x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
রুমকি রায় দত্ত







হিমাচলের হাতছানি শেষ পর্বঃ

মানালির পথে বিয়াসের সাথেঃ

রাতেই গুছিয়ে রেখেছিলাম ব্যাগ।ঠিক সকাল ৯:০০ টা,স্নান সেড়ে গাড়িতে গিয়ে বসলাম আমরা।যেহেতু পুরো প্যাকেজ ছিল তাই কোথায় যাব,কিভাবে যাব,কোথায় থাকবো---এসব নিয়ে কোনো চিন্তায় ছিলনা আমাদের।আমাদের গাড়ির ড্রাইভার নেগি ভাই গাড়িতে উঠতেই চলা শুরু হল---মানালির পথে।পুরো দিনটা আমাদের পথে কাটাতে হবে প্রায় ৩০০ কিমি রাস্তা।মাঝে মাঝে শুধু থামা আবার পথ চলা।কিছুদূর গিয়ে একটা রেস্তোরায় সেড়ে নিলাম প্রাতঃরাশ।আর ভুলটা সেখানেই করলাম...আলু পরটা আর টক দই...ভীষণ সুস্বাদু।খুব স্বল্প দূরত্বের ছোটো ছোটো বাঁকে গাড়ি এঁকেবেঁকে চলা শুরু করতেই শুরু হল—পেটের ভিতর দই-পরটার রোমন্থন।খাবার গুলো যে পথে ভিতরে ঢুকেছিল,সেই পথেই ফিরে আসতে লাগল।কিন্তু বলে না সব কষ্ট লাঘব হয়ে যায় প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলে।আমারও তাই হল। কিছুটা পথ চলার পর থেকেই দেখলাম এক ঘন সবুজ জলের নদী আমাদের সঙ্গী হয়েছে।অপূর্ব তার শোভা।ক্লান্ত শরীরে গাড়ি থামিয়ে পথে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু করলাম পথ চলা।কিছুটা এগোতেই প্রবেশ করলাম মান্ডি জেলায়।বিপাশা নদীর কিনারায় গড়ে ওঠা এই স্থানটি প্রকৃতিও অতি মনোরম।মান্ডি শব্দের অর্থ বাজার।

১৫২০ খ্রীষ্টাব্দে এই শহরের পত্তন করেন রাজপুতরা।এই পথেই তীব্বতের বণিকরা আসা-যাওয়া করত। কিছুটা চলার পর আমাদের গাড়ি এসে থামলো একটা ছোটো দোকানের সামনে। আমরা ড্রাইভারের নির্দেশিত পথে দোকানের পাশ দিয়ে কিছুটা এগিয়ে যেতেই দেখলাম,সেই সবুজ জলের বিপাশা নদী অনেক নীচ দিয়ে তিরতির করে বয়ে চলেছে।আর নদীর বুকের উপর দিয়ে এপার থেকে ওপাড়ে চলে গেছে এক ঝুলন্ত ব্রীজ— “পান্ডো ব্রীজ’’—বিপাশা নদীর উপর গড়ে ওঠা পান্ডো ড্যাম।ভয়ে ভয়ে পা রাখলাম ব্রীজের উপর,এগিয়ে গেলাম বেশ কিছুটা। অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য,মনোরম পরিবেশ মনটাকে বেঁধে রাখতে চাইলেও আমাদের সময় ছিল স্থির...তখনও অনেকটা পথ রয়েছে বাকি মানালির দিকে। আবার পথ চলা।---গাড়ি এসে দাঁড়াল “ লেক ভিউ পয়েন্টে”—সেই বিপাশা নদী এখানে পাথুরে পথে হোঁচট খেতে খেতে কুলু কুলু রবে ছুটে চলেছে।নদীর এপাড়ে একটা ছোট্ট রেস্তোরা ।নদীর কিনারায় পাতা টেবিল-চেয়ার। ওপাড়ে ধোঁয়াশার চাদর।লম্বা লম্বা গাছের গায়ে লেগে সেই ধোঁয়াশা এক ঘন ধোঁয়া ঘেরা মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।পা থেকে জুতো-মোজা খুলে গিয়ে বসলাম সেই নদীর মাঝে একটি বড় পাথরের উপর।চারপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে জল।চলার পথে পাথরে বাঁধা পেয়ে দিক পরিবর্তন করে ছুটে চলেছে সমনের পথে।ঠান্ডা জলে পা ছুঁয়াতেই শরীর জুড়ে নেমে এলো একরাশ শীতলতা।

