x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

জয়ন্ত সেন

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ |
sen



মহিলাটি প্রথমে আঁতকে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু বিন্দুমাত্র ভয় পাইনি। আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। ওর মুখে আমি হাত রেখে চাপা দিয়েছিলাম, যাতে চিৎকার না করতে পারে। গলার কাছে ধারালো চাকুটা ঠেকিয়ে আমি বল্লাম " ঠিক আছে আমি হাত সরাচ্ছি, কিন্তু চিৎকার করলেই নলিটা কেটে দেবো "। মহিলাটি ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলো। আমি ধীরে ধীরে হাত সরালাম। অস্ফুটে কি যেন বল্লো ঠিক বুঝলাম না।| আমি কানটা ওর মুখের কাছে নিয়ে যেতে শুনতে পেলাম। আবার বললো " জল"। অন্ধকার ঘর। কিন্তু বিছানার দু-হাত দুরের জানলা দিয়ে রাতে জ্বলতে থাকা ল্যাম্প-পোস্টের চুঁয়ে চুঁয়ে আসা আবছা আলোতে অন্ধকারটা বেশ সয়ে গেছে অনেকটা। মুখের কাছে কান নিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করেছি মহিলাটির চোখে জল। "জল দাও" মহিলাটি আবার বললো। আমি কিছুই করলাম না। উত্তর কলকাতার বাড়িগুলো বেশিরভাগ একটার সাথে আরেকটা লাগোয়া হয়। একই ছাঁচে তৈরি যেন । মোটা মোটা দেওয়াল, বড় বড় জানলা । লাগোয়া বাড়ি বলে এক ছাদ টপকে আরেক ছাদে সহজেই যাওয়া যায় । নকশাল সময়ে বহু বিপ্লবী ওই ছাদ টপকে টপকে পুলিশের নাগালের বাইরে পালিয়ে যেতে পারতো।আজ আমি আর আমার তিনজন সঙ্গী মিলে একটা ব্যাংক লুট করেছি। সব রকম ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও পুলিশ যে কিভাবে ঘটনাস্থলে এসে পড়েছিল জানি না। আমরা যে যতটা পারলাম টাকার বান্ডিলগুলো ব্যাগে পুরে নিজেদের মতো পালাবার চেষ্টা করছি। বাকি সঙ্গীদের খবর আমি জানি না, আমি এরকম এক পুরানো বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছি। পালাবার সময় পুলিশের ছোঁড়া একটা গুলি আমার পা ছুঁয়ে বেরিয়ে গেছে, অনেকটা রক্ত বেরিয়েছে, যন্ত্রনাও করছে। আধখোলা জানলা দেখে আমি ঢুকে পড়েছিলাম এই ঘরটাতে। অন্ধকারটা ধাতস্ত হতেই বুঝতে পেরেছিলাম ঘরে এক মহিলা ছাড়া আর কেউ নেই। মহিলাটি আমাকে খুব নীচু আওয়াজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললো  আমাকে একটু জল দাও, আমি কাউকে কিছু বলবোনা ।কেনো জানি না আমি মহিলাটির ওপর বিশ্বাস করলাম। গলার কাছ থেকে ছুঁরিটা  সরিয়ে নি।
বাইরে তখনও পুলিশী তল্লাশি চলছে। বাড়ি বাড়ি খুঁজছে আমাকে। কেনো বাঁচালে আমায় ? জিজ্ঞেস করলাম।কিছুক্ষন আগে এই বাড়িতেও পুলিশ এসেছিলো। অন্য ঘর থেকে এক ভদ্রলোক দরজার কাছে পুলিশের সাথে কথা বলছিলো। তারপর এই ঘরে এলো, আলো জ্বালালো। সঞ্চিতা কিছু চাই তোমার ? ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলো। আমি তখন খাটের তলায় লুকিয়ে। কিন্তু সজাগ। বেগতিক দেখলে চাকু চালাতে দ্বিধা বোধ করবো না। মহিলা "না" বল্লো, শুনতে পেলাম। " কিছু দরকার হলে আওয়াজ দিও" বলে আলো নিভিয়ে ভদ্রলোকটি চলে গেলো। এতক্ষনে বুঝে গেছি মহিলাটি যার নাম ভদ্রলোক সঞ্চিতা বলে গেলো সে শয্যাশায়ী।
