x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬

চঞ্চল নায়েক

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
chanchal

অনেকদিন পর হোস্টেল থেকে জয় বাড়ি এলো। মা ডিভোর্সি। বাবা ছেড়ে গেছে ন'বছর হ'ল। তখন ওর ছ'বছর বয়স। বাবার অভাব মা কখনও বুঝতে দেয়নি। এবার মাধ্যমিক দেবে। রেগুলার নাইন্টি পার্সেন্ট পাওয়া ছাত্র জয়। গরমের ছুটিতে কয়েকটা দিন বাড়িতে কাটাবে, তারপর আবার সেই একঘেঁয়ে পড়াশুনার জীবন! মা একটা কোম্পানিতে অফিসিয়াল ক্লার্ক।

রুলিং পার্টির পাড়াতুতো কাকু জয়ের মা-কে কাজটা পাইয়ে দেয়। রমেন চ্যাটুজ্জ্যে। এক নামে কালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার সবাই চেনে। ওনার অবদান জয়ের জীবনে অনস্বীকার্য। তাই রমেন কাকুর প্রতি জয়ের শ্রদ্ধা অনেকখানি।

বাবা ছিলেন দিবাকর গোস্বামী। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ করতেন। ওই লাইনেরই কোন এক আলিয়া নামে মেয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েন অবৈধ সম্পর্কে। তারপরও মদের নেশা ছিল অন্যতম প্রেম। ফলে সংসার দিনদিন হারিয়ে ফেলছিল তার নিজস্ব গতিপথ। শিক্ষিত দিবাকর ক্রমশ হিংস্র পশুতে পরিণত হয়ে যাচ্ছিল। অনেক বুঝিয়েও কিছু হচ্ছিল না। আত্মীয় পরিজন সবাই বুঝিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। এমনকি কত রাত যে জয়ের মা কবিতাকে মার খেতে হয়েছে তার ঠিক ঠিকানা নেই। বেজে গিয়েছিল বিচ্ছেদের ঘন্টা ! বহু কষ্টে দিন চলতো কবিতার। তারপর রমেন কাকুর সাহায্যে দুঃখের দিনের যবনিকা হ'ল।

- 'মা, রমেন কাকু এসেছেন।'
- 'বসতে বলো, আমি আসছি।'
- 'বলছি।'
               
পার্থিব সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে এখন কবিতার একটাই স্বপ্ন---জয়। জীবনের ফেলে আসা বিষণ্ণতা আর স্বামী বিচ্ছেদ ওকে কুরে কুরে খায়। রাত ন'টা বাজল। রান্না শেষ হ'ল। রমেনবাবু টিভির ঘরে খবরের চ্যানেল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকলেন।

জয় এখন পড়ার ঘরে। কিছু কথাবার্তা হ'ল। তারপর কবিতার হাতে এক কাপ চা খেয়ে চলে গেলেন রমেনবাবু। সামনেই ভোট। কবিতাকে ভোটে দাঁড় করাতে চায় পার্টি। রাতের খাওয়াদাওয়া শেষ করে শুতে শুতে প্রায় সাড়ে এগারোটা বাজল। জয় ওর রুমে শুয়ে শুয়ে রমেন কাকুর কথা ভাবতে থাকল। উনি না থাকলে হয়তো পড়াশুনো ইতি টেনে দিতে হ'ত ! ঘড়ির কাঁটায় ঢং করে একটা বাজার শব্দ কানে ভেসে এলো। আর নয় এবার ঘুমোতে হবে।

টয়লেট করতে বেরোল জয়। মায়ের শোবার ঘরের পাশেই বাথরুম। মায়ের সারাদিনের খাটুনি জয়ের বুকে খুব বাজে। একটু শব্দ হ'লে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। তাই আস্তে আস্তে নিজের রুমের দরজা খুলল জয়।  হঠাৎ কানে এলো  মা যেন কথা বলছে !  হয়তো মা ভুল বকছে ভেবে জয় আস্তে আস্তে টয়লেট গেল এবং বেরিয়ে এলো । ফেরার পথে মায়ের দরজার কাছে জয় কান পেতে শোনার চেষ্টা করল। মায়ের কোন কথা জয় আর শুনতে পায়নি। শুধু শুনতে পেলো তার পরিচিত রমেন কাকুর কন্ঠস্বর...
                 
ছেলে নিয়ে তোমায় ভাবতে হবেনা। আমি তো আছি। শুধু আমায় খুশি করো সব  ঠিক হ'য়ে যাবে।' মুহূর্তের মধ্যে পার্থিব গোলক ধাঁধায় হারিয়ে গেলো জয়। অদূর ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন যেন টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেলো !  মায়ের মমতার আঁচল ক্রমে ক্রমে দূরে সরে যেতে থাকলো জয়ের জীবন থেকে...




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.