x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ |
rumki






হিমাচলের হাতছানি তৃতীয় পর্বঃ

সঙ্কটমোচন মন্দিরঃ

দ্বিতীয় দিনে আমাদের দেখার ছিল সিমলার স্থানীয় স্থান সমূহ।ঠিক সকাল ৯:০০ টায় প্রাতঃরাশ সেড়ে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম প্রায় ৪-৫ কিমি দূরে ২২ নং জাতীয় সড়ক কালকা-সিমলা প্রধান সড়কের উপর অবস্থিত “সঙ্কটমোচন” মন্দিরের উদ্দেশ্যে।মন্দিরের প্রশস্ত প্রবেশ দ্বারের মুখে দু’পাশে বসে আছে প্রসাদ বিক্রেতারা।প্রসাদ বলতে আমরা যা বুঝি এখানে তা নয়। দেখলাম,নারকেল,ছোলাভাজা,মুড়ি ইত্যাদি এখানে প্রসাদ হিসাবে ভগবান হনুমান জী’র চরণে অর্পণ করা হয়।আমরা প্রসাদের প্যাকেট নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করলে পুরোহিত সেই প্রসাদ ভগবান হনুমানজী’র পায়ে ছুঁইয়ে আমদের দিলেন।নাম বা গোত্রর কোনো প্রয়োজন হল না।মন্দির থেকে দেওয়া হল আসল ঘি দিয়ে তৈরি সুজির হালুয়া।অসাধারণ স্বাদ সেই প্রসাদের। প্রচলিত তথ্য অনুসারে ১৯৫০ সালে “বাবা নিব করোরী জী মহারাজ” এখানে এসে এই সুন্দর স্থানটি আবিষ্কার করেন।এখানে ১০ দিন থাকার পর এই স্থানে শ্রী হনুমান জী’র মন্দির স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।তারই প্রচেষ্টায় এখানে গড়ে তোলা হয় এই মন্দিরটি। মন্দিরের ঢোকার মুখেই বাঁ-দিকে আছে গণেশ মন্দির।এর ঠিক সামনেই নবগ্রহ মন্দির।পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দিরটির সামনের বিস্তৃত অংশ বাঁধানো আর পাহাড়ের কিনারা বরাবর লোহার বাহারি রেলিং দিয়ে ঘেরা।শীতের সকালের ঠান্ডা কাটাতে মন্দিরের চাতালে নেমে আসা সোনালী গরম রোদে গা সেঁকে নিতে মন্দ লাগল না।বেশ কিছুটা সময় যেন কোথা দিয়ে কেটে গেল।

rumki
সঙ্কট মোচন মন্দির ছেড়ে বড় রাস্তায় এসে রাস্তার অপর পাশে রয়েছে ‘বৈষ্ণদেবী গুম্ফা’—অনুচ্চ পাহাড় টিলার গায়ে জঙ্গল মাঝে সরু ভাঙা সিঁড়ি।উপরে পৌঁছাতেই দেখতে পেলাম গুহা মুখ।একজন বসে আছে সেখানে।সে পথ নির্দেশ দিতে লাগল আর আমরা তাকে অনুসরণ করে এগিয়ে চললাম। কিছুটা কৃত্রিমতায় মনটা বিষন্ন হল। মাঝ বরাবর স্টিলের দন্ডের উপর সুদৃশ্য আলোক শয্যা গুহার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করেছে।কিছুটা গিয়ে খানিকটা নিচে নেমে গেলাম। এবার গুহার ছাদ বেশ নিচু,পুরোপুরি মাথা সোজা করে দাঁড়ানো যায় না।একটা আদিমতার স্বাদ পেলাম।সামনেই দেখতে পেলাম তিনটি কষ্ঠি পাথরের তৈরি দেবী মূর্তি।মাঝে দেবী দুর্গা বা শক্তি আর তাঁর দুপাশে মা লক্ষ্মী ও মা সরস্বতী।

এখান থেকে বেড়িয়ে আমরা চললাম সিমলার সবথেকে উচ্চতম স্থান ঝাকুহিল এ অবস্থিত ‘ঝাকু টেম্পল’ দেখতে।এখন পর্যন্ত সিমলায় যে যে স্থানে গিয়েছে এটির উচ্চতা সবথেকে বেশি।সরু রাস্তা যেমন খাড়া তেমনই স্বল্প দূরত্ব অন্তর রয়েছে বাঁক,ঠিক যেন সাপের চলন।প্রতি বাঁকে এসেই মনে জাগে মৃত্যু ভয়।কিন্তু প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের কাছে ম্লান হয়ে যায় সেই ভয়ের রঙ। গাড়ি এসে দাঁড়াল মন্দির থেকে বেশ কিছুটা নিচে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে সিঁড়ি।এমনিতেই সিমলার উচ্চতম স্থান এটি তাতে খাড়া সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে যথেষ্ট শ্বাসকষ্ট সঙ্গে পায়ের পেশিতে টান ধরে।কিছুটা অন্তর ওঠা আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেওয়া,এই ভাবেই পৌঁছে গেলাম মন্দিরের দ্বার প্রান্তে। একেবারে পাহাড়ের টিলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মন্দিরটি,যেন শান্তির প্রতিক।সামনের কিছুটা অংশ সুন্দর বাগান।যেন মনে হল পুরাকালের কোনো আশ্রমে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। 