আমার প্রশ্নে অনেক্ষন চুপ থাকার পর একসময় সঞ্চিতা জবাব দেয় " জীবনটা কত কঠীন না !! তিলে তিলে বাঁধানো স্বপ্ন এক ঝটকায় শেষ হয়ে যায় কত নির্মম ভাবে। আমি একটা সময়ে গান গাইতাম, অনেক ট্যালেন্ট শো জিতেছি, বেশ নামডাক হোলো, অনেক প্রোগ্রাম করেছি। নাম যশ টাকা ধীরে ধীরে সিঁড়ি ভাঙছিলো। তারপর অরুনের সাথে বিয়ে হল। উঁচু পরিবার, শিক্ষিত ছেলে, দেখতে শুনতে সুপুরুষ, বাড়ি গাড়ি, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, আমার গান নিয়েও কোনো সমস্যা ছিলো না। একটা মেয়ের জীবনে সব স্বপ্ন পূরণের মতো আমার জীবনটা সেজেছিল। একদিন একটা কার দুর্ঘটনায় সব শেষ। কতোদিন কোমায় ছিলাম জানি না। যখন জ্ঞান এলো জানলাম জ্ঞান থাকা ছাড়া আমার জীবনের আর অস্তিত্ব নেই। ঘাড়ের কাছ থেকে শিরদাঁড়া ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। এখন রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠি, আর সেই ওঠা ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না। যোনির ধার বেয়ে পেচ্ছাব গড়িয়ে যায় । একটা আয়া সারাদিন সাথে থাকে, শেফালী, যতটা পারে করে। সে যতক্ষন না দেখবে, ওভাবেই পরে থাকতে হয়। ঠিক মতো স্নান হয়না, সাজা হয়না আগের মতো। ভারী সুন্দর দেখতে ছিলাম আমি। অহংকার ছিলো নিজের রূপের ওপর। এক ঝটকায় সব কিছুই খুইয়ে গেছে। আর আমার দেবতা-তুল্ল স্বামী অরুন, যে একটু আগে এসেছিলো ! গর্ভ করে বলতাম আমি ওর চোখের মনি ছিলাম, আজ আমার পাশে শুতে ঘেন্না পায়। রোজ রাতে আমি শুয়ে পরার পর অরুন পাশের ঘরে শেফালির সাথে রাত কাটায়। আর আমি রোজ নিজেকে বোঝাই "অরুনও তো আদতে একটা মানুষ, ওর জীবনেরও নিজের চাহিদা আছে''।
তোমার ধমকে, ওই শক্ত করে ধরা চাকু আমায় ডরায় না। আমাকে তো এই বেঁচে থাকাই ভয় দেখিয়ে রেখেছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের ঘটনা হল বেঁচে থাকার লড়াইটাও আমি নিজের হাতে লড়তে পারবো না। কখনো স্বপ্ন দেখি তো এটাই দেখি আমার হাত-পা শেকল দিয়ে বেঁধে অন্ধকার বদ্ধ ঘরে ফেলে রেখে দিয়েছে। আমি চিৎকার করে যাচ্ছি, কেউ শুনতে পাচ্ছে না, কেউ শুনছে না, কেউ শুনতে চাইছে না। আমার এই দুঃস্বপ্ন আর আমার বাস্তবের মধ্যে কিন্তু খুব একটা তফাৎ নেই। দুটোই অস্বস্তিকর আর জঘন্য। তোমার জীবনে নিশ্চই তোমার নিজের লড়াই রয়েছে। তুমি আজ ভালো-খারাপ যাই করছো, তোমার বাঁচার লড়াইয়ের জন্য করছো, নিজের মত করে বাঁচার লড়াই। যদি আমি তোমার বাঁচার লড়াইয়ে এতটুকু সাহায্য করতে পারি, ক্ষতি কি !"


