x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

সোমবার, জুলাই ২৫, ২০১৬

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী

sobdermichil | জুলাই ২৫, ২০১৬ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
aniruddha







টিয়াকে আমি একদম সহ্য করতে পারি না। রাস্তায় দেখা হলে, বা ফ্ল্যাটে ঢোকার সময় মুখোমুখি হলে মুখ ঘুরিয়ে নিই। টিয়া প্রথম প্রথম অবাক হোত, বা খারাপ লাগত তার। এখন সেও আর থমকায় না। হনহন করে হাঁটা লাগায় আমাকে দেখলেই। একই ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাস করেও আমরা দুজন একে অপরের শত্রুপক্ষ।

আমাদের পাড়ার অনেকেই কুকুর ভালোবাসে। তারা কুকুরকে রাস্তায় নানা কায়দায় খেলায়। এই যেমন বি ব্লকের মি. তালুকদার। রেলের মস্ত অফিসার। অতি ভোরে যখন তিনি রেলের পথে বেরন, সাধারণ মানুষ বা পড়শিরা তাঁর সেই কু ঝিকঝিক সময় না জানলেও কুকুরেরা জানে। তাঁকে ফ্ল্যাট থেকে বেরুতে দেখলেই রাস্তার এদিক ওদিক শুয়ে থাকা কুকুরের দল নিঃশব্দে চলতে থাকে তাঁর পিছুপিছু। পাঁচ মিনিট হেটে বাসস্ট্যান্ড। সেখানে অতি ভোরে বাসের লোকদের জন্য চা দোকান খোলে বিহারি রামচাচা। চলতি নাম চাচার দোকান। এখানে থেকে সল্টলেক ও কামালগাজি রুটের সাদা বাস ছাড়ে। মি. তালুকদার সেই দোকান থেকে লেড়ো কেনেন। তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে আহ্লাদে ল্যাজ নাড়াতে থাকা কুকুরের দলের দিকে ছুঁড়ে দেন। প্রতিটি কুকুরের জন্য রেগুলার বরাদ্দ একটি করে লেড়ো। সেটি খেয়ে তারা যেমন নীরবে এসেছিল, তেমনি ফিরে যায়। মি. তালুকদার সল্টলেকগামী ফার্স্ট বাসে গা এলিয়ে দেন।

কিন্তু টিয়ার মত আদিখ্যেতা করে না কেউ। মাদি কুকুর বাচ্চা দিলে সে ফ্ল্যাটবাড়ীর সিঁড়ির নিচে বা দোতলার ল্যান্ডিংএ ছেঁড়া কম্বল পেতে দেয়। সন্ধ্যে হলে বাচ্চা সহ কুকুরেরা ঢুকে পরে সেই উষ্ণতায়। রাত তিনটের পর শুরু হয় আসল খেলা। বাচ্চারা প্রথমে হালকা কুঁইকুঁই দিয়ে শুরু করে। সময় যত ভোরের দিকে গড়ায়, তাদের গলার জোর বাড়ে। আমাদের ফ্ল্যাট নিচের তলায়। আমার ঘরটা আবার সিঁড়ির গায়েই। শীতেও আমি জানালার পাল্লা আধখানা খোলা রেখে শুই। সেই ফাঁক দিয়ে হিমের সঙ্গে আসে কুঁইকুঁই। ঘুম ভেঙ্গে যায়। কানের উপর বালিশ চেপে ধরি। তাতে মনে হয় কুঁইকুঁই শব্দটা ফিলটার হয়ে আরও সুচারু ভাবে কানের ভেতর দিয়ে মরমে প্রবেশ করে। 

ওরা হাউসিঙ-এ নতুন এসেছে। টিয়া আমার চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট। বিএ ফার্স্ট ইয়ার। আমি একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি। ওর বাবাও ব্যাংকে চাকরি করেন। তবে সেটা সরকারি। বদলি হয়ে এদ্দিন পর হোম স্টেটে। রাস্তায় দেখা হলে মাঝে মাঝে আমার দিকে নাক উঁচু করে তাকান। কখনও চশমার ফাঁক দিয়ে জুলজুল করে দেখে বলেন, কি, তারপর? 

