x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

গার্গী রায়চৌধুরী

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
গার্গী রায়চৌধুরী


রোজ রাত দশটা থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে অফিস থেকে বাড়ি ফেরে সুদীপ। ও নিজেই গাড়ি চালায়। কালো, মসৃণ, লম্বা ফাস্যানেবল গাড়ি সুদীপের। যখনই তাকায় ও নিজের গাড়িটার দিকে তখনই কোথা থেকে যেন একটা বসন্তের হাওয়া সুদীপের চুল ছুঁয়ে বয়ে যায়। খোশমেজাজে একবার নাক টেনে কাঁধ ঝাঁকিয়ে সুদীপ ওর হিপ পকেট থেকে পার্স টা বার করে খোলে, থরে থরে টাকা সাজানো আছে তাতে। ও জানে এই মুহূর্তে ওর পার্সে কিছু খুচরো টাকা ছাড়া পঁচিশ হাজার টাকা আছে তবুও চট করে একবার নোট গুলো গুনে নেয়। গোনা যথারীতি মিলে যায়। কিছু শপিং করলে বা কলিগদের সঙ্গে খেতে গেলে তবে তো খরচের প্রশ্ন। কিন্তু সুদীপের সেই সুযোগ হয় না। রোজই ওর অফিস থেকে বেরুতে দেরি হয়ে যায়। ও যখন বেরোয় তখন দোকান পাট সব বন্ধ। তাই টাকা খরচ হয় না। সুদীপ অভ্যাস বসত শুধু পার্স খোলে আর টাকা গোনে। 

সুদীপ বিয়ে থা করেনি। তবে ইচ্ছে আছে বিয়ে করার। ওর মা, বাবা, দাদা, বৌদি, ওদের গ্রামের বাড়িতে থাকেন। সুদীপ নিজের চেষ্টায় যা উন্নতি করেছে, যা পয়সা কড়ি বানিয়েছে তা সুদীপদের চোদ্দ গুস্টি তে কেউ পারেনি। 

কোন দিকেই কোন সমস্যা নেই তবে সুদীপ বিয়ে করে না কেন? কারন একটা আছে। যে সুদীপ দিনের বেলা টারগেট তাড়া করে সবাইকে পিছনে ফেলে কাজ হাসিল করে, সেই রোজ রাতে, চোখ বুজলেই বিশ্রী সব স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে হয় ও ভিখিরি হয়ে ফুটপাতে বসে ভিক্ষে করছে, গায়ে ছেড়া জামা, এক মুখ দাড়ি, নয় ওর চাকরি চলে গেছে, কোন টাকা পয়সা কিচ্ছু নেই। অথবা সব ব্যাঙ্কের আকাউন্ট নাম্বার, সব এটিএমের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছে। আবার কোনদিন দেখে ওর সই কোন ব্যাঙ্কে এক্সেপ্টেড হচ্ছে না। সারা রাত সুদীপ এসবের পিছনে দৌড়ে বেড়ায়। একসময় ঘুম ভেঙ্গে যায় ও তখন লকার চেক করে টাকা মেলায়, কাগজ বার করে নিজের সই মেলায়, অনলাইন হয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট গুলো চেক করে, এমন কি নিজের হেলথ ইন্সিওরেন্সের কপিও চেক করতে হয় ওকে কারন একবার ও দেখেছিল হসপিটালে ভর্তি হয়ে টাকা দিতে পারছে না বলে ওর চিকিৎসা হচ্ছে না। শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড কিছুই বাদ দিতে পারে না কারন স্বপ্ন দেখেছিল সব কি করে যেন অন্যের নামে চলে গেছে। 

যে লোকটার জেগে থাকতে টাকার কোন শেষ নেই তাকে যদি ঘুমলেই ভিখিরি হয়ে যেতে হয় তাহলে সে কি বিয়ে করতে সাহস পাবে? সুদীপ তো ঘুমতেই ভয় পায়। ও স্বপ্ন বিষয়ে বই পত্তর কিনে পড়বার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ওই সব বইগুলো পড়তে বসলে ওর ঘুম পায়। তার চেয়ে নেট সার্ফিং করলে জেগে থাকা সহজ। 

