x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

পলাশ কুমার পাল

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
পলাশ কুমার পাল





ভাতের থালাটাও নির্বাক হয়ে রইল। রুচি হল না খেতে। এখন প্রতিরাত্রে ঐ থালাটার সাথে যত মান-অভিমান! অথচ একসময় ঐ থালাই ছিল স্বপ্ন। তখন অবশ্য সেদ্ধ চালের পরিবর্তে থাকত খুদ সেদ্ধ। আর তরকারির পরিবর্তে থাকত নুন আর তেলহীন আলুভাতে খোসাসহ। গোগ্রাসে গিলতাম কাঙালের মতো। কত স্বপ্ন ছিল তখন ঐ থালার দারিদ্রতায়! কিন্তু আজ?

আজ সেই থালাতে অতটা দারিদ্রতা নেই। স্বপ্নগুলো যে ক্ষয়ে গেছে! সেদিনের খিদের স্বপ্ন, সেদিনের অন্যের হেঁশেলের সুবাসিত খাবারের স্বপ্ন, ভোজবাড়ি... সব আজ কোথায় হারিয়ে গেছে...

আজ মনে হয় কুঁড়েঘরে খিদের স্বপ্নটাই জীবন; যেটা না থাকলে নিজের শিকড়কে চেনা যায় না। আজ অনেক বড় হয়েছি। কিন্তু শিকড়টা কোথায় যেন ক্ষয়ে যাচ্ছে... ক্রমশ ভারসাম্যহীন হয়ে পরছি!

একদিন ভোজবাড়ির খাবার ছিল বছরের উত্সব। সবার উত্সব শেষ হলেও একটা পাঁপড়ভাজা বা পাতা চেটে না খাওয়া পর্যন্ত আমার উত্সব চলত। একদিন এক নিকট আত্মীয়ের ঘরে এইরকমই এক উত্সব হয়েছিল। সেদিন খাবার খেতে পাইনি বলে ভীষণ যন্ত্রণা হয়েছিল। কেবল দূর থেকে গন্ধটুকু চেটেছিলাম কুত্তার মতো। বলেনি তারা! আজও মনে আছে সেদিনের খিদের স্বপ্ন!

একবছর দুর্গোত্সবের অষ্টমীতে কেবল খুদ খেয়ে থাকতে হয়েছিল প্রায় দিন। অন্তিম মূহূর্তে মাসির আগমনে এবং মাসির দেওয়া অর্থে কিনে আনা ময়দার আস্বাদ গ্রহণে সফল হয়েছিলাম। সেদিন বুঝেছিলাম স্বপ্নের সফলতা কতটা দামী!

কিন্তু এত শেখার পর আজ? আসলে অনেক বদলে গেছি। ভাতের থালাটা যখন খিদের অভাবে পরিত্যাগ করলাম, বুঝলাম স্বপ্নের পরিবর্তনের কথা। বড় হওয়ার সাথে সাথে স্বপ্নেরও কত পরিবর্তন হয়! আর এই পরিবর্তনের কাছে আমরা কত অসহায়!

যাকে ভালোবাসতে চাইছি বা যাতে একাত্ম হতে চাইছি কতটা পারছি জানি না। কিন্তু সেই স্পন্দনে উত্থিত যন্ত্রণাতে বলি হয়ে যাচ্ছে ভাতের থালার স্বপ্ন... যুক্তি দেখাচ্ছি 'রাতে ঘুম হয় না। খেলে যদি অসুস্থ হই!' আসলে যুক্তি-মুখোশের ভিতর অভিমান! সেদিনের খিদের মতো অভিমান। দারিদ্রতাকে মান্য করে তবু চুপ করে থাকা।

আজও আমি অযোগ্য স্বপ্নের কাছে। তবে স্বপ্ন আলাদা। কিন্তু মাটির টানটাতে শৈশবের সেই শিকড় কেন জানি না বড্ড জাপটে ধরছে! থালাটা চোখের পানে তাকিয়ে সেরকমই ঈঙ্গিত দিল। ভাতের থালাটার প্রাণটাতে প্রতিবিম্বিত আমি তলিয়ে যাচ্ছি... ভালোবাসি কতটুকু জানি না। তবে আমার স্বপ্নাত্মীয় ভাতের থালার দিব্যি দিয়ে বলছি আমি আজ যন্ত্রণা পাচ্ছি ভীষণ! থালাটা, মান-অভিমানগুলো সহ্য করছে বিনা প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু আমি? কোথায় যেন হারাচ্ছি...



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.