x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

অভিজিৎ পাল

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
অভিজিৎ পাল




একবিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

নেমে আসছে অজানা এক গাঢ় অন্ধকার ঘোর। মূষিকের চলাফেরা ঘরের ভিতর ইতিউঁতি। অমৃত ভক্ষণে মাতে। আমার আক্রোশ জমে বর্ণহীন ক্যানভাসে। একটা নির্মম হত্যার আকাঙ্ক্ষা ফুঁড়ে দেয় আমার আত্মসংযমের বাঁধা ঘর। চাপল্য শেষ করতে চায় অঙ্কুরে। ঘনবর্ণ মূষিক এক। শুধু ঘুরে বেড়ায়। বর্ণবিহনে ঘুরে বেড়ায় সর্বত্র। যেন সহচর। কখনও স্বমতে কখনও দ্বিমতে ঘুরে বেড়ায়। গুরুপথের চিহ্ন দেখায় ভুসুকুপাদ। চিত্তবিশোধনের পাঠ নিতে বসি একসাথে। নিথর হয়ে আসে সময়। সবকটা কালো বাঁধন যায় ছিঁড়ে..

দ্বাবিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

নিজেই নিজের সমস্ত ভব-নির্বাণ সাজিয়ে চলেছি। পূর্ণাবয়ব জ্ঞাতসারে। অনাত্মীয় কেউ ভ্রান্ত হতে হতে পুনশ্চ এক শাখাসারির প্রেমে আবদ্ধ হয়। আদিম অচিন্ত্য যোগিকে অগ্রাহ্য করি। উৎপাদ স্থিতি আর ভঙ্গের পুরাধুনিক বিন্যাস অনধীগত রয়ে যায়। আমি তো আমার জন্মকে জানি না, মৃত্যুকেও না। জন্ম-মৃত্যুর আপাত প্রভেদগুলো মিলে মিশে দলা পাকিয়ে আসে রোজ। বাঁচার মধ্যে মরা, মরার মধ্যে দিয়ে বাঁচার হেঁয়ালি সাজিয়ে বসে সময়। মৃত্যুকে এখন শুধু মৃত্যু বলতেই শিখে নিয়েছি। বুঝেছি চরাচরাত্মক ত্রিদশবিলাসীরা কোনদিনই অজর-অমর ছিল না। সরহপাদ আবার একটি ধাঁধা মেলে ধরেন। জন্মহেতু কর্ম, না কর্মহেতু জন্ম – অজানা উত্তরের জন্য এখনও অদূরে দাঁড়িয়ে আছি। অচিন্ত্যতত্ত্ব খোলস ছাড়ছে...

ত্রয়োবিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

ব্যাধের সহযাত্রায় ভুসুকুপাদ শিকারে যায়। হত্যা করে আনতে চায় পাঁচ ইন্দ্রিয়ের এতদিন যত টানাপোড়েন মজুত করা ছিল। কুবলয় নলিনী বনে ঢুকে হয়ে ওঠে অনন্যমনা। একটা হেঁয়ালি জমতে শুরু করে। জীবন্তকে হত্যা করতে জমে অজানা ভয়। হেতু ভয়ে মৃতও হয়ে ওঠে অস্পর্শিত অগম্য। এক তাল মাংসের প্রতি জমে ভুসুকুর স্বেদ। অভেদ্য এক মায়া যেন ক্রমশ প্রসারিত হতে থাকে ক্যানভাসে। প্রজ্ঞারূপিনী মায়াহরিণী আবদ্ধ হয়ে আসে হঠাৎ। ক্ষোভ জমে। পরাপরগুরুর উপদেশ মেলে বসে জীর্ণ ভুসুকুপাদ। জ্ঞানমুদ্রার কাহিনিমালা সংকেতের পুরাধুনিক বিন্যাসে প্রকাশ্য হয়ে ওঠে এক অর্ধপ্রাপ্ত পদাবলী থেকে...