জানলা থেকে রাস্তায় একবার উঁকি দিলাম। পুলিশের টহলদারী তখনও চলছে । আবার বিছানায় সঞ্চিতার পায়ের কাছে এসে বসলাম।
-আমি তোমায় মারতাম না। আমি খুনি নই।"
- তুমি কি তাহলে ? 
- নিশাচর, পিশাচ।
- কেনো ? তোমার কি মন নেই ? কষ্ট পায়না সে ? কখনো খুশি হয়না ? কাউকে কি ভালোবাসে না !

সঞ্চিতার কথাটা বড্ড গায়ে লাগলো । " ভালোবাসাটা কি জানি না । তবে কাউকে সবরকম ভাবে খুব কাছে পাওয়ার লোভ কে যদি ভালোবাসা বলে, তাহলে হ্যা, ভালোবেসেছি একজনকে। তবে এটা শুনে শুধুই শরীরী খিদে, বাসনাও মনে হতে পারে। তাহলে হয়তো নিজের থেকেও কারোর প্রতি বেশি যত্ন নেওয়া, তার জীবনের সুখ-সুবিধার কথা চিন্তায় আসতো না।
- তবে বলো তার গল্প ।
মনে মনেই আমি হাসলাম । আছে একজন, ভারী সুন্দর দেখতে । সোনালী রঙ, ফুলের পাপড়ির মত পাতলা ঠোঁট, মুক্তোর মত উজ্জ্বল হাসি, টানা টানা দুটো মায়াবী চোখ । কিন্তু তার রূপটাই কি সব !! তাহলে তো তার উন্নত স্তন আর কোমরের ভাঁজের বর্ণনা দিতাম। সে এমন একজন যাকে দেখলে পরে মনের ভেতর সবসময় চলতে থাকা লড়াই গুলো খুব অনায়াসে স্তব্দ হয়ে যায়। তার কথা ভাবলে পরে বড় যে ভালো হতে ইচ্ছে করে ।
- বাহ । বুঝতে পারছি সে তোমায় বেশ কাব্যিক করে দিয়েছে ।
সঞ্চিতার কথায় হাসি পেলো । জিজ্ঞেস করলো " কি নাম মেয়েটির ?"
- জানি না" । আর নামে কিই বা আসে যায়। নামে মানুষ জাত, ধর্ম এসব খুঁজে বেড়ায় । তবে আমি নিজের মত করে একটা নাম দিয়েছি । রাজকন্যা ।
" রাজকন্যা !! রাজকন্যা কেনো ?" সঞ্চিতা জিজ্ঞেস করলো । " ছোটবেলায় রূপকথার গল্প শুনতাম, রাজকুমার কিভাবে রাজকন্যাকে কোনো এক দৈত্যের কবল থেকে ফিরিয়ে আনতো । সেগুলো বাস্তব নয় । আমার কাছে এই মেয়েটির ভবিষ্যতে নিজের অস্তিত্ব জুড়ে দেওয়াও বাস্তব নয় । তবে স্বপ্নে বহুবার আমি তার আঙুলের ফাঁক ভড়িয়েছি, সমুদ্রের পারে ভেজা বালিতে অনেকদুর পায়ের ছাপ ফেলেছি একে-অপরের হাত ধরে । কপালে চুমু খেয়েছি, ঝগড়া করেছি, মানিয়েছি । স্বপ্ন আর রূপকথার গল্পগুলো একইরকম । আর আমার বাস্তব, বর্তমানটা অনেকটাই অন্যরকম । সাধারণদের কাছে আমি ক্রিমিনাল, সমাজের কাছে আমি ভিলেন । হয়তো তার কাছেও । তার জন্য তো কোনো রাজকুমার আছে । রাজকন্যার সম্মতিতে তার শরীরটাকে ভোগ করবে । ভাগ করবে তার সব সুখ দুঃখ । এসব কি আর আমার ভাগ্যে আছে !! তাই আর রাজকন্যার সম্মুখীন হয়নি, যদি ঘেন্যা করে ! আমি রাজকন্যার সে কটাক্ষ করা, বিরক্ত ভরা চাহনি সহ্য করতে পারবো না । এ ভালোবাসা নিঃশব্দে কালো বাসাতেই থাক না !" 


