x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

ফারহানা খানম

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ফারহানা খানম

শরতের দুপুর ক্ষণস্থায়ী হলেও প্রচণ্ড উত্তপ্ত ,শফিক রুমে ছিল তাই এতটা টের পায়নি রাস্তায় নেমে বুঝতে পারলো আর সিক্ত হতে থাকলো ঘামে , সে এদিক ওদিক তাকায় রিকশার খোঁজে নাহ খালি রিকশা চোখে পড়ছে না একটাও,  সবগুলোতেই সওয়ারি আসিন, অগত্যা ছায়া খোঁজে ...। আজকাল বড় গাছও খুব কম এই শহরে একটা উঁচু পাঁচিলের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে সে , বড়ভাই রিমি এতদূর পড়াশুনা করেছে কোন টিউটরের সাহায্য ছাড়াই আর আজকাল কোন স্টুডেন্টের টিচার নেই এ কথা যেন কেউ ভাবতেই পারেনা । শফিক নিজেদের কথা ভাবে , তাদের জন্য টিউটর রাখার সামর্থ্যও বাবার ছিলনা তাই তারা ক্লাসেই খুব মনযোগী ছিল ।নিতান্তই কিছু না বুঝলে ছুটির পর কোনও সিনিয়র ভাই কিংবা স্কুলের স্যারের কাছে গিয়ে বুঝে এসেছে । 

বিকেলের রোদ যেন আর একটু গাঢ় হয়ে এল।  নাহ, এখন না গেলে বেশ দেরী হয়ে যাবে আর দেরী হলে ছাত্রীর মায়ের কালোমুখ, বাঁকা কথা সহ্য করা কঠিন হবে । তাছাড়া মুন্নিকে পড়ানো শেষ করে অপু কে পড়াতে যাবে হলে ফিরতে ফিরতে সেই রাত সাড়ে নটা কি দশটা বাজবে তখন ডাইনিং এ খাবার থাকবে না। বাইরে থেকে কিনে খেতে হবে ,আর সেটা হবে তারজন্য বাড়তি খরচ। হাঁটতে শুরু করে শফিক ।বড্ড ক্লান্ত লাগছে আজ দেড়টায় ক্লাস শেষ করে হলে ফিরে স্নান সেরে খেয়েই বেড়িয়ে পড়েছে , বিশ্রামের সময় পায়নি । আজকের ক্লাস তিনটাই ছিল কঠিন তবু রুনু পাশে ছিল বলে ক্লাসগুলো করতে ভালোও লাগছিল বেশ । রুনুর প্রতি ওর একটা দুর্বলতা আছে। শান্ত স্নিগ্ধ একটা মেয়ে ,কিন্তু সাহসের অভাবে সে রুনুকে তা বলে উঠতে পারেনি । শফিকের ধারনা এমন কিছু ভালোলাগা গোপন থাকাই ভালো । কিন্তু রুনু বোঝে তাকে আর তাই বেশ প্রশ্রয়ও দেয় । রুনুর যত ব্যাক্তিগত গল্প টা শফিকের সাথেই ওর ওপর রুনুর পরম নির্ভরতা । 

কাঁটাবনের রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে সে।  যাবে ইস্কাটন অনেকটা পথ, অথচ গ্রামে এইটুকুন দূরত্ব অনায়াসেই কত অতিক্রম করেছে সে! গ্রামের কথা মনে হতেই মা বাবার কথা মনে পড়ে। বাবা একজন স্কুল মাস্টার কত কষ্ট করছেন তাঁদের পাঁচ ভাইবোনকে মানুষ করার জন্য ।শফিক মেজো সে পড়ে ফার্মেসী ৩য় বর্ষে, তার বড়ভাই এবার ডাক্তারি ফিফথ ইয়ারের ছাত্র। তারপরের যে বোন রিমি সে বি এস সি পড়ছে বাকিরা সবাই ছোট কলেজ আর স্কুলের গণ্ডিতেই বাঁধা এখনো । রিমির জন্য অনেক বিয়ের প্রস্তাব আসছে কিন্তু বাবা মায়ের ইচ্ছে রিমি এম এস সি পাশ করুক তারপর বিয়ের কথা ভাবা যাবে । যদিও গ্রামে এধরনের চিন্তা অনেকেই করেন না ।

