x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬

পিয়ালি গাঙ্গুলি

sobdermichil | আগস্ট ১৯, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
piyali



এয়ার ফ্রান্সের ‘বিজনেস ক্লাস’এ চড়ে ব্যাঙ্গালোর হয়ে কলকাতায়। কলকাতা বিমান বন্দরে নেমে  সোজা ভবানিপুরের পৈতৃক বাড়িতে। বুবাইয়ের বউ সঞ্চিতা কোনদিনই এবাড়ি দেখেনি।বিয়ে হয়ে সে এসে উঠেছিল বুবাইয়ের বাবার ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটে। আর বিয়ের কদিন পর থেকেই তো বিদেশে। তাই এবাড়িতে আসার তার কোনোদিন সুযোগ হয়নি। ট্যাক্সি থেকে নেমে বাড়ির গেটে দাড়িয়েই সে প্রায় চিৎকার করে উঠল “ ওয়াও, দিস ইজ এমেজিং”। সত্তিই এমেজিং দুশো বছরের পুরনো এই চারমহলা বাড়ি। মোটা থাম, জাফরি, ঠাকুর দালান...এরকম বাড়ি কলকাতায় আর কটা আছে? ভিতরে মা অন্নপূর্ণার মন্দির। মায়ের গায়ে সোনার গয়না, মাথায় সোনার মুকুট, সোনার সিংহাসন। আগের মত জাঁকজমক না থাকলেও আজও বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়।

দেবোত্তর সম্পত্তি। প্রোমোটারের হাতে দেয়া যাবে না। তাই নিজেদেরই ব্যাবস্থা করতে হয়েছে বাড়ি ভেঙ্গে ফ্ল্যাট করার। এখন আর এবাড়িতে প্রায় কেউই থাকে না। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সকলেই প্রায় বাইরে থাকে। এত বড় বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের হাঙ্গামা আর খরচা ক্রমশ একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। অতএব এই সিদ্ধান্ত। বাড়ি ভেঙ্গে আলাদা আলাদা ফ্ল্যাট হবে, যে যার মত রক্ষণাবেক্ষণ করবে। প্রবাল কলকাতাতেই থাকে। পেশাদার ফটোগ্রাফার।খুব নাম ডাক তার। ছোটবেলা থেকেই ভালো ছবি তুলত।এই বাড়ি ভাঙ্গার ব্যাপারে সব বন্দোবস্ত সেই করেছে। অবশ্য বাড়ির প্রত্যেক সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা, কথা বলা এ ব্যাপারটা তিতির করেছে। এ প্রজন্মের ভাইবোনেদের সবচেয়ে ছোটদের মধ্যে সে একজন।

তিতিরের ছেলের অন্নপ্রাশনে ছবি তুলতে তুলতে নিছক ক্যাজুয়ালি তিতির আর প্রবালের মধ্যে বাড়ি নিয়ে কথা হয়। ছোট থেকেই বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা সেরকম কোন অনুষ্ঠান ছাড়া প্রবাল আর তিতিরের বিশেষ দেখা হত না। তবু যেন দুজনের দুজনের প্রতি একটা টান ছিল। তিতিরের বাবা খুবই নিরীহ, ভালোমানুষ ছিলেন, জীবনে কাউকে কোনোদিন কড়া গলায় কথা পর্যন্ত বলেন নি। এহেন মানুষকে কোন এক পারিবারিক কারনে প্রবালের বাবা একবার খুব অপমান করেছিলেন। সেই থেকে তিতিরের বাবা আর তার মুখ দেখেন নি। তিতির আলাদা বাড়িতে মানুষ হয়েছে, তাই প্রবাল দাদার সাথে বেশি মেলামেশার তার সুযোগ হয় নি। 

বাড়ির কথা উঠতেই তিতির বলেছিল সে সকলের সাথে যোগাযোগ করবে। এ প্রজন্মের কারুর সাথে কারুর সম্পর্ক প্রায় নেই বললেই চলে। একমাত্র তিতিরের সাথেই কমবেশি সকলেরই যোগাযোগ আছে। তিতির নিজেও আশা করেনি সকলের থেকে এত পজিটিভ রেস্পন্স পাবে, তাও এত তাড়াতাড়ি। শুধু ই-মেল বা ফেসবুকে তো আর বাড়ি ভাঙ্গা গড়া যায়না, তাই সবাইকে একবার একসাথে আসতে হবে কলকাতায়, সইসাবুদ এবং অন্যান্য জরুরী আলোচনার জন্য।

