x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬

কাকলি ভট্টাচার্য

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
kakali







ট্রেন ছুটছে । পেরিয়ে গেল মাল স্টেশন । নর্থ বেঙ্গল এর এই ছোট্ট স্টেশন মাল মউলির বড় প্রিয় । কতবার কত স্মৃতি রয়ে গেছে এখানে। অমিত আর একমাত্র মেয়ে মিশেল কে নিয়ে এসেছে তো বটেই-- অনেক বন্ধুদের সঙ্গে ও অনেকবার --- চালসা হয়ে কতো বেড়ানো । মূর্তি নদীর ভালবাসা ছুঁয়ে আছে মন-প্রান এখনো ।

সেবার নাটকের দল নিয়ে জলপাইগুড়ির শো শেষে সবাই মিলে মউলিরা গিয়েছিল দমনপুর । আহা !! দমনপুরের বাংলো টা কি যে অসাধারণ ছিল । সঙ্গে কেয়ারটেকার বাহাদুরের আতিথ্য, চিলাপাতার জঙ্গলে বেড়ানোর স্মৃতি আর রাতে বার বি কিউ চিকেন এর স্বাদ এখনও বড় সতেজ । ওখানেই বার বি কিউ র সাথে মদ খাবে বলে কি বায়না টাই না ধরেছিল নাটকের গ্রুপ এর শ্রেয়া !!!

মাঝে মাঝে বিভিন্ন টানেলের মধ্যে দিয়ে চলেছে ট্রেন । শরতের রোদ্দুর মাখা আকাশ আর দুপাশে মায়াময় অসংখ্য গাছের সারি । ঘড়ি দেখল মউলি । ১১.৪৫ । অর্থাৎ আলিপুরদুয়ার পৌছতে আর কুড়ি মিনিট বাকি । পিঠের ব্যাথা টা আবার কিছুদিন হল বেড়েছে । আগের বারের স্মৃতি না দগদগে ঘা উঁকি দিছে এখনো ।

একটা কামরা জুড়েই তখন হুল্লোড় চলছে । 
- এই মউলিদি চা খাব
-  দ্যাখ কিশোর , একটু আগেই তো কেক খেলি, ঝুরিভাজা খেলি, কফি খেলি আবার চা । বলেছি না আমাদের গরিব নাটকের দল ।
- মউলিদি জিবনে কি পাব না ভুলেছি সে ভাবনা -- সামনে জা দেখি জানি না সে কি আসল কি নকল সোনা আ আ ---
ব্যাস শুরু হয়ে গেল গান । যোগ দিয়েছে পলাশ , তমাল, ইমন, মিষ্টি আর কারা যেন-- ---- জীবনে কি পাবনা -- আ আ আ আ আ আ ---

এইরকম ই একটা উইন্ডো সিট এ বসেছিল মউলি । পাশে এসে বসল শ্রেয়া । মউলির ১৮ বছরের বন্ধু । বহু দুর্যোগে পাশাপাশি পথ হেঁটেছে দুজনে। " হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়, সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয় " --- ওমা হটাত শঙ্খ ঘোষ কে মনে পড়ল কেন? স্রেয়ার চোখে চোখ রাখল মউলি । 
- অ্যাই মউলি আমার সদ্য প্রসুত কবিতা টা একবার দেখবি ?
- ও রে বাবা , আবার তর খেরোর খাতা বার করলি ? এখন না না শ্রেয়া । একটু বাইরেটা দ্যাখ । কলকাতায় এমন সবুজ পাবি না রে। 
-  ধুর, কাল রাত জেগে লিখলাম --- একটা নতুন কবিতা -- গঙ্গা কে নিয়ে । দ্যাখ না । 
- উফ -- , জ্বালাতন , দে দেখি । সত্যি ই কি লিখেছিস রে । অনেকদিন পর একটা ভালো কবিতা । দীনবন্ধু মঞ্ছের শো তে এটাই বলব ।

মউলির হাত শ্রেয়ার হাতে --- নিস্তব্ধতার মাঝে একজন কবিতা বলছে আর একজন শুনছে । কিন্তু সবটাই মনে মনে ।


