x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
 হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

১।
১।

রিও অলিম্পিক্স চলাকালীন সাহিত্যিক শোভা দে হঠাৎ বলে বসলেন, "অলিম্পিক্সে ভারতীয় খেলোয়াড়দের কেন যাওয়া? ওরা তো যায় শুধু দেশ ঘুরতে আর সেলফি তুলতে।" হ্যাঁ আমি জানি উনি কোন দিকে আঙুল তুলেছেন। ভারতীয় খেলোয়াড়রা সেইভাবে কোনো পদক পান না। কিন্তু যাঁরা অলিম্পিক্সের মতো আসরে যাচ্ছেন তাঁরা নিশ্চয়ই যথেষ্ট প্রতিভাবান। পদক না পাওয়া অন্য ব্যাপার। কিন্তু কোনো খেলোয়াড় অলিম্পিক্সের মতো প্রতিযোগিতায় তাঁর একশ ভাগ তুলে দেবেন না পদক জয়ের জন্য --- এটা কী ভাবা যায়? আসলে ব্যাপারটা তা নয়। ওনাকে যে কোনো ভাবে খবরে থাকতেই হবে। দেশের মানুষ সব সময় তাঁকে নিয়ে চর্চা করবেন --- এটাই তিনি চান। এটা একটা রোগের মতো । নিজের ক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মন্তব্যে করা শুধু এই কারণেই। মকবুল ফিদা হুসেনকেও দেখেছি এই একই রোগে ভুগতে। ছবি নিয়ে বাণিজ্য করাকে উনি যে পছন্দ করেন না তা প্রমাণ করার জন্য কলকাতার টাটা সেন্টারে উনি একবার কয়েকদিন ধরে ছবি আঁকলেন এবং তারপর একদিন সাংবাদিকদের ডেকে সেই সব ছবি আঁকা ক্যানভাসগুলি রঙ দিয়ে নষ্ট করে দিলেন। সেদিন সেই অনুষ্ঠানে আমিও হাজির ছিলাম। যে মানুষটা আমৃত্যু যেভাবেই হোক খবরে থাকতে চেয়েছে তার এই ধরণের আচরণ চূড়ান্ত হাস্যকর। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের এই ধরনের আচরণ তাঁকে যে মানুষের কাছে আরও ছোটো করে দেয় তা এঁরা কবে বুঝবেন।

২।

আমরা আবার পারলাম। চেষ্টা করলে যে মানুষ সব পারে তা তুমি আরও একবার প্রমাণ করে দেখালে। আমি তোমার চোখে চোখ রেখে দেখছিলাম ----- কী অটল আত্মবিশ্বাস । তোমার দৌড়ে আসা ----- আগুনের বিস্তার । প্রোদুনোভা ভল্টের পর তোমার ল্যাণ্ডিং লড়াকু মানুষের দাঁড়াবার জায়গা । তোমার উঠে দাঁড়ানো ----- সংগ্রামী মানুষের জাগরণ ---- আমার দেশমাতার পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানো । অভিযানের শেষে তুমি স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়েছিলে ----- ওখানে কী উঠেছিল ? সংখ্যা ! তোমার ধারাবাহিক লড়াইয়ের মান কোনো নম্বরে ধরা পড়বে না । তাই স্কোরবোর্ডেও তা অনুপস্থিত । দীপা, তোমার চতুর্থ স্থান তাই আজন্ম লড়াকু মানুষের মুখের ভাষা ----পাথরে ফুল ফোটানো।


