x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬

ভাস্বতী বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০১৬ | | মিছিলে স্বাগত
Bhaswati



ওভেনে কড়া বসিয়ে সাদা তেল আর ঘি আধাআধি মিশিয়ে ঢালল প্রমিতা। রবিবারের স্পেশাল শুক্তো রান্না হবে। বড়িগুলো সোনালি করে ভেজে তুলল। ভাজা বড়ির গন্ধে যখন ম’ ম’ করছে রান্নাঘর তখনই তার হাউস কোটের পকেট থেকে পাখির কিচিরমিচির শোনা গেল। তার মোবাইলের মেসেজ টোন। ফ্লেম কমিয়ে আরও একটু তেল ঢালল কড়ায়। তারপর মোবাইলটা বের করল। যা ভেবেছিল তাই। উত্তরণ।

- খুব মন কেমন করছে সোনা! বিকেলে কি একবারটি আসবে না?

তেল গরম হয়ে গেছে। ধোঁয়া উঠছে। কেটে রাখা করলার টুকরোগুলো ছাড়ল কড়ায়। রবিবার বিকেলে ছেলেকে নিয়ে ক্যারাটে ক্লাসে যায় উত্তরণের বউ। সেখান থেকে সোজা বাপের বাড়ি। উত্তরণ যায় একটু রাত করে। রাতের খাওয়া সেরে বউ-ছেলেকে নিয়ে ফেরে। তাই রবিবার বিকেলে ঘণ্টাতিনেক একেবারে ফাঁকা থাকে উত্তরণের ফ্ল্যাট। অনেকবার একান্তে তাকে ডেকেছে উত্তরণ। রবিবার হলেই সকাল থেকে মনখারাপের মেসেজ। অনেকবার ভেবেছে যাবে, যাবে। কেন যাবে না? কিন্তু গিয়ে ওঠা হয়নি।

করলাভাজা তেল থেকে তুলে বেগুনগুলো ছেড়ে দিল কড়ায়।

- মা, অঙ্কগুলো হয়ে গেছে। এবার কি পড়বো?

- বউদি, দেখ তো! এই আদাতে হবে, নাকি আর একটু লাগবে?

- আজ ভালো মাছ ওঠেনি বাজারে। এই আনলাম অল্প করে। দেখ তো?

বেগুনগুলো তুলে আলুগুলো ছাড়ল তেলে। মশলা দিয়ে কষতে লাগলো। পাখি আবার ডেকে উঠলো কিচিরমিচির।

- ওই চাঁপা রঙ ঢাকাইটা পরে এস আজ। ..... তোমার জন্য একরাশ গন্ধরাজ ফুটেছে আমার বাগানের গাছটায়। 

কোথাও যেন বৃষ্টি এল। কোথাও যেন রুক্ষ মাটি ভিজে যাচ্ছে জলে। সোঁদা সোঁদা গন্ধ! এই গন্ধটাই কি প্রেম? এই ভিজে যাওয়াটা? ...কতদিন, কতদিন ভালবাসেনি কেউ তাকে! কতদিন সে এই সোঁদা গন্ধ শরীরে মাখেনি! 

বাকি সবজিগুলো কড়ায় দিয়ে নুন ছড়িয়ে ঢেকে দিল প্রমিতা। আবার পাখি কিচিরমিচির।

- প্লিজ কিছু বল!
- আমার ভয় করে!
- আমাকে?
- নাঃ নিজেকে। 
- কিসের ভয়?
- যদি আর ফিরতে না পারি?

শুক্তো তৈরি। বড়ি ভেঙে ছড়িয়ে দিল। ভাজা মশলা আর একটু ঘি। গন্ধটা বেশ ছেড়েছে। কড়াটা ঢাকা দিল প্রমিতা। আরও একটা গন্ধ সন্তর্পণে লুকিয়ে নিল বুকের ভেতর। শুখা মাটির ভিজে যাওয়ার গন্ধ।

- মা, আমার সবুজ মার্কার পেনটা দেখেছ কোথাও? 

- বউমা, আমার মালিশের তেলটা?

মেসেজগুলো ডিলিট করে মোবাইলটা বন্ধ করে দেয় প্রমিতা, আজ সারাদিনের মত। 

......প্রতিটি রবিবারের মতই। 



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.