x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬

রুখসানা কাজল

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
ruksana



শেষ শ্রাবণের ভোর । সাত জনমের বৃষ্টি যেন ঝেঁপে নেমেছে আজ। কখনো অঝোরে কখনো আবার অস্ফুটে একটানা ঝরে যাচ্ছে।এয়ারপোর্ট ছেড়ে বেরুতে না বেরুতেই জল দস্যুর মত ঝাঁপিয়ে পড়েবে পরোয়া বেহিসেবী উনো উনো বৃষ্টি। অসহায় প্রত্যাখানের যন্ত্রণা নিয়ে আমার ভালবাসার মানুষটি দাঁড়িয়ে ছিল এয়ারপোর্টের শেডের বাইরে। ভিজে যাবে নাতো ও ! 

মিথ্যেই পেছনে ফিরি আমি। ধোঁয়া ধোঁয়া কাঁচে কিছুই দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা খামচে ধরে পরাণ। ইচ্ছা করছে গাড়ি ঘুরিয়ে দিই। কিন্তু বুড়ো ড্রাইভারকাকু অনেক প্রাচীন এই পরিবারে।প্রতিটা নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মনে রাখে।আমার জন্যে এটুকু সময়ই বরাদ্দছিল।পরিবারের কড়া নির্দেশে অতীতকে একেবারে বিদায় করে ঘরে ফেরার আদেশ দিয়ে দুঘন্টা সময় দিয়েছিল আমাকে। সাথে সশস্ত্র ওয়ার্ণিং কোন বেগড়বাই যেন না করি তাহলে চিরদিনের জন্যে সম্পর্কচ্ছেদ হবে রক্তের মানুষদের সাথে। এক মূহূর্তের আবেগে আমি ভুলে গেছিলাম সব আদেশ নির্দেশ।

বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে গাড়ির কাঁচ । সাদা সাদা অসংখ্য মোম মোম বৃষ্টি । আহ্লাদে ভেঙ্গে গলে পড়ছে একে অন্যের গায়ে। তারপর মাটির টানে হাসতে হাসতে ছুটে নামছে নীচুতে। মাটিও বুকের পাঁজরে তুলে নিচ্ছে আশ্লেষ চুম্বনে সীমাহীন আলিঙ্গনে। আমিও কি ঝরে পড়িনি গেল কাল এই উতল শ্রাবণ সন্ধ্যায়? কিছুই তো অদেয় ছিল না আমাদের।একটি ভুল ধর্ম বিরাট থাবা তুলে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল আমাদের মাঝে।আমার মুক্তির পথেআলো নেই, দুয়ার নেই কেবল জানালায় ঝুলেআছে হাতছানির পূর্ব ইতিহাস।

ফুল নেবে গো মামণি? না বলতে গিয়েও সামলে নিই। প্রতি সপ্তাহে এখান থেকেই তাজা ফুল কিনি। আজ আর মন নেই । অবিশ্বাসী শ্রাবণের ভেজা ভোরে ভাবের ঘরে এলেবেলে এতিম আমি। আমার প্রেম চলে যাচ্ছে চিরদিনের জন্যে। শতবার হাত বাড়ালেও এ জীবনে আর তাকে কখনো পাবো না। তবুও নিত্য অভ্যাসে ফুল কিনি। আমাদের প্রিয় ফুল। ফিরে পাওয়া ভালবাসার মত দুহাতে আগলে রাখি ফুলগুলো। তাহলে কি এভাবেই গড়ে উঠে অসংখ্য পাওয়া আর অহরহ দেওয়ার অভয়ারণ্য! এভাবেই কি নিপুন আনন্দে ভরে থাকে আমন্ত্রিত দু হাত! নিমন্ত্রনের প্রত্যাশায় সব ভুলে আবার কি জ্বলে উঠে দু চোখের মায়া কাজল! এক জীবনে কতগুলি জানালা থাকে! ঠিক কতগুলি ঘুলঘুলি ! কতবার আলো এসে ফিরে যায় অন্ধকারে পরাভূত হয়ে ? পাখিদের নরম ঠোঁটে কতবার উঠে আসে ঘাস লতা পাতা? সংসারের পরতে পরতে দুঃখ সুখের পাশে কতখানি জমে থাকে নষ্টামির গ্লানি ? না পাওয়ার ক্ষতিপূরণ ! আমি তো সৎ নই।এই দেহমন সেতো অন্যের।ভন্ডের পূজায় কি করে বেঁচে থাকে ঈশ্বরের সংসার ? 

নিত্য নিয়মের ঘড়িটাকে আমরাই কি উলটে দিই না বার বার ! আমিও দিলাম।ভাঙ্গুক । ভেঙ্গে ধূলো হোক নিরাপদ সংসারের বিলাসী বিনোদন, লালিত পারিপাট্য, আভিজাত্যের দ্বান্দ্বিকতায় মোড়া সযত্ন প্লাস্টিক জীবন। বেনো জলে ভেসে যাক বাগদাদি কার্পেট , ক্রিস্টালের সোনালী গ্লাস, ধূলোহীন ধবল ফ্লোর । আমি গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাই। ধর্ম কি জানিনা, সমাজ সেতো আমাদেরই বানানো শীতলপাটি তবে কেন অস্বীকার করবো আমার ভালবাসাকে? কেন মিথ্যে মোহরে ছেপে দেব আমার ভালবাসার অমল শরীর? 

কিছু না থাক তবু জ্যোৎস্না কিম্বা আমাবস্যার হাত ধরে একটি সন্ধ্যা নেমে আসবে আমাদের ঘরে। খোলা আকাশের নীচে ঘরে ধোয়া শতরঞ্জির মন মন গন্ধে লং দারচিনির গন্ধ মাখা সরল লাল চা আর একটি জমাটি আড্ডায় আমাদের প্রেম ফিরে আসবে হাজার রঙে। শেষ শ্রাবণের মোহময় সন্ধ্যায় কম্প্রমান দীপশিখার আলো আঁধারে আমাদের শরীর ভেঙ্গে ধেয়ে আসবে অসংখ্য জলজ সংগীত ... ভালবাসি... ভালবাসি! 



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.