x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

শবরী শর্মা রায়

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
 শবরী শর্মা রায়


‘একমুঠো প্রলাপ’ এ আজ আমার আড্ডা এক লাজুক অন্তর্মুখী অথচ দুরন্ত কবির সাথে । হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন । ইনি কবি শবরী শর্মা রায় । এক আলিঙ্গনে আপন করে নিতে জানেন । মিষ্টি হাসিতে আর কথায় জন্মান্তরের পরিচয় যেন । আর কবিতা ? তাঁর কবিতা রিমঝিম করে বুকের ভেতর । ভাসিয়ে নিয়ে যায়, ফিরে দেখায় চেনা ছবির অচেনা অর্থ । আসুন, শোনাই কি কি গল্প হল আমাদের ... 

তোমার কবিতা দুরন্ত অনুভবী। আবার লেয়ারের পর লেয়ার তুলে ঝলক মারে ইন্টেলিজেন্স। এই মিশেলটা কি ভাবে রপ্ত করা যায়, অনুশীলনে নাকি এটা তোমার সহজাত?





কি যে বলি, লাইনগুলো কে যেন ভেতর থেকে বলে দেয়। আর টেকনিক্যাল ব্যাপারটা প্রতিদিন শিখি। আমি অগ্রজ ,অনুজ সবার লেখা পড়ি। তরুণদের লেখায় নতুনত্বের আভাস পাই, সেটা টানে। একই তো চাঁদ, কিন্তু মনজগত তাকে কত ভাবে আঁকছে, মেঘের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে, তার জন্য যে সাধনা, তা আর কতটুকু পারি , মনে হয় কিছুই পারি না।



তুমি তো কবিতার ফর্ম নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছ, কেউ আছেন অনুপ্রেরণা?





অবশ্যই ,কত নাম বলব, তবে এটা ঠিক প্রত্যেকের একটা নিজস্বতা আছে, বাঁক বদল তো হবেই সময়ের সঙ্গে, কিন্তু সেটা যেন চালাকী না হয়ে যায়। শব্দ নিয়ে কি অসাধারণ খেলা করেন অনেকে, কিন্তু একটা তরঙ্গ, একটা যোগসূত্র আছে, যেটা দেখা যায় না, মালার ভেতর সুতোর মত, সেটা ছিঁড়ে গেলে চলবে না।




সংসারকে আর পোষ্যদের যথেষ্ট সময় দিয়েছ ও দিচ্ছ। এখন তো ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নিয়েছ সংসারের প্রয়োজনেই। কবিরা নাকি সংসার উদাসীন,অগোছালো। তুমি তবে ব্যতিক্রম?



সংসার অগোছালো না হলে কবিতার রসদ কোথায় বল? ভাঙ্গা পুঁতির মালা, না পাঠানো চিঠি, শাড়িতে চোরকাঁটা , ছড়ানো বই , ছেটানো কাপ ডিশ এসবই ত কবিতার পাঁচফোড়ন। গভীর অরণ্যে কেমন ইচ্ছে মত গাছেরা হাত পা ছড়িয়ে বাঁচে। সেটাই যে ওর প্রাণ। 





জন্মসূত্রে ,কর্মসূত্রে বিভিন্ন রাজ্যে থেকেছ। ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ,সংস্কৃতি কি তোমার লেখাকে প্রভাবিত করেছে?




প্রভাব অবশ্যই আছে। প্রবাসী বাঙ্গালী হিসেবে অনুভব করেছি বাঙ্গালীর অহঙ্কার আর দুর্বলতা দুটোই। শিলং এ বড় হয়েছি, ওদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজ, লোকনৃত্য, গ্রামের মানুষের দুঃখ, দারিদ্র ,সরলতা,শহরের চাকচিক্য, সাম্প্রদায়িকতা এসব তো আছেই। আর বাবার কাছে অনেক ধরনের মানুষ আসতেন, নিজে সাতটা ভাষা জানতেন। ছোটোবেলা ঘুরে বেড়াতাম পাহাড়, জঙ্গলে বাবার সঙ্গে, তাদের ডালপালা ছড়িয়ে গেছে বুকের ভেতর। সে আমার অনেক পাওয়া।


তোমার তো গানের গলা খুব সুন্দর, তোমার মায়ের থেকে প্রাপ্তি নিশ্চয়ই। ওনার গান ও তো শুনেছি। চর্চা কর নিয়মিত? প্রথাগত তালিম নিয়েছ কারো কাছে?