টুবলু আর বুবলুও তাদের পরিবার নিয়ে ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছে গেছে। টুবলু চাকরিসুত্রে বিদেশে থাকে। ওর স্ত্রী তিয়াশা মিডিয়ায় ভালো চাকরি করে, মেয়ে নিয়ে সে একাই থাকে এদেশে। বুবলু ডাক্তার, বর্তমানে আরও কি যেন একটা ডিগ্রী করছে। তিন বছরের ছেলে আর স্ত্রী কে নিয়ে সেও হাজির। বছরের শেষে এই সময়টা ছুটি পেতে সুবিধা, বিশেষত যারা বিদেশে থাকে তাদের। তাই স্থির হয় বছরের শেষ সপ্তাহেই সকলে আসবে কলকাতায়। কাল সকালের ফ্লাইটে বুবাইয়ের অবিবাহিত দিদি মামন ও এসে পৌঁছচ্ছে। মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে কাজ করে, আন্ধেরিতে থাকে।

কিন্তু এসবের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি, যার টানে সকলে এত দূর থেকে এত চটপট ছুটে এসেছে তা হল গুপ্তধন। ছোট থেকে এরা প্রায় সকলেই শুনে এসেছে এ বাড়ির উঠোনের তলায় নাকি গুপ্তধন আছে। সবাই চিরকাল এটাকে নিছক আষাঢ়ে গল্প বলেই মেনে এসেছে কিন্তু আজ যখন সত্তিই বাড়ি ভাঙ্গার ব্যাবস্থা হয়েছে তখন গুপ্তধনের ভাগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিটা কেউই নিতে চাইল না। এই গুপ্তধনের গল্পটা পরিবারের বাইরেও অনেকে জানে। তিতিরের স্বামী ঋজুকে একবার তার বহুজাতিক সংস্থার এক সহকর্মী বলেছিলেন “ও, ওই বাড়ির জামাই তুমি? তুমি তো তাহলে বড়লোক বস। তোমার আর চিন্তা কি? ও বাড়িতে তো গুপ্তধন আছে”। সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে ঋজু তিতিরকে জিজ্ঞেস করেছিল “হ্যা গো, তোমাদের ভবানিপুরের বাড়িতে নাকি গুপ্তধন আছে”? কাজ করতে করতে তিতির উত্তর দিয়েছিল “ছাড়ো তো ওসব বাজে কথা। তোমায় কে বলল এসব”? কে বলল তা জেনে তিতিরের মুখ হাঁ হয়ে গেছিল। 

মাঝরাত হতেই হইহই করে সবাইকে ‘মেরী ক্রিসমাস’ বলে ডেকে তুলল তিতির। প্রায় জোর করেই সকলকে টেনে আনল হলঘরে। সকলের হাতে তুলে দিল ফ্লুরিসের কেক। তিতির চিরকালই হুজুগে, কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাপারটা নিছক তার হুজুগ নয়, পারস্পরিক সম্পর্কগুলো সহজ করার একটা চেষ্টা। ইংরেজিতে যাকে বলে আইসব্রেকার। তার উদ্দেশ্য সফল। কেক খেতে খেতে কথা গল্প ঠাট্টা বেশ ভালোই জমে উঠল। ছোটবেলার কথা, এ বাড়ির কার কি স্মৃতি আছে সেই সব কথা, আরও কত কি।

পরদিন সকাল থেকেই বাড়িতে একটা চাপা উত্তেজনা। এ বাড়ির গুপ্তধনের গল্প এ পাড়ার পুরনো লোকেরা অনেকেই জানেন, তাই অযথা উত্তেজনা না বাড়াতে সম্পূর্ণ বেপাড়া থেকে শ্রমিক যোগাড় করা হয়েছে। বড়দিনের দিন কাজ করানোর জন্য অনেক বেশী টাকাও দিতে হছে। প্রথমেই উঠোনটা খোঁড়া হবে। এই উঠোন ঘিরেই তো এত আশা, উত্তেজনা আর সাসপেন্স। চেয়ার পেতে রাখা হয়েছে, কাউকে না কাউকে তো বসে পাহারা দিতে হবে। পাহারাদারি করতে বসে আড্ডা জমে উঠল। ক্রমশ একটা পিকনিকের আকার নিতে লাগল গোটা ব্যাপারটা। জলখাবারে এসে গেল কড়াইশুঁটির কচুরি, আলুরদম আর বলরাম মল্লিকের কাঁচাগোল্লা। 