চতুর্বিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

সময়ের অভিমান নিয়ে হাঁটি। সময়বৈরী হয়ে আসে। হঠাৎ একটি দিনের পর হারিয়ে দেয় কাহ্নপাদের একটা পদ। খেদ জমে। খেদোক্তি জমে ওঠে আরও একটু। সিদ্ধাসনে বসে কাহ্নপাদের একটা অজানা কোনো বিষাদ জাগে চোখে। ধূমল পাণ্ডুর রঙ। বিতর্কিত ভাবনা সীমাবদ্ধ থাকে। ঐশীত্বের সম্ভাষণ শোনা যায়। হারিয়ে যাওয়া কবিতার স্মৃতি যন্ত্রণা সাজায়। বহু যাপনের দাগগুলো কালো হয়ে আসে। পুরা নির্ধারিত নিদির্ষ্ট সময়ের পর ম্লান হয়ে আসে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে। চেনা দুঃখ চেনা সুখগুলো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়াতে শুরু করে পাশাপাশি...


পঞ্চবিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

একটার পর একটা প্রতিবন্ধকদের পার হয়ে আসি। পাঁচমেশালি জীবন যাপনের পর হঠাৎ হারিয়ে যায় কবি তান্ত্রীপাদের একটা পদ। মাতাল হাতির মতো টলমল করে সময়ের পা। মূল পাঠ হারিয়ে যায় কবির কবিতার। ব্যাখ্যা, ব্যাখ্যামহ, প্রব্যাখ্যামহের সূত্র ধরে চিনে নিতে চেষ্টা করি মূল পাঠের কথা। কালো রঙের একটা বিষাদ জাগে গোপনে। সরে আসে অঙ্গজার স্বপ্ন। একটা সভ্যতার ইতিহাস পাশাপাশি চিহ্নিত করে শোষণের ইতিবৃত্ত। চোখ বন্ধ করে চেয়ে থাকি। তান্ত্রীপাদের মতো কষ্ট হচ্ছে বুকে। আমার সৃষ্টিও হয়তো আগামীর হাতে তুলে দিতে পারব না কিছু নঞর্থক কথা বলেছি বলে...

ষড়্ বিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

তুলো ধুনতে ধুনতে পার্থিব আঁশ জমে। আঁশ ধুনে বার করি নিরাকার ব্রহ্ম। আদিতর হেতুরূপের আবহমান সন্ধানে ফিরি। খুঁজে পাই না। হন্যে হয়ে খুঁজি। শান্তিপাদ দু'হাতে অভয় মেলে ধরেন। হেঁয়ালি বাঁধেন যত্ন করে। সময় মাপতে মাপতে হাতের মুঠোয় ভরে দেন সংকেতগুচ্ছ। তুলো ধুনে ভরি শূন্যতার আকর। নিজেকে ভাঙতে থাকি। বিস্তৃত একটা পথ এসে দাঁড়ায় সামনে। টলমল পায়ে এগিয়ে যাই অহেতুক টানে। চোখ হঠাৎ প্রান্ত খুঁজে ফেরে। কার্য নেই, কারণ নেই কোনো। যুক্তি পরম্পরাগুলো জট পাকিয়ে আসে আমার যাপনে। শান্তিপাদ আত্মবোদ্ধার হাসি হাসেন পিতামহের মতো স্নেহে। স্বসংবেদনের পাঠ পড়াতে শুরু করেন একা। অদ্বয়ের পথে একা একা শিখি...