না কোনো তালিম নেই আমার। ছোটোবেলা শখ ছিল নদীর কাছে গান শিখব। আমার জ্যাঠাইমা খুব ভাল গান গাইতেন, আর মা ...কত গান যে মা জানেন, এমন এমন গান, যা আর কার ও কাছে শুনি নি,আর সেই সঙ্গে দরদ ভরা অনন্য সুর। 




অসাধারণ ছড়া লেখ। বইও তো আছে ফড়িং ফুড়ুত ।স্কুলে শিক্ষকতা করেছ ,নিশ্চয়ই খুব জনপ্রিয় ছিলে ।এখন শ্রোতা কারা?




ছড়াগুলো খাতার ভেতর মুখ লুকিয়ে ছিল। কবি ভাই সঞ্জয় ঋষি (সুতরাং প্রকাশনী) নিজে উৎসাহ নিয়ে বইটা করেছে । ওকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আর ছবি এঁকে দিয়েছে আমার বড় মেয়ে স্মিতা, রাত জেগে একমাসের মধ্যে ।উৎসাহ ছিল আরও অনেকের ,আমার স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র সবাই । এ কোন একক কৃতিত্ব নয়, একে এক সমন্বয় বলতে পার। 



কোলকাতা বইমেলা নাকি এখনও যাওয়া হয় নি তোমার। ইচ্ছে করে না? এই কোলকাতা বইমেলাতেই তো তোমার দু’দুটো বই বেরিয়েছে। এই বইমেলাকে তো কবি সাহিত্যিকরা মক্কা মনে করে।




হ্যাঁ, কলকাতা বইমেলা আমার একটা স্বপ্ন। প্রিয় কবিদের দেখব, সামনে বসে কবিতার কথা শুনব... তবে আমি বিশ্বাস করি ,ইচ্ছে যখন আছে যাওয়া আমার হবেই। অপেক্ষা, বেঁচে থাকার আর এক রসদ যে ভাই।







লেখালেখির ব্যাপারে তোমার পরিবারের কি রকম সহযোগীতা পাও।




সেটা বেশ মজার ব্যাপার। এই সেদিন তরুণ কবি সৌভনিক চক্রবর্তী কে শোনাচ্ছিলাম একটা গদ্য কবিতা। লেখার শেষ অংশে ছিল বাউল ফকির তার ঝোলার ভেতর হাত ঢুকিয়ে কিছু খুঁজছে ,গাছকে উপহার দেবে বলে... হাতে ঠেকল দু চার পংক্তি গান ,সে তাদের পুঁতে দিল গাছের চারপাশে, আর ফুটে উঠল অসংখ্য চারা গাছ। আমার ভালমানুষ স্বামী চুপ করে শুনছিলেন , সৌভনিক বলল কেমন লাগল দাদা ,উনি গম্ভীর হয়ে বললেন... আমি ভাবসি ঝোলার ভিতর থিক্যা একটা লম্বা সাপ বাইর হইব। বোঝো , হি হি ,তবে জানো এ ও এক মজা, জীবনটাকে নানা ভাবে ভাবতে শেখায়। আমার তাই মনে হয়। 


এখন তো ব্যাঙ্গালোরেই থাকছ। বাংলা লিটারেরি সার্কেলটা মিস করো? নাকি ওখানেও তোমার এমন কোনো গোষ্ঠী আছে?





গোষ্ঠী আমার নেই। অবশ্যই কবিতা প্রেমী ওখানেও আছেন। রত্নদীপা অমিতাভ, দেবলীনা,আরও অনেকে। তবে আমি থাকতে পারলাম না, বড় বেশী দৌড় ওখানে, ফিরে এলাম আবার।





লেখালেখির পরিমন্ডলের বাইরে তোমার প্রথম পছন্দ কি?





যে কোনো ছবি, পেন্টিং আমায় খুব টানে। একটা ছবির দিকে তাকিয়ে অনেক ছবি দেখা যায়। যার ভেতর কবিতা লুকিয়ে থাকে। আর ছবি তো  শুধু কাগজে আঁকা নয়... প্রকৃতি যে অপূর্ব সন্ধ্যা এঁকে রেখেছে... পাশে ঝিরিঝিরি নদী... পশু পাখি, তাদের ব্যথা ,বিষন্নতা র বেহালা এসব কি লিখতে পারি ভাই... অথচ কবিতা তো তাকেই লেখার কথা বলে...। 

তোমাকে ভালোবাসা আর অসংখ্য ধন্যবাদ, মাত্র একবার দেখা হয়েছে, অথচ তোমার প্রশ্ন গুলো কেমন আমার ভেতরের আয়না টা খুঁজে বার করে আনল... খুব খুব ভাল থেকো ভাই। 


তুমিও ভালো থেক খুব । ‘শব্দের মিছিল’ এর পক্ষ থেকে তোমার জন্য অফুরান ভালোবাসা , শুভকামনা । আমরা ধন্য তোমার সাহচর্যে । 


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.