x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬

ফারহানা খানম

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত

farhana










কলেজ ছুটি হয়েছে সেই দুইটার সময়, বাসায় যাবেন যাবেন করেও কাজ থেকে উঠতে পারছিলেন না শায়লা আখতার। জরুরি কিছু কাজ করছিলেন ঠিক এই সময় একটা ফোন এল, কণ্ঠটা তিনি বুঝতে পারলেন না । হ্যালো বলতেই কেটে গেল  কিছুক্ষন পর আবার এল ফোনটা এবারে চিনতে পারলেন সেই মেয়েটা উফফ এই লিলি আস্ত একটা পাগলি এত সুন্দর গান করে , এত ভাল চাকরী করে তবুও নিজের ভালোটুকু বুঝতে শিখল না এখনো , আর ওই শরিফ সেও বা কেমন মানুষ ? একটা মেয়ে কথা বলেছে ব্যস অমনি শুরু করলো প্রেম। আরে একবার তো নিজের আর পরিবারের কথা ভাবলে সেও কি এমন করতে পারত ? আর তার দিক থেকে তেমন সাড়া না পেলে লিলিও এমন পাগল হত না এইসব নষ্টের মূলে ওই ফেসবুক ই। তিনি সব দায় ফেসবুকের ওপরেই ন্যস্ত করেন রাগ সামলান । এবার ফোনটা রিসিভ করেন । বললেন কি কি খবর তোর ?

- আণ্টি তুমি কি বাসায়, আমি আসবো দেখা করতে 
- নারে আমি এখনো কলেজে এই তো একটু পরেই যাচ্ছি ।খুব কি জরুরি কিছু ?
- হা তোমার বাসায় গিয়েই বলবো বলেই কেটে দেয় লাইনটা ।

মেয়েটার গলায় যেন কান্না আটকে আছে কি করুণ শোনালো না ওর গলাটা ! আর কিছু ভাবতে পারলেন না তিনি । শায়লা ফাইলগুলো গুছিয়ে রাখেন তারপর ব্যাগটা নিয়ে ধীরে ধীরে বেড়িয়ে আসেন রুম থেকে । বাইরে ভীষণ রোদ । তিনি নিজেও পুড়ছেন মনে মনে স্নেহের আগুনে । 

গাড়িতে বসে বসে তিনি ভাবতে থাকেন আজ আবার কি বলবে লিলি ? ওই লোকটার মধ্যে ও কি যে দেখেছে কে জানে ? একটা বিবাহিত লোক সংসার আছে সন্তান আছে তবুও লিলির  পেছনেই পড়ে আছে । তিনি বেশ কয়দিন শরিফ মানে সেই লোকটির সাথে ইনবক্স এ কথা বলেছেন, বলেছেন লিলির কাছ থেকে দূরে সরে যেতে, লিলিকে বোঝাতে । তিনি রাজীও হয়েছিলেন বেশ কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধও রেখেছিলেন। কিন্তু লিলিকে সামলানো যাচ্ছিল না। সে পাগলের মত হয়ে উঠেছিলো একটা খবরের জন্য । অবশেষে তিনি ওই ভদ্রলোক কে নিজেই ফোন করে বলেন যে, অন্তত একবার যেন লিলির সাথে যোগাযোগ করে । গাড়িটা সিগন্যালে দাঁড়াতেই আইল্যান্ডের ওপর রোদে বিবর্ন হয়ে যাওয়া ফুলগুলোর ওপর চোখ পড়ে । মনে হয় লিলি একটা তাজা ফুল যত্নের অভাবে এরকমই বিবর্ন হয়ে গেছে । মা মরা এই দুর্দান্ত মেয়েটিকে তিনি খুব ভালোবাসেন। ওর বাবা তো থেকেও নেই । সৎ মা একদম দেখতে পারেনা উল্টে সব কিছুতেই লিলির সাথে নিজের তুলনা করে। সংসারের এই অশান্তিতেই মেয়েটা এরকম একটা কাজ করে বসলো না তো ? হ্যাঁ তাই মনে হয় শায়লা আখতারের । মেয়েটা সেই আট বছর থেকে মায়ের সংসারে একা বড় হয়েছে অনেক অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছে আর যাকে মা বলে ভাবতে চেয়েছে সে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নিয়ে প্রতিনিয়ত আঘাত করেছে । এইসব কষ্টেই হয়তো মেয়েটা এমন উল্টো -পাল্টা কাজ করেছে ।এত সবের মধ্যে তিনিই ওর খুব কাছের মানুষ । লিলির মা তার বান্ধবী ছিলেন সেই সুত্রেই ওদের বাড়িতে তাঁর অবাধ যাওয়া আসা আর লিলিও তাকে খুব ভালোবাসে । দুঃখ, কষ্ট্, আনন্দ যাই হোক লিলির সব কথা শায়লা আখতারের সাথেই । 

বাসায় এসে তিনি ফ্রেশ হয়ে বিকেলের চা নিয়ে বসেন তখনই কলিং বেলটা বেজে উঠলো তীব্র স্বরে । ফাঁকা বাসায় শব্দটা যেন আর্তনাদের মত শোনালো তিনি উঠে দরজা খুললেন লিলি দাঁড়িয়ে আছে বিধ্বস্ত চেহারা । শায়লা আখতার চেঁচিয়ে উঠলেন ... এই কি হয়েছে তোর ? 