মুন্নিদের বাসায় ঢুকতেই সাড়ে চারটা বেজে গেছে।  মুন্নি ঠিক ঠাক বই পত্র গুছিয়ে রেডি ছিল । মুন্নির পড়ার ঘড়ে এসির ঠাণ্ডা হাওয়ায় বেশ ভালো লাগে । ক্লাস নাইনে পড়ে মুন্নি পড়াশুনায় মোটামুটি শফিক ছাড়াও ওর আরও তিনজন টিচার আছেন । শফিক শুধু গাইড করে এমন টিউশনি পাওয়া ভাগ্যের কথা । প্রায় একঘণ্টা পরে মুন্নিদের কাজের মেয়েটি এসে চা আর বিস্কুট দিয়ে যায় ,শফিক দেখেই বুঝতে পারে এই বিস্কুটগুলো গতকালের, তারই ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট । চোখের পাতায় ঘুমের আনাগোনা টের পাচ্ছিল তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও চায়ের কাপটা তুলে ধীরে ধিরে চুমুক দিতে থাকে নাহ চা’ টা বেশ ভালো হয়েছে আজ । মুন্নির পড়াগুলো দেখিয়ে দিয়ে শফিক বেড়িয়ে পড়ে । গোধূলির আলোআঁধারিতে পৃথিবীটাকে বড্ড ভালবেসে ফেলে সে, এসময় তার রুনুকে খুব পাশে পেতে ইচ্ছে করে। এমন সুন্দর সময়ে রুনুর হাত ধরে যদি হাঁটা যেত ! ভাবতেই ভাললাগা গ্রাস করে ওকে ... একটা ফোন করতে গিয়েও করেনা মোবাইলটা আবার রেখে দেয় যথাস্থানে ।

অপুকে যখন পড়ানো শুরু করে তখন সাতটা বেজে গেছে , অপু প্রচণ্ড দুষ্টু ওর জন্য শফিককে বেশ বেগ পেতে হয় অথচ একটু মনযোগী হলে ছেলেটা কত ভালো রেজাল্ট করে ...এরা খুব সাধারন তবে এদের আন্তরিকতার অভাব নেই । অপুর মা শেফা , একটা কলেজে পড়ান তাকে সে আপু বলেই ডাকে মহিলার বয়স খুব বেশী হলে ৩৫ কি ৩৮ । তার কথা বার্তায় কোনও সংকোচের আড়াল নেই ।মনে হয় রিমির মতই অনেকটা । এখানে এলে শফিক যেন প্রাণের স্পন্দন টের পায় আর মুন্নিদের বাড়িতে পিন পতন নিস্তন্ধতা । সেখানে নিজেকে তার অবাঞ্ছিত মনে হয় , মুন্নিরা অনেক উঁচু তলার লোক সে ও বাড়ির মেয়ের টিচার হলেও তার প্রাপ্য সম্মান যেন তাকে দেয়া হয় না । ওদের জীবন যাপন তার অচেনা । ও যখন মুন্নিকে পড়ায় মুন্নির মা তখন বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় তার কলিগের সাথে বসে বিকেলের চা খায় । আর মুন্নি তখন রাগে কটমট করে তাকায় । এইত সেদিন মুন্নি তাকে প্রশ্ন করেছিল ‘’স্যর বলতে পারেন মানুষ এত অসুখী কেন ? শফিক প্রশ্ন করে কেন এ কথা বলছ ? মুন্নি সে প্রশ্নের উত্তর দেয়নি কিন্তু শফিক বুঝতে পেরেছিল তার মাকে নিয়ে ওর মনে অনেক প্রশ্ন আছে । যাকগে ভালয় ভালয় আর একটা বছর মেয়েটার পরীক্ষা শেষ হলেই তো আর যেতে হবে না ও বাসায় । 