সপ্তবিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

ভরভরন্ত রাতে ফুটে উঠল বহুকাঙ্ক্ষিত মহাপদ্মের রঙ। একে একে বত্রিশ যোগিনীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জাগছে আকাশব্যাপ্ত পুলক। একা চাঁদ এগিয়ে চলে অবধূতির পথে। প্রতিটি পদক্ষেপ ধীর। অনন্তর নিরন্তর রতিসুখে প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিটি সাধনে একটি সহজ পথ। পৌরাণিক সমুদ্রকুমার ষোলকলা নিয়ে এগিয়ে আসে নির্বাণের পথে। পদ্মমধু সুগন্ধী মাখিয়ে মৃণালের পথে চলে। উচ্চারণের আর যাপন ইতিহাসের দোষগুলোর পথ পার হয়ে অবশেষে জাগে অদ্বয় বিরামানন্দ। আদি বুদ্ধের মহাবাণী শোনা যায়। কবি ভুসুকু কামোদ রাগে গান গাইতে শুরু করে। সমাহিত হয় আত্মিক ভাবনায়। আদিতর জ্ঞানমুদ্রার সাথে মিলে মিশে মহাবোধির আকাঙ্ক্ষিত মহাসুখের সন্ধান পায় হাতের মুঠোয়...


অষ্টাবিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

উঁচু পাহাড়ের গায়ে ঘর বাঁধে শবরীবালা। সাজে ময়ূরপঙ্খে, গলায় বাঁধে গুঞ্জার মালা। শবর স্বামী গোল পাকায়। দোহাই শবর ব্যস্ত করো না আর। সহজসুন্দরী ঘরণী তোমার। মুকুল ফুটে ওঠে ডালে। আকাশ ছুঁয়ে নেয় ইচ্ছাসূত্রে। বন্য গহনে শবরী খেলে কানে বজ্রকুণ্ডল বেঁধে। শয্যাসুখে ত্রিধাতুর খাট পেতে নেয় শবর। আহূত অনাহূত তৃপ্তি সাজায়। রতিরস বিলাস সময়ে মোহিনী রাত্রি হয়ে ওঠে উদাসী ইতিহাস। রতিসঙ্গমের পর তাম্বুলের চিহ্ন লেগে থাকে ঠোঁটে। নৈরামণিকে কণ্ঠে জড়ায় মহামার্গী সুখে। স্বপ্নবৎ রাত কেটে আসে মুগ্ধবোধের পাঠ পর্যালোচনায়। দুর্বার মন শাসিত হয় নির্ণয় ও শরে। কাঙ্ক্ষিত নির্বাণের চিহ্ন দেখা যায়। খোঁজ মেলে না আর। তীব্র সন্ধান চলে পাহাড় চূড়ার আড়ালতলে...

ঊনত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

জ্ঞানানন্দসুন্দর লুইপাদের কথা শুনি। তিনি সুচারু অমৃতনাদী ইঙ্গিত বাঁধেন। আমার ভাব বাঁধে না, অভাবও না। সংবোধের ভিতর প্রত্যয় খুঁজি। বিশেষ জ্ঞানপথ আরও দুর্লক্ষ্য রয়ে যায়। ত্রিধাতুতে মজে ওঠে যাপনচিত্র। প্রতিটি পদক্ষেপ স্থূল। আমার বর্ণ-চিহ্ন-রূপ অজ্ঞাত এখনও, বেদাগমের কাছে ব্যাখ্যাতীত রয়ে যাই। আবহমান চেনা পরিচিত প্রশ্নগুলো জট পাকায়। আত্মঘরে তাকাই। উদকচাঁদ কতটা সত্যি আর কতটা মিথ্যে তা নিয়ে শুধু ধাঁধা জমে আসে। উত্তর প্রত্যাশা করি সিদ্ধাসনে বসে। আমার জটিল ভাবনাদের মুছে দেন লুইপাদ। আমার আত্মবিষয়ক বোঝাপড়ার পাঠ হারিয়ে যেতে থাকে। আলোর নিশান দেখতে পাই...

