x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

জয়ন্ত সেন

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত

জয়ন্ত সেন


রোজইতো লোক আসে। ঘন্টায় ঘন্টায়, ঘর অন্ধকার করে খেলা চালায় নিজের মতো করে, দাম দিয়ে চলে যায়। তবে এই মানুষ-টাকে চেনা ঠেকছে, একদম যতিনদার মতো দেখতে। বন্যার ত্রানে সেই বাপ্-মা, পানের বোরোজ, টিপমি নামের বাছুর সব হারিয়ে মামার কাছে ছিলাম কদিন। ইঁটের ভাটায় কাজ করেছিলাম কদিন। মামা সব রুজি কেড়ে নিয়ে টলতে টলতে রাতে চিলেকোঠার ঘরটিতে ঢুকতো। এখন জানি ওরম মদ খেলে হয়। একদিন হটাৎ ফেরার পথে যতিনদা পেছন থেকে ডাক দিলো 'ওই মেয়ে কোথায় যাস ?'

এতখানি পথ হেঁটে যাবি নাকি ! বোস বোস সাইকেলে বোস, ছেরে দি, সাঁঝ এলো বলে।

এই মানুষটাকেও-তো একইরকম দেখতে। রোগা, প্যাংলা, উস্কো-খুস্কো চুল, টিকালো নাক। যতিনদা তুমি কি আমায় চিনতে পারছো ? সেদিন মেলা থেকে আসার পর মামা আমায় নিয়ে শহরে আসছিলো। ট্রেনে প্রচন্ড ঘুম আসছিলো, কখন যে চোখ বুঝে এসেছে ! যখন চোখ খুল্লাম দেখি কেউ কোথাও নেই, মামাও নেই, সেই ট্রেনটাই বা গেলো কোথায় ? আমার গায়ে একটা সুতোও জড়ানো নেই, এরা কারা ? দেখি আমার দিকে কি বীভৎস ভাবে তাকিয়ে আছে। আমার খুব লজ্জা করছিলো, হাঁটু বুক একসাথে জড়িয়ে বসেছিলাম, শুধুই আমি নই আরো অনেকে। আমারই বয়সী হবে, চোদ্দো পনেরো ষোলো। আসলে তখন বয়সের হিসেবটা ঠিক বুঝে উঠিনি। 

ইঁটের ভাটায় মাটি পোড়াতে পোড়াতে বুক পাছার প্রতি  দুর্নজর থেকে যে যত্নশীল হতে হয় খেয়ালই হয়নি। কতো করে বল্লাম, কাকুতি মিনতি করলাম, আমায় ছেড়ে দাও, প্রচন্ড ব্যাথা করছে, আমায় ছেড়ে দাও। চোখের জল শুকিয়ে দাগ হয়ে গেলো। কিন্তু নাড়ী-ভুরি না পচা অব্দি ছাড়লোই না।

যতিনদা, ও যতিনদা তুমি আমায় চিনতে পারছো ? আমি তোমার সেই শিউলি-গো ! আমায় আবার নিয়ে যাবে সেই মেলায়? সবুজ নীল চুরি কিনে দেবে ? নাগরদোলায় ভয় পেলে জাপটে ধরে বলবে তো "ভয় কিসের বোকা মেয়ে, আমি আছিতো !" নদীর ধারে শিউলি ফুল খোপায় দিয়ে বলবে আরেকবার "এই দ্যাখ, শিউলির জন্য শিউলি এনেছি "। আমায় ফিরিয়ে নিয়ে চলো। তোমার জন্য সব সিনথেটিক ফেলে দেবো, আমার ওই শিউলি ফুলটাই চাই। যতটুকু বাকি আছে সবটুকু দেবো তোমায়। শুধু তোমায়।

বালিশের তলায় দাম গুঁজে লোকটা দরজার দিকে হাঁটা দিলো। না ! এতো সে নয়। ভারী অস্বস্তি হচ্ছে, খুব অস্বস্তি হচ্ছে।




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.