সকলেরই একে অপরের সাথে বেশ জমে গেছে। সঞ্চিতার চালবাজি কথাবার্তায় লোকজন একটু বিরক্ত, তা আর কি করা যাবে? হাতের পাঁচ আঙুল তো আর সমান হয় না। নানারকম ইয়ার্কি, ঠাট্টার মাঝে মাঝে গুপ্তধনের গল্পটাও উঠে আসছে। গুপ্তধন পাওয়া গেলেও সে ভোগ করা যাবে কিনা তাই নিয়েও বিশাল প্রশ্ন। চারিপাশে এরকম অনেক ঘটনা শোনা যায় যে গুপ্তধন পাওয়ার পর থেকে পরিবারটি নানাভাবে খতিগ্রস্থ হয়েছে। গুপ্তধনের সঙ্গে অভিশাপের একটা সম্পর্ক প্রায়ই শোনা যায়। তাই ভয়, দ্বিধা, উত্তেজনা সব মিলিয়ে এক মিশ্র অনুভুতি সকলের মনে।

ভোজনরসিক বলে বাঙ্গালির যে সুনাম বা দুর্নাম আছে তা নেহাত অমুলক নয়। জলখাবারের কচুরি পাত থেকে শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী খাওয়ার আলোচনা শুরু হয়ে গেল। দুপুরে বাড়িতেই খাওয়ার বন্দোবস্ত হয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তো বাড়ি ছেড়ে নড়া যাবে না। রিঙ্কু, মিমি, নিনি এরাও ইতিমধ্যে এসে পড়েছে। তিতির, বুবলু আর নিনির ছেলে আর রিঙ্কুর মেয়ে প্রায় কাছাকাছি বয়েসি। দুষ্টুমিতে কেউ কম যায় না। কচিকাচাদের হইহই আর দুষ্টুমিতে বাড়ি একেবারে সরগরম। রাতে সবাই মিলে ‘মে্নল্যান্ড চাইনা’তে খেতে যাওয়ার প্ল্যান হল। কিন্তু এতজনের একসাথে জায়গা পাওয়াই তো মুশকিল। আজ বড়দিনের রাতে এমনিতেই সবজায়গায় ভীর উপচে পড়বে। 

দিন শেষ হয়ে বিকেল হতে চলল। গুপ্তধনের কোন চিহ্ন এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। সবাইই একটু হতাশ। তবে ওই যে কথায় বলে না বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না। উঠোনের নিচে পাওয়া গেল না তো কি হয়েছে হয়ত বাড়ি ভাঙ্গার সময় অন্য কোথাও থেকে বেরোতে পারে। বাড়ি ভাঙ্গা পড়বে, চাইলেও আর কোনোদিন দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে না, তাই সকলেই একবার ঘুরে ঘুরে বাড়িটা দেখে নিতে লাগল। নকশা করা মোটা মোটা থাম, বড় বড় ঘর, ঝাড়বাতি, শেগুন কাঠের আসবাবপত্র, অপূর্ব সব মূর্তি – এহেন বাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হবে, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে সবকিছু। আসবাবপত্র, মূর্তি এসব কিছু কিনে নিয়ে যাবে কোনো মাড়ওয়ারী বা নব্য বড়লোক বাঙালি। একথা ভেবে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল সকলেরই। যতই হোক নিজের শিকড়, সে টান যাবে কোথায়?

এরই ফাঁকে বুবাই কখন স্কেচবুক নিয়ে বসে পড়ে বাড়ির একটা অপূর্ব স্কেচ করে ফেলেছে। এ বাড়ির ছেলেমেয়েরা সকলেই কমবেশী সৃজনশীল, কিন্তু বুবাই যে এত ভালো আঁকে তা সত্তিই কারুর জানা ছিল না। সঞ্চিতা বলল “প্যারিসে ফিরে সবাইকে দেখাব দিস ইজ আওয়ার হাউস”। বুবলুর বউ সাহানা বলল “এই ছবিটা স্ক্যান করে আমাদের পাঠিও না গো, সুন্দর করে সাজিয়ে রাখব”। তিয়াশার মাথায় তখন অন্য চিন্তা ঘুরছে। “আচ্ছা, আমাদের বাড়িটা এত পুরনো, এত বছরের ইতিহাস আমাদের, এই নিয়ে তো একটা সুন্দর তথ্যচিত্র তৈরি করা যায়। তিতির তো ভালো লেখে, স্ক্রিপ্ট টা ও করবে, ছবির জন্য প্রবালদা তো আছেই, মিডিয়া আর মার্কেটিং টা আমি দেখে নেব”। সঞ্চিতা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল “গ্রেট, টাকা পয়সা যা লাগে আমরা দিয়ে দেব”।তিয়াশা ধমকে উঠে বলল “ তা কেন? বাড়ি তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলেই খরচা করব”।

