x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

তন্দ্রা মন্ডল

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ |
tandra



আট বছরের ছোট্ট সামু গল্প শুনতে খুব ভালবাসে। কেবলই এই বায়না তার মায়ের কাছে। কত আর গল্প বলা যায়, তাই একদিন তার মা, মহাপুরুষদের ছেলেবেলার কাহিনী নিয়ে রচিত একটি বই কিনে আনেন ছেলের জন্য। ভীষন খুশী সামু ... অবসর সময়ে মা প্রতিদিন একজন মহাপুরুষের জীবন কাহিনী পড়ে শোনায় তাকে। বিস্ফারিত নেত্রে সেইসব ঘটনা শুনতে শুনতে কোথায় হারিয়ে যায় সামু। বিশেষত বিদ্যাসাগর আর বিবেকানন্দের দয়াশীলতা তাকে ভীষন ভাবে আকৃষ্ট ও উদ্বুদ্ধ করে ... অন্তর ছুঁয়ে যায় তার। তাঁদের মহত্বের প্রশংসা, মায়ের মুখে শুনে মায়ের প্রতিও তার শ্রদ্ধা ভালবাসা অনেক গুনে বেড়ে যায় যেন। এভাবেই দিন কাটে ছোট্ট সামুর।

বাড়ী থেকে স্কুল যাওয়ার পথে প্রায়ই একজন ভিখারীকে দেখতে পায় সামু। মোটামুটি তারই বয়সী ছেলেটি, বাঁ হাতটা কনুই থেকে কাটা, গায়ে ছেঁড়া জামা, চুলগুলো উসকো খুসকো, হাড় জিরজিরে চেহারা। খুব মায়া হয় তাকে দেখে সামুর ইচ্ছে করে কিছু দিতে। কিন্তু তার কাছে তো পয়সাও নেই। দিন কয়েক পর...একদিন মায়ের ব্যাগ খুলে একটা পাঁচ শো টাকার নোট পায় সে ... ব্যস্ যেমন ভাবা তেমন কাজ, স্কুল যাওয়ার পথে ওই ভিখারী ছেলেটিকে দিয়ে দেয় সে নোট টা।

সেদিন বাড়ী ফিরে সামু দেখে, কাজের মাসীকে মা ভীষন বকাবকি করছে, আর মাসী ভয়ে আড়ষ্ঠ  হয়ে বলে চলেছে,’ বিশ্বাস করো বৌদি আমি টাকা নিই নি’। ব্যাপারটা বুঝে সামু তক্ষুনি মাকে বলে ফেলে সত্যটা। ব্যস্ অমনি মায়ের সমস্থ রাগ গিয়ে পড়ে তার উপর। ছেলের গালে সজোরে এক চড় কষিয়ে ক্রুদ্ধ স্বরে সামুকে বলেন,’চুরি করতে শিখেছিস তুই? ...এই বয়েস থেকে? কাঁদতে কাঁদতে সামু বলে,’আমি চুরি করি নি মা’। কিন্তু কে কার কথা শোনে তখন। অগ্নিশর্মা হয়ে মা তখন শাসন করেই চলেছে ছেলেকে। অঝোরে কাঁদতে থাকে সামু, তার নিষ্পাপ শিশুমন আঘাতে আঘাতে চুরমার হয়ে যায়, ভাল-মন্দ,ঠিক-ভুল,ন্যায়-অন্যায় সব গুলিয়ে যায় তার। মাকেও বড়ো অচেনা লাগে আজ সামুর।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.