলার কথা মনে পড়ত। যখন বেহল পঞ্চকলার ঠাকুরদাদা মশাইএর সাথে তখন ঠাকমার নবছর বয়েস। জানলার খড়খড়ি খুলতে হাত পেতনা ঠাকমা। অত বড় মানুষটা, সাহেবিকেতা ওলা মানুষটা ঠাকমাকে নিয়ে কি হাসাহাসিই না করেছে। পঞ্চকলার টলটলে মুখের দিকে চেয়ে সে সবদিন মনে পড়ে ঠাকমার। 

‘তার সঙ্গে ওপক্ষের নামের আবার কি সম্পক্ক? কি গাঁজাখুরি শুরু করলেন বলুন দেখি'।

আছে পাঠক, ওপক্ষের নামের সম্পর্ক আছে। ঠাকমাইতো পঞ্চকলাকে গল্পটা বলে গেছে। ওপক্ষের নামের গল্প। ঠাকমা যেই না পঞ্চকলার কলাবিনুনি বাঁধা সবে শেষ করেছে ওমনি রান্নাঘর থেকে পঞ্চকলার বড়জেঠির হাঁক-ডাক শুরু। ‘ওরে তোরা সবগুলো কোথায় রে? গরম গরম বকফুলের বড়া ভেজেছি, খাবি আয় দিকি'। ব্যস অত্তবড় বাড়িটার আনাচ-কানাচ থেকে দুদ্দাড় হুড়পাড় করে ছেলেপুলের দল সারি দিয়ে বড় ঘরের রান্নাঘরের সামনে। পঞ্চকলার নট নড়ন চড়ন। কলাবিনুনি তখনও ঠাকমার হাতের মুঠোয়। বিনুনি বেঁধেই রেহাই দিত না ঠাকমা। থাবড়া থুবড়া দিয়ে ঠিক করে মাথায় বেশ বসিয়ে দিত। তায় আবার দুই কোনায় লাল ফিতে দিয়ে ফুলও করে দিত। দ্যাখা মাত্র বড়দাদারা দিদিরা পঞ্চকলাকে খ্যাপাতে শুরু করত এই কলাবিনুনিনিয়ে। ওদিকে বক ফুলের গরম গরম বড়া এদিকে ঠাকমার হাতে কলাবিনুনি। তড়িঘড়ি করলেই ঠাকমা আর গল্পটা বলবে না। কি যে অসহায়প ঞ্চকলা। যেন পৃথিবীর সবচে অসহায় বাচ্চাটি। ‘তুমি বড়দি আদর দিয়ে দিয়ে ছেলে পুলে গুলোর মাথা খাচ্ছো। এই বলে রাখলাম। কিছুক্ষণ পরেই ওদের চান টান সারিয়ে ভাত খাওয়ার সময়। তখন আর একটাও ভাত মুখে তুলবে না, দেখো'। মেজগিন্নি মেজহেঁসেল থেকে বলে বড় গিন্নিকে। ‘রাখতো মেজ। শাসন দ্যাখাসনি বাপু আমাকে’। পঞ্চকলার বড় জেঠির সটান রিপ্লাই। পঞ্চকলা বেচারি। বক ফুলের বড়ার আশা ত্যাগ করে ঠাকমার দিকে ছলছল চোখে তাকায়, মিন মিনে গলায় বলে ‘কই বল। গল্পটা আজ বলবে বলে ছিলে যে'। ‘কই মাছ জলে বাছা, তোমার কি এখন গল্প শোনায় মন? সুয্যি ডোবার সময় খানে লাল বারান্দায় এস, পোস্টকার্ডক'টিতে পিসিদের ঠিকানা লিখে দিও দেখি। তখন বলবখন, ও বড়বউ এটার জন্যও দুটো গরম গরম ভেজে দাও দেখি’। 

‘যা বাব্বা, নাম কই মশাই? শেষে বকফুলের বড়া। ফাজলামি করছেন? জানেন আমরা হলাম গে পাঠক'। ‘তোমায় তখুনি বললাম একটা ছবি তুলে দাও। পশ্চিমের জানলার ধারে দাঁড়িয়ে। সুর্যডোবার সময় পশ্চিম আকাশে কি সুন্দর রঙ ধরল। দিলে না। আমি কোনো টুরিস্ট স্পটের নাম দিয়ে ডি.পি আপলোড করতাম। এখন সুর্যডুবে অন্ধকার নামল। কি একছাতার গল্প নিয়ে বসেছ, হুহ'। ‘দেখলেন মশাই। দিলেন তো গিন্নিকে চটিয়ে। আবার কালকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কখন সুর্যডোবার পালা আসবে। মাঝে পুরো একটা রাত মশাই। তাও শনিবারের রাত। ধুর।যান যান আর শুনব না।

