x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

পলাশ কুমার পাল

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
পলাশ কুমার পাল





ভাতের থালাটাও নির্বাক হয়ে রইল। রুচি হল না খেতে। এখন প্রতিরাত্রে ঐ থালাটার সাথে যত মান-অভিমান! অথচ একসময় ঐ থালাই ছিল স্বপ্ন। তখন অবশ্য সেদ্ধ চালের পরিবর্তে থাকত খুদ সেদ্ধ। আর তরকারির পরিবর্তে থাকত নুন আর তেলহীন আলুভাতে খোসাসহ। গোগ্রাসে গিলতাম কাঙালের মতো। কত স্বপ্ন ছিল তখন ঐ থালার দারিদ্রতায়! কিন্তু আজ?

আজ সেই থালাতে অতটা দারিদ্রতা নেই। স্বপ্নগুলো যে ক্ষয়ে গেছে! সেদিনের খিদের স্বপ্ন, সেদিনের অন্যের হেঁশেলের সুবাসিত খাবারের স্বপ্ন, ভোজবাড়ি... সব আজ কোথায় হারিয়ে গেছে...

আজ মনে হয় কুঁড়েঘরে খিদের স্বপ্নটাই জীবন; যেটা না থাকলে নিজের শিকড়কে চেনা যায় না। আজ অনেক বড় হয়েছি। কিন্তু শিকড়টা কোথায় যেন ক্ষয়ে যাচ্ছে... ক্রমশ ভারসাম্যহীন হয়ে পরছি!

একদিন ভোজবাড়ির খাবার ছিল বছরের উত্সব। সবার উত্সব শেষ হলেও একটা পাঁপড়ভাজা বা পাতা চেটে না খাওয়া পর্যন্ত আমার উত্সব চলত। একদিন এক নিকট আত্মীয়ের ঘরে এইরকমই এক উত্সব হয়েছিল। সেদিন খাবার খেতে পাইনি বলে ভীষণ যন্ত্রণা হয়েছিল। কেবল দূর থেকে গন্ধটুকু চেটেছিলাম কুত্তার মতো। বলেনি তারা! আজও মনে আছে সেদিনের খিদের স্বপ্ন!

একবছর দুর্গোত্সবের অষ্টমীতে কেবল খুদ খেয়ে থাকতে হয়েছিল প্রায় দিন। অন্তিম মূহূর্তে মাসির আগমনে এবং মাসির দেওয়া অর্থে কিনে আনা ময়দার আস্বাদ গ্রহণে সফল হয়েছিলাম। সেদিন বুঝেছিলাম স্বপ্নের সফলতা কতটা দামী!

কিন্তু এত শেখার পর আজ? আসলে অনেক বদলে গেছি। ভাতের থালাটা যখন খিদের অভাবে পরিত্যাগ করলাম, বুঝলাম স্বপ্নের পরিবর্তনের কথা। বড় হওয়ার সাথে সাথে স্বপ্নেরও কত পরিবর্তন হয়! আর এই পরিবর্তনের কাছে আমরা কত অসহায়!

যাকে ভালোবাসতে চাইছি বা যাতে একাত্ম হতে চাইছি কতটা পারছি জানি না। কিন্তু সেই স্পন্দনে উত্থিত যন্ত্রণাতে বলি হয়ে যাচ্ছে ভাতের থালার স্বপ্ন... যুক্তি দেখাচ্ছি 'রাতে ঘুম হয় না। খেলে যদি অসুস্থ হই!' আসলে যুক্তি-মুখোশের ভিতর অভিমান! সেদিনের খিদের মতো অভিমান। দারিদ্রতাকে মান্য করে তবু চুপ করে থাকা।

আজও আমি অযোগ্য স্বপ্নের কাছে। তবে স্বপ্ন আলাদা। কিন্তু মাটির টানটাতে শৈশবের সেই শিকড় কেন জানি না বড্ড জাপটে ধরছে! থালাটা চোখের পানে তাকিয়ে সেরকমই ঈঙ্গিত দিল। ভাতের থালাটার প্রাণটাতে প্রতিবিম্বিত আমি তলিয়ে যাচ্ছি... ভালোবাসি কতটুকু জানি না। তবে আমার স্বপ্নাত্মীয় ভাতের থালার দিব্যি দিয়ে বলছি আমি আজ যন্ত্রণা পাচ্ছি ভীষণ! থালাটা, মান-অভিমানগুলো সহ্য করছে বিনা প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু আমি? কোথায় যেন হারাচ্ছি...



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.