৩।

এবার আমরা একটু শিক্ষাঙ্গণে দৃষ্টি দেব। যেখানকার ছবিটা আমাদের চেনাজানা ছবির একেবারে বাইরে। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে ঘোষপুর শ্রী নেহেরু উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা একটা বিরাট অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে । ১৫ আগস্ট ওই বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরাই স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে । কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা শেষ পর্যন্ত এসে পৌঁছতে পারেন নি । পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার যথারীতি শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে এসে দেখেন, বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলছে । সব ছাত্র-ছাত্রী বাইরে । প্রকাশ্য দিবালোকে সকলের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষমা চাইতে হয় ১৫ আগস্টের অপকর্মের জন্য । পরে পুলিশ এসে অবস্থা সামাল দেয় এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মুক্ত করেন । যত দিন যাবে আমাদের আরও কত কিছু দেখতে হবে! শিক্ষাক্ষেত্রে যাঁরা ঈশ্বর তাঁরা তো সব কিছুর ঊর্দ্ধে। তাঁদের আবার দোষ হতে যাবে কোন দুঃখে! আসলে এসব কিছুর মূলে অভিজ্ঞতার অভাব । বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা না জেনে এসব করে ফেলেছে । শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ আপনারা অপরাধ নেবেন না । আপনাদের মূল্য ওরা কী বুঝবে ! আপনাদের মতো আমারও এই পেশায় প্রায় ছাব্বিশ বছর হয়ে গেল । না, সরকারি ছাপ এই হতভাগার কপালে জোটে নি । কিন্তু তবুও দু'চারটে ছেলেকে আমিও পড়াই । তাই এটা খুব ভালো করেই জানি, স্বাধীনতা দিবসটা আসলে ওদের মানে ছাত্র-ছাত্রীদের । আমরা এই বুড়োধারীরা কী স্বাধীনতা দিবস পালন করব ! আমরা তো ওদের তৈরী করে দিয়েছি । এবার ওরা করুক । প্রতি বছর সেই এক জিনিস করতে করতে আমরা ক্লান্ত । এবার একটু আমাদের রেহাই দিক । এই সুযোগে আমরা একটু দীঘায় জলকেলি করে আসি । তাই না ? আমাদের দুঃখ কবে যে ওরা বুঝবে ! সে যাই হোক, ছাত্র-ছাত্রীদের এইরকম অমানুষের মতো কাজ কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না । হাজার হোক আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর । তাই এই বেয়াদপি কিছুতেই মেনে নেবেন না । কারণ এখন প্রশ্রয় দিলে পরে এটা অন্যদিকে বাঁক নিতে পারে । তাই প্রোজেক্ট আর প্রাকটিক্যালে চেপে দিন । এমন ' কড়কে ' দেবেন যে, ভবিষ্যতে আর যেন কেউ আপনাদের দিকে আঙুল তুলতে সাহস না পায় । আপনাদের তো এসব ভালই অভ্যাস আছে !