আলিপুরদুয়ার এসে গেল । এবারের ট্যুর এ মউলি একা । নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি তে একটা সেমিনার এ এসেছিল - তারপর হটাত ই মনস্থির করে দমনপুর । ট্রেন থেকে নেমে দাড়াতে হল না । গাড়ি নিয়ে হাজির রানাদা । দমনপুর বাংলোর মালিক । 
- আসুন আসুন দিদি , এবার অনেক দিন পর । 

বাংলো তে পৌঁছে একটু ফ্রেশ হয়ে নিইয়ে খাওয়া দাওওা আর মন-বাহাদুরের সঙ্গে গল্পে গল্পে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। কাঠের তৈরি ইজি চেয়ার টায় আরাম করে এবার বস্ল মউলি একটু পড়েই হইত চা আর ভাজা ভুজি দিয়ে জাবে বাহাদুর । চারিদিক কেমন যেন ধোঁয়া ধোঁয়া । অতীত টাও যেন ধোঁয়ায় ভরে গেছে। ত্নাতক টা যেন মউলি কে বেঁধে রেখেছে আজীবন -- নাটকের জন্য কতদুর পথ হাটা যায় জানে না মউলি। নইলে অকাল দুর্যোগে যখন ভেঙ্গে গিয়েছিল তার নাটকের দল , সহ অভিনেতারা অনেকেই বেড়িয়ে গিয়েছিল নাটকের দল " সমিধ " ছেড়ে । অনেকে তখন ফিরেও তাকায় নি এতদিনের দল টির দিকে -- যে তাদের ফুল দিয়েছে , ফল দিয়েছে , আল বাতাস আর কতকিছু --- ভাবেনি অনেকেই --।

এখন মউলি ও আর ভাবে না এসব --- আসা যাওয়ার পথের ধারে সে এক গতিহিন পথিক । একদল যায় আবার একদল আসে -- শীতের পাতা ঝরার শেষে বসন্তের আসার মতই এই বছরে আবার একঝাক সদ্য তরুন তরুণী যোগ দিয়েছে -- আবার তাদের জোর উদ্যমে মউলি শেখাছহে তাদের হাতে ধরে-- নাটকের অ আ ক খ । শরীরচর্চা , বকুনি--- আহ্লাদ --সব দিয়ে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রেখেছে নাটকের কুশিলব দের। অনেকটা কাকের মতই । জানেও না কবে তাদের কুহু কুহু ডাক শুনতে পাবে। জানেও না কবে দূরে আকাশে দানা মেলে উড়ে জাবে কোকিলের দল । মউলি ভাবে -- তখন আবার তৈরি করব --- ভেঙ্গে যাওয়া --টা কিছু না। গড়াটাই তো সব। ওই মঞ্চ, আল সামনে একরাশ কালো মাথা, উচ্ছসিত প্রেখহাগ্রহ , করতালি তে ফেটে পড়ছে । কিছু ভেসে আসা সংলাপ --" দেখলে কি অভিনয় "!! এই তো সব --- এর জন্য হাজার বছর বাঁচতে পারে মউলি । নানা রঙের দিন গুলি নাটকে অজিতেশ বলেছিলেন -- শিল্পকে যে মানুষ ভালো বেসেছে তার বার্ধক্য নেই একাকীত্ব নেই, রোগ নেই, মৃত্যুভয়ের উপর তো সে হাসতে হাসতে ডাকাতি করতে পারে ------- 

বাহাদুর এল আলো নিয়ে বাইরে টা অন্ধকার ।
- একটা কথা কথা ছিল দিদি
- বল 
- আমার নাতি টার বড় শখ অভিনয় করবে । এখন ছোট্টটি আছে। কলকাতায় তুমার বাড়ি তে থাকতে দেবে । একটু কাজকর্ম করে দেবে । আর নাটক শিখবে । হবে দিদি ?
- মউলি বুকের ভিতর শিরশিরানি । --- ডাকো তোমার নাতি কে ।
- নমস্তে মেমসাব ।
- অ্যাই তুই আমার হবি ? শুধু আমার ? কখনও আমায় ছেড়ে জাবি না বল !!! শিখবি নাটক?

বাহাদুর এর চোখে জল। মউলির চোখেও । দুজনেই পেয়ে গেছে নজরানা ।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.