টিয়ার সঙ্গে আমি কখনও কথা বলিনি। প্রথম প্রথম তাকে লুকিয়ে দেখতাম। আহা কি ফিগার! কি গায়ের রঙ! কেবল একটু মোটা এই যা। পাড়ার দুষ্টু ছেলেরা ওর নামকরণ করল ঢেপি। ওর মা যখন আমার মায়ের সঙ্গে গল্প করতে আসে, সব কথার শেষে রোজ বলে, মেয়েটা সেই সকালে কলেজে যায়, টিফিন নিয়ে যায় না; কি খায় না খায় দেখতে পাই না, কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। 

কেবলমাত্র টিয়ার জন্য লোকে এই পাড়াকে কুত্তাপাড়া বলে। সামনের পার্কে বাচ্চারা খেলা করত; এখন সেখানে চব্বিশ ঘন্টা কুকুরের আড্ডা। পার্কের চালু নাম তাই কুত্তাপার্ক। বাচ্চারা এখন পাশের এ ব্লকের পার্কে যায়। সি ব্লকের অনেকে আড়ালে টিয়াকে কুত্তাটিয়া বলে। টিয়ার এই পথ-কুকুরের জ্বালায় অস্থির হয়ে বেনামে খবরের কাগজে চিঠি পাঠাই। বিস্তারিত লিখি কিভাবে কুকুরেরা আমাদের জিনা হারাম করে দিচ্ছে। তাদের চিৎকারে কান পাতা দায়। বারান্দায় লম্বা করে মেলে দেওয়া শাড়ি তারা লাফিয়ে ধরে নেয়। সেটা তাদের বিছানা হয়, তাদের নধর বাচ্চারা তাতে দাঁতের ধার পরখ করে। আমাদের মত নিচের তলার বাসিন্দারা যদি ভুলক্রমে চটি বাইরে ছেড়ে রাখে, কুকুরেরা সেটি পায়ে গলাবার চেষ্টা করতে থাকে। টিয়ার মা বলে, কুকুর বলে কি ওরা মানুষ নয়? আমার মা বলে, আপনারা বাড়িতে কুকুর পুষতে পারেন।

সে কি আর ছিল না ভেবেছেন? আমাদের জামশেদপুরের বাড়িতে এলশিশিয়ান ছিল। কুকুর মারা যাবার কষ্ট, ওঃ, সহ্য করা যায় না! তাদের আমি জন্ম দিইনি বটে, কিনতু নিজের সন্তানের মতই ছিল। আমাদের জামশেদপুরের মানুষ এত কুকুর ভালোবাসে, সে আপনাকে কি বলব আর। এখানে রাত দশটার পর ডাকলে অনেকে বিরক্ত হয়। আমার টিয়া সেদিন কাঁদছিল। আপনার ছেলে আমার মেয়ের সঙ্গে কথা বলে না, ভালো। কিনতু সে মাঝে মাঝে কুকুর নিয়ে পাড়ায় অশান্তি করে। 

তার ঘুমের সময় কুকুর ডাকলে এমন করে। 

এই কুকুরেরা খুবই ভদ্র। এ জীবনে কুকুর তো কম দেখলুম না! রাত দশটার পর ওরা ডাকাডাকি করে বটে, সেটা উচ্চস্বরে নয়। সন্ধ্যেবেলা কুকুর ডাকলে আপনার মনে হয় না কেউ শাঁখ বাজাচ্ছে? 