ওকে ফারুক যেদিন প্রথম এখানে পড়ানর কথাবার্তা বলতে নিয়ে আসে ওই দিন অপুর বাবা -মা দুজনেই ছিলেন, বলেছিলেন দেখুন আমাদের সামর্থ্য খুব কম আমরা দু হাজার টাকা দিতে পারবো সব সাবজেক্ট পড়াবেন । একটা এইটের ছাত্রের অনেক সাবজেক্ট তার পরিশ্রমের তুলনায় টাকা কম হলেও শফিক রাজী হয়ে গিয়েছিল। এই টাকা তার কাছে তখন অনেক আরাধ্য বস্তু । আজ দুবছর ধরে ওই টাকাতেই সে পড়াচ্ছে । সে জন্যেই কি না কে জানে আপু মাঝে মধ্যেই তাকে না খাইয়ে ছাড়েন না আর ভালোমন্দ কিছু রান্না হলে তো কথাই নেই । আর এই দুবছরে এ বাড়ির সাথে যেন পারিবারিক একটা আবহ তৈরি হয়েছে , অপুকে পড়াতে তার ভালো লাগে ওদের সহজ সরল জীবন যাপনে মিশে যেতে তার একটুও কষ্ট হয়না নিজেকে বাইরের লোক মনে হয়না এখানে । সে জন্য সে টাকা বাড়ানোর কথাও মুখ ফুটে বলতে পারেনি । অপুর বাবা মুজিব সাহেব বেশ রাত অব্দি বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকে অনেকসময় তনু মানে অপুর ছোট বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে দোকান থেকে ওষুধ এনে দেয় কিংবা দোকান থেকে কিছু আনতে হলে এনে দেয় । শেফা আপু তনুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে সে একা বাসায় অপুকে পড়ানো শেষ হলেও নিয়ে বসে থাকে ।

অপুর পড়া শেষ হল সাড়ে নটায়। শফিক বের হতে যাবে তখনি আপু এসে বলেন একটু বসো আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি খেয়ে যাবে । আজ অপুর ফুপি আর ফুপা বেড়াতে এসেছে তাই অনেক রান্না হয়েছে । শফিক বেশ ইতস্তত করে তবুও খেতে বসতে হয় আপুর পীড়াপীড়িতে অপুও সাথে বসে । আপু পরিবেশনের ফাঁকে ফাঁকে তার পড়াশুনার খোঁজ খবর নিতে থাকে । এসময় অপুর বাবা আসেন শফিককে দেখেন কেমন আছে জানতে চেয়ে উত্তরের অপেক্ষা না করেই পাশের ঘরে চলে যান তিনি ।পেছন পেছন শেফাও চলে যায় । মুজিব সাহেরবের প্রয়োজনীয় জিনিশগুলো এগিয়ে দিতে ।

খাওয়া শেষ করে শফিক বেসিনে হাত ধুতে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরে, যেন হাজার ভোল্টের ইলেকট্রিক শক খেয়েছে সে।  ...অপুর ফুপি অপুর বাবার কাছে বলছে মাস্টারের সাথে ভাবীর অত ঢলাঢলি তুমি দেখতে পাওনা ভাইয়া ? এত কি পড়াতে এসেছে পড়িয়ে চলে যাবে বড়োজোর এক কাপ চা আর দুটো বিস্কুট দিলেই তো হয় আবার ভাত খাওয়ানোর কি দরকার ? পেপারে কতরকম কেচ্ছা- কাহিনী বের হয় তুমি জাননা , দেখনা ? সে শুনতে পায় মুজিব সাহেব তার বোনকে ধমক দিয়ে বলছেন ‘’চুপ কর আর এসব বাজে কথা বন্ধ কর । কখনো এ ধরনের কথা তোর ভাবী সম্পর্কে বলবি না । তাতে দমে যাওয়ার পাত্রি নয় রিয়া সে বলে ‘’তুমি যাই বল ভাইয়া দুই বছর ধরে তো দেখছি এসব ঢলামি,  আগে কিছু বলিনি ভেবেছি তুমি নিজেই বুঝবে তা তুমিও বুঝলে না ভাবীও ঠিক হল না আর এখন তো মাও বলছে এই বাড়িতে থাকবে না এখানে পাপ ঢুকেছে তাই বললাম ...মুজিব সাহেব একটা হুঙ্কার ছাড়লেন তখন । 

শফিক দেখতে পায় তোয়ালে হাতে শেফা আপু কাঠের পুতুলের মত দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে ।ও বুঝতে পারে কথাগুলো বলা হয়েছে আপুর অগোচরে আর তিনি তাকে এখানে দেখলে মরমে মরে যাবেন । চোরের মতই শফিক বেড়িয়ে আসে ওই বাসা থেকে ভাবতে থাকে কি সুন্দর একটা সম্পর্কের কি ব্যাখ্যা ? মানুষ এত নিচ ভাবনা কি করে ভাবে ? চকিতে তার মনে হয় তাদের নিয়ে অপুও সন্দেহ করছে না তো ? মুন্নির মত ? এরকম হলে সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না কোনদিন । সে তনু আর অপুকে ভীষণ ভালবাসে। ও ঠিক করে নেয় কাল থেকে আর অপুকে পড়াতে যাবে না । ওই নিরীহ মহিলার ওপর অশান্তির খড়গ নেমে আসুক সে তা চায়না আর নিজেও দুর্নামের ভাগী হতে চায় না ।