আসলে পাঠক, ওপক্ষ এতটাই গোলমেলে লোক, আর তার নামও এমন এক গোলমেলে নাম, যে এতটা ব্যাখ্যা না করে পারছি না। কিন্তু নামটি চমৎকার। তা পাঠক, বলি কি সুর্য ডোবার পালা আসে যদি আসুক না বেশ তো.... এইগানটার দু ক'লি গেয়ে শুনিয়ে দিন না গিন্নিকে।দেখবেন শনিবারের বার-রাত্তির আপনার মার যাবে না।

‘বেড়ে বলেছেন মশাই। ওগিন্নি শুনছোওও'। 

পাঠক ততক্ষণ সুর্যডোবার পালা দু ক'লি গেয়ে নিন, আমরা দেখে আসি পঞ্চকলা আর ওপক্ষ এতক্ষণ করছেটা কি। সেই যে প্যাচপ্যাচে গরমের ভরদুপুরে ওরা দুটিতে মিলে বহরমপুরের শুকিয়ে আসা গঙ্গার ধারে বসে ওদের রোমান্সের এক রোমান্টিক নাম ঠিক করল তারপর ওদের হলটা কি। পঞ্চকলার আনন্দে উজ্জ্বল মুখ দেখলেই ওপক্ষের সব রোমান্স মাটি। তাই সেদিনই ফিরতি পথে ওপক্ষ ভেবে নিয়েছিল আর কিছুতেই পঞ্চকলার মুখখানা বাংলার পাঁচের একচুল এদিক ওদিক হতে দেওয়া যাবে না। গরমের পর ভরা বর্ষা গেল। শুকিয়ে যাওয়া গঙ্গা তো কানায় কানায়টই-টম্বুর। এই অবস্থায় যাই ঘটে যাক পঞ্চকলা ডুবে মরার কথা কিছুতেই ভাববে না।ওপক্ষকে কোনো চান্স দেওয়া যাবে না ওর মরণ-দৃশ্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করার, এটা পঞ্চকলাও ঠিক করে নিয়েছে। তাছাড়াও তো মেনেই নিয়েছে ওদের রোমান্সে রোমান্টিক নাম খানা – ‘মানে ধুর অথবা উঁহু'। কিন্তু পোড়া-মাটির দুলজোড়া ওর রাতের ঘুম দিনের ফুর্তি কেড়ে নিচ্ছে মাঝে মাঝেই। ওপক্ষ' ওব্যাপারটা ভালোই বুঝেছে, ওষুধ কাজ দিচ্ছে। মনের আনন্দে শেয়ার বাজারের ওটানামা নিয়ে থাকা যাবে। রোমান্স না থাকলে জীবনটাই মাটি। আর ওপক্ষ'র সব রোমান্স উথলে ওঠে পঞ্চকলা চোখ ছলছল, ব্যাজার পাঁচবদন খানা দেখলে। এমনো দিনে তারে বলা যায় / এমনো ঘন ঘোর বরিষায়.... গানটা ভেসে এল পাশের বাড়ি থেকে। ব্যস ওমনি পঞ্চকলার মুখ আশার আলোয় আলোকিত। নির্ঘাত আজই বলবে ওপক্ষ দুল-জোড়া যে ওর জন্যই কেনা, তা। বুকে বল, মনে জোর নিয়ে পঞ্চকলা আবার হাজির বহরমপুরের গঙ্গার ঘাটে। সাত সকালে ঘোর বৃষ্টিতে গঙ্গার ধার নাকি ওপক্ষ'র পছন্দ। কথাটা পেড়েই ফেলল পঞ্চকলা দিনক্ষণ দেখে। ওপক্ষ পোড়া-মাটির দুলজোড়া পকেট থেকে বের করে মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকে। এক হাতে ছাতা আরেক হাতের তালুতে দুলজোড়া।পঞ্চকলা এইসুযোগে এক ছাতার নিচে বেশ কাছাকাছি হতে পেরে গভীর সুখে সুখী। 

‘তারপর'? ‘হ্যাঁ তারপর তারপর?’ 

উৎসুক পাঠক দয়া করে মনে করিয়ে দিই আরেক বার যে এই ওপক্ষ খুবই গোলমেলে লোক।পুবের উলটো পশ্চিম। উলটো দিকে গেলে অন্তত সরলরেখায় তাকে পাওয়া যায়। কিন্তু ওপক্ষ তত সুবিধের নয়। সে তেরছা করে উত্তরে বাদ ক্ষিণে যাবে। সুতরাং... পঞ্চকলা এদিকে আকুল এত যখন মনোযোগ ওপক্ষের তালে এখনই, আহা পোড়ামাটির দুলতো নয় যেন জ্বলজ্যান্ত দু দুটো কোহিনুর। ‘হ্যাঁগো, তুমি নিজে হাতে পড়িয়ে দেবে দুল দুটো?’ ‘দেব'। পঞ্চকলাত অবস্থা যেন আহা কি হেরিলাম থুড়ি কি শুনিলাম জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না গোছের। এক ছাতার নিচে আরও ঘন হয়ে আসে পঞ্চকলা। বাঁ দিকের কান ওপক্ষ থুতনির কাছ অবধি নিয়ে আসে, ‘দাও'।ওমা আর সাড়া শব্দই নেই। কতক্ষণ পঞ্চকলা কান বাগিয়ে রাখবে ঘাড় বেঁকিয়ে! তবু আশায় চাষা বাঁচে।বাঁকানের পাশ থেকে বৃষ্টি ভেজা চুলের গোছ সরিয়ে কান বাগিয়ে ধরে থাকে। ওপক্ষ চুপ। পঞ্চকলা মুখ তোলে? ওপক্ষ ততক্ষণে পোড়ামাটির দুল জোড়স পকেটস্থ করতে ব্যস্ত। ‘দেব'।রাগে দুঃখে অপমানে পঞ্চকলার মুখ বাংলার পাঁচ। মোক্ষম দান দেওয়া বাকি এখনও ওপক্ষ'র। ‘পাঁচকলা নামের মানে যেদিন সিন্দুক থেকে বেরোবে সেদিন'।পঞ্চকলার পাঁচ বদন বাংলার ছয় সাত আট নয় এর মতো... ওপক্ষ'র মুখে অপূর্বএকতৃপ্তি। অনেক দিনেরএক ব্রেক পাওয়া গেল। এ পাঁচবদন সহজে উজ্জ্বল হওয়ার নয়। পঞ্চকলার ব্যাজার মুখখানা দেখেই যে ওপক্ষ'র সব রোমান্স জাগে তা আর পঞ্চকলা জানবে কি করে। ছলছল চোখ নিয়ে ভরা গঙ্গার দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। ওপক্ষ তা দেখে গুনগুন করে ওঠে ‘ওগঙ্গা তুমি ওগঙ্গা বইছ কেনওওও?’ তারপর গুটিগুটি পায়ে পঞ্চকলাকে নিয়ে ফিরতি পথ ধরে। ওপক্ষ নাম.....

‘কি নাম কি নাম?’ ‘হ্যাঁহ্যাঁ আমরা তো ওই নামের জন্যই বসে আছি'। ‘আমার ভাগ্নের নাম ওপক্ষ'র নামেই দেব'। ‘আমিও। আমার ভাইপোর নাম'।

পঞ্চকলা কি আদৌ জানে ওর নামের মানে সিন্দুক খুলে বের করার সময় কবে আসবে! পাঠক সদয়হন পঞ্চকলার প্রতি। বেচারার অবস্থা খানা দেখুন। ওর ঠাকমা সেদিন বিকেলে পোস্টকার্ডে পিসিদের ঠিকানা লিখে দেওয়ার সময় ওপক্ষ'র নামের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সমেত গল্পটা বলেছেন ঠিকই। কিন্তু সে সঙ্গে শর্ত্তও আরোপ করে গেছেন, যতদিন না পঞ্চকলার নামের মানে সিন্দুক থেকে বের করা হচ্ছে ততদিন ওপক্ষ'র নামটিও পঞ্চকলা কাউকে বলতে পাবে। বললেই ঘোর বিপত্তি।দুঃখিত পাঠক, এ যাত্রাও ওপক্ষ'র অমন নামটি আপনাদের জানাতে পারলাম না। যেদিন সময় আসবে সিন্দুক খোলার পঞ্চকলা খুলবে। নামের মানে জানবে। পোড়ামাটির দুল ওপক্ষ'র হাত থেকে আহ্লাদ করে পড়ে ফেলবে। ওপক্ষ'র নাম ও তার ব্যাখ্যাও জানাবে সকল কে।

গল্পের ইতি।

‘আমাদের বেকুব পেয়েছেন নাকি?’। ‘মহিলা তো আচ্ছা সাংঘাতিক'।‘কায়দা করে একগপ্প পড়িয়ে নিলেন আমাদের সময় নষ্ট করে, যত্তসব ফালতুমাল'।‘মহিলা? আপনি নামও দেখেছেন দাদা, আমি তো তাও অবধি দেখিনি, আপনার মুখ থেকে এইমাত্র জানলাম ইনি লেখিকা’। ‘তোমাদেরও বুদ্ধির বলিহারি। ও মেয়ে নিজেরই কেচ্ছা বলতে বসেছে কি না তাই দ্যাকো। আমার ডিপি অবধি চেঞ্জ করতে দিলে নাগো'। ‘নিজের কেচ্ছা? তা শুনুন নিজের কেচ্ছা কেলেংকারি যে হাটে বলতে নেবেছেন একবার ভদ্রলোকের কথা ভেবে দেখেছেন?’ ‘এদের কাজই হল ধরে ধরে ভদ্রলোকদের নিজের নামের সাথে জড়িয়ে কেলেংকারি করা'।‘তেমন তেমন সত্যিকারের লেখিকা হলে কি এমন ধারা লিখতেন কখনও। কত নামডাক হত এদ্দিনে। যত্ত সব বাজে মেয়েছে...’ 

পুনশ্চ : সবিনয় নিবেদন সব চরিত্র কাল্পনিক নয়। পঞ্চকলা এবং ওপক্ষ এদুটি তো নয়ই। বাদ বাকি সব চরিত্র কাল্পনিক। 



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.