x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

অভিজিৎ পাল

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ |
অভিজিৎ পাল


চর্যাগীতিকোষবৃত্তি সিরিজের দশটি কবিতা:

একাদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

শরীরজ নাড়ীশক্তিকে আরও দৃঢ় করি। ভীমনাদে বেজে ওঠে অনাহত ডমরু। উচ্চ নাদ শোনা যায়। কৃষ্ণাচার্য সেজে ওঠে কাহ্নপাদ। যোগাচারের মঞ্জরী সাজায়। শরীর মন প্রাণের রসায়ন দেখে খিল খিল হাসে। যথাচারের আবহ মাখিয়ে রাখে অনবদ্য মমতায়। অসীম সসীম দেহনগরী বিহার। সাধন পদ্ধতির আলি-কালি দিয়ে বাঁধে নূপুর। মুহূর্ত বুঝে নক্ষত্রমন্ডল থেকে কর্ণাভরণ ঋদ্ধ করে সূর্য-চাঁদ একসাথে। রিপুদোষ মুছে আসে শরীরময়। ছাইবৎ উড়ে যায় ইতিউঁতি। অদূরবর্তী বোধিচিত্ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। পুনশ্চ দৃঢ় হয়ে আসে নাড়ী। নিরংশু-সপ্রপঞ্চ চর্যার গান শোনা যায়....


দ্বাদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

গুরুমুখী পন্থায় ভববল জয় করতে করতে করুণাভা মাখানো ছকে ফেলে ঠিক ঠাক শিখে নিতে থাকি দাবাখেলা। ভাবনারা বাড়তে থাকে। একটা জিতে যাওয়ার প্রচেষ্টা। জিনপুরের পথ পুনশ্চ ক্রমশ পুরাধুনিক ভাবে সুরম্য সুগম্য হয়ে ওঠে কাহ্নপাদের সামনে। অহৈতুকী দু'দান সরাতেই কিস্তিমাৎ হওয়ার কথা ছিল। বিবর্তিত হয়ে ওঠে ভাবনারা। প্রাথমিকী পদাতিক হত্যায় করি জয়সূচনা। গজগমনে আমূল জখম করি পাঁচ বিদ্রোহীকে। হি হি করে হাসি। হি হি হি হি। মন্ত্রণাদাতাকে আগুয়ান করি। স্বয়ং এ খেলায় এবার রাজাধিরাজ অবশ হয়ে আসছেন। সুতো ঘুরে চলে। গুটিয়ে আসে। কাহ্নপাদের জয় নিশ্চয়তা মাপতে বসে। চৌষটি ঘরে একা জয়স্তম্ভ গুনে নিতে থাকে..


ত্রয়োদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

ত্রিশরণী নৌকা সাজাই। আট কুঠুরি নয় দরজা এঁটে বসি। সাধনপন্থী শূন্যতা আর করুণাকে সহবৎ করে তুলি কাহ্নপাদের দেখানো পন্থায়। শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখি। স্তব্ধ হই। নিস্পৃহ হই। মহাসুখকায় হাতে নিয়ে পার হয়ে আসি অগাধ জলধি। একটা স্বপ্নের ঘোর লেগে থাকে। মাঝগাঙে চিরচেনা নদীর ঊর্মিমালার রকমফের ওঠা নামা। পঞ্চ তথাগত কেড়ুয়াল সাজে। বয়ে বেড়ায় নৌবাহনের দাঁড়। গন্ধ স্পর্শ রসের মতো নিদ্রাহীন এক স্বপ্নময় বিতান। শূন্যপথে অবধূতিমার্গে মন ধরে হাল। দৃঢ় হয়ে ওঠে। যোগাসনে বসে কাহ্ন চায় মহাসুখের নাগাল। মায়াজালবিমোক্ষ চর্যার আবহ গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে...