এই ঘটনায় খুব খেপে গেল শেফা , সে স্বাধীনচেতা আর প্রবল ব্যাক্তিত্বময়ী এ রকম অপবয়াদ মেনে নেয়া তার পক্ষে অসম্ভব। সে রাতে ননদের সাথে তার বেশ কথা কাটাকাটি হল ,শাশুড়িও তাকে অনেক কথা বললেন । সে অন্যায় মেনে নিল না... কেন নেবে ? তার কি আত্মসম্মান বোধ নেই । তার প্রবল ব্যাক্তিত্বের কাছে সব ছেঁদো কথা ম্লান হয়ে গেল ,তবুও কথা উঠেছে তার হাঁটুর বয়সী একটা ছেলেকে নিয়ে যে কিনা তার সন্তানের টিচার ..এ অপমান কিছুতেই মেনে নিতে পারবেনা সে । রাতে শুতে এলে মুজিব সাহেব শুধু বললেন ,ওদের কথা বলার সুযোগ দাও কেন ? একটু সামলে চলতে পারনা ? শুনে শেফার খুব রাগ বেড়ে গেলেও সে চুপ করে থাকল সন্তানদের  দিকে চেয়ে । কাঁদা যতো ঘাঁটবে ততই কাঁদায় মাখামাখি হবে । তবে সেদিন থেকে শেফা নিজের চারপাশে কাঠিন্যের দেয়াল তুলল । প্রয়োজনের বেশি কথা সে বলে না কারো সাথে বাচ্চাদের ছাড়া । 

শফিক দুইদিন অপুদের বাসায় গেলো না । শফিক যে আসছে না তা শেফা মেনে নিতে পারছিল না।  সে বুঝতে পেরেছিল শফিক এই ঘটনা জেনে গেছে আর সেই জন্যেই সে শফিককে আসার জন্য ফোন করতেও পারেনি । তিনদিনের দিন ফোন এলো , অপুর ফোন তার বাবার মোবাইল থেকে করেছে বলল,’’ স্যার আপনি কি অসুস্থ? কবে আসবেন পড়াতে ? শফিক বলল , আমি আর পড়াতে পারবো না বাবা, আমার নিজের পরীক্ষা সামনেই । এরপর মুজিব সাহব ফোন দিলেন , সে একই কথা বলল । সে রাতে শফিক দুচোখের পাতা এক করতে পারলো না । কেবলই শেফা আপুর মুখটা ভেসে উঠছিল চোখের সামনে । উনি অপেক্ষায় থাকবেন প্রতিদিন তার পাতানো ভাইটির জন্য ।

পরদিন পুরোটা সময় তার খুব মুড অফ ছিল । ক্লাসের পর রুনু এসে জিজ্ঞেশ করল কি হয়েছে ? তোকে এত ম্লান দেখাচ্ছে কেন ?’’ রুনুকে সে সব খুলে বলল রুনু ওর হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে খেলা করতে করতে বলল যা করেছিশ খুব ভালো করেছিস ।  ঐ মহিলাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিস । আজ মুজিব সাহেব বিশ্বাস করেনি কিন্তু যে সন্দেহের বীজ তার মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে তাতে উনি তোকে ও বাড়িতে দেখলে স্বস্তি পাবেন না, ঠিক সন্দেহ করবেন আর শেফা আপুর তখন টিকে থাকাই দায় হবে ওই সংসারে । তার চেয়ে এই ভাল হল । কিছুদিন পর আমি আর তুই গিয়ে একদিন আপুর সাথে দেখা করে আসবো । 

রুনুর কথায় সান্ত্বনা পেলেও মন থেকে অপমানের কাঁটা দূর হলনা কিছুতেই।  অথচ কিছু করারও নেই এই মিথ্যে দুর্নাম ঘাড়ে নিয়েই তাকে চলতে হবে।  ভাবতেই মনটা ভারী হয়ে ওঠে শফিকের।   একটা দির্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে আজ থেকেই আর একটা টিউশনি খুঁজতে হবে তাকে সামনের মাসে ফরম ফিলাপে বেশ টাকার দরকার হবে । 

ঘটনাটা ছোট হলেও এর ঝাঁজ মধ্যদুপুরের দাবদাহের মতই শুধু পোড়াতে থাকে যে ঘা শুকোয় না কোনোদিন ।





Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.