x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, জুলাই ৩০, ২০১৬

অনিন্দিতা গাঙ্গুলী

sobdermichil | জুলাই ৩০, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
anindita





চারিদিকে বড্ড কোলাহল। সাধারণত এ জায়গাটা খুব শান্ত। সমাহিত ও বলা চলে।বসন্তের মলয় অনিলে কত নাম না জানা ফুলের সৌরভ । যেন সব পেয়েছির দেশ। এখানে কেউ উচ্চকিত নয়। কারো ধৈর্য স্থৈর্য এতটুকু টাল খায়না। তবু আজ শোরগোল পড়ে গেল। 

খুব সুন্দর হলটির মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক দীপ্তপ্রভা নারী। কৃষ্ণাঙ্গী। কিন্তু যেন একটি প্রজ্বলিত আগুনের শিখা। কালো আগুন। নীলাভ কালো। তার সামনে পিঠ উঁচু একটা সোফার মত চেয়ারে বসে আছেন এক মধ্যবয়সী পুরুষ। অধোবদন। চেহারায় বেশ জাঁকজমক।পাশাপাশি আরো কয়েকটা চেয়ার। একটিতে এক শ্বেত শ্বশ্রু শ্বেত কেশ বৃদ্ধ। আর একটিতে অতীব সুদর্শন এক ছোকরা। নারীর ডান পাশের দেয়াল ঘেঁষে একটি টেবিল। তার প্রান্তে সাদামাটা একখানা চেয়ারে বসে এক ব্যক্তি। লোকটি কিছু অস্থির। পা নাড়িয়েই চলেছে। টেবিলে রাখা একটি রেকাবি থেকে নানা বর্ণের লোভনীয় ফল তুলে তুলে সে মুখে পুরছে। ফল ছাড়াও স্বাদু সব আমিষ ও নিরামিষ খাদ্য সাজানো আছে। লোকটি কিন্তু শুধু ফল ই খাচ্ছে। মানে সে ভেজ। কচিত দু একটি অপরূপা তরুণী এসে ফলের রেকাবি ভরে দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ভেজ ওদিকে কিন্তু অপাঙ্গে সুন্দরী দের মাপতে ছাড়ছে না । মাঝখানে দাঁড়িয়ে নারীটি নানা বিলাপ প্রলাপ বকে চলেছেন। যেমন --- 

উঁ উঁ উঁ । ধম্ম পুত্তুর এযেচেন। কি এ্যাকবারে !! মিত্যে কতা মোটে বলেন না। পুরুষ মানুষ ? ছোঁচা লোভী, পরের জিনিসে বরাবরের লোভ। জানিনা নাকি ? মুরোদ তো এক কণা নেই সুদ্দু শালিসি ডাকা। হুঁহ । বলি কি এ্যামন কম্ম টা করেচে শুনি ? কি এ্যামন ? এত বড় পুরস্কার ?

সামনে বসা বৃদ্ধ গলা খাঁকারি দিলেন। "বাছা অমন বলতে নেই ।ধর্ম পুত্র বলে কথা। সৎ সত্যবাদী। নির্ভীক হয়ত নয় কিন্তু লোভী ও নয়।গুরুজনের আদেশ লঙ্ঘন করে না। অপরাধ তো সে কক্ষনো করেনি মা ! তুমি সংযত হও। এমন চীৎকার চেঁচামেচি এখানে কেউ করে না ।ছেলেমানুষেরা কি শিখবে বলো ?

---- বাহ্ বা বা বা। কি কতা ! ছেলেপুলেরা কি শিকবে। বলি সে মাতা ব্যতায় আমার দরকার কি ? বলি ও ঠাকুদ্দা, আমার যকন ওরাম খোঁয়াড় টা হচ্ছিল তকন কি সেকেনে কোনও ছেলেমানুষ ছিলনা ? না আপনার চক্কু দুটো অন্দ ?

অধোবদনে থাকা পুরুষটি সামান্য মুখ তুললেন। হ্যাঁ আমার পুত্র বটে। তবে যদি প্রমাণ করতে পারো এর অপরাধ তবে পুরস্কার তুমি পাবে।  এ পাবে শাস্তি। 

সুদর্শন ছোকরা টি এই শুনে মুখে একটি শব্দ বার করল - ইক

নারী প্রস্তুত। বললেন -- শুনুন তবে। যকন বাবা বিয়ে দেওয়া ঠিক কোল্লেন তকন দেশে ঘোর দূজ্জোগ। তাই বাবাকে বলেছিলাম এ্যামন একজনকে বিয়ে করতে চাই যে সে যেন নারী নিয্যাতন থেকে আমাকে রোক্কা করতে পারে। এ্যামন লড়াই লড়তে পারে যেন ডাইনে বাঁয়ে শত্তুর কুপোকাত হয়। বাবা তকন ওই মাচ এর চোকের ব্যবস্তাটা করলেন। এদিকে এগুলো সন্নিসি বৈরিগি সেজে বনে বনে ঘুরছে। ঘুরতে ঘুরতে চলে গেল আমাদের প্যান্ডেলে। সেকেনে এই লোকটার ভাই, কি জানি বাপু কেমন ভাই, এদের নাকি সব আলাদা আলাদা বাপ, খুব বীরত্ব দেকালো। আবার রমণী মোহন চেহারা। গলায় জুঁইযের গোড়ে মালা খানা দুলিয়ে দিলুম ।