কিন্তু জানেন, স্বপ্ন ও সত্যি হয়। সুদীপের স্বপ্ন একদিনের জন্য সত্যি হয়ে গিয়েছিল। সেই অদ্ভুত ঘটনাটা বলি। একদিন রাত এগারোটা নাগাদ অফিস থেকে বেরিয়ে অফিসের পারকিং এ গিয়ে সুদীপ দেখল ওর গাড়িটা নেই। খানিক খোঁজা খুঁজির পর মনে পড়ল সেদিন জায়গা ছিল না তাই ও গাড়ির চাবিটা অফিসের বাইরে পারকিং স্লটের ছেলেটার হাতে দিয়েছিল গাড়ি পার্ক করবার জন্য। এটা সাধারণ ব্যাপার, অন্যদিন ছেলেটা গাড়ি পার্ক করে তার সময়মত অফিসে এসে চাবি টা সুদীপের হাতে দিয়ে যায়। কিন্তু আজ তো দেয়নি। অত দামী গাড়িটা কি গেল? হন্তদন্ত হয়ে বাইরে এসে ও দেখল শুনশান রাস্তায় গাড়িটা দাঁড় করানো আছে। যাক আছে, কিন্তু চাবি? সুদীপ ভাবল ট্যাক্সি ডেকে বাড়ি চলে যাবে, আর কাল ছেলেটাকে ধমকাবে বেশ করে। সব দোকানপাট বন্ধ, মোড়ের মাথায় একটা দোকান খোলা। সুদীপ সেদিকে এগিয়ে গেল, তার জল তেষ্টা পেয়েছে। অচেনা দোকানদার বিরক্ত, দোকান বন্ধের সময় এমন খদ্দের এল যে শুধু এক বোতল জল ছাড়া আর কিছু কিনবে না। জল খেয়ে দাম দিতে গিয়ে সুদীপ দেখল পকেটে পার্স নেই। পার্স ছাড়া কোথাও টাকা রাখেনা সুদীপ, এমনকি কোন পকেটে কোন খুচরো টাকাও নেই। মনে পড়ল কাল রাতে স্বপ্নে দেখেছিল পার্স টা খোয়া গেছে তাই রাতে উঠে ওটা প্যান্টের পকেট থেকে বার করে আলমারি তে ঢুকিয়ে রেখেছিল, সকালে বার করতে ভুলে গেছে। সারাদিন বসের ঘরে ম্যারাথন মিটিং চলায় আর সাক্ষাত হয়নি পার্সের সঙ্গে। না হলে অফিস আওয়ারসে অন্তত একবার পার্স খুলে টাকা, এটিএম কার্ড সব ঠিক ঠাক আছে কিনা দেখে সুদীপ। কিন্তু সেই সময় ওর অবস্থা হয়ে গেল একেবারে ওর স্বপ্নে দেখা ভিখিরির মত। যার কাছে এক টাকাও নেই। 

সেদিন জল খেয়ে দোকানদার কে টাকা দিতে পারেনি সুদীপ, কিন্তু তাতে অঘটন কিছু ঘটে নি । ওই অচেনা দোকানদার নাকি ওকে বলেছিল ‘সামাঝনা আপনা ভাই সে পানি পিয়া, পৈসে বাদ মে দে দেনা’। এদিকে ট্যাক্সি  করে বাড়ি যাবে সেই টাকাও তো নেই। কি করবে ভেবে না পেয়ে ও যখন ইতস্তত হাঁটছিল তখন ওকে আরও বিব্রত করতে ফুটপাতে বসে থাকা বুড়ো ভিক্ষুক ভিক্ষা চেয়ে বসলো। বাড়ি ফেরার সময় রোজ সুদীপ ওকে দশ টাকা ভিক্ষা দেয়। কিন্তু সেদিন পার্স নেই, সে কথা জানাতে লোকটা নাকি সুদীপের হাতে জোর করে ট্যাক্সি ভাড়া বাবদ তিনটে কুঁচকানো একশো টাকার নোট গুঁজে দিয়েছিল। অবশ্য তখন সেটা না নিয়ে সুদীপের উপায় ছিল না। তবে সেদিন ভিখারির দেওয়া সেই টাকাটা শেষ পর্যন্ত সুদীপের কাজে লাগেনি কারন, খানিকটা এগুতেই ও শুনতে পেয়েছিল ‘সাহাব’ ডাক। পারকিং স্লটের ছেলেটা সুদীপ কে অফিসে সেদিন খুজে পায়নি তাই ও গাড়ির চাবি নিয়ে অপেক্ষা করে ছিল অত রাত পর্যন্ত।

যতদূর জানি সেই রাতে পার্স না পেয়ে লাভই হয়েছিল সুদীপের । ও বলেছিল ওই ঘটনার পর থেকে আর বিশ্রী স্বপ্নেরা ওর ঘুমের ব্যাঘাত করেনা। এখন সুদীপ বিয়ে করেছে। শুনেছি ও ভালো আছে। 


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.