এগিয়ে চলাম কুলুর দিকে।কুলু প্রবেশ করে প্রথমেই দেখে নিলাম ‘ বৈষ্ণদেবী মন্দির”---আমাদের গাড়ির ড্রাইভারই বললেন এই মন্দিরটি মাতা বৈষ্ণদেবীর। আসলে মন্দিরটির নাম “মহাদেবী টেম্পল’।স্থানীয় বাসিন্দারা বলে বৈষ্ণদেবী মন্দির। মন্দিরের নির্মান কার্য তখনও চলছে।সিঁড়ি উঠে গেছে প্রায় তিনতলা। অপূর্ব কারুকার্য এই মন্দিরের গায়ে।মন্দিরের ভিতরের অংশের চার পাশের দেওয়ালে ও ছাদে কাঠের উপর খোদায় করে আঁকা নক্সার কাজ দেখে চোখ ফেরানো যায় না।এখানে আছে শাল তৈরির কারখানা। সেখানে গিয়ে দেখে নিলাম কিভাবে বোনা হয় সুন্দর সুন্দর নক্সা করা শাল। এখানকার শাল গুনমানে বেশ ভালো।এই প্রসঙ্গে বলে রাখি কেউ চাদর বা সোয়েটার কিনতে চাইলে এখান থেকে না কিনে কিনতে পারেন মানালী বাজার থেকে।সেখানে এই সব জিনিসের সম্ভার অতূলনীয় এবং দরদাম করে নিতে পারলে বেশ সস্তা পড়বে।

দিনের শেষে সুর্য যখন পাটে বসছে ঠিক তখন আমরা এসে পৌঁছালাম মানালি।এখানে আমরা থাকব তিন রাত দু’দিন।আমাদের যেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হল সেই হোটেলটির নাম ‘সঙ্গম’ এ-সবই আমাদের প্যাকেজের অংশ তাই আমাদের মাথা ব্যাথাও নেই।সারা দিনের জার্নিতে অবষন্ন শরীরে সেদিন আর বাইরে বেরোলাম না। তারাতারি খেয়ে আশ্রয় নিলাম বিছানায়।সকালে চোখ খুলতেই দেখলাম বাইরে ঠিক হোটেলের পাশের বাড়িটার ছাদে জমে আছে থোকা থোকা বরফ। আমাদের সে দিনের সূচিতে ছিল “বশিষ্ঠ আশ্রম”, ‘রাম মন্দির’ আর ‘হিরিম্বা টেম্পল’, ‘ক্লাব হাউজ’।

ক্লাব হাউজঃ

সকাল সকাল স্নান খাওয়া সেড়ে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম প্রথমেই যেখানে গেলাম সেটি হল ‘ক্লাব হাউজ’ ভীষণ চেনা মনে হল জায়গা টা।আমাদের ড্রাইভার নেগি দা বললেন।এটি মানালির সুটিং স্পট। সুন্দর ছোটো পার্কের মত সাজানো।পাশ দিয়ে পাথুরে পথে নদী বয়ে যাচ্ছে। ওপাড়ে সার বেঁধে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সবুজ পাইন যেন ছুঁতে চাইছে আকাশটাকে। নদীর মাঝে ছোটো বড় পাথরে বসে আছে মানুষ জন।প্রায় পঞ্চান্ন বছর বয়সের মহিলাকে দেখলাম, এপাড় থেকে দঁড়ি ধরে ঝুলতে ঝুলতে পৌঁছে গেলেন ওপারে। বাগানের গাছ-পালার ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা সাদা বরফের মাঝে লাল পোশাকের একটি লোক সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সকালটা যেন কোথা দিয়ে চলে গেল। এখান থেকে সোজা গেলাম বশিষ্ঠ আশ্রমে। আশ্রমের দ্বার প্রান্তে ঢোকার বেশ কিছুটা আগেই গাড়ি পার্কিং এর জায়গা। আমরা সেখানে নেমে গেলাম।এর পরের রাস্তাটা বেশ খানিকটা চড়াই।রাস্তার দু’ধারে রয়েছে নানা প্রকারের পশমিনা জিনিসের দোকান।আমরা ধীর পায়ে গিয়ে পৌঁছালাম আশ্রমের দ্বারপ্রান্তে।