আমি আবার জানলা দিয়ে উঁকি দিলাম । রাস্তা ফাঁকা মনে হচ্ছে । টাকা ভর্তি ব্যাগ কাঁধে তুলে জানলাটা টপকাতে যাবো সঞ্চিতা মানা করলো " ওদিক দিয়ে যেও না। তুমি পাশের ঘরটা টপকালে বারান্দা পাবে, বারান্দার পাশে সিঁড়ি, সিঁড়ি ধরে ছাদে উঠে যাও । আমাদের আর পাশের বাড়ির ছাদটা লাগোয়া । পাঁচিল টপকে পাশের ছাদে চলে যেও । পাশের বাড়িটা টপকালে একটা নোংরা গলি পাবে । ওটা পেছন দিক পরে । ওখানে কেউ যাওয়া-আসা করে না । তোমার একটু অসুবিধে হলেও ওটাই বেশি সেফটি ।

আমি সঞ্চিতাকে জিজ্ঞেস করলাম "যদি তুমি আবার তোমার জীবনটা শুরু করতে পারো, তাহলে কি করবে ! কিভাবে করবে ?"
সঞ্চিতা ব্যঙ্গ করে হাসলো । "মস্করাটা বেশ ভালোই পারো ।"
"তাহলে তুমিও মস্করা করেই উত্তরটা দাও "।
অনেক্ষন জানলার দিকে ম্লান দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো সঞ্চিতা । তারপর উত্তর দিলো "এসব থেকে দূরে কোথাও চলে গেলে বেশ ভালো হত। বাবা মা-কে নিয়ে অন্য কোথাও অনেকদূরে নতুন কোনো পরিচয় নিয়ে যদি থাকতে পারি । রুজির জন্য গানের একটা ছোট্ট স্কুল হতো ।

আমি ঘর ছাড়লাম...


সঞ্চিতার কথা মত ঘরের পাশে বসার ঘর, দেখি মেঝেতে শাড়ি-ব্লাউজ, ব্রা-প্যান্টি ছড়িয়ে পরে আছে । আরেকটা লাগোয়া ঘর । দরজাটা হাপাট করে খোলা । তাতে একটা নর আর একটা নারী উদ্দাম উলঙ্গ একে ওপরের সাথে খুবই মাখামাখি অবস্থায় ঘুমাচ্ছে নিশ্চিন্তে । আমি পা টিপে টিপে বারান্দার দিকে এগোই। সঞ্চিতার কথা মত পাশের বাড়ির ছাদে এসে দাঁড়াই। ভোর ভোর ভাবটা আসছে আকাশে তখন। কিন্তু মনটা বড় বিষিয়ে আছে। ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরেই তো আমার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । এবার শুধু আমাদের ঠিকানায় পৌঁছোবার অপেক্ষা । আমার তো খুশি হওয়া উচিত । কিন্তু মনটা আটকাচ্ছে । কোথায় যেন কিছু ভুল হচ্ছে । না !! এভাবে আমি পালিয়ে বাঁচতে পারবো না । আবার ফিরলাম। ঠিক যেভাবে সঞ্চিতার ঘর থেকে ছাদে এসেছিলাম, উল্টোপথে সেভাবেই সঞ্চিতার ঘরে ফিরলাম। আমাকে দেখে আরো অবাক হ্ল সঞ্চিতা। এই আবছা অন্ধকারেও আমি সঞ্চিতার ছলছলে দুটো চোখে প্রাণ দেখতে পেলাম । কতদিন ধরে বিছানায় একইরকম ভাবে পরে আছে, এক একটা মুহূর্ত হয়তো যুগের সমান কেটেছে ওর জীবনে । আজকের রাতে দুর্ঘটনা বশতই, অনেকদিনের জমে থাকা কথা গুলো ওগলাতে তো পেরেছে। আমার সঞ্চিতার ঘর ছাড়া থেকে আবার ওর ঘরে ফিরে আসার সময়টা ক্ষনিকের হলেও, এরইমধ্যে ওর জীবনে বিশাল বিষন্নতা চলে এসেছে ।