এমন একটি জায়গায় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার পিছনে একটা কাহিনি আছে।এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে, রামায়ণে যুদ্ধে লক্ষণের মৃত্যু হলে,প্রভু রামকে শোকানল থেকে মুক্তি দিতে শ্রী হনুমান মৃতসঞ্জীবনী আনতে যান গন্ধমাদন পর্বতে।কিন্তু সেখানে গিয়ে গাছটি চিনতে না পারায় সমগ্র পর্বতটি হাতে তুলে নিয়ে আসেন।আসার পথে সিমলার এই ঝাকুহিল এ তিনি পদার্পন করেন। যে পাথরের উপর তিনি পা রেখেছিলেন সেখানে তার পদচিহ্ন রেখে যান।সেই পদচিহ্নই এখানে পূজিত হয়।এই স্থানে ঠান্ডাটাও বেশ তীব্র। ঝিরঝিরে ঠাণ্ডা হাওয়ার পরশে মন সময়টাকে বেঁধে রাখতে চায়।

ঝাকু টেম্পলকে বিদায় জানিয়ে আমরা এগিয়ে চললাম “অভজারভেটরি হিল”.১৮৮৮তে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন এর গ্রীষ্মকালে বসবাসের জন্য নির্মিত হয় এই প্রাসাদ। পরবর্তীকালে এখানে গড়ে তোলা হয়‘ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্‌স স্টাডিজ’ ---

rumkiগাড়ি আমাদের গেটের মুখে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল প্রায় ১ কিমি দূরে পার্কিং প্লেসে। ভিতরে প্রবেশ করার জন্য টিকিট লাগলো জনপ্রতি ২০ টাকা,এখন সেটি বাড়তে পারে।ভিতরে প্রবেশ করতেই চোখ জুড়িয়ে গেল বিল্ডিংটির বাইরের শোভা দেখে।সামনে যতদূর চোখ গেল সবুজ ঘাসের মাঠ।মাঝে মাঝে সুন্দর ফুলের বাগান।কিন্তু ১২:৩০ মিনিটের আগে ভিতরে ঢোকা যাবে না।পায়ে পায়ে ঘুরতে ঘুরতে সময় কখন চলে গেল।ঠিক ১২:৩০ বাজতেই গেট খুলে দেওয়া হল।এখানকার গাইড আমাদের নিয়ে প্রবেশ করলো ভিতরে।প্রথমেই গেলাম লম্বা একটা প্যাসেজে যেটা,সম্পূর্ণ আসল বার্মাটিক উড দিয়ে তৈরি।এই প্যাসেজের ছাদ এমন এক পদ্ধতিতে তৈরি যে,কোনো কারণে আগুন লাগলে নিজের থেকেই ছাদ থেকে জল পড়বে।সব থেকে আর্শ্চযের বিষয় হল এইখানে যে সমস্ত সুইচ্‌ গুলো ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলি সবই ইংরেজ আমলেই তৈরি করা যা,এখনও কোনো রকম রিপিয়ারিং ছাড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

এখানকার কনফারেন্স রুমে যে সমস্ত পর্দা ও কার্পেট রয়েছে সেগুলির সবই ১৯৪৭ সালের,এখনও অক্ষত,অধৌত অবস্থায় রয়েছে।

লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সঙ্গে সংঘটিত বিখ্যাত সিমলা চুক্তি এখানেই হয়ে ছিল।এখানে অবস্থিত দুটি অর্ধগোলোক কাঠ জোড়া লাগিয়ে তৈরি গোল টেবিলে বসেই নেওয়া হয়েছিল পার্টিশনের সিদ্ধান্ত।গাইডের মুখে কথা শুনতে শুনতে যেন ক্ষণিকের মধ্যেই হারিয়ে গেলাম ইতিহাসের পাতায়।

এরপর গেলাম মিউজিয়ামে এখানে রয়েছে সেই সময়ের বিভিন্ন ইংরেজ অফিসার ও তাদের স্ত্রীদের ছবি আর রয়েছে এক আর্শ্চযজনক ঘড়ি,সময়ের সাথে সাথে কতকিছু বদলে গেছে,বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা—কিন্তু বদলায়নি এই ঘড়ির কাজের রুটিন।সেই ইংরেজ আমল থেকে আজও সে সময়ের সাথে সাথে নেচে চলেছে।আর এর ভিতরে ডায়ালের অংশে রয়েছে চাঁদের অবস্থান নির্দেশক সূচক যা, আজও প্রতি পূর্ণিমার দিনকে নির্দেশ করে।বেশ কিছুক্ষণ ইতিহাসের মাঝে হারিয়ে যখন ফিরে এলাম তখন সময় হয়ে গেছে হোটেলে ফেরার।এখান থেকে প্রায় ১ কিমি যেতে হবে হেঁটে।ওখানে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের গাড়ি। ভাবলাম এতটা পথ হাঁটবো কি করে।কিন্তু চকচকে কালো পিচের ঢালু রাস্তায় পড়ে থাকা হলুদ ফুলের শোভায়, গাছের ছায়া ঘেরা শীতল পথে, গাছের ফাঁক দিয়ে ঠিকরে পড়া সোনারোদ গায়ে মেখে কখন যেন পৌঁছে গেলাম।হোটেলে ফিরে মনটা বিষন্ন হয়ে গেল।এবার এসে গেছে সিমলা কে বিদায় জানানোর পালা।


১ম পর্ব পড়ুন   ২য় পর্ব পড়ুন




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.