ঋজু বাড়ির জামাই। সে সাতে পাঁচে থাকে না। এতক্ষণ চুপ করে সব শুনছিল। কিন্তু আর কথা না বলে পারল না। বলল “বাড়িটা যখন ভেঙ্গেই ফেলছ তোমরা, তখন এসব করে আর লাভ কি”? ঋজুর এই কথায় তার কেটে গেল সকলের। সত্তিই তো, তারা তো বাড়ি ভাঙ্গার জন্যই এখানে একত্রিত হয়েছে। হটাৎ করে বুকের ভেতরটা কেমন টনটন করে উঠল। অল্প সময়েই বাড়িটা যেন সকলকেই এক মায়াজালে জড়িয়ে ফেলেছে। এদিকে সন্ধে নেমে এসেছে। উঠোন খোঁড়ার কাজ শেষ। গুপ্তধন শেষপর্যন্ত পাওয়া গেল না।

রাতে ‘মে্নল্যান্ড চাইনা’য় ডিনার করতে করতে তিতির আর নিজের মনের কথাটা চেপে রাখতে পারল না। “আচ্ছা, বাড়িটা কি না ভাঙ্গলেই নয়”? খানিকক্ষণের জন্য কথাবার্তা, হাঁসিঠাট্টা, কাঁটা চামচের আওয়াজ সব স্তব্ধ হয়ে গেল। নিনি সকলের ছোট, তাই এতক্ষণ সাহস করে কিছু বলতে পারে নি। করুন গলায় বলে উঠল “আমাদের তো আর মামার বাড়ি বলে কিছু থাকবে না রে”। সবারই মনের আনাচে কানাচে কথাটা ঘুরছিল, কেউ আর মুখফুটে প্রকাশ করতে পারছিল না। মামন বলল “ বাড়িটা মেনটেন করা নিয়েই তো সমস্যা হছিল, আমরা যদি একটা ফান্ড করি। প্রত্যেক মাসে সবাই টাকা পাঠাব। তাহলেই তো সমস্যার অনেকটা সমাধান হতে পারে”। অনেকগুলো হাত একসঙ্গে হাততালিতে গর্জে উঠল। সবারই খুব মনে ধরেছে কথাটা। 

নিজের শিকরে ফিরে আর ভাইবোনেদের সাথে থেকে সকলেরই মন আবেগপ্রবন ছিল। তারমধ্যে পেটে উত্তেজক পানীয় পরায় সেসব আবেগের প্রকাশ অনেকটা সহজ হয়ে গেল। প্রবাল এতক্ষণ চুপচাপ সব শুনছিল। তিন নম্বর পেগ হুইস্কি তে চুমুক দিয়ে বলল “তাহলে গুপ্তধন সত্তিই পাওয়া গেল বল?” তিতির লাফিয়ে উঠল “হ্যা, গুপ্তধনই বটে। নিজের শিকরের প্রতি টান, এতগুলো সম্পর্ক আর এত আনন্দ আর ভালোবাসা সবই তো লুকিয়ে ছিল এই বাড়ির ভেতরে। মোহরের ঘড়া বা গয়নাগাটির চেয়ে অনেক বেশী দামী এই সম্পর্ক আর ভালোবাসা”। “ক্যা-নট এগ্রি মোর” বলে আরেকবার হাততালি দিয়ে উঠল সকলে। ঠিক হল যে যেখানেই থাকুক, বছরে অন্তত একবার জড় হবে এ বাড়িতে আর জমিয়ে হুল্লর করবে। তিতিরের মুখে হাঁসি। “এবার তাহলে একটা ‘উইফি’ হয়ে যাক”। সবাই মিলে তখন ফ্রেমে আঁটার গুঁতোগুঁতি...


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.