ত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

মল্লারী রাগ শুনি। ভুসুকুপাদ গান শুরু করেন। পরিচিত ক্যানভাসে একরাশ করুণার মেঘ ফোটে অবিরত। যাপনের সমস্ত ভাব ও অভাবের দ্বন্দ্ব পুরাধুনিক নিয়মে ম্লান হয়ে আসে। আকাশপটে সেজে ওঠে সহজ পদ্মের স্বরূপ। বিস্তারিত বিস্ময় জাগে। একটা অকথিত উল্লাসিয়া মনের অন্তঃপুরবাসী আনন্দে বাহ্যিক ইন্দ্রজালের বলয় ছিঁড়ে যেতে শুরু করে ধুলো জমা সম্পর্কের মতো। আমার মনোজ আনন্দমার্গে শুদ্ধ বিষয়বোধ জন্ম নেয়। ভরা চাঁদ পুনশ্চ আলোযাপন শেখায়। জ্যোৎস্নান্ধকারে বসে থাকি। ত্রৈলোক্যের সার সন্ধান দেয় ভুসুকুপাদ। সরে যায় আমার আত্মজ তীব্রতর অন্ধকারের বলয়রেখা..


একত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

কবি আর্যদেবের কাছে চিত্তবিকরণ চর্যার পাঠ নিতে বসি। মন ইন্দ্রিয়ে বাতাসের দোলা লাগে। আত্মা জানি না কোথায় ঠাঁই নিতে যায়। সিদ্ধাসনে চর্যা শিখি। আমার করুণাচিত্ত ঊর্দ্ধহাতে অনাহত ডমরু বাজায়। আর্যদেব মুচকি হাসেন। স্নিগ্ধ এক হাসি। নিরালম্বে স্থবিরতা সাজান। চাঁদের সূত্রে জ্যোৎস্না স্পর্শ করতে থাকে আমার আজানুলম্বিত শরীর। চিত্তবিষয়ক অচিত্ততায় টলে ওঠে মন। ছেড়ে আসি সমাজ পাঠের লোকাচার ঘৃণা ভয় বিদ্বেষ। আসনে বসে থাকি স্থির। চক্ষু মেলেই শূন্যতা দেখি। সহৃদয় আর্যদেব নতুন পথ দেখান। একে একে ঘৃণা ভয়াদির সংস্কার কেটে যায়। বৌদ্ধিক আবহ মাখিয়ে রাখি আমার ক্যানভাসে...


দ্বাত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

অবধূতি মার্গানুশংসা চর্যার নবপাঠ নিতে বসি। স্থিত হই আমার সিদ্ধাসনে। বহুমাত্রিক আমার সহজ চিত্তে কোনো ধ্বনিবিন্দু নেই। কোনো চাঁদ নেই। সূর্য নেই। অপার শূন্যতা জাগে। মনপথ মুক্ত হয়ে আসছে গুরুমুখী পন্থায়। বাঁকহীন ঋজুপথে পা বাড়াই। প্রতি পদক্ষেপ শান্ত সমাহিত ধীর। নিকটবর্তী উজ্জ্বল আদি বোধিচিত্তের আলো দেখা যায়। হাতে কাঁকন চেয়ে দেখি। দর্পণের চেয়েও স্পষ্টগম্য আমার চোখ। আত্মসন্ধানের আসন সাজাই। বুঝে নিতে থাকি মনের গড়ন। আমার আত্মবিষয়ক পাঠবিশ্ব। দুর্জনের সহযাত্রায় যে পথ আমার এতকাল ভ্রষ্ট হয়েছিল, ক্রমশ তা ম্লান হয়ে আসে। কবি সরহপাদ পথ নির্দেশ করেন। প্রদর্শিত পথে হাঁটতে শুরু করি সহজযানে। দ্বিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকদের পার হয়ে আসি প্রদর্শিত ঋজু পথে। অসীমের দিকে তাকিয়ে আছি...