বশিষ্ঠ আশ্রমঃ

বিপাশা নদীর ধারে অবস্থিত এই বশিষ্ঠ আশ্রমের নাম হয় হিন্দু ধর্মের সাতজন ঋষির একজন ঋষি বশিষ্ঠের নাম অনুসারে।কথিত আছে যে, ঋষি বিশ্বামিত্রর হাতে তার সন্তানরা নিহত হয়েছেন এই খবর জেনে তিনি প্রাণ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।কিন্তু বিপাশা নদী তার প্রাণ গ্রহণ করতে অস্বীকৃত হয়...।ঋষি বশিষ্ঠর প্রাণ না নিয়ে তাকে প্রতিজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়ার কারনেই এই নদীটির নাম হয় বিপাশা।যার অর্থ---“ফ্রীডম ফ্রম বন্ডেজ”।এই নদীর তীরেই তিনি ধ্যানমগ্ন হন।মনে করা হয় প্রায় ৪০০০ বছর আগে এই মন্দিরটি নির্মান করা হয়।সেই সময় এই স্থানটি কেমন দুর্গম ছিল সেটি আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে চিন্তাও করা যায় না।মন্দিরটির নির্মান শৈলী বেশ ঐতিহ্যবাহী। কাঠের কারুকার্য করা। উষ্ণপ্রসবন এখানকার একটি বিশেষ আকর্ষণ।অনেকে এমন মনে করেন যে এই জলে স্নান করলে শরীরের অনেক রোগ নিরাময় হয়ে যায়। কথিত আছে ঋষি বশিষ্ঠকে স্নানের জন্য বহুদূর হেঁটে যেতে দেখে শ্রী লক্ষ্মণ মাটিতে তীর নিক্ষেপ করার পর সেখান থেকে গরম জল নির্গত হয়ে এই প্রসবন সৃষ্টি হয়।এর ঠিক সামনেই রয়েছে রাম মন্দির।এই মন্দিরটি পাথর দ্বারা নির্মিত।এত সব পৌরাণিক গুরুত্ব সম্পন্ন এই বশিষ্ঠ গ্রামটি হিন্দুদের কাছে আজ পবিত্র পীঠস্থানে পরিণত হয়েছে।

হিরিম্বা টেম্পলঃ

বশিষ্ঠ আশ্রম থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো “ হিরিম্বা টেম্পল” এর দিকে।ফেরার পথে দেখলাম নেড়া আপেল গাছ গুলো দাঁড়িয়ে আছে নিঃশ্চুপে।গাড়ি এগিয়ে চলল।প্রবেশ পথের বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকল আমরা ছায়াঘেরা সুদীর্ঘ বনবীথি দিয়ে পায়ে হেঁটে এগিয়ে চললাম।হঠাৎ দেখলাম এক পাহাড়ি মহিলা হাতে একতাল পাকানো তুলোর মত নরম খরগোশ নিয়ে আমাদের দিকেই আসছে। কাছে এসেই ধরিয়ে দিল আমার হাতে—বলল, ‘ফোটো খিঁচ’। দেখলাম খরগোশটি আকৃতিতে বেশ বড়, নরম তুলতুলে। আমি ফটো নিতেই চেয়ে বসল ২০ টাকা।আরও কিছুটা ভিতরে যেতেই দেখলাম আরও অনেকেই এমন খরগোশ হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।এটা এখানকার জীবিকা। কেউ কেউ আবার টুকিটাকি বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসে আছে পথের দু’ধারে। দু-এক জন পাহাড়ী মানুষ বেশ বড় আকৃতির চমরিগাই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।এ সবই জীবিকা নির্বাহের পন্থা মাত্র। হিরিম্বা মন্দিরের সামনে পৌঁছাতেই দেখলাম মন্দিরের সামনের বিস্তৃত অংশ বরফে ঢাকা,তবে কয়েক দিনের পুরানো বরফ।পায়ের কাদা শুভ্র বরফের গায়ে কলঙ্কের মত দেখাচ্ছে।