চতুর্দশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

গঙ্গা-যমুনার মাঝ বরাবর বয়ে যায় এক নদীর স্রোত। বুড়িলী মাতঙ্গী করে পার। যোগি পুনশ্চ শরণার্থীর ঋতুমালা সাজায়। ডোম্বী খেয়া বায়। অবলীলায় সারাবেলা কাটে। গুরুর সন্ধানে ফিরি জিনপুরে। ডোম্বীপাদের সাথে নিরুদ্দেশ যাত্রারম্ভ সূচিত হয়। প্রসাদানন্দ ধ্বনিত হতে থাকে। পাঁচ দাঁড় দ্রুত ওঠে পড়ে। তালে তালে ছন্দে। কাছি বাঁধা চলে দৃঢ়তায়। গগনের দু'খোল শুষে ফেলে জল। চাঁদ-সূর্য চাকার মতো ঘুরে যায়। মাস্তুলে শক্ত করে সৃষ্টি-সংহার বাঁধি। মাঝপথে চোখ রাখি। ডোম্বীর হাত ধরে পার হয়ে আসি নদীপথ। পারাণীর কড়ি চলে না। হাসি খেলায় পার হয়ে আসি। অজানা কোনো এক বাহনহীন কূলে ঘুরে মরে...


পঞ্চদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

আত্মস্বরূপ বিচার করতে বসি। স্বসংবেদন অলক্ষ্য হয়ে ওঠে। লক্ষণ খুঁজে ফিরি। ঋজুপথে হেঁটে গেছে পূর্বজরা। ফেরেনি কেউ। মোক্ষমার্গ উন্মোচিত হয়েছে ছন্দে ছন্দে। এখনও আমি কুলে কুলে ফিরি। ভ্রান্ত হই। সরল সোজা বাঁকহীন সুখসরণি অনাবৃত হয়ে আসে। কনকধারাময় রাজপথ দৃশ্যমান হয়ে আসছে। মোহমায়ায় মিশে মহাসমুদ্র অনন্তের বার্তা আনে আমার সামনে। পারি দেওয়ার জলযান খুঁজে না পেলে উন্মুখ হয়ে বসি গুরুর পদপ্রান্তে। ভূধর প্রান্তরের সীমা পাই না। জানি সোজা এ পথে গেলেই অষ্ট বুদ্ধৈশ্বর্য নিশ্চিত প্রকাশ হবে। চোখ বুজে মধ্যপথে শান্তিপাদের হাত ধরি। সমস্ত পার্থিব প্রতিবন্ধকদের চকিতে পার হয়ে যাই।


ষোড়শ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

গন্ধগজকে আবদ্ধ করে তুলি তিন পাটে। জয়ঢাক বেজে ওঠে অনাহত নাদে। মত্ত গর্জন শোনা যায়। বিষয়মণ্ডল ভেঙে পড়ে প্রহারের তাপে। ধেয়ে আসে মদমত্ত গজেন্দ্র মহারাজ। তুঁষ ঘোলায় আদিগন্ত। পাপ-পুণ্যের বেণী ছিঁড়ে ফেলে, ভেঙে ফেলে আলানস্তম্ভের শিকল। মনে আমার নির্বাণ নেমে আসে। গোটা ত্রিভুবন উপেক্ষা করে মহারসপানে হয়ে উঠি মাতাল। পঞ্চানুভূতির ছদ্মবেশী নায়ক মহাগজেন্দ্রকে চিনে ফেলি। আমার আজন্ম বিপক্ষরা ম্লান হয়ে আসে। খরতাপে নেমে আসি মন্দাকিনীর জলে। দূরে মহীধরপাদ জ্ঞানের আলো মেলে বসে থাকে। আমি অগ্রসর হতে শিখি। মহাসুখাভিসারের আলো ফুটে ওঠে..


সপ্তদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

অন্য অভিধায় লাউতে মিশিয়ে বাঁধি সূর্য, তন্ত্রীতে বাঁধি চাঁদ। উভয়ে মিশিয়ে বাঁধি অনাহতকে দৃঢ়তায়। হেরুক বীণা বাজে। ধ্বনি শোনা যায়। সখীসম্মুখে বাজাই নমনীয় ধ্বনি। শূন্যতা নাদে বিলাসিনী হয়ে ওঠে করুণার সূক্ষ্ম অনুরণন। সুরের উঠা পড়া চলে স্বর-ব্যঞ্জনে। আমাদের মননভূমি শান্ত হয়ে আসে। দোষসন্ধির বিচার মেলে বসি। বীণাপাদ হেরুকযোগের গূঢ়ার্থ ব্যাখ্যায় বসেন। বত্রিশ তাঁরের অনুরণনে বীণাধ্বনি অনাহত সেই মহাকাব্যিক শূন্যতা আকাশ বাতাস ব্যাপ্ত করে তোলে। শ্রীবজ্রধর নেচে ওঠেন। দেবী গান গীত। বুদ্ধ বিষয়ক নাটক পুনশ্চ শান্তিময় হয়ে ওঠে...