৪।

আবেশ দাশগুপ্তের মতো সেই এক পরিণতি। তবে এবারে একজন নয় ----- তিন তিনজন। শিবরাজ নস্কর, সুরজ দাশগুপ্ত, বৈভব সাণ্ডিল্য। প্রতিটি পরিবার বিপুল বৈভবের অধিকারী। কোনো বিশেষণই তাদের বৈভব প্রকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। স্বাভাবিকভাবেই অর্থের কোনো হিসেব নেই, হিসেব নেই জীবনেরও। আবেশ দাশগুপ্তের মা ছেলেকে তার বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টি উপলক্ষে একটা মোটা অঙ্কের টাকা হাতে দিলেন । একবারও তিনি জানতে চাইলেন না, এত টাকা সে কোন কাজে লাগাবে। অন্যদিকে গতকাল মন্দারমণির সমুদ্র সৈকতে ভয়ানক দূর্ঘটনাটিতে মৃত তিনটি ছেলের বাড়ির লোকেরা কেউ জানতেন না, ছেলেগুলো গাড়ি নিয়ে এতদূর আসছে। আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে, এদের বাড়ির লোকেরা কী করে? কবি সাহিত্যক হলে জানতাম আত্মভোলা মানুষ। কিন্তু এরা তো একশ ভাগ ভোগসুখে লিপ্ত পার্থিব মানুষ । না, আমি আবেশ দাশগুপ্তের মায়ের জীবনযাত্রা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি জানি সেই সময় অনেক পত্রপত্রিকা আবেশকে ছেড়ে তার মাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। আমি এর তীব্র বিরোধীতা করি। একটা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু থাকবে না ? তার মতো করে সে নিশ্চয়ই জীবন কাটাতে পারে। হিন্দুধর্মে একটা নিয়ম আছে না, মৃত ব্যক্তির নামে গয়ায় পিণ্ডদান করতে গিয়ে একটা ফল দান করে আসে মানুষ। ফিরে এসে প্রাত্যহিকতায় ওই ফলকে সে আর কাছে ডাকে না। যাঁরা বিশ্বাস করেন করুন, আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই। আমার কাছে এটি একটি অসার সংস্কার ---- এর মধ্যে দিয়ে কোনো কিছুই প্রকাশ পায় না। তবুও এরকম একটি অসার বিষয়কে বছরের বছর ধরে চালিয়ে নিয়ে যাবার কী আন্তরিক চেষ্টা আমাদের! কিন্তু অন্য দিকটা আমরা তাকাচ্ছি না কেন ? যেই সন্তান হলো আপনিও কিছু জিনিস জীবনের পায়ে উৎসর্গ করে দিন ---- পরে সেগুলির দিকে আর ফিরেও তাকাবেন না। কোন জিনিসগুলির প্রতি ইঙ্গিত করছি নিশ্চয়ই সেটা বুঝতে পারছেন। হ্যাঁ, যে কথা বলছিলাম ---- আবেশ, শিবরাজ, সুরজ, বৈভবের পরিবারের মানুষজন কী করেন? আমি জানি তাঁরা কী করেন। তাঁরা ছোটেন, শুধু ছোটেন। ছুটতে ছুটতে সময় বিক্রি করেন। আপনারা আরও ছুটুন, আরও উচ্চদরে সময় বিক্রি করুন। কিন্তু একটা কথার জবাব দিন তো ---- ছুটতে যদি এত ভালবাসেন তাহলে ছেলেমেয়েগুলোকে পৃথিবীতে আনলেন কেন? রবীন্দ্রনাথ অতি শৈশবেই বুঝেছিলেন, আনন্দ উপভোগে বাইরের চেয়ে অন্তরের অনুষ্ঠানই গুরুত্বপূর্ণ। বুঝেছিলেন প্রয়োজনের অতিরিক্ততায় শিশুর আনন্দ মাটি হয়ে যায়। তিনি এও বলেছিলেন ---- না চাইতেই যে সবকিছু পায় তার মতো অভাগা পৃথিবীতে নেই। না, রবীন্দ্রনাথ আপনাদের কাছ থেকে আশা করি না। আপনাদের রক্ত অন্য কথা বলে। এটা একদিনে হয় না। এটা একটা দীর্ঘ process - এর ব্যাপার। আর তাছাড়া এটা তো সত্যি, মানুষ পৃথিবীতে এসে কিছু একটা তো দেখাতে চাইবে। বৈভব ছাড়া আপনাদের আর দেখাবার আছেটাই বা কী! আর সময় নেই। সময় ধ্বংসের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। যদি কিছুটা আটকানো যায়। তাই মদের গ্লাসটা একটু সরিয়ে রাখুন, মাঝরাতের নাচটা একটু থামান। অনেকদিনের বন্ধ জানলাটা একটু খুলুন। আকাশ দেখুন। গান শুনুন। ছেলেমেয়েদের পাশে নিন। একটু হাসুন। রামদেবের ব্যায়ামের মতো শারীরিক হাসি নয়। মন থেকে হাসুন। এইভাবেই দীর্ঘদিনের অভ্যাসে ছেলেমেয়েদের বুকে একটু হলেও সবুজ জন্মাবে। ওটাই আপনাদের মাটি। আপনাদের দাঁড়াবার জায়গা।


৫।

এবার আমরা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে একটু নজর দেবো। উত্তরপ্রদেশের পিলিভিট অঞ্চলের ঘটনা। মাত্র কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া। এক সাধারণ গৃহবধূ। নাম রেখা। খুবই সুন্দরী সে। এতই সুন্দরী ---- যেখানেই যায় সেখানেই তাঁর রূপের প্রশংসা করতে মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পাশেই থাকেন তাঁর স্বামী নির্মলকুমার। তাঁর দিকে ফিরেও কেউ তাকান না, প্রশংসা করা তো দূরে থাক। স্বামী হিসেবে এটা তিনি মেনে নিতে পারেন নি । তাঁরই খাবে, তাঁরই পড়বে অথচ তাঁকেই টেক্কা দিয়ে যাওয়া । সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে। বৌকে হাজারো বিদ্রূপে ভরিয়ে দেন স্বামী । ছেলেটির বাবা অর্থাৎ শ্বশুরও এতে যোগ দেন। একসময় বৌটির ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায়। তিনি নিজের মুখেই আগুন ধরিয়ে দেন। ডাক্তার জানিয়েছেন, মুখ প্রায় ২০ -- ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অর্থাৎ বৌটি আর কোনোদিনই তাঁর আগের মুখে ফিরে যেতে পারবেন না। সংসারে এখন শান্তি । 