এই গুহা মন্দিরটির একটি পৌরাণিক গুরুত্ব আছে। দেবদারু বনের মধ্যে অবস্থিত এই মন্দিরটি মানালি বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩ কিমি দূরে অবস্থিত।মহাভারত অনুসারে এই মন্দিরের সৃষ্টির পিছনে একটি কাহিনি আছে।পঞ্চপান্ডব বনবাসে থাকার সময় শক্তিমান ভিম হিরিম্বা রাক্ষসীকে হত্যা করেন এই স্থানে এবং তার বোন হিরিম্বিকে বিবাহ করেন। ভিম আর হিরিম্বির পুত্রের জন্ম হওয়ার পর পান্ডবরা ফিরে গেলেও হিরিম্বি এখানে থেকে যায় এবং তপস্যায় মগ্ন হয়। ১৫৫৩ সালে “রাজা বাহাদুর সিং” দেবী হিরিম্বির উদ্দেশ্যে এই গুহা মন্দিরটি নির্মান করেন। তিন চালা বিশিষ্ট মন্দিরের চতুর্থ ছাদটি ছাতার আকৃতির ধাতব নির্মিত।কাঠের শিখরটির উচ্চতা প্রায় ২৪ মিটার।কাঠের চালা আর জানালা গুলি ভীষণ ভাবে বাঁকানো। কাঠের দরজার গায়ে সুন্দর কারুকার্য করা। একটা আশ্চর্যের বিষয় হল মন্দিরের দেওয়াল বিভিন্ন পশুর সিং দিয়ে সাজানো...সব মলিয়ে প্রাচীনত্বের ছোঁয়ায় এক পৌরাণিক আবেশ সৃষ্টি হয় মনে।মন্দিরের সামনের রাস্তা ধরে কিছুটা গিয়েই দেখলাম আদিবাসী সংগ্রহশালা। টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকলাম,আর ঢোকার পরেই বুঝলাম এখানে না এলে কি অপূর্ণতা থেকে যেত জীবনে। প্রাচীন কালের বিভিন্ন যন্ত্র,বাড়ি-ঘর আরও অনেক কিছুর ক্ষুদ্র সংস্করণ রাখা আছে এই সঙ্গগ্রহশালায়। আর সেই সব জিনিসের গায়ে রয়েছে নিখুঁত কাজ যা, দেখে চোখ ফেরানো যায় না।আদিম কালে মানুষ গম ভাঙানোর মেশিন বানিয়ে ছিল সেটা দেখতে কেমন তা এখানে না এলে আজানায় থেকে যেত।অজানায় থেকে যেত এদের জীবনযাপন প্রনালী।

দিনের শেষে সাঁঝের পরশ গায়ে মেখে ফিরে এলাম হোটেলে। সামান্য বিশ্রাম।হিম ভেজা সন্ধ্যেটা মানালির বাজারে কাটাতে মন্দ লাগলো না।