কিন্তু এদের সাথে বনে যেতে হবে ভেবে তো খুব কাঁদতে লাগলুম। বাবা বললে কাঁদিস নে মা। এত রূপ নিয়ে বনে থাকাই ভালো। সোযামী যতই বীর হোক। 

এইখানে নারী একবার উচ্চ কণ্ঠে কেঁদে উঠলেন। বৃদ্ধ ব্যস্ত হয়ে বললেন - আহা থাক মা কেঁদো না । এ পোড়া দেশে মেয়েদের বড় দুঃখ ।সুদর্শন ছোকরা বৃদ্ধ কে আড়নয়নে দেখে নিল। নারী আবার বলতে শুরু করলেন -- এরপর যা হল ঠাকুরদা তা ভূ ভারতে কেউ শোনেনি।মাগো কি ঘেন্না কি ঘেন্না । ঘরের মধ্যে থেকে এদের মা সাড়া দিতে এরা বলল দেকে যাও কি এনেচি। তিনি ওমনি না দেকেই বলে উঠলেন পাঁচজনে ভাগ করে নাও বাছা। (ঝেঁকে উঠে ) আর এই ছোঁচা লোকটা সঙ্গে সঙ্গে লুপে নিল ? মুরোদ তো নেই এক ফোঁটা। আরো একখানা অত্থ করতে পারি। একা একটা বৌয়ের ভরণ পোষণ পারবে কেন ? এর অসাদ্দি ।

বৃদ্ধ এত ক্ষণ উর্ধ্ব নয়নে চেয়েছিলেন। এবার বললেন মা এইখানে তোমার একটা বড় ভুল হচ্ছে। সে তো মাতৃ আদেশ পালন করেছে। একে অপরাধ তো বলা চলেনা। 

মধ্যবয়সী পুরুষটি চুপ করে শুনছিলেন। এবার বললেন -- এ ছাড়া আর কোনও গুরুতর অপরাধ স্মরণ করতে পারো ? নারী বললেন -- হুঁ পারি। লোকটার তো জুয়োর নেশা । আবার ভেতরে ভেতরে খুব হিংসে। মুকে ভাজা মাচটি উল্টে খেতে পারেনা। ভাইয়ের গলায় মালা দিয়েচি বলে সহ্য হতনা। আমি কি বুঝিনা ? কচি খুকিটি ? সেই রাগে জুয়ো খেলতে বসে একে একে সব হারল। কারো কতা কি কানে নিলে গা ? আবার আমাকে বাজি ধরল। বলি আমি তো একটা আস্ত মানুষ ? নাকি ? মেয়েমানুষ কি মানুষ নয় ? এত্ত বড় আস্পদ্দা !

এই সময়ে সুনীল বরণ অতি সুপুরুষ একজন প্রবেশ করলেন ঘরে। সরাসরি অগ্নিশিখাটির সামনে এসে দাঁড়ালেন। মুখে ভুবন ভোলানো হাসি। নারী তাকে দেখেই বলে উঠলেন -- (ব্যঙ্গ করে ) ওই এলেন। রসের নাগর আমার। পুরুষটি সস্মিত মুখে বললেন - ছি সখী অমন করে বলতে নেই। সেই ঘোর দুর্দিনে আমি তো তোমাকে উদ্ধার করেছিলাম । 

--- ও শুদু নাম কেনা। যদি তোমার এতই ক্ষমতা তবে দাদাকে বাজি ফেলা থেকে নিরস্ত করতে পারলেনা কেন ?

মধ্যবয়সী পুরুষটি বললেন -- হুঁ এ গুরুপাপ। চিত্রগুপ্ত কই ? মন দিয়ে হিসেবগুলোও আজকাল করেনা ! একে কুম্ভীপাক নরকে নিক্ষেপ করা হোক। 

সুনীল বরণ বললেন সে কি ধর্ম রাজ ! একবার বিধাতা কে জানাবেন না পর্যন্ত ? 

এই সময়ে হঠাৎ চারিদিক আঁধার হয়ে গেল। শোনা গেল একটি ভারী কণ্ঠ স্বর। হে কৃষ্ণা যা কিছু ঘটেছে সব মায়া। তুমি মায়া যুধিষ্ঠির মায়া এমনকি স্বয়ং বাসুদেব ও মায়া। এখনি সব নির্গুনে মিলিয়ে যাবে। মহাকালের গ্রাসে। 

গ্রীন রুমে মেক আপ মুছতে মুছতে বাসুদেব বলল যুধিষ্ঠিরদা এই গোদা মাল টা কে কোত্থেকে এনেছেন ? কৃষ্ণা মুখ লাল করে বলল - মানে ? ব্রহ্মা দাড়ি খুলতে খুলতে বলল শূদ্রের জিহ্বা তোমার। ইন্দ্র বলল - ও কোনও ব্যপার না। আমি শিখিয়ে নেব। যুধিষ্ঠির করুন সতৃষ্ণ নয়নে গমনোদ্যত কৃষ্ণার দিকে চেয়ে ছিলেন। হঠাৎ লোডশেডিং। 

কালের যবনিকাপাত হলো । 


Comments
1 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.