কই, নাতো!
আসলে সেটা আপনার দোষ নয়। আপনি খেয়াল করেননি তাই—
দু’বেলা এদের খাওয়াতে আপনাদের তো খরচ হয় অনেক। 
হ্যাঁ। সে আর কি করা যাবে। অবলা জীব। আর পাড়ার ভেতর একপাল কুকুর থাকলে চুরি ছিনতাই ঘটবে না। সল্টলেকে এত চোরেদের উৎপাত কেন জানেন? ওদের কোন কুকুর-কালচার নেই বলে।

সম্প্রতি একটা স্বপ্ন দেখেছি। আমাদের পাড়ার খুব বরফ পড়ছে। পাড়ার রাস্তা, যেটা কুত্তা লেন নামে খ্যাতিলাভ করেছে, এমনিভাবে বরফে ঢেকে গেছে যে কেউ বেরুতে পারছে না। সকলে ভাবছে অফিস গেল আজ। এমন সময় দেখা গেল টিয়া তার বিখ্যাত লাল নাইটি পরে হুস করে বরফ কেটে ছুটছে একটা স্লেজ গাড়ি করে। স্লেজ টেনে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের পাড়ার পাঁচটা নেড়ি কুত্তা। তার মধ্যে সেই কুকুরটাও আছে, যে প্রতি রাতে কি শীত, কি বর্ষা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে আমার জানালার গোড়ায় বসে ডাকবেই।

সে সকলকে স্লেজ গাড়িতে লিফট দিল, আমাকে ছাড়া। যে লোক কুকুর ভালোবাসে না, তাকে সে লিফট দেবে না এই কথা বলে গেল আমায়। স্বপ্নের মধ্যে তখন মাথার চুল ছিঁড়ছি আমি। কেন যে কুকুরের প্রতি একটু ভালোবাসা দেখলাম না। কেন যে টিয়ার দিকে একটু প্রেম প্রেম চোখে তাকাইনি কখনও। কুকুরেরা ছুটতে ছুটতে কিচকিচ করে ফাজিল হাসি হাসতে থাকে। আর টিয়াটাই বা কম যায় কিসে। বার বার আমার নাকের ডগা দিয়ে স্লেজ চালিয়ে পাক দিতে থাকে আর বলে, ইচ্ছে, ইচ্ছে, ইচ্ছে...।

ঘুম ভেঙ্গে বিছানায় উঠে বসি। বাইরে কুকুরটা এখনও হাসছে। নিশ্চয় টিয়ার মার বর্ণিত সেই উদাস কুকুরটা যে অতি ভোরে আমার জানালার নিচে বসে গলা সাধে। বিছানা থেকে লাফ দিই। বারান্দার দরজা খুলতেই গায়ের চিড়বিড়ানি বেড়ে যায়। কোন উপায়ে বারান্দার ভেতর ঢুকে পড়েছে একটা ছোট কুকুর। আমার পাজামাটা দড়ি থেকে টেনে নিয়ে তাতে শুয়ে কিচকিচ করে চিবুচ্ছে! আমাকে দেখে সে ভয় পায় না। ব্যালকনির ডুম জ্বালি। তাতে সে দাঁড়িয়ে পরে। বাছাধন এবার ভয় খেয়েছে। যেমনই করে উঠেছিল, তেমনি করে পালাবে এবার। কিনতু হয় উলটো। আমাকে পাশ কাটিয়ে সে সুরুত করে ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। আমার চিৎকারে মা ঘুম জড়ান গলায় বলেন, কোথা আগুন লাগল? কুকুরটা তখন নরম পাপোশের উপর শুয়ে পরেছে। মা বলেন, বাইরে খুব ঠান্ডা। ঢুকে যখন পরেছে, বাচ্চা কুকুর, থাক। কাল সকালে নিজেই চলে যাবে।