অষ্টাদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

হেলায় হেলায় পার হয়ে এসেছি ত্রিভুবনের খেয়াঘাট। এখন আনন্দে মহাসুখে হয়ে আছি সুপ্ত। কুটিলস্বভাবাপন্ন ডোম্বীকে দেখে হাসি। বাইরে কুলীন আর ভেতরে কাপালিক সাজি। একটু অকথিত দ্বিচারী হতে চাই। ডোম্বীর ছোঁয়ায় টলে ওঠে আমার স্নায়ুর বোধিচন্দ্র। ডোম্বী, দ্বিচারিনী ছিনালী তুই জানি, তবু পারঙ্গমা স্বভাবে তুই এখনও কণ্ঠে জড়িয়ে বসে আছিস অসীম কৌশলে। নড়বড়ে হয়ে পড়ছি। আমায় কামচণ্ডালীর পদ শোনায় কাহ্নপাদ। জ্ঞানাগ্নির আনন্দে সংবৃত্তি আর পরমার্থ সত্যের পাঠ নিতে বসি। পুনশ্চ ঋদ্ধ হই...


ঊনবিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

ভব নির্বাণে বেজে ওঠে ঢোল পাখোয়াজ। মন-পবন বাজায় বেণু-ঝাঁপান। ধূমল ক্যানভাসে একটা জয়সূচক উলুধ্বনি ওঠে। বেজে ওঠে আনন্দ দুন্দুভির শব্দ। নতুন ছবি আঁকি। কাহ্নপাদের সঙ্গে ডোম্বীর পরিণয় গাঁথি। সমাজবিধিকে হেলায় করি দীর্ণ। যৌতুকে রাখি পরমপদ। এতদিন যা আমারও পরম প্রত্যাশিত ছিল। দিন কাটে নিয়মমাফিক। রাতের পর রাত সরে যায় সুরতক্রিয়ায়। যোগিনী সঙ্গে কেটে যায় আনত হয়ে থাকা এক একটি জ্যোৎস্না মাখানো মহাকাব্যিক রাত। সহজে মাতে ডোম্বীর রঙ্গের দিন। আলিঙ্গন দৃঢ় হয়ে আসে শরীরময়। আরও একটা নতুন চর্যার গান প্রকাশ করে কাহ্নপাদ। অবলীলায় তাঁকে অদ্বয় হতে দেখি চোখের সামনে...


বিংশতি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি 

আদিতমা আকাঙ্ক্ষাহীনার দিকে চেয়ে দেখি। কান্ত আমি ক্ষণপক এক। স্থলন পতনে অভ্যস্থ হই। হ্রাস-বৃদ্ধিহীন আমাদের প্রেম নতুন করে অকথনীয় হয়ে ওঠে। আত্মঘরে তাকিয়ে দেখি। ভ্রান্ত প্রত্যাশার দল বাতাসে লীন হয়ে ওঠে। গর্ভ থেকে জন্ম নেয় বাসনার দল। অপত্য বলে চিহ্নিত করতে শিখি। নাড়ী ছিন্নের সূত্রে একটা অজানা শূন্যতার বোধ হঠাৎ জেগে ওঠে উদাস ঢঙে। গোঙাতে থাকে একটা নিটোল ভালোবাসা মাখানো যৌবন। ষোলকলা পূর্ণ হয়ে আসে। পূর্বপুরুষের স্মৃতি ম্লান হয়ে আসছে এবার। বীর বোদ্ধার জটিল সংসারযাপনের পাঠ নতুন করে আঁকতে শেখাচ্ছে কুক্কুরীপাদ। প্রজ্ঞাপারমিতার অর্থামৃত পানে পরিতুষ্ট হয়ে উঠতে থাকি...




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.