ব্যাগ থেকে টাকাগুলো বার করে আমি সঞ্চিতার বিছানার গদির ভেতর চালান করে দিয়েছি এরইমধ্যে। সঞ্চিতা অনেকবার জিজ্ঞেস করলো কি করছি আমি ? উত্তর দিইনি। কাজ শেষ হবার পর এইটুকু বললাম "তোমার মধ্যে বাঁচার ইচ্ছেটা এখনো রয়েছে। নাহলে আর দম বন্ধ হওয়ার সময় জল চাইতে না। কোনো কাজ শুরু করলে, তার শেষটা আপনা হতেই হয় । সকালের আলো ফুটলে তোমার নতুন জীবন শুরু করার কাজটা শুরু করে দিও। টাকাগুলো এমনভাবে রেখে যাচ্ছি, তুমি ছাড়া কেউ জানবে না । তোমার কাজে লাগবে।"

সঞ্চিতার মুখের দিকে তাকালাম, অবাক হয়ে তখনও আমার দিকে তাকিয়ে। জিজ্ঞাসা করলো কেনো করলাম এরকম। আমি আবার সঞ্চিতার ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম ।


কেন করলাম আমি এরকম !! ক্ষনিকের গল্পে যে রাজকন্যার প্রসঙ্গ উঠেছিলো। আগেই বলেছি রাজকন্যার কথা ভাবলে বড় যে ভালো হতে ইচ্ছে করে । তাই হয়তো একটু ভালো হতে ইচ্ছে করলো। সঞ্চিতা আমায় বলেছিলো রাজকন্যা আমায় কাব্যিক করে দিয়েছে। কতোটা ঠিক আমি জানি না । তবে এটা জানি প্রেমে পরে আমি সাহসী হয়েছি।

এর পরের ঘটনাগুলো অনুমানেই রয়ে যাক অনেকগুলো হয়তো দিয়ে। লেখক যেহেতু আমি, তাই আমার অনুমানগুলোই প্রাধান্য পাক। হয়তো আমি পাশেরবাড়ির ছাদের সাথে আটকানো পাইপ দিয়ে নামছি ধীরে ধীরে। ভাইরাসের প্রকৃতির মতো যেমন সবচেয়ে শক্তিশালী অংশটাতে সবচেয়ে দুর্বল প্রকল্প লুকিয়ে থাকে, ঠিক সেরকমই যে গলিটা দিয়ে কেউ কোনো সময় যাওয়া আসা করেনা, তখন হটাৎ এক পুলিশ কর্মচারী তল্লাশি করবার সময়ে দেখে ফেললো আমাকে। তাক করে গুলি ছুঁড়লো। তারপর বুলেট আমার বুক ভেদ করে দেওয়ালে রক্তের ছাপ ফেলবে। চোখের সামনে শুধু অন্ধকার ছেয়ে যাবে চিরকালের মত । আমার হাত দুটো ছড়িয়ে আছড়ে পড়বো মাটিতে।

সঞ্চিতা হয়তো যোগাযোগ করবে ওর মা-বাবার সাথে। উপযুক্ত বুদ্ধি দিয়ে বাবা মায়ের সাহায্য নিয়ে টাকাগুলো সরিয়ে ফেলবে অরুন, শেফালীর নাগালের বাইরে । তারপর দূর কোথাও চলে যাবে বাবা-মাকে নিয়ে। গানের স্কুল খুলবে। নতুনভাবে জীবনটাকে শুরু করবে। বর্তমান কালো বাসাখানি আবার ভালোবাসায় মাতবে।





Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.