ত্রয়স্ত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

টিলায় বাঁধি ঘর পড়শিহীন। ভাঁড়ার শূন্য বন্ধু আসে দিন দিন। অনতিক্রান্ত সংসারের উপর বিরক্তি জমে ওঠে। টেণ্টনপাদের শরণাগত হই। তিনি ব্যাসকূট সাজান। অর্থ উদ্ধারের শর্ত রাখেন। আবহমান চেনা আবহ বদলে যায় পলকে। দোয়া দুধ ফিরে চলে বাঁটের মায়ায়। বলদ প্রসব করে, গরু সব বাঁজা। ত্রিসন্ধ্যা বলদদোহনে দোনা ভরে ওঠে। চেনাদৃশ্য বদলে যায়। বুদ্ধিজীবির দলকে হঠাৎ নির্বোধ স্বার্থগামী একমুখী মনে হয়। বিপরীত অর্থ বদলে যায় সাধু ও চোরের। এতদিন যে সংজ্ঞায় শব্দ চিনতাম, সব ঘেঁটে যাচ্ছে নবযাপনে। দৃশ্যপটে শেয়াল সিংহসম যোঝে। সব ভাবনা তালগোল পাকাচ্ছে আমার। উন্মাদিয়া আশঙ্কা জমতে থাকে। টেণ্টনপাদ মিটি মিটি হাসেন। হাত বাড়িয়ে কোলে নেন। ভয়ংকর হেঁয়ালির ভয় কেটে যায়। পটমঞ্জরী রাগ ভেসে আসে..


চতুস্ত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

দারিকপাদের কথা শুনি। শূন্যকরুণার কথা মেনে নিতে থাকি কায়মনবাক্যে। তিনি আকাশের গায়ে কথা সাজিয়ে চলেন।সহযাত্রায় পথ চলি। কাঙ্ক্ষিত মহাসুখের প্রত্যাশা করি দ্বৈতগমনে। মহাসুখে মগ্নজা মন ক্রমশ অলক্ষ্য লক্ষণহীন হয়ে যাচ্ছে। বাহ্যিক মন্ত্র তন্ত্র ধ্যান ব্যাখ্যানের থেকে সরে আসি। মায়াজাল কেটে যাচ্ছে ধীরে। সহজাত নির্বাণের আলো দেখা যাচ্ছে অপার স্নিগ্ধতায়। দ্রুততর ইন্দ্রিয়ের অনুভব বদলাতে থাকে। সমাহিত নিস্পৃহ হতে শিখি। চেনা গুরুপথের অনুগমন নিয়ম মেনে। একটি নিশ্চিত বিশ্বাস। লুইপাদের পথ স্পর্শ করে দারিকের সঙ্গে নরেন্দ্র হয়ে উঠি। কান পেতে শুনি অন্য কবিতার পাঠ..

পঞ্চত্রিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

আমার স্বমোহের আস্তরণ কেটে গেলে এসে দাঁড়াই পরমগুরুর সামনে। চিত্তবিষয়ক স্বরূপ বুঝতে শিখি। নষ্ট চিত্তরাজ্য চেনা যায়। দিগন্তরেখায় সমুদ্রের বুকে স্নান করে আকাশ। একটির পর একটি দিক চিরস্থায়ী শূন্যতার ভরে ওঠে। দশদিক শূন্যগামী হলে বুঝতে শিখি, মনের বাইরে পাপ আর পূণ্য নিতান্তই শব্দ মাত্র। যাপনের দাগে ওসব নিয়ে না ভাবলেই চলে। গুরুপথের অনুগমনে চিনতে শিখি আমার লক্ষ্যদের। দৃষ্টি হয়ে আসছে স্থির। প্রকৃতির আজানুলম্বিত প্রভাস্বরে গিলে ফেলি মন। মননের হাত ধরে হাঁটি। ভাদেপাদ ভণে অন্য কথা। আমি অনুভবগম্য অখণ্ডাকার আত্মিক পদাবলী সাজাই পদাঙ্কে। আমার নড়বড়ে চিত্তরাজ গিলে নেয় ভাদে পারঙ্গম পদ সংস্থানে...




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.