x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

জয়িতা দে সরকার

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
জয়িতা দে সরকার




বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে প্রায় জোর করেই রুক্মিণীর বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল ওর সৎ বাবা। মায়ের ক্ষোভ প্রকাশের কোনও জায়গাই ছিল না। কারণ লোকটা ওদের জন্য করেছে অনেক। তিন মেয়ের পরে এক ছেলে। ছেলের বয়স তখন এক বছরও হয়নি। সে সময় মারা যায় রুক্মিণীদের বাবা। এরপর ওরা না খেতে পেয়ে মরত যদি না রুক্মিণীর এই দূর সম্পর্কের কাকাটি ওর বৌদিকে-মানে রুক্মিণীর মাকে বিয়ে করত। স্বামী মরলে দেওরের সাথে বিয়ে,ওদের গ্রামে প্রচলিত প্রথা। তাই জল ঘোলা হয়নি বিষয়টি নিয়ে। আর রুক্মিণীর মা চাঁপাও এ বিয়েতে একবারেই রাজি হয়েছিল তার দু’টি প্রধান কারণ হল -চার চারটে পেট চালানো । এবং যে দেওর স্বামী থাকাকালীনই ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওকে প্রতিদিন ছিঁড়ে খেত। ওর মেরুদণ্ডহীন স্বামী, ভাইয়ের পয়সায় আকণ্ঠ মদ গিলে পাশেই পড়ে পড়ে ঘুমাত। স্বামী মারা যাওয়ার পর সে যদি তার সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে তাকে স্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি দেয় আপত্তি করার কিছু থাকে কি! 

রুক্মিণী ওর মায়ের বড় সন্তান। বয়স সতেরো। দেখতে এককথায় ‘গোবরে পদ্ম ফুল’। নিজের ইচ্ছায় লুকিয়ে লুকিয়ে লেখাপড়াটাকেও রপ্ত করেছে অনেকটাই। ইচ্ছে ছিল নিজে কিছু কাজ করে বাকি ভাইবোনদেরও একটু আধটু পড়ালেখা শেখাবে কিন্তু গরীবের আবার ইচ্ছে! একদিন রাতের অন্ধকারে একপ্রকার হাত-পা বেঁধেই প্রায় জলে ফেলে দিল ওকে ওর সৎ বাবা। 

বিয়ের পর বুঝতে পারল ও ওর স্বামীর বৌ ঠিকই। তবে সেটা শুধুই বাড়ি ভর্তি লোকের সেবা করার জন্য এবং বাচ্চা পয়দা করার জন্য। ফুর্তি করার জন্য ছোড়িদের অভাব আছে নাকি সারা গ্রামে? মেনে নিল না রুক্মিণী। কোলে দুধের শিশু কানাইকে নিয়ে আর সাতমাসের পেট নিয়েই পালিয়ে এল নিজের গ্রামে। রাতের আঁধারে সিধান্ত নিতে গেলে কলঙ্ক তো গায়ে লাগবেই। যেমন রাতজাগা চাঁদের লেগেছে। দুই গ্রামেই আখ্যা পেল অসতীর। তবুও ফিরে যায়নি মেয়েটা। একা হাতে দুই সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করার স্বপ্নে দিনরাত খেটেছে। আস্তে আস্তে রাত পেরিয়ে ভোরের আলো দেখেছিল রুক্মিণী। ভালো ছিল ওরা। 

আজ হঠাৎ একটা ফোন এসে সব গোলমাল করে দিল।

- তোর মরদটা মরে গেছে রে। ...... স্বামীর ভিটে থেকে কেউ ফোনটা করেছিল। এর ঠিক একবছর পরে অসতীর তকমা পাওয়া রুক্মিণীর চেহারার সঙ্গে সাদা থানে মোড়া পোড়া কাঠের কোনও অমিল পাওয়া গেল না! 

- মা তোর কি হয়েছে? মোদের বাপটাতো ভালো মানুষ ছিল না। তাহলে দুখটা কিসের তোর!  ... বড় একটা দীর্ঘশ্বাস উঠে এলো রুক্মিণীর বুক থেকে ... -তবু ছিল তো। 


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.