সোলাং এ সকালটাঃ

পরদিন সকাল হতে প্রথমেই মনে হল---শেষ ঘন্টা বাজার পালা চলে এলো।সেদিন আমাদের মানলিতে শেষ দিন।এই দিনটা মনে মনে উৎসর্গ করেছিলাম রোটাং পাস কে।সকালে প্রাতঃরাশ সেড়ে বেড়িয়ে পড়লাম রোটাং এর পথে। আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি এগিয়ে চলেছে।আমাদের মনেও দোলা লেগেছে।গাড়ি রোটাং এর পথে বেশ কিছুটা এগিয়ে থেমে গেল।মিলিটারীরা রাস্তা আটকে দিয়েছে। রোটাং এর রাস্তা পুরু বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে।আমাদের গাড়ি আর এগোতে পারলো না।একরাশ মনখারাপ নিয়ে পিছিয়ে এলাম।গাড়ি থামল জিরো পয়েন্টে, “সোলাং ভ্যালি”। চারিদিকে সাদা বরফের পুরুস্তর।এখানে প্রবেশের আগে আমাদের নিতে হল ভাড়ার পোশাক ও জুতো। এই বিশেষ পোশাকে আমরা প্রবেশ করলাম স্নো-ভ্যালির ভিতরে।বিনোদনে ভরপুর এই ভ্যালি।কুকুরে টানা শ্লেজ গাড়ি থেকে বরফের গায়ে স্কি করে উড়ে বেড়ানোর সমস্ত উপকরণ এখানে আছে।পায়ের প্রতিটি পদক্ষেপে জুতো সহ পা ডুবে যাচ্ছে বরফের মেঝেতে। বেশ ঘন্টা খানেক স্কি করে বরফের মাঝে ভেসে থাকার আনন্দই আলাদা।স্কি-ল্যান্ড ছেড়ে আরও সামনের দিকে যেতেই দেখলাম সুন্দর তিরতিরে ঝর্নার জল নদী হয়ে বয়ে চলেছে পাথুরে পথে আর পাশে শুয়ে আছে সাদা বরফ বিছানো পাড়।কোথাও সেই বরফ উঁচুতে উঠে গেছে আবার কোথাও তা ঢাল বেয়ে নিচে নেমে গেছে।বরফের গায়ে পা ডুবিয়ে তীরে গিয়ে বসতেই দেখলাম,কোথা থেকে এক উড়ো মেঘ ছুঁতে এলো আমাদের। সূর্য আড়ালে যেতেই আকাশ থেকে নেমে এলো গুড়িগুড়ি বৃষ্টি।কিছুক্ষণ আগেই রোটাং না যেতে পারার যে আক্ষেপ মনে ছিল তা, যেন কখন মুছে গেছে মন থেকে। টের পেলাম ঝিরঝিরে ঝর্ণার মত আনন্দ বয়ে চলেছে মনের গহন গভীরে।

ভালোলাগার মুহূর্ত গুলোকে স্মৃতির কোঠোরে সঞ্চয় করে পরদিন সকালে পা বাড়ালাম মানালি থেকে কালকার পথে।দীর্ঘ পথের যাত্রা যেমন শরীরে ক্লান্তি নামিয়ে ছিল,মনেও ছিল অপার ক্লান্তি।এ ক্লান্তি---সুন্দরকে বিদায় জানানোর। আবার ফেরা শহরের ভিড়ে। কিন্তু সব শেষের পরেই আছে শুরু তাই, এ জীবনযাত্রা থামার নয়। আবার যাত্রা,আবার আনন্দ আর আরেকটি নতুন জায়গায় কটা দিন নিজের ছায়া ফেলে আসা। এভাবেই বয়ে চলা---জীবন নামক পাহাড়ী পথে ঐ ছোট্ট ঝিরঝিরে পাহাড়ী নদীটির মত।

কিছু প্রয়োজনীয় তথ্যঃ

কখন যাবেনঃ সিমলা যাওয়ার আদর্শ সময় মে-জুন ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর মাস।তবে বর্ষা বাদে যে কোনো সময় যাওয়া যেতে পারে।অফ্‌ সিজনে হোটেল থেকে গাড়ি ভাড়া সব কিছুতেই ছাড় মেলে।মানালির আপেল বাগানের সৌন্দর্য দেখতে হলে সেপ্টেম্বর মাসেই যাওয়া ভালো।

কিভাবে যাবেনঃ 

১. হাওড়া থেকে ১২৩১১ আপ কালকা মেল ছাড়ছে ১৯:৪০ মিনিটে—তৃতীয় দিন পৌঁছাবে কালকা ভোর ৪:৩০ মিনিটে।এখান থেকে টয়ট্রেনে সিমলা যেতে সময় লাগবে ৬ ঘন্টা।কোলকাতা থেকে টয়ট্রেন বুকিং হয়।আছে বিলাসবহুল শিবালিক।সড়ক পথে বাসেও কালকা থেকে সিমলা যাওয়া যায়। এই পথে সময় কম লাগে।

২. এছাড়া হাওড়া থেকে চন্ডীগড়,অমৃতসর প্রভৃতি স্থানে পৌঁছে,সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে ও যাওয়া যায় সিমলা।






Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.