x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬

তন্দ্রা মন্ডল

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
tandra



আট বছরের ছোট্ট সামু গল্প শুনতে খুব ভালবাসে। কেবলই এই বায়না তার মায়ের কাছে। কত আর গল্প বলা যায়, তাই একদিন তার মা, মহাপুরুষদের ছেলেবেলার কাহিনী নিয়ে রচিত একটি বই কিনে আনেন ছেলের জন্য। ভীষন খুশী সামু ... অবসর সময়ে মা প্রতিদিন একজন মহাপুরুষের জীবন কাহিনী পড়ে শোনায় তাকে। বিস্ফারিত নেত্রে সেইসব ঘটনা শুনতে শুনতে কোথায় হারিয়ে যায় সামু। বিশেষত বিদ্যাসাগর আর বিবেকানন্দের দয়াশীলতা তাকে ভীষন ভাবে আকৃষ্ট ও উদ্বুদ্ধ করে ... অন্তর ছুঁয়ে যায় তার। তাঁদের মহত্বের প্রশংসা, মায়ের মুখে শুনে মায়ের প্রতিও তার শ্রদ্ধা ভালবাসা অনেক গুনে বেড়ে যায় যেন। এভাবেই দিন কাটে ছোট্ট সামুর।

বাড়ী থেকে স্কুল যাওয়ার পথে প্রায়ই একজন ভিখারীকে দেখতে পায় সামু। মোটামুটি তারই বয়সী ছেলেটি, বাঁ হাতটা কনুই থেকে কাটা, গায়ে ছেঁড়া জামা, চুলগুলো উসকো খুসকো, হাড় জিরজিরে চেহারা। খুব মায়া হয় তাকে দেখে সামুর ইচ্ছে করে কিছু দিতে। কিন্তু তার কাছে তো পয়সাও নেই। দিন কয়েক পর...একদিন মায়ের ব্যাগ খুলে একটা পাঁচ শো টাকার নোট পায় সে ... ব্যস্ যেমন ভাবা তেমন কাজ, স্কুল যাওয়ার পথে ওই ভিখারী ছেলেটিকে দিয়ে দেয় সে নোট টা।

সেদিন বাড়ী ফিরে সামু দেখে, কাজের মাসীকে মা ভীষন বকাবকি করছে, আর মাসী ভয়ে আড়ষ্ঠ  হয়ে বলে চলেছে,’ বিশ্বাস করো বৌদি আমি টাকা নিই নি’। ব্যাপারটা বুঝে সামু তক্ষুনি মাকে বলে ফেলে সত্যটা। ব্যস্ অমনি মায়ের সমস্থ রাগ গিয়ে পড়ে তার উপর। ছেলের গালে সজোরে এক চড় কষিয়ে ক্রুদ্ধ স্বরে সামুকে বলেন,’চুরি করতে শিখেছিস তুই? ...এই বয়েস থেকে? কাঁদতে কাঁদতে সামু বলে,’আমি চুরি করি নি মা’। কিন্তু কে কার কথা শোনে তখন। অগ্নিশর্মা হয়ে মা তখন শাসন করেই চলেছে ছেলেকে। অঝোরে কাঁদতে থাকে সামু, তার নিষ্পাপ শিশুমন আঘাতে আঘাতে চুরমার হয়ে যায়, ভাল-মন্দ,ঠিক-ভুল,ন্যায়-অন্যায় সব গুলিয়ে যায় তার। মাকেও বড়ো অচেনা লাগে আজ সামুর।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.