কুকুরটা গেল বটে, কিন্তু সে নাইট শেল্টার বানিয়ে ফেলল বাড়িটাকে। রাত নটা নাগাদ এ বাড়িতে তার শুভ পর্দাপন ঘটে। আগে টিয়ার মা আসত বা আমার মা যেত দোতলায়। এখন টিয়াও তার মায়ের সঙ্গে ফাঁক পেলে চলে আসে। বা একাই আসে। তার খবর আমি মায়ের মুখে পাই। দিন চারেক আগে এক বাসে গেছিলাম আমরা। কামালগাজির সাদা বাসে সে জানালার ধারে বসেছিল। বাস চলতে শুরু করেছে, আমি দৌড়ে এসে উঠেছি। একটাই সিট খালি ছিল, সেটা টিয়ার পাশে। তাড়াহুড়োয় মুখের দিকে তাকান হয়নি, আধ চিলতে জায়গা পড়ে ছিল। কে সেই মেয়ে যার জন্য আমায় পিসার মত একদিকে হেলে বসতে হচ্ছে, দেখতে গিয়ে তার মুখের দিকে তাকাই। টিয়া আমায় আগেই দেখেছে, মুখোমুখি দৃষ্টি বিনিময় হতেই সে, হিঁ বলে মুখটা ঘুরিয়ে নেয়। রাগে গা রিরি করে ওঠে। কিন্তু  সিট ছেড়ে দেবার উপায় নেই। অফিস টাইম। সিঁথি মোড়ের কাছে এক সময় প্রবল ঝাঁকুনিতে বাসের ভেতর পড়ে যাচ্ছি, টিয়া বলে, আমার হাতটা চেপে ধরে বসতে পারছ না? 

অফিস ফিরে এখন নানা রকম পদ পাতে পাই। মা কি টিভি দেখে এসব বানাচ্ছে নাকি? মা বললে, নারে। এসব টিয়ের হাতে রাঁধা। খাওয়া থামিয়ে বলি, মানে?

ও নানা পদ করে দিয়ে যায়। সেদিন বললে, মাসিমা, বিতুনদা আমার সঙ্গে কথা বলে না। এক বাসে শ্যামবাজার অবধি গেলাম, তবুও একটা কথা বলল না। তুই মেয়েটার সঙ্গে এমনি করিস কেন রে বিতুন? ওইটুকু মেয়ে, রান্নার হাত কি চমৎকার। আজকালকার মেয়েরা হেঁসেলে ঢুকতে চায় না। আর এই মেয়েটাকে দেখ, রান্নায় মন প্রাণ ভরিয়ে দিচ্ছে একেবারে। এমন মেয়েকে বউমা করতে সব মায়েরাই চায়। 

যে ওকে বিয়ে করবে, সে যৌতুক হিসাবে পাড়ার সব কটা কুকুর নিয়ে যাবে তো? 
তোর সবসময় কেবল বাজে কথা।

রাস্তায় কদিন টিয়ার সঙ্গে দেখা হল। মনে হল কথা বলতে চায়, কিন্তু  আমি মুখটা গোমড়া করে থাকায় সে সুবিধে করে উঠতে পারছে না। আমার মনে হল, ওর সঙ্গে যদি দুই চারটি কথা বলি তাতে কিই বা এসে যায়।  কিন্তু ওকে দেখলেই আমার সামনে ভেসে ওঠে একপাল কুকুর। আর সেই স্লেজ। নিন্মচাপের ফলে তিনদিন বৃষ্টি চলল কখনও টানা, আবার কখনও ঝিরঝির ভাবে পুরো দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। এই কদিন কুকুরটা শুতে এল না। মা হানটান করতে থাকল। টিয়াকে ডেকে জিঞ্জাসাও করেছে সেটা কোথা যেতে পারে। টিয়া বলেছে সে জ়ানে না। রবিবার কুকুরদের নিয়ে সে কুত্তাপার্কে সাপ্তাহিক মিটিং করে। সেদিন ওদের থেকে জেনে নেবে ব্যাপারটা কি। মা সভয়ে বলে, তবে কি এই বৃষ্টিতে নিউমোনিয়া হয়ে মারা গেল?

