x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৬

নীহার চক্রবর্তী

sobdermichil | আগস্ট ১৮, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
nihar





মা প্রায় বলে তুলিকে, বয়স হচ্ছে । ব্যাপারটা বুঝিস । তুলি ঘর থেকে বাইরে বেরোতে যাওয়ার সময় একথা শোনে । প্রথমে ও মার কথা সেভাবে বুঝত না। এখন বুঝে বলে, সে আর বলতে ? বয়স কি আর কম হল আমার ? তাইতো এখন নিজের মতো কতকিছু ভাবতে পারি । অত ভেবো না । আমি যা করবো নিজের মঙ্গলের জন্যই ।‘’ কথাটা খুব কানে লাগে ওর মার । মুখ-ভার হয়ে যায় তার ।

তুলির বাবার কাছেও অভিযোগ জানায় তুলির মা । মেয়ের কথাগুলো ব’লে বলে,এ কেমন কথা গো ? ওর মঙ্গল ও নিজে একা কীভাবে চাইবে ? আমরা সঙ্গে না থাকলে হয় ? এ তো দেখছি দুর্বুদ্ধি । শুনে হাসে তুলির বাবা । সহাস্যে উত্তর দেয়,’’তুলি এখন আঁতুড়ঘরে নেই । একেবারে ছোটোও নেই । সকুল-জীবন পেরিয়ে এসেছে সবে । কতোটুকু আর তোমার-আমার গুরুত্ব এখন ওর জীবনে । আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি শুধু । ও নিজের কর্তব্যগুলো দেখাক ।তুলির বাবার কথায় তুলির মা খুশী নয় । রাগত-স্বরে বলে, তোমার কিছু বলা উচিৎ ওকে । সাথে-সাথে তুলির বাবা বলে ওঠে,’’পাগল ? আমি ? খেপেছ নাকি ? বাদ দাও তো ।‘’

মা অনেক বলছে বটে, কিন্তু এখনো এমন কোন খবর আনেনি যা তাকে চমকে দেবে । খড়গহস্ত হবে তুলির বাবার বিরুদ্ধে । তবে প্রেম এসেছে তুলির জীবনে । একবার নয়, দু-দুবার । দ্বিতীয় প্রেমিক অভিষেককে বলেছে, আমি কিন্তু নিজের মতো করে চলি । নিজের মতো করে ভাবি । মা আমাকে বলেছে আমার বয়স হয়েছে । বয়স বাড়লেই নিজস্বতা বাড়ে । তোমাকে সব মানতেই হবে । কিন্তু অভিষেকের মধ্যেও ও দেখে মার সেই বাঁধন । অভিষেককে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকার মধ্যে ও খুঁজে পায় ছড়ি হাতে কোন এক মানুষ যে ওর মাথার ওপর ঘোরাবে । সেই সম্পর্কও বুঝি ঘুচে গেছে বা ঘুচে যাবে খুব তাড়াতাড়ি ।

তুলির বাবাকে খুব পছন্দ । মানুষটি একেবারে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করে না । বরং ওর জীবনের হালহকিকতের খবর নেয় । কারো সাথে ওর মন দেওয়া-নেওয়া শুরু হয়েছে কিনা,সে খবরও জানতে চায় খুব আগ্রহের সঙ্গে । বাবার আগ্রহ দেখে তুলি খুব অবাক হয় । মজাও পায় । তারপর হাসতে হাসতে বাবাকে বলে, বয়স হচ্ছে তো আমার । নিজস্বতাও বাড়ছে । তাই খুব ভেবেই এগোচ্ছি । তবে চারদিকে যাকেই দেখি মনে হয় যেন ছড়িওয়ালা প্রেমিক । ও আমার সইবে না । নিজের মঙ্গল তো নিজেকেই চাইতে হয় । তাই তো ? বাবা শুনে হাসে । মেয়ের বিচক্ষণতায় খুব তৃপ্ত । বলে,এগিয়ে যাও । আমার বুদ্ধি শেষ । মার বুদ্ধি আর কদিন ? একটু অপেক্ষা করুক । আমরা দুজন মিলেই বুঝিয়ে দেবো বেশ করে ।‘’

এই সেদিন তুলির বাবার সামনেই তুলির মা তুলির কানে ফাটা রেকর্ড বাজিয়ে দিলো । তুলি শুনে হেসে ফেললো । ওর বাবাও সেই হাসিতে যোগ দিলো । দেখে অবাক তুলির মা । রেগেও গেলো খুব । রাগত-স্বরে বলে উঠলো তুলির বাবাকে,এটা কী হল ? আমার কি কিছু বলতে নেই ?’তার কথা শুনে তুলির বাবা জবাব দিলো স্মিত হেসে, এ প্রজন্ম ফাটা রেকর্ডের কথা শুনতে ভালোবাসে না । বয়স হওয়ার সাথে-সাথে নিজেদের খুঁজে নেয় নিজেদের মধ্যে থেকে । আমাদের সময় গেছে । ভেবে দেখো তো তুমি । এতদিনে কম কষ্ট পেয়েছ তুমি আমার কাছে ? তোমাকে নিজস্বতা দেখানোর সুযোগ দিয়েছি কোন ? কিংবা তোমার মধ্যে কি তা ছিল ? আর অমন কথা বল না । এ প্রজন্মের ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করি আমরা । এসো ।

তুলি বাবার কথা শুনে তথৈবচ । ভাবতে থাকলো,এত সত্যিকথা এত সহজে বলা যায় ? এ কেমন মানুষ ? আজো যে দুর্লভ । তারপর তুলি এক-মুখ হাসি নিয়ে মার দিকে তাকিয়ে বলল,’’আমাকে নিয়ে আর ভয় পেয়ো না । বাবা বুঝে গেছে । এবার তুমি...’’

সঙ্গে-সঙ্গে তুলির বাবা তুলির মার দিকে তাকিয়ে একচোট হেসে তুলির অপূর্ণ বাক্য শেষ করলো,’’তুমি বুঝলেই হয় আর কি ।‘’ তার কথা শুনে তুলির মা হঠাৎ এক অচেনা হাসি সারা মুখে ছড়িয়ে দিয়ে উত্তর দিলো,’’আর বুঝে লাভ নেই আমার । মনে হচ্ছে মেয়ে-বাবা ঠিক পথেই এগোচ্ছে । আমিও আজ থেকে সে পথের যাত্রী হলাম । হুম । আমাকে নেবে তো ? নাকি না ?’’

তুলি মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে উদ্দাম হাসি চারদিকে ছড়িয়ে দিয়ে বলে বসলো তখন,এখানে-ওখানে যা কিছু হবে আমাদের মঙ্গলের জন্যই । আর একদম ভেবো না । বয়সের কথা শুনলে নিজেকে খুব বুড়ী বলে মনে হয় । ওটি আর বল না । এ সমাজে বুড়ীদের কষ্ট দেখলে চোখে আমার জল আসে ।





Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.