সেই চিরকালীন সমস্যা ----- কে বেশী সুন্দর? মা-মেয়ের ঝগড়া, শাশুড়ী বৌয়ের ঝগড়া ---- সেই কোন ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি। আমার অনেক উচ্চশিক্ষিত বন্ধু-বান্ধবীকেও দেখেছি চিন্তা-ভাবনা, বোধ-চেতনা বিসর্জন দিয়ে সুন্দর/সুন্দরী দেখলেই একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়তে। শুধু দেখতে সুন্দর হলেই তাঁরা শত দোষকে ভুলেও সামনে আনেন না। সুন্দর হলেই হল, ব্যাস। এরা সবাই নির্মলকুমারের সঙ্গে একই আসনে বসতে পারেন। সুন্দরকে সুন্দর বলায় তো কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তা কেন নির্বাচনের প্রধান মানদণ্ড হবে ? কেন তা নিয়ে হবে প্রাণঘাতী কলহ? সত্যিই পৃথিবীতে কোনো মানুষ কী অসুন্দর? প্রতিটি মানুষ তাঁর নিজের মতো করে সুন্দর। 'কুৎসিত' শব্দটি কী মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে? আমি বিশ্বাস করি না। মানুষ মানুষের মনের অর্ন্তসৌন্দর্যের দিকে দৃষ্টিপাত করুক। পাশাপাশি মানুষ ব্যস্ত থাকুক অর্ন্তসৌন্দর্য বৃদ্ধির ব্যস্ততায়। আসলে মানুষ ভেতরে ভেতরে যত অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়ছে ততই বাহ্যিক সৌন্দর্য মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। সত্যিই আজ আমরা বড় লঘু হয়ে পড়ছি ।


৬।

আমরা ব্রিটিশ আমলের লোক নই। আমাদের যৌবনকে এখনও ঘাড় ঘুরিয়ে দেখা যায় । কিন্তু তবুও বলতে পারি আমাদের সময়ে শিক্ষক দিবসের কোনো আলাদা পরিচয় ছিল না। আজকের রমরমা তো ছেড়েই দিলাম। সেদিনও স্কুল যেতাম। চতুর্থ পিরিয়ডের পর ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে একটা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হতো। ক্লাসঘরে যাঁদেরকে দেখতে অভ্যস্ত তাঁদেরকে সেদিন খেলার মাঠে নতুন করে আবিষ্কার করতাম । আমার কাছে প্রতি বছর এটা খুব বড় একটা পাওয়া ছিল। না, শিক্ষকদের আলাদা করে আমরা কিছু দিতাম না। কিন্তু তাতে তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ভালবাসার এতটুকু ঘাটতি পরে নি। আসলে কী ভেতরে ভেতরে আমরা দিন দিন যত অসার হয়ে যাচ্ছি, ততই কী বাইরে আমাদের দেখানেপনা বেড়ে উঠছে? অনেকই বলবেন, ছাত্রদের দিকে একবার তাকান। হ্যাঁ, তাকিয়েছি। অনেকের থেকে বেশিই তাকিয়েছি। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো তারা কাদের দেখে শিখবে? শিক্ষকরা কতক্ষণ ছাত্রদের কথা ভাবেন? অর্থের দিকে তাকিয়েই তো তাদের সময় চলে যায় । আর যেহেতু ছাত্রদের থেকে অর্থ অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ, তাই শিক্ষক-শিক্ষিকারা অর্থ চেনাকেই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেছেন। আজ শিক্ষক-শিক্ষিকা আর ছাত্র-ছাত্রী সবাই বদলে গেছে। তাই আজকের দুনিয়ায় কেউ বিশেষ চিন্তিত নয়। কারণ কেউ কিছু হারায় নি।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.