x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬

চঞ্চল নায়েক

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
chanchal

অনেকদিন পর হোস্টেল থেকে জয় বাড়ি এলো। মা ডিভোর্সি। বাবা ছেড়ে গেছে ন'বছর হ'ল। তখন ওর ছ'বছর বয়স। বাবার অভাব মা কখনও বুঝতে দেয়নি। এবার মাধ্যমিক দেবে। রেগুলার নাইন্টি পার্সেন্ট পাওয়া ছাত্র জয়। গরমের ছুটিতে কয়েকটা দিন বাড়িতে কাটাবে, তারপর আবার সেই একঘেঁয়ে পড়াশুনার জীবন! মা একটা কোম্পানিতে অফিসিয়াল ক্লার্ক।

রুলিং পার্টির পাড়াতুতো কাকু জয়ের মা-কে কাজটা পাইয়ে দেয়। রমেন চ্যাটুজ্জ্যে। এক নামে কালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার সবাই চেনে। ওনার অবদান জয়ের জীবনে অনস্বীকার্য। তাই রমেন কাকুর প্রতি জয়ের শ্রদ্ধা অনেকখানি।

বাবা ছিলেন দিবাকর গোস্বামী। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ করতেন। ওই লাইনেরই কোন এক আলিয়া নামে মেয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েন অবৈধ সম্পর্কে। তারপরও মদের নেশা ছিল অন্যতম প্রেম। ফলে সংসার দিনদিন হারিয়ে ফেলছিল তার নিজস্ব গতিপথ। শিক্ষিত দিবাকর ক্রমশ হিংস্র পশুতে পরিণত হয়ে যাচ্ছিল। অনেক বুঝিয়েও কিছু হচ্ছিল না। আত্মীয় পরিজন সবাই বুঝিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। এমনকি কত রাত যে জয়ের মা কবিতাকে মার খেতে হয়েছে তার ঠিক ঠিকানা নেই। বেজে গিয়েছিল বিচ্ছেদের ঘন্টা ! বহু কষ্টে দিন চলতো কবিতার। তারপর রমেন কাকুর সাহায্যে দুঃখের দিনের যবনিকা হ'ল।

- 'মা, রমেন কাকু এসেছেন।'
- 'বসতে বলো, আমি আসছি।'
- 'বলছি।'
               
পার্থিব সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে এখন কবিতার একটাই স্বপ্ন---জয়। জীবনের ফেলে আসা বিষণ্ণতা আর স্বামী বিচ্ছেদ ওকে কুরে কুরে খায়। রাত ন'টা বাজল। রান্না শেষ হ'ল। রমেনবাবু টিভির ঘরে খবরের চ্যানেল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকলেন।

জয় এখন পড়ার ঘরে। কিছু কথাবার্তা হ'ল। তারপর কবিতার হাতে এক কাপ চা খেয়ে চলে গেলেন রমেনবাবু। সামনেই ভোট। কবিতাকে ভোটে দাঁড় করাতে চায় পার্টি। রাতের খাওয়াদাওয়া শেষ করে শুতে শুতে প্রায় সাড়ে এগারোটা বাজল। জয় ওর রুমে শুয়ে শুয়ে রমেন কাকুর কথা ভাবতে থাকল। উনি না থাকলে হয়তো পড়াশুনো ইতি টেনে দিতে হ'ত ! ঘড়ির কাঁটায় ঢং করে একটা বাজার শব্দ কানে ভেসে এলো। আর নয় এবার ঘুমোতে হবে।

টয়লেট করতে বেরোল জয়। মায়ের শোবার ঘরের পাশেই বাথরুম। মায়ের সারাদিনের খাটুনি জয়ের বুকে খুব বাজে। একটু শব্দ হ'লে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। তাই আস্তে আস্তে নিজের রুমের দরজা খুলল জয়।  হঠাৎ কানে এলো  মা যেন কথা বলছে !  হয়তো মা ভুল বকছে ভেবে জয় আস্তে আস্তে টয়লেট গেল এবং বেরিয়ে এলো । ফেরার পথে মায়ের দরজার কাছে জয় কান পেতে শোনার চেষ্টা করল। মায়ের কোন কথা জয় আর শুনতে পায়নি। শুধু শুনতে পেলো তার পরিচিত রমেন কাকুর কন্ঠস্বর...
                 
ছেলে নিয়ে তোমায় ভাবতে হবেনা। আমি তো আছি। শুধু আমায় খুশি করো সব  ঠিক হ'য়ে যাবে।' মুহূর্তের মধ্যে পার্থিব গোলক ধাঁধায় হারিয়ে গেলো জয়। অদূর ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন যেন টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেলো !  মায়ের মমতার আঁচল ক্রমে ক্রমে দূরে সরে যেতে থাকলো জয়ের জীবন থেকে...




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.