x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬

আব্দুল আজিজ

sobdermichil | অক্টোবর ২৯, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
গড়বাড়ি ও তার বিলুপ্ত ইতিহাস কথা












ইতিহাস, ঐতিহ্য - সংস্কৃতি আমাকে টানে খুব জোরাল ভাবে যদিও আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। কিছু বিখ্যাত ঐতিহাসিক, ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দিয়ে গেছেন যাদের মধ্যে নীহাররঞ্জন রায়, রমেশচন্দ্র মজুমদার, আবুল ফজল, অক্ষয়কুমার মৈত্র অন্যতম। রাজা বিজয় সেন দেওপাড়ায় পদ্মানদীর তীরে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় অবস্থিত। এই বিজয়সেনের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে বেশ পাকাপোক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে। বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বাংলার প্রাচীনতম এক স্থান যার ইতিহাস গৌরবময়। যা হোক ইতিহাস খোজাঁর নেশা মাথায় ঘোরে সব সময়, প্রাচীন শব্দটি শুনলেই প্রাচীন ইতিহাস না জেনে সে স্থান ছেড়ে যাওয়ার সে বান্দা আমি নই। 

বিশাল পদ্মানদী তার পাশে গড়ে ওঠা জনপদ প্রেমতলীর এক গায়ে ক্ষেতের মধ্যে এক ইতিহাস লুকিয়ে আছে বহুবছর ধরে। সেই জায়গাটি গড়বাড়ি নামে বেশ পরিচিত। বরেন্দ্রর পোড়ামাটির বুকে এক বিলুপ্ত ইতিহাস যা কেবল লোকজন মুখে মুখে বলে এসেছে। হঠাত একদিন গড়বাড়ির নাম শুনে গেলাম গড়বাড়ি দেখতে। সরেজমিন থেকে প্রায় ৫ ফুট উপরে গড়বাড়ির মৃত ধ্বংসাবশেষ দেহ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। দেওপাড়ায় অসংখ্য পুরাকীর্তি এদিক ওদিক ছিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ে আছে যা এখন সব দখলে চলে গেছে।

আমি বেশ অবাক হলাম গড়বাড়ি ধ্বংসাবশেষ এর উপর বসতি দেখে। কি সুন্দর ম্যাপে গড়বাড়ির স্থাপনা। কয়েক দফার ভুমিকম্পে গড়বাড়ি মাটিতে কিছু অংশ মিশে গেলেও এর শ্রী নষ্ট হয়েছে সরকারের চরম উদাসিনতায়। মানুষ গড়বাড়ির দেয়াল থেকে ইট খসিয়ে সেই গড়বাড়ির উপর তৈরি করেছে বাড়ি। গড়বাড়ির আকৃতি বেশ চমকপ্রদ, অন্যান্য প্রাচীন স্থাপনা গুলো চারকোনা স্কয়ার আকৃতির হয়। কিন্তু এই গড়বাড়ি স্কয়ার নয় একেবারে কাটা কম্পাসে আকা বৃত্ত বা গোলাকৃতি।

গড়বাড়ির মধ্যে গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে, ওখানেই গড়বাড়ির মুল প্রাসাদ ছিল বলে মনে করা হয়। এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদের লোকেরা আসলেও কিছুদিনের মধ্যে তারা চলে যায়। এর সাথে এই গড়বাড়ির ইতিহাস তার আলোর মুখ দেখতে পাইনি। প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ গড়বাড়ি ধ্বংসাবশেষ এর একেকটি ইট খসিয়ে তাকে বিলুপ্তর পথে ঠেলে দিচ্ছি আমরাই। এই গড়বাড়ির ইতিহাস কথা এখনও কেউ যানেই না। লজ্জার বিষয় রাজা বিজয় সেনের দেওপাড়ার ইতিহাস কিছু মানুষ জানলেও শুনেছি বলেই আলোচনা শেষ  করে দেয়।

আসলে মানুষ এত অলস হয়েছে যে শহর, শহর জীবনের রঙিন হাওয়া দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য - সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা মাঠে নামতে চায় না, মানুষ এর ধার করা কথা শুনেই সব জান্তা হয়ে যায় ... যেন ব্যস সব হয়ে গেল।

গড়বাড়ির প্রবেশে সেখানে বসবাস করে এক ছেলে আমাকে নিয়ে গেল অতি আগ্রহভরে গড়বাড়ি দেখাতে। সব দেখাচ্ছে, হাতে ক্যামেরা উৎসুক ছেলেমেয়েরা পিছ পিছু আসছে। তারা নিজেই যানে না যে কিভাবে দিনের পর দিন এই গড়বাড়ি ইতিহাস নষ্ট করে চলেছে।

আমি গড়বাড়ি ধ্বংসস্তূপ দেখিয়ে ছবি তুলতেই একটি ফুটফুটে মেয়ে আমার সাথে ক্যামেরাবন্দি হল। তাদের চোখে শুধু কৌতূহল আর কৌতূহল। কয়েকজন কে জিজ্ঞাস করলাম তারা এখানে কেন বসবাস করছে এটা সরকারের জায়গা, একটি প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ।

তারা সেকথা বোঝেনা, বাচার তাগিদে এসে বসবাস করছে, বাড়িঘর তুলেছে।

কার তৈরি, কে তৈরি করেছে তেমন কোন সঠিক তথ্য যানা গেল না। তবে এটি রাজা বিজয়সেনের পরে এটি নির্মিত হয়েছে। ইট, সুরকি দিয়ে গড়বাড়ির কাঠামো তৈরি। এই গড়বাড়ির ভগ্ন ছাদের কিংবা দেয়ালের অংশ দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পারলাম। আমি ঐতিহাসিক না, ধারনায় ভুল থাকতে পারে, তবে ইতিহাস আর প্রত্নতত্ত্বই যা পড়েছি তা আমার ক্ষুদ্র মেধার প্রয়াস মাত্র।

অধ্যাপক ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায়ের "বাঙালীর আদিপর্ব " বইতে উল্লেখ আছে বিজয়সেনের দেওপাড়া ও চব্বিশনগর প্রাচীন বাংলার গ্রাম। এ দুই গ্রামই রাজশাহী জেলায় অবস্থিত। তাহলে দেওপাড়ার গড়বাড়ি ইতিহাস যে প্রাচীন এতে কোন সন্দেহ নেই।

গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাথে লুকিয়ে থাকা বা বিলুপ্তপ্রায় প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ গুলো জনমানসে তুলে ধরা, ইতিহাস - শিল্প - সংস্কৃতি চর্চায় মানুষকে মনোনিবেশ করা  এবং সামগ্রিক রক্ষানাবেক্ষন করা সরকারের দায়িত্ব। 

গড়বাড়ি ইতিহাসের মত কত ইতিহাস যে আমাদের আশেপাশে থেকেও অজানা তা বলা বড়ই কঠিন। আমাদের সচেতন হতে হবে, এবং দ্রুত এই সব প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। এগুলো আমাদের রাষ্ট্রীয় অমুল্য সম্পদ। তাই সরকার এবং প্রত্নতত্ত্ববিভাগের কাছে অনুরোধ আপনারা এই বিষয়টা দেখবেন। 

বিলুপ্তি আর নয়,  এদের জানো, জানাও বাঁচতে দাও।।।




আব্দুল আজিজ / কবি,কথাসাহিত্যিক / আজাইপুর, বটতলা হাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (বাংলাদেশ) 


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.