লিলি বলল চল গিয়ে বসে কথা বলি । লিলিকে নিয়ে তিনি ঘরে এলেন । লিলি তার মোবাইলে ফেসবুক ওপেন করলো তারপর তার ইনবক্স দেখালো। ওখানে শরিফ সাহেবের বউ এর মেসেজ । নাহ ভদ্র মহিলা বেশ ভালো কোন বকাবকি নয় বরং বেশ শান্ত হয়ে বুঝিয়েছেন । লিখেছেন ‘’ দেখো তুমি চাইলে শরিফের সাথে ঘর বাঁধতে পারো আমি সরে যাবো আমার ছেলে মেয়েরাও বড় হয়ে গেছে। ওরা তো এখানে কেউ থাকে না । কিন্তু তুমি ভেবে দেখ কাজটা তুমি ঠিক করছ কি না ? তুমি আমার মেয়ের বয়সী,  চাইলে তোমার অনেক ভাল বিয়ে হতে পারে । তোমার তো আরও সুন্দর অল্প বয়সী ছেলের সাথে বন্ধুত্ব হতে পারে , তুমি কেন আমার জীবনে ঝড় হয়ে আসতে চাইছ আর কেনই বা এমন অনিশ্চিতের ওপর ঘর বাঁধতে চাইছ ?

পরের মেসেজ টা শরিফ সাহেবের।  তিনিও বার বার ক্ষমা চেয়েছেন নিজের অজান্তেই এমন একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠার জন্য । আর বলেছেন তাঁর বয়সী একটা লোকের কাছ থেকে লিলি কি বা পেতে পারে ? তার বয়স হয়েছে তার যদি কিছু হয়ে যায় লিলির কি হবে ? তার চেয়ে লিলি ভালো দেখে অন্য কাউকে বিয়ে করুক ... সে সুখী হবে । 

এই কথাগুলো লোকটি আগেও বলেছিল লিলিকে শায়লা সেসব জানেন । লিলি মানতে চায়নি বার বার বলেছে ও বয়সের ধার ধারে না । সে শরিফকে ভালোবাসে।  তাকে না পেলে জীবন বৃথা । তাহলে আজ এত বিভ্রান্ত দেখাচ্ছে কেন ওকে। কি হয়েছে ? আবার কি বাড়ীতে ? তিনি সেই কথাই জিজ্ঞেস করেন ? এত নতুন কিছু নয় রে এগুলো উনি আগেও বলেছেন আমিও বুঝিয়েছি তুইও জানিস তাহলে আজ কি হল ? লিলি ঝাঁঝের সাথে বলে আনটি তুমি বুঝতে পারছনা কি হয়েছে? শায়লা বলেন না বুঝতে পারছিনা । একেবারে যে বোঝেননি তাতো নয় তবু তিনি লিলির মুখ থেকেই শুনতে চান ।

লিলি বিরক্তি গোপন করে না আবার ঝাঁঝের সাথেই বলে এতদিন আমি অন্ধ ছিলাম আজ ওনার স্ত্রী আমার চোখ খুলে দিলেন । আমি আর শরিফ কে বিরক্ত করবো না আন্টি । ওর সন্তানরা এই বয়েসে এসে বাবা কে হারাক আমি তা চাইনা আর ওই ভদ্র মহিলাকেও আমি আমার মায়ের মত কষ্ট পেতে দেখতে চাইনা উনি একবারের জন্য হলেও আমাকে মেয়ের মত দেখেছেন , দেখ কি সুন্দর করে কথা বলেছেন আমার সাথে । তার গলায় আমার মায়ের স্বর শুনেছি তিনি আমার সাথে ফোনেও কথা বলেছেন ।

শায়লা আখতার অবাক হয়ে তার কথাগুলো শুনতে থাকেন । লিলি আবার বলতে শুরু করে ...  তবে আমি শরিফকে ভালবেসেছি যতদিন বাঁচবো ভালবাসবো আর কাওকে বিয়ে করতে পারব না । আমি ওর হয়েই মরবো তুমি দেখে নিও । আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি আমি আবার ফিরে যাবো জার্মানিতে আমার নিজের জগতে। 

শায়লা আখতারের বুক থেকে একটা ভারী পাথর নেমে যায় কিন্তু আর একটা দুশ্চিন্তার মেঘ এসে বাসা বাঁধে । কান্না গোপন করে তিনি স্নেহের কোমল হাতটা রাখেন লিলির মাথায় আর তখনই তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.