না না মাসিমা, অমন বলবেন না। টিয়া আতঙ্কিত। বলে, সে যেখানেই থাকুক, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুণ সে যেন একশ বছর বাঁচে। মাকে আড়ালে ডেকে বলি, তোমার কি হল বলত? টিয়ার হাওয়া লেগে তুমিও কি সিনিয়র টিয়া হয়ে যাচ্ছ? মা করুণ মুখে বলে, ব্যাপারটা হেলাফেলার নয়।

সামান্য তো একটা কুকুর, গেছে যাক না। 
তা কি করে বলি বল। কেষ্ট জীব। 

সেদিন অফিস ফিরতি পথে সাদা বাস থেকে নেমে দেখি পাড়া অন্ধকার। চাচা দোকান থেকে বললে, তিনি গেছেন সেই বিকালে। একটা ট্রান্সফর্মার বসে গেছে। কাল দুপুরের আগে আর আসা করো না। 

অন্ধকার রাস্তা দিয়েই হাঁটতে থাকি। ভয় হয় কোন কুকুরের গায়ে পা না তুলে দিই। এখন নাকি চৌদ্দটা ইনজেকশন নিতে হয় না, তিনটেতেই হয়ে যায়। টিনার নাম জপতে জপতে সাবধানে রাস্তায় পা ফেলি। হঠাৎ শুনি সেই চেনা কুঁইকুঁই শব্দটা।দাঁড়িয়ে পড়ি। কিন্তু অন্ধকারে চোখ বুলিয়ে কিছুই নজরে আসে না। মনের ভুল? পা বাড়াতেই আবার শুনি। না, কোন ভুল নেই। যে কুকুরটা আমাদের বাড়িতে শুতে আসে, এ সেই। মনে এক গভীর বাজনা বেজে ওঠে। ড্রেনের ভেতর উঁকি মেরে দেখি ব্যাটা সেখানে পড়ে আছে। উঠতে পারছে না। সমানে কুঁইকুঁই করে যাচ্ছে। মায়া বোধ হয়। বাঁ পা দিয়ে কেষ্টর জীবটিকে তুলে আনি। জুতোয় কাদা লেগে গেল। যাক, কি আর করা যাবে–এই ভেবে এগোতেই কিসে যেন ধাক্কা লেগে ছিটকে যাই। বুকটা আবার ধ্বক করে। অন্ধকারে চোখ মেলে দেখি, অন্য কিছু নয়, সামনে দাঁড়িয়ে টিয়া। সে মুচকি মুচকি হেসে বলে, তারপর? আমি চমকে উঠে হাত দিয়ে টিয়ার মুখটা চেপে বন্ধ করে দিতে চাই। কিন্তু হাতটা মুখে না লেগে অন্ধকারে তা দেহের অন্য জায়গায় চেপে যায়। টিয়া চাপা গলায় বলে, যা, কি হচ্ছে! 

তারপর যে কি হল আমরা কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না। পাড়ার লোক বাড়ির লোক মিলে তিন মাসের মধ্যে আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। আমরা নাকি সেই দীর্ঘ ইলেকট্রিকহীন দিন থেকে সমানে রাস্তায়, গলিতে ইয়ে করে যাচ্ছি। আমাদের পিছন পিছন সব কুকুরেরা ল্যাজ নাড়তে নাড়তে যায়, সেটাই নাকি তাদের খারাপ লাগে। আর সবাই বিয়ের কথা বলতে আমরাও লজ্জা লজ্জা মুখে কেন জানি রাজি হয়ে যাই। লজ্জার ন্যাজ নাড়তে থাকি। 

আর সেই কুকুর-যৌতুক? অন্য কুকুরদের কথা বলতে পারব না। তবে বাচ্চা কুকুরটা আমাদের বর্তমান অবস্থান বুঝেছে। সে আর আমাদের বাড়িতে শুতে আসে না। আর সেদিন রাতের পর থেকে আমাকে দেখলে সে ভীষণ লজ্জা পায়।



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.