x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

কৃষ্ণা রায়

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
কৃষ্ণা রায়


সকালে চায়ের -কাপ নিয়ে বারান্দায় দাঁড়াতেই দেখলাম, উলটো দিকের বাড়ির বারান্দায় সুব্রতর মা মণিমাসিমা চেয়ারে বসে অ্যালামুন্ডার ফুল আর পাতা কুচিকুচি করতে করতে আপনার মনে বিড়বিড় করছেন। দৃশ্যটা নতুন। একটু পরে সুব্রতর- বৌ মিঠু এসে ঝঙ্কার দিয়ে গেল। আমাকে দেখে একটু অপ্রতিভ হয়ে বলল, আজকাল এই এক রোগ হয়েছে। সকালে গাছের পাতা, বিকেলে কাগজ, আপনার ভাইএর দরকারি কাগজ প্রায়ই ছিঁড়ে ফেলছেন।

-ডাক্তার দেখিয়েছ?
মিঠু উপেক্ষার হাসি হাসল, কী হবে দেখিয়ে? বুড়ো বয়সের ভীমরতি ছাড়া আর কি? 
মণিমাসিমা আমার দিকে হাসি ছুঁড়লেন, তরকারি কুটছিলাম রে, আজ সুব্রতর জন্মদিনে সবাই খাবে তো, বিকেলে পায়েস হবে, আসিস কিন্তু।

মিঠু বলল, দেখছেন টুকুদি , সারাদিন কাকে নিয়ে থাকি! 

তীব্র দৃষ্টি শানিয়ে মণিমাসিমার চটপট উত্তর , তোমার দুই ছেলের আঁতুড় তুলিনি, কোলে- পিঠে করে মানুষ করিনি? বলতে বলতে গলা কোমল হয়ে যায়, তখন তুমি কত ছোট , কলেজের পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতে।

দেখছেন টুকুদি, পুরোনো কথা কিচ্ছু ভোলেন নি, এখনকার দরকারি কথা ভুলে যান , ইচ্ছে করে । ভরপেট খেয়ে বলবেন খাইনি, কাচা- জামা কেচে জল নষ্ট করবে্ন, বললে আবার রাগ কত! 

মনটা খারাপ লাগল, অনেক দিনের প্রতিবেশি। মিঠু না বুঝলেও সুব্রতর বোঝা উচিত, মণিমাসিমার পৃথিবীতে সময়ের স্রোত এলোমেলো, স্মৃতি আর সতত বহমান নয়, ডাক্তারি চিকিৎসা দরকার। 

কদিন পর এক অফিস- সহকর্মীর জন্য পাড়ায় সুব্রতর চেম্বারে গেলাম। ও এখন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী, প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ পাওয়া যায়। অপেক্ষা করার আগেই বলল, টুকুদি, তুমি এখানে কেন? রাতে বাড়িতে এসো। আশ্বস্ত হলাম, সুব্রতকে মাসিমার কথাও আজ বলতেই হবে। 

একটু বেশি রাতে ওকে বাড়িতে খোঁজ করতে গিয়ে অভাবনীয় এক দৃশ্য দেখলাম । বসার- ঘরে মণিমাসিমাকে সুব্রতর দুই ছেলে নিষ্ঠুর ভাবে মারছে। আমায় দেখে মিঠু তেতো গলায় বলল, কত আর সহ্য হয়?, বাথরুমে না গিয়ে আজ সোফায় বসে বসে কাজ সারলেন। 


- সুব্রত বাড়ি নেই? ও এসব জানে? 
- জানে সব, বাড়ি এখনো ঢোকেনি। ওই তো শাসনের ভার ছেলেদের ওপর দিয়েছে। সারাদিন খাটনির পর এসব পোষায়?

আচমকাই মনে পড়ে গেল, রাস্তায় দু তিন জায়গায় আজ মস্ত হোর্ডিংএ ওয়ার্ল্ড- অ্যালঝাইমারস ডে-র জ্বলজ্বলে প্রচার দেখেছি, "স্মৃতিহারা বয়স্ক মানুষদের একটু সহ্য করার অভ্যাস করুন, অতীতে এরা আপনাদের অনেক অন্যায় সহ্য করেছেন।" 


চুলোয় যাক সহকর্মীর জন্য আইনি- পরামর্শ! বেলা- শেষের সুখী জীবনের সবপ্ন দেখার সাহস এই বিচিত্র দুঃসময়ে যে আহাম্মকেরাই করুক, আমার নেই। ছুটতে ছুটতে সুব্রতর চেম্বারে পৌঁছলাম, ও তখন একটি বয়স্ক ক্লায়েন্টকে নরম ভাষায় বোঝাচ্ছিল, ছেলে বাড়ির সিংহ- ভাগ দখল করে বসে থাকলে, ভরণ- পোষণে সহায়তা না করলে আইন আপনার পাশে থাকছেই, ভয় কি? 

এক বৃদ্ধা একই সঙ্গে অ্যালঝাইমারস রোগ আর পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হলে তাকে আইনি পরিষেবা কিভাবে দেওয়া যায়..., সেই প্রশ্ন নিয়ে আমাকে যে এখন এখানে অপেক